Connect with us

top1

জামায়াত জোটে আপত্তি, এনসিপি ছাড়ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা

Published

on

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে টানাপড়েন চলছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)তে। একের পর এক পদত্যাগ করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এতে স্পষ্ট ভাঙনের মুখে দলটি। গত ৯ দিনে এনসিপি থেকে ১১ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন।

এনসিপি দলীয় সূত্র বলছে, জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার কারণে দলের কিছু নেতা পদত্যাগ করেছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা, এনসিপি’র দলীয় আদর্শ এসব বিবেচনায় দলের অনেক কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। অনেক নেতা নির্বাচনে আসন চেয়েছিলেন, না পাওয়ায়ও অনেকে পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে এখনো ১০ দলীয় জোটে কত আসনে এনসিপি’র প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে- তা এখনো পরিষ্কার করেনি দলটি। দলটির এক যুগ্ম আহ্বায়ক জানান, এখনো চাওয়া-পাওয়ার আলোচনা চলছে। আমাদেরও কিছু চাওয়া- পাওয়া আছে, জোটেরও আছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার একদিনেই এনসিপি’র চারজন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেন। তারা হলেন- যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, সংগঠক ওয়াহিদুজ্জামান এবং কেন্দ্রীয় সদস্য আল আমিন আহমেদ টুটুল। এর আগে গত বুধবার রাতে পদত্যাগ করেন যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।

সূত্র জানায়, গত বছরের ২৪শে ডিসেম্বর রাতে এনসিপি’র নির্বাহী কাউন্সিলের সভায় জামায়াতের সঙ্গে এনসিপি’র নির্বাচনী সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। এরপর গত ২৫শে ডিসেম্বর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিন তাকে সমর্থন জানিয়ে পদত্যাগ করেন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক। মীর আরশাদুলের পদত্যাগের দু’দিন পর ২৭শে ডিসেম্বর পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণা দেন এনসিপি’র জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। সেদিনই জোটবদ্ধ নির্বাচনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দেন এনসিপি’র ৩০ নেতা। তাদের অনেকেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তাসনিম জারার পদত্যাগের পরদিন ২৮শে ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন এনসিপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন। ৩০শে ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেল, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আসিফ মোস্তফা জামাল (নেহাল) ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী আজাদ খান ভাসানী।

২০২৫ সাল শেষ হলেও এনসিপি নেতাদের পদত্যাগের তালিকা এখানেই থেমে যায়নি। বছরের শুরুর দিনেই পদত্যাগ করেছেন খান মুহাম্মদ মুরসালীন, ফারহাদ আলম ভূঁইয়া, মুশফিক উস সালেহীন ও আল আমিন আহমেদ টুটুল।

দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যেসব নেতা পদত্যাগ করেছেন, তারা জামায়াতের জোটে মনোনয়ন না পাওয়ার কারণে পদত্যাগ করেছেন। তবে পদত্যাগকারী নেতাদের কেউ জামায়াতকে জোটসঙ্গী করা, কেউ ‘ব্যক্তিগত’, কেউ ‘আদর্শিক সংঘাত’, কেউ জোটের প্রসঙ্গের কথা কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এনসিপি’র যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন তার পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, ‘সমপ্রতি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তার সঙ্গে আমি নীতিগতভাবে একমত নই।’

তাসনূভা জাবীন তার পদত্যাগের বিষয়ে ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আপনারা অনেকে ভাবছেন, হয়তো জামায়াতের সঙ্গে জোটে ঐতিহাসিক কারণ বা নারী বিষয়ের কারণে আমার আপত্তি। এর চেয়েও ভয়ঙ্কর যে কারণ, সেটা হলো যে প্রক্রিয়ায় এটা হয়েছে। এটাকে রাজনৈতিক কৌশল, নির্বাচনী জোট ইত্যাদি লেভেল দেয়া হচ্ছে। আমি বলবো, এটা পরিকল্পিত। এটাকে সাজিয়ে এ পর্যন্ত আনা হয়েছে।’

দলীয় সূত্র জানায়, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে প্রায় ৩০টি আসনে সমঝোতার গুঞ্জন থেকেই এনসিপি’র ভেতরে অসন্তোষের সূত্রপাত। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু স্পষ্ট করেনি দলটি। আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় প্রার্থী তালিকাও ঘোষণা করেনি এনসিপি।

ঢাকা মহানগর উত্তরের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) আব্দুল্লাহ আল মনসুর মানবজমিনকে বলেন, জোট হওয়ার কারণে পদত্যাগ করেছেন ব্যাপারটা শুধু এমন নয়, আসন বণ্টন নিয়ে দলের ভেতরে একটা অস্পষ্টতা আছে। এই জায়গা থেকে অনেকেরই ক্ষোভ ছিল।

এসব বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক জাভেদ রাসিন মানবজমিনকে বলেন, প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা মতাদর্শ থাকতে পারে। দলের মেজরিটি যেখানে মতামত দেবেন দল সেদিকেই সিদ্ধান্ত নেবেন। দল থেকে কেউ যদি চলে যান সেটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ দামে জ্বালানি তেল

Published

on

By

ইরান যুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করতে যাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এমন খবরের পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে দেখা গেছে, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারের বেশি হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরুর পর এই দাম সর্বোচ্চ।

যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দামও ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

জুন মাসের ডেলিভারির জন্য বর্তমান ব্রেন্ট ফিউচার্স চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হবে। ফিউচার চুক্তি হলো একটি নির্দিষ্ট তারিখে কোনো সম্পদ ক্রয় বা বিক্রয় করার চুক্তি। এশিয়ায় সকালের লেনদেনে অপেক্ষাকৃত সক্রিয় জুলাই মাসের চুক্তিটি প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১১৩ ডলারে পৌঁছেছিল।

সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় অচলাবস্থা ভাঙার লক্ষ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ওপর ধারাবাহিক ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ হামলা চালানোর একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবিত এই হামলায় অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তু অন্তর্ভুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরেকটি পরিকল্পনা ছিল হরমুজ প্রণালির একটি অংশ দখল করে সেটিকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া এবং এই কাজে স্থলভাগে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, যতদিন তেহরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে চাওয়া জাহাজগুলোকে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখবে, তত দিন তারা ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রাখবে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

ইরানের ওপর ‘দীর্ঘমেয়াদি’ অবরোধের জন্য ওয়াশিংটন প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন খবরের পর বুধবার তেলের দাম ৬ শতাংশ বেড়েছে।

Continue Reading

top1

দুই মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন আইভী

Published

on

By

সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা দুটি মামলায় উচ্চ আদালতে জামিন পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এ আদেশ দেন বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এর আগে বুধবার (২৯ এপ্রিল) শুনানি শেষে হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

এদিকে আরও ৫ মামলায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন নিয়ে আগামী রোববার (৩ মে) আদেশ দেবেন আপিল বিভাগ। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।

জানা গেছে, গত বছরের ৯ মে ভোর ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আটক করে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরবর্তীতে হাইকোর্ট ৫ মামলায় জামিন পেলেও আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়। এর মধ্যেই গত ১৮ নভেম্বর তাকে আরও ৫ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরবর্তীতে বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে জামিন দেন।

পাঁচটি মামলার মধ্যে যে চারটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সেগুলো হলো— ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা। এছাড়াও হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপর মামলাটি করা হয়েছে।

হাইকোর্টের জামিন আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষ আইভীর জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে। পরবর্তীতে গত ৫ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

সে সঙ্গে বিষয়টি শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়। তবে এর মধ্যেই আরও দুই মামলায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

Continue Reading

top1

পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক প্রবেশ

Published

on

By

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এই মাইলফলকের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পারমাণবিক শক্তি প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই ধাপে পৌঁছানোকে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রূপপুরে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসিসহ শীর্ষস্থানীয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, আজ আমরা এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নয়নের এক নতুন যুগে পদার্পণ করল। এটি শুধু একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প নয়, এটি আমাদের আত্মনির্ভরতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই উন্নয়নের প্রতীক।

তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অত্যাধুনিক। নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিটি ধাপে কঠোরভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পে বহুমাত্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যা যে কোনো ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য ভ্লাদিমির পুতিন এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটমকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক ও টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি বাস্তব উদাহরণ, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তার ভাষায়, এই প্রকল্প দেশের জন্য জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গঠনের পথে দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করছে।

তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার সমন্বয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার কারিগরি সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ফলে প্রকল্পটি নিরাপত্তা ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে শক্ত অবস্থান অর্জন করেছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কঠোর নিয়ন্ত্রক ভূমিকার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফটির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে রোসাটমের মহাপরিচালক এলেক্সি লিখাচভ বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারে একটি স্বীকৃত অবস্থান অর্জন করছে। তিনি জানান, মহামারি, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও নির্মাণকাজ একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি এবং এখন প্রকল্পটি সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় ইউনিটে বর্তমানে পাইপলাইন ও পাম্পিং সরঞ্জাম স্থাপনের কাজ চলছে এবং আগামী বছর সেখানে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে রাশিয়া ও বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বিত কাজ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রসঙ্গে লিখাচভ জানান, গত কয়েক বছরে রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে রোসাটমের কোটা অনুযায়ী ৯০০-এর বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চতর পারমাণবিক শিক্ষা লাভ করেছে। তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ১১০০-এর বেশি বিশেষজ্ঞ তৈরি করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি, যারা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প এখন পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে। এক বছরের মধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে কাজ দ্রুত এগিয়েছে। তিনি জানান, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যোগ করবে, যা শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি দীর্ঘমেয়াদি উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যার সম্ভাব্য আয়ুষ্কাল প্রায় এক শতাব্দী।

জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রূপপুর প্রকল্প এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির দিকে এগিয়ে গেল, যা বাংলাদেশের জ্বালানি ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Continue Reading

Trending