Connect with us

ফিচার

জন্মনিয়ন্ত্রণে যে কুসংস্কার!

Published

on

ডাঃ মাহমুদা মিতু

স্থায়ী ভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ হারাম হলেও ইসলাম আপনাকে ১০ বছর মেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণের ও অনুমতি দেয়। হাসপাতালে একদল মানুষকে কোনভাবেই জন্মনিয়ন্ত্রণে রাজী করানো যায় না। অথচ সিজারের সময় পেট খুলে দেখা যায় ভিতরের অবস্থা মারাত্মক খারাপ। অথবা পুরা প্রেগ্ন্যাসির টাইমে রক্তশূন্যতা অপুষ্টিতে ভুগে একটা আধামরা অপুষ্ট বাচ্চা জন্ম দিচ্ছে তাও তারা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে নানা কুসংস্কারে ডুবে থাকে। ইসলামের মতো এতো সুন্দর ধর্মের নিয়মকানুন পৃথিবীতে আছে কিনা জানিনা। যে হারে সিজার বাড়ছে এতে পরবর্তীতে আমার ধারণা উলামায়ে একরামরা ৪ /৫ সিজারের পরে লাইগেশনেও একমত হতেও পারে। জাস্ট ধারণা এবং প্রয়োজন থেকে বললাম।

হয়তো কোন ডাক্তার মায়েদের কন্ডিশন বোঝালে তারাও বুঝবেন। কারণ সময়ের সাথে পরিবেশের সাথে ইসলামের অনেক নিয়ম ও চেঞ্জ হয়েছে। না হলেও কোন দরকার নেই স্থায়ী পদ্ধতির, জাস্ট ১০,২০,৩০ বছর ও ইচ্ছা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। ইউটিউবে শায়েখ আহমদ উল্লাহ হুজুরের ভিডিও দেখে নিতে পারেন।

এত কথা বলার উদ্দেশ্য হলো- দেশে এমন একদল মানুষ বাচ্চা ধারণ করছেন যাদের শারিরীক অবস্থা এবং আর্থিক অবস্থা মারাত্মক শোচনীয়। এটা একটা দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য ক্ষতিকর। এরাই নানা রকম খারাপ কার্যকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। দেশে অন্যায় বাড়ছে। আর যাদের বাচ্চা পালন কিংবা শিক্ষিত করার স্বামর্থ্য আছে তারা কম বাচ্চা নিচ্ছে। মায়েদের শারিরীক অবস্থা এতটাই খারাপ এসব শ্রেণির মায়েরা অনেকেই মারাত্মক রক্তশূন্যতা সহ নানা রকম রোগে ভুগছে।

আর প্রত্যেকের একই কথা- “নিতে চাইনি ভুলে হয়ে গেছে”। একটা বাচ্চা সিজারের এক বছরের মাথায় আর একটা বাচ্চা এসে যাওয়া সেই মা এবং বাচ্চার জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। মা তো দাড়াঁনোরই সময় পেলোনা। সাথে যে বাচ্চা বুকের দুধ খাচ্ছে আর যে এসে খাবে সেও এটেনশন পেলো না। বাচ্চা নিয়ে প্লান জরুরি। একটা সুস্থ বাচ্চা সুস্থ সমাজ এবং সুস্থ পরিবার দেয়। পরিবারের শান্তির উৎস হয়। বাচ্চা আপনি ৫ টা নেন আপত্তি করার অধিকার আল্লাহ দেননি। কিন্তু আপনাকে মানুষের সাফারিংস দেখে সতর্ক না করলে , প্লানিং না শিখালে, তার জন্য আমি দায়ী থাকতেও পারি। দয়া করে নিজেকে প্রিপেয়ার করে সন্তান ধারণ করুন। ভুলে হয়ে গেছে এই চলমান প্রথা থেকে বেরিয়ে আসুন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ফিচার

নতুন বছরে নারী শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা

Published

on

By

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে নতুন বছরের আগমনটাও একটু ভিন্ন দৃশ্যপটে। বিপ্লব পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলোর অপূর্ণতার ভার ২০২৫ সালের ঘাড়ে চেপে বসেছিল। ২৫ সালের সকল অপূর্ণতা ২০২৬ সালে পূর্ণতা পাক সেই প্রত্যাশা রাখে ছাত্র সমাজ। বিশেষ করে নতুন বছর আগমনে নারীরা কী ভাবছে? তাদের অনুভূতি ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুরাইয়া শ্রাবণী

নতুন বছরে আমরা আশা করি— ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণায় আরও এগিয়ে যাক। শিক্ষার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সুস্থ ও স্বাভাবিক সংস্কৃতির চর্চা নিশ্চিত হোক, কোনো ধরনের অশ্লীলতা যেন প্রশ্রয় না পায়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ইকসু) নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করা হোক। ইকসু নির্বাচন হলে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়, নেতৃত্বের বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক চর্চা আরও শক্তিশালী হবে। একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে উঠুক—এটাই নতুন বছরের প্রত্যাশা।

সাদিয়া জামান রিমু

ব্যবস্থাপনা বিভাগ

২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষ

‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’ বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে আরও সুপরিকল্পিত এবং টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। পাঠদানের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান, দক্ষ ও গবেষণামুখী শিক্ষক এবং আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির যথাযথ প্রয়োগ করা যায়।আবাসিক শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য হলের খাবারের মান উন্নত করা, হলগুলোতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ সুসজ্জিত রিডিং রুম স্থাপন এবং পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কল্যাণের স্বার্থে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে পর্যাপ্ত আসন, আধুনিক গ্রন্থ, গবেষণা জার্নাল এবং দীর্ঘ সময় অধ্যয়নের সুব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

নদীয়া খাতুন

বিভাগ: ব্যবস্থাপনা

২০২২-২০২৩

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং এখানকার শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলার শিকার। জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী বছর হিসেবে ২০২৫ সাল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি আদর্শ ও দৃষ্টান্তমূলক বছর হয়ে উঠতে পারত। অভূতপূর্ব উন্নয়নের সুবর্ণ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সবকিছু সীমাবদ্ধ থেকেছে কেবল সম্ভাবনার গণ্ডিতে। শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রমের পরিসংখ্যান বিচার করলে তা অত্যন্ত নগণ্য বলেই প্রতীয়মান হয়।যেখানে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নিজেদের রূপান্তরিত করছে, সেখানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এখনও গতানুগতিক নিয়মনীতি আঁকড়ে ধরে আছে। ২০২৫ সাল অতিক্রম করে ২০২৬ সালের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েও এখানে আধুনিকায়নের কোনো সুস্পষ্ট চিহ্ন চোখে পড়ে না। ২০২৫ সালে ক্যাম্পাসে সংঘটিত সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ও হৃদয়বিদারক ঘটনা—সহপাঠী সাজিদ হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না ঘটিয়ে প্রশাসন আমাদের গভীর হতাশা ও বেদনায় নিমজ্জিত করেছে। সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে, আশানুরূপ উন্নয়নের স্বপ্ন থাকলেও বছরশেষে তার প্রতিফলন প্রত্যাশার তুলনায় ছিল হতাশাজনক; বাস্তবতার চেয়ে তা রয়ে গেছে প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনার মধ্যেই আবদ্ধ। সবকিছুর পরও নতুন বছর আমাদের জন্য বয়ে আনুক নতুন আলো, নতুন প্রত্যয় ও নতুন সম্ভাবনা। প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে আসুক ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তার গৌরবময় অবস্থান পুনরুদ্ধার করুক—এই প্রত্যাশাই রইল। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব পেরিয়ে নতুন বছর হোক আত্মসমালোচনা, সংশোধন ও ইতিবাচক পরিবর্তনের বছর।

নার্গিস পারভীন

বিভাগ: ফার্মেসি

২০২১-২২

ক্যাম্পাস জীবন শুধু একটি অধ্যায় নয়, এটি জীবনের সবচেয়ে রঙিন ও স্মরণীয় সময়ের নাম। ক্লাসের দিনগুলো, ক্যান্টিনের আড্ডা, বন্ধুদের খুনসুটি আর হলের রাতের গল্প—সব মিলিয়ে এই সময়টুকু হয়ে ওঠে হৃদয়ের বিশেষ অংশ।আর আমার হৃদয়ের অংশ হলো ইবি!ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আমার স্বপ্ন ও সম্ভাবনার জায়গা। এই ক্যাম্পাস থেকে আমি চাই জ্ঞান, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের সমন্বয়। প্রত্যাশা করি—ক্যাম্পাস হবে রাজনীতি ও সহিংসতামুক্ত, যেখানে শিক্ষার পরিবেশ থাকবে শান্ত ও নিরাপদ। শিক্ষকরা হবেন আরও শিক্ষার্থী–বান্ধব, গবেষণামুখী এবং নৈতিকতায় অনুকরণীয়। ক্লাস, লাইব্রেরি ও ল্যাব সুবিধা হবে আধুনিক ও কার্যকর।আমি চাই ক্যাম্পাসে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু তা হবে শালীন ও দায়িত্বশীল। সহশিক্ষা কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার সুযোগ আরও বাড়ুক। হল ও আবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক। সর্বোপরি, ইবি ক্যাম্পাস এমন এক মানবিক পরিবেশ গড়ে তুলুক, যেখানে শিক্ষার্থীরা দেশ ও সমাজের জন্য যোগ্য, সচেতন ও নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।

মাহফুজা আক্তার মনি

বিভাগ সমাজ কল্যাণ

২০২২-২৩

Continue Reading

top2

‘ভেবেছিলাম লাফ দিয়ে পড়লে পরিবার অন্তত লাশটা পাবে’

Published

on

By

ঢাকা জেলার আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনস গার্মেন্টসের অগ্নিকাণ্ডের ১৩ বছর পূর্ণ হয়েছে আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর)। ২০১২ সালের এই দিনে ওই ফ্যাক্টরিতে আগুনে পুড়ে মারা যান ১১২ জন শ্রমিক। আহত হন একশ’র বেশি শ্রমিক। অগ্নিকাণ্ডের সময় গার্মেন্টসটির পঞ্চম তলায় কাজ করছিলেন জরিনা খাতুন। আগুন লাগার পর তিনিসহ অন্য শ্রমিকরা ছাদের দিকে ছোটেন। সেখানে তালা দেখে নিচে নামেন। এ সময় নিরাপত্তারক্ষী আল আমিন তাদের বলেন কিছুই হয়নি, উপরে যাও। এরপর তিনি নিচের গেট লাগিয়ে দেন। পরে তিন তলা থেকে লাফ দেন। তার বাম পায়ের হাড় ভেঙ্গে যায়। এখনও শরীরের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন।

অগ্নিকাণ্ডের সময় কেন লাফ দিয়েছিলেন প্রশ্নে জরিনা খাতুন বলেন, ‘সেদিন বাঁচার আশায় লাফ দেইনি। আগুনে পুড়ে মরলে পরিবার লাশটা পেতো না। লাফ দিয়ে পড়লে পরিবার অন্তত লাশটা পাবে। এই ভাবনা থেকে লাফিয়ে পড়েছি। লাফ দিয়ে এমনভাবে বাঁচলাম, এখন সবার কাছে বোঝা হয়ে গেছি। এখন মনে হয়, সেদিন আগুনে পুড়ে মরে গেলেও ভালো হতো। সন্তান বড় হলে বাবা মার জন্য কিছু করে। আর আমার বৃদ্ধ বাবা-মা আমার জন্য কষ্ট করছেন।’

ক্ষতিপূরণ না পওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৩ বছরেও ক্ষতিপূরণ পাইনি। ড. ইউনূস সরকার ক্ষমতায় আসার পর শ্রম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আমাদের নিয়ে একটা কমিটি করেন। ড. ইউনূস দেশের নারীদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। ভেবেছি, আমাদের ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচার করবেন। কিন্তু তিনিও হতাশ করেছেন। গত বছরের নভেম্বরের ২৪ তারিখে শ্রম উপসচিব আমাদের বলেছিলেন, আমাকে এক মাস সময় দেন। এর মাঝে আপনাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এরপর এক বছর পার হচ্ছে। আর কেউ কোনও খোঁজ নেয়নি।’

বিচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিচার এক বছরের মধ্যে করতে পারে, অথচ ১৩ বছর পরও আমরা বিচার পাই না। আমাদের পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। কোনও স্টাফ তো মারা যায়নি। সিকিউরিটি গার্ড আল আমিনও মরেনি। যা মরেছে সব শ্রমিক। এতোগুলো শ্রমিক মারা গেলো, অথচ প্রধান আসামি দেলোয়ার এখনও বাহিরে।’ 

জরিনা খাতুন বলেন, ‘আমি অসুস্থ মানুষ। আমার কষ্টের শেষ নাই। আমাদের পুনর্বাসনও হলো না। আমরা কোথায় দাঁড়াবো। সেই জায়গাটুকুও নেই। আমরা তাদের বিচার চাই, পাশাপাশি ক্ষতিপূরণও চাই।’

এই অগ্নিকাণ্ডে অবহেলার অভিযোগে তৎকালীন সময়ে পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এক বছরের মধ্যে অভিযোগপত্র জমা পড়ে। এরপর ২০১৫ সালে গার্মেন্টসের মালিক দেলোয়ার হোসেনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। ওই বছরের ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। এরপর থেকে দীর্ঘ ১০ বছরে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পড়ে ৬৮ বার। এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে মাত্র ১৬ জন সাক্ষী উপস্থিত করেছেন সর্বশেষ এক বছরে। গত ১৮ নভেম্বর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ছিল। তবে ওইদিন কোনও সাক্ষী আসেননি। এজন্য ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নাসরিন জাহান পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২০২৬ সালের ৯ মার্চ তারিখ ধার্য করেন।

সর্বশেষ সাক্ষ্যদাতা মমিনুর জবানবন্দিতে বলেন, ২৪ নভেম্বর ২০১২ সালে সন্ধ্যায় তাজরীন ফ্যাশনসের তৃতীয় তলায় ফিনিশিং সুপার ভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। হঠাৎ ফায়ার অ্যালার্মের শব্দ পান। তিনি ইনচার্জ মুস্তাফিজুর রহমানকে বলেন, মনে হয় নিচে আগুন লেগেছে। তারা বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তারা বের হতে পারছিলেন না। তখন তারা কয়েকজন তৃতীয় তলার জানালা ভেঙে নিচে লাফ দেন। লাফ দেওয়ার ফলে তিনি আহত হন। অন্যান্য লোকজন তাকে উদ্ধার করে। অসুস্থ অবস্থায় তাকে নারী শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হন।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আগুনের সূত্রপাত বিল্ডিংয়ের গোডাউন থেকে হতে পারে বলে জেনেছি। আগুন কীভাবে লেগেছে জানি না। নিচ তলার স্টোর থেকে আগুন লাগার কথা শুনেছি। তবে তার সাক্ষ্যকে আসামিপক্ষের সাক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম সবুজ।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাজরীনের মালিকপক্ষ অগ্নিকাণ্ড কবলিত গার্মেন্টসটিতে তালাবদ্ধ করে শ্রমিকদের বের হতে না দিয়ে, নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। সারা পৃথিবীর মানুষ বিষয়টি জানে। আর আমাদের রাষ্ট্র সে বিচার নিয়ে দেরি করছে, অবহেলা করছে। আগের মতোই এখনও বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা দেখছি। রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবীরা ভালোভাবে কাজ করছেন না। প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেন সর্বশেষ পরপর দুই হাজিরায় (২৯ সেপ্টম্বর ও ১৮ নভেম্বর) আদালতে উপস্থিত হয়নি। তার পক্ষ থেকে আইনজীবী সময়ের আবেদন (টাইম পিটিশন) করেন। তাকে অসুস্থ হিসেবে উল্লেখ করছেন। অসুস্থতার কোনও কাগজ আদালতে দাখিল করা হয়নি।’

মামলার দীর্ঘসূত্রিতা ও বিচার শেষ হওয়া নিয়ে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটি আসলে দুঃখজনক। এসব রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলা দ্রুত বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করি। এখানে অবশ্যই আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এজন্য এসব আলোচিত রাষ্ট্রীয় মামলা যদি অন্যান্য বড় মামলার মতো ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত শেষ করা যেতো তাহলে ভালো হতো। সংশ্লিষ্ট ঘটনার ভুক্তভোগী এবং যারা অপরাধী তাদের বিচার দ্রুত জাতি দেখতে পেতো।’

মামলায় অভিযুক্ত অপর আসামিরা হলেন— প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার, স্টোর ইনচার্জ (সুতা) আল আমিন, সিকিউরিটি ইনচার্জ আনিসুর রহমান, সিকিউরিটি সুপারভাইজার আল আমিন, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম লাভলু, অ্যাডমিন অফিসার দুলাল উদ্দিন, প্রকৌশলী এম মাহবুবুল মোর্শেদ, সিকিউরিটি গার্ড রানা ওরফে আনোয়ারুল, ফ্যাক্টরি ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক, প্রোডাকশন ম্যানেজার মোবারক হোসেন মঞ্জুর, শামীম ও শহীদুজ্জামান দুলাল। আসামিদের মধ্যে আল আমিন, রানা, শামীম ও মোবারক হোসেন পলাতক। আর বাকি সব আসামি জামিনে আছেন।

উল্লেখ‍্য, অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, কারখানা ভবনটি ইমারত নির্মাণ আইন মেনে করা হয়নি। জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না। তিনটি সিঁড়ির মধ্যে দুটি নিচতলার গুদামের ভেতরে এসে শেষ হয়েছে। ওই গুদামে আগুন লাগার পর শ্রমিকেরা বের হতে চাইলে কারখানার ম্যানেজার শ্রমিকদের বাধা দিয়ে বলেন, আগুন লাগেনি, অগ্নিনির্বাপণের মহড়া চলছে। এরপর তিনি বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেন।

Continue Reading

ফিচার

‘কন্যা সন্তান সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠ উপহার’

Published

on

By

 ॥ সাইফুল ইসলাম মিঠু ॥

বিশ্বলোকে মানুষ ব্যক্তি হিসেবে কিছু উপহার নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপনের মাঝেও পেয়ে থাকে। এটা তার সৃষ্টিকর্তার দেয়া একান্ত অনুগ্রহ। তেমনি এক উপহার কন্যা শিশু। প্রতি বছর ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশের সমাজে যাতে মহিলারা ভেদাভেদ বা বৈষম্যের শিকার না হন, সেদিকে লক্ষ রেখে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্য নিয়ে ২০০০ সালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কন্যাশিশু দিবস পালনের আদেশ জারি করে। আদেশে বলা হয়, শিশু অধিকার সপ্তাহের (২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর) মধ্যে একটি দিন অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর কন্যাশিশু দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহে ২০১২ সাল থেকে প্রতি বছরের ১১ অক্টোবর পালিত হয় আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। এদিকে প্রতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শিশু সপ্তাহ পালন করা হয়। এই শিশু সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর পালন করা হয় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস হিসেবে।

রঙে-ঢঙে মাখা আজকের আধুনিক দুনিয়ায়ও জাহেলি যুগের প্রেতাত্মারা সজাগ। কেবল বিভিন্ন দিবস পালন ও আবেগময় শব্দ দ্বারা প্রকৃত কল্যাণের অবস্থান থেকে এসব চতুরেরা বহু দূরেই থাকে তাদের অবস্থান। কন্যাদের নিয়ে কুরআন ও হাদিসে রয়েছে সতর্কবাণী। কন্যাসন্তান জন্ম হলে জাহেলি যুগের সমাজপতিরাও নাখোশ হতো। মেয়েদের জীবন্ত কবর দিতো অনেক বর্বর পিতা। আল্লাহ তায়ালা তাদের বাস্তব অবস্থার কথা কুরআনে এভাবে তুলে ধরেছেন, অর্থাৎ ‘আর যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়; তখন তাদের চেহারা কালো হয়ে যায়। আর সে থাকে দুঃখ ভারাক্রান্ত। তাকে যে সংবাদ দেয়া হয়েছে, সে দুঃখে সে কওমের থেকে আত্মগোপন করে। আপমান সত্ত্বেও কি একে (কন্যাসন্তানকে) রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে ফেলবে? জেনে রেখ, তারা যা ফয়সালা করে, তা কতই না মন্দ!।’ (সূরা নাহল : ৫৮-৫৯)।

হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘যে ঘরের (পরিবারের) প্রথম সন্তান কন্যা হয়; সে ঘর হয় বরকতময়। বর্তমান সমাজে দেখা যায়, কন্যাসন্তান হওয়ার কারণে অনেক নারীকে স্বামী পরিত্যক্তা হতে হয়। কন্যাসন্তান জন্মের পরই শুরু হয় মা ও শিশুর প্রতি চরম অবহেলা। কন্যাশিশু ও নারীর প্রতি চরম অবহেলা ও অবিচার হলো জাহেলি যুগের চিত্র। যে সমাজে নারীর কোনো মর্যাদা ছিল না। নারী ও কন্যাদের ভোগ ও আনন্দ বিনোদনের সামগ্রী হিসেবে মনে করা হতো। আজকের সমাজেও দেশে দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মডেল বা নায়িকা ও বিশ্ব সুন্দরী নাম দিয়ে মূলত কন্যাসন্তানদের প্রকৃত সম্মান নষ্ট করা হয়। কন্যা (মেয়ে) কত দামি তা শিখতে হবে প্রিয়নবী মুহাম্মদ সা.-এর বিধান জেনেই।

কন্যাসন্তানের প্রতি সুবিচার ও যথাযথ দায়িত্ব পালন করা বিশ্বনবীর নির্দেশ। তিনি কন্যাদের প্রতি সুবিচার করতে বলেছেন। তাছাড়া কন্যাসন্তান মানুষের জান্নাত লাভেরও উপায়। হাদিসে এসেছে- আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘আমার কাছে এক মহিলা এলো। তার সঙ্গে তার দুই মেয়েও ছিল। সে আমার কাছে কিছু সাহায্য প্রার্থনা করল। আমার কাছ থেকে সে একটি খেজুর ছাড়া কিছুই পেল না। আমার কাছে থাকা খেজুরটি আমি তাকে দিয়ে দিলাম। সে তা-ই গ্রহণ করল এবং তা (খেজুরটি) দুই টুকরো করে তার (ওই মহিলার) দুই মেয়ের মাঝে বণ্টন করে দিল। সে (মহিলা) তা থেকে কিছুই খেল না। তারপর সে (মহিলা) ও তার দুই মেয়ে উঠে পড়ল এবং চলে গেল। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কাছে আসলেন। আমি তাঁর কাছে ওই মহিলার কথা বললাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘যাকে কন্যাসন্তান দিয়ে কোনো কিছুর মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়; আর ওই ব্যক্তি তাদের (কন্যাসন্তানের) প্রতি যথাযথ আচরণ করে, তবে তা তার জন্য (জাহান্নামের) আগুন থেকে রক্ষাকারী হবে।’ (মুসলিম, মুসনাদে আহমদ)।

প্রকৃতপক্ষে সন্তান-সন্ততি (ছেলে-মেয়ে উভয়েই) আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত ও শ্রেষ্ঠ উপহার। ইসলাম উভয়কেই আলাদা সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে। কাউকে কারও থেকে ছোট করা হয়নি কিংবা অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়নি। কন্যাসন্তানের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পরিবারে সুখ ও বরকত দান করেন। হাদিসে এমন কথা উল্লেখ হয়েছে। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাধিক মানুষের একটি দেশ। এখানকার অধিকাংশ মানুষের ধর্ম বিশ্বাস ইসলামকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে। সুতরাং কন্যাশিশু লালন-পালনে এখানে শুধু দিবস পালন নয়, বরং ধর্মীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিবারগুলোতে অনুসরণ করতে হবে।

কিন্তু আমাদের সমাজে এখনো অনেক পরিবারে কন্যাসন্তান জন্ম নিলে ইতিবাচক চোখে দেখা হয় না। অনেকে আবার মেয়ে সন্তানের মায়ের ওপর নাখোশও হন। বিভিন্ন কায়দায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কন্যাসন্তান হলে অপছন্দ করা, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা এবং তাদের লালন-পালনের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন না করা, ইসলামপূর্ব বর্বর জাহেলি যুগের কুপ্রথা। এমন কাজে আল্লাহ তায়ালা ভীষণ অসন্তুষ্ট হন। রাসূল (সা.) মেয়েদের অনেক বেশি ভালোবাসতেন। মেয়েরা ছিল তার আদরের দুলালী। আজীবন তিনি কন্যাদের ভালোবেসেছেন এবং কন্যাসন্তান প্রতিপালনে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। কন্যাসন্তান লালন-পালনে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন।

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুটি কন্যাকে তারা সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করবে, কিয়ামতের দিন আমি এবং সে এ দুটি আঙুলের মতো পাশাপাশি আসবো (অতঃপর তিনি তার আঙুলগুলো মিলিত করে দেখালেন)’। (মুসলিম, মুসনাদ আহমদ)।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যার ঘরে কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করলো, অতঃপর সে ওই কন্যাকে কষ্ট দেয়নি, মেয়ের ওপর অসন্তুষ্টও হয়নি এবং পুত্র সন্তানকে তার ওপর প্রাধান্য দেয়নি, তাহলে ওই কন্যার কারণে আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (মুসনাদ আহমদ)।

হযরত আবদুল্লাহ উমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, ‘ওই নারী বরকতময়ী ও সৌভাগ্যবান, যার প্রথম সন্তান মেয়ে হয়। কেননা, (সন্তানদানের নেয়ামত বর্ণনা করার ক্ষেত্রে) আল্লাহ তায়ালা মেয়েকে আগে উল্লেখ করে বলেন, তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন, আর যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন।’ (কানযুল উম্মাল)।

প্রসঙ্গত কন্যাসন্তান প্রতিপালনে শুধু পিতাকেই নয়; ভাইকেও উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। বোনের কথাও বলা হয়েছে হাদিসে। যারা মনে করেন, মেয়ে বা বোনের পেছনে টাকা খরচ করলে ভবিষ্যতের তার কোনো প্রাপ্তি নেই, তারা মূলত ভুলের মধ্যে আছেন।

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, ‘কারও যদি তিনটি মেয়ে কিংবা বোন থাকে অথবা দুটি মেয়ে বা বোন থাকে, আর সে তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে এবং তাদের সঙ্গে সদাচার করে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (মুসনাদ আহমদ)।

কন্যাসন্তান প্রতিপালনে যেন বৈষম্য না করা হয় এবং বস্তুবাদী ব্যক্তিরা যেন হীনম্মন্যতায় না ভোগেন, তাই তাদের কন্যা প্রতিপালনে ধৈর্য ধরার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। শোনানো হয়েছে পরকালে বিশাল প্রাপ্তির সুসংবাদ।

পরিশেষে কন্যাসন্তানদের প্রতি অবিচারকারী বা অবহেলাকারীদের প্রতি কুরআনের এ আয়াতটিই যথেষ্ট। আল্লাহ বলেন, ‘নভোম-ল ও ভূম-লের রাজত্ব আল্লাহ তায়ালারই। তিনি যা ইচ্ছা, সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল। (সূরা আশ-শুরা : ৪৯-৫০)। সুতরাং সাবধান! কন্যাসন্তান জন্ম নিলেই কোনো নারীকে দোষারোপ করা ঠিক নয়; বরং কন্যাসন্তানের প্রতি সুবিচার করুন। প্রিয়নবী মুহাম্মদ সা. বাইরে থেকে ফিরে ঘরে প্রথম ফাতিমা তথা কন্যাসন্তানদের সাথে আগে দেখা করতেন। এমনকি ঘরে কোনো উপহার বা খাবার নিয়ে এসে তিনি প্রথম মেয়েদের মাঝে তা বণ্টন করে দিতেন। তাই আমাদেরও উচিত ছেলে সন্তানের মতোই মেয়েদের সমান আদর-যত্নে, মায়া-মমতায় বেড়ে ওঠার সব দায়িত্ব পালন করা। আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে কন্যাসন্তান ও নারীদের প্রতি জাহেলি যুগের মতো আচরণ করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। তাদের প্রতি সদয় হওয়ার এবং যথাযথ দায়িত্ব পালন করে হাদিসে ঘোষিত ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন।

লেখক : সাংবাদিক।

mithunalamdanga@gmail.com

ঢাকা, বাংলাদেশ।

Continue Reading

Trending