Connect with us

রাজনীতি

জুলাই জাতীয় সনদ: ৮৪ বিষয়ে ‘ঐকমত্য’

Published

on

অলটাইম নিউজ ডেস্ক

জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। খসড়া্য় রয়েছে সাত দফা অঙ্গীকারনামা। যাতে সই করলে রাজনৈতিক দলগুলো এই সনদ নিয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

স্বাক্ষরের জন্য এই চূড়ান্ত খসড়া আজ বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো হয়েছে। কিছুক্ষেত্রে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্টসহ) মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে এই চূড়ান্ত খসড়ায়।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এর চূড়ান্ত ভাষ্য আজই পাঠানো হচ্ছে৷ এ সনদে সকলের মতের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে।’

সনদে স্বাক্ষরের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টার মধ্যে দুজন ব্যক্তির নাম কমিশনে পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করবে দলগুলো। তবে সনদ বাস্তবায়নের আইনি বাধ্যবাধকতার যে সুপারিশ এসেছিল, চূড়ান্ত খসড়ায় তা নেই।

আগের সমন্বিত খড়ায় বলা হয়েছিল, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর প্রতিটি বিধান, প্রস্তাব ও সুপারিশ সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে বলবৎ হিসেবে গণ্য হবে বিধায় এর বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা, কিংবা জারির কর্তৃত্ব সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না।’

সে অবস্থান থেকে সরে এসে চূড়ান্ত খসড়ায় বলা হয়েছে, এই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে সংবিধানে ‘তফসিল হিসেবে বা যথোপযুক্তভাবে’ সংযুক্ত করা হবে এবং স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলো এ সনদের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন তুলবে না।

অঙ্গীকারনামায় বলা হয়েছে, অবিলম্বে ‘বাস্তবায়নযোগ্য’ যেসব বিষয় রয়েছে তা অন্তবর্তীকালীন সরকারই বাস্তবায়ন করবে।

আগের সমন্বিত খসড়ায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামায় আটটি বিষয় ছিল। বলা হয়েছিল, ‘এ সনদের সকল বিধান, নীতি ও সিদ্ধান্ত সংবিধানে অন্তর্ভুক্তকরণ নিশ্চিত করব এবং বিদ্যমান সংবিধান বা অন্য কোন আইনে ভিন্নতর কিছু থাকলে সেই ক্ষেত্রে এই সনদের বিধান/প্রস্তাব/সুপরিশ প্রাধান্য পাবে।’

জামায়াতে ইসলামী ও জুলাই আন্দোলনের নেতাদের দল এনসিপির দাবিতেই এ শর্ত সনদে যুক্ত করা হয়েছিল। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছিল তাদের মূল দাবি।

তবে বিএনপিসহ কয়েকটি দল সংবিধানের ওপর এর অবস্থান করার বিরোধিতা করেছিল। চূড়ান্ত সনদে ওই শর্ত পরিবর্তন করে কেবল তফসিল আকারে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

সবশেষ জুলাই সনদের চূড়ান্ত সমন্বিত খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠিয়ে মতামতের জন্য ২২ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। এরপরই এ নিয়ে আবার দলগুলোর ভিন্ন মতের খবর আসে।

সেসব সমন্বয় করে চূড়ান্ত খসড়া ৪ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোকে সই করার জন্য দেওয়ার কথা ছিল। এদিন সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ঐকমত্য কমিশন সংশ্লিষ্টরা বহুল আলোচিত এ সনদে সই করবেন বলা হয়েছিল।

সনদে ১২ দলীয় জোটসহ ৩৩টি দলের জুলাই সনদে একমত হওয়ার কথা লেখা হয়েছে।

বলা হয়েছে, মোট ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোট তাদের মতামত কমিশনের কাছে প্রেরণ করে, অনেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণও প্রদান করে। মতামত গ্রহণের পাশাপাশি প্রথম পর্যায়ে চলতি বছরের ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ৩২টি দল ও জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মোট ৪৪টি বৈঠক হয়।

আলোচনা ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে কিছু দলের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শেষ করে কমিশন অগ্রাধিকার ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় মোট ২০টি বিষয় নিয়ে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সাথে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় মিলিত হয়।

দ্বিতীয় দফায় ২০টি বিষয়ের ওপর আলোচনায় উক্ত ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মতামতই কেবল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফলস্বরূপ নিম্নলিখিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ কয়েকটি ভিন্নমতসহ সর্বসম্মতভাবে প্রণীত হয়।

অঙ্গীকার

জুলাই সনদের বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামায় বলা হয়েছে:

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রকাশিত জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীগণ এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে–

(১) জনগণের অধিকার ফিরে পাওয়া এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষের জীবন ও রক্তদান এবং অগণিত মানুষের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি ও ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত সুযোগ এবং তৎপ্রেক্ষিতে জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রণীত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করব।

(২) জনগণ এই রাষ্ট্রের মালিক; তাদের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের অভিপ্রায় প্রতিফলিত হয় রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে। এমতাবস্থায়, আমরা রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহ সম্মিলিতভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে জনগণের অভিপ্রায়ের সুস্পষ্ট অভিব্যক্তি হিসাবে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ গ্রহণ করেছি বিধায় এই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে সংবিধানে তফসিল হিসেবে বা যথোপযুক্তভাবে সংযুক্ত করব।

(৩) আমরা জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এর বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করব না; উপরন্তু উক্ত সনদ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করব।

(8) আমরা ঐকমত্যে উপনীত হয়েছি যে, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের দীর্ঘ ১৬ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম এবং বিশেষত ২০২৪ সালের অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে সাংবিধানিক তথা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করব।

(৫) আমরা সম্মিলিতভাবে ঘোষণা করছি যে, গণঅভ্যুত্থানপূর্ব ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত সকল হত্যাকান্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবারসমূহকে যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করব।

(৬) ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এ বাংলাদেশের সামগ্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা তথা সংবিধান, বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে যেসব সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন এবং বিদ্যমান আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিবর্তন, পরিমার্জন বা নতুন আইন প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন বা বিদ্যমান বিধি ও প্রবিধির পরিবর্তন বা সংশোধন করব।

(৭) আমরা এই মর্মে একমত যে, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এর ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত যে সকল সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য সেগুলো কোনো প্রকার কালক্ষপেণ না করেই দ্রুততম সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে।

পিকেডি/অলটাইম

ক্যাম্পাস

শিবির-ছাত্রদলের উত্তেজনার মধ্যেই ইবিতে ছাত্রলীগের কমিটি

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জামায়াত-শিবির ও বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই শাখা ছাত্রলীগের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিন মাস মেয়াদি ২৮ সদস্যের এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঘোষিত এ কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হাফিজকে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিন মাস মেয়াদ শেষে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক সক্রিয়তা বিবেচনায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।

কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে মো. মামুন-অর-রশিদ, আলী শ্রাবণ, তরিকুল ইসলাম তরুণ, রতন কুমার রায়, সামিউল ইসলাম, শাহিন আলম, মামুন রানা, সাব্বির আহমেদ আকিফ, রাব্বি হোসেন, নাছিম হাসান নাঈম, রাসেল আলী, রাকিবুল ইসলাম, সোহানুর রহমান, মেসবাহুল ইসলাম, নাবিল আহমেদ ইমন, মো. সাদিদ খান সাদি, হুসাইন তুষার, অনিক কুমার, সোহাগ শেখ, তানভীর হাসান, রাব্বি হাসান, আকিব মাসুদ, পিয়াস মুস্তাকিম, সাগর আহম্মেদ, মো. রাকিব হোসেন, শাহরিয়ার হিমেল ও পাভেল মোল্লাকে।

এদিকে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এক শিবির নেতাকে ছাত্রদল কর্মীর চড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, দুপুর পৌনে ২টার দিকে পরীক্ষা শেষে হলে খাবার খেতে যান কাজী জুহায়ের। হলের গেট পেরিয়ে করিডোরে পৌঁছালে আলীনুর নামে এক ছাত্র তাকে চড় মারেন এবং গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে অন্য শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে আলীনুর তাদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে তিনি হলের ২১৭ নম্বর কক্ষে চলে যান। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ্যে এসেছে।

এরপর শিবিরের নেতাকর্মীরা হলে গিয়ে আলীনুরের কক্ষ ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। এ সময় কক্ষটির জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় অভিযুক্ত আলীনুরকে হল থেকে উদ্ধার করে প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনার জেরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে বিক্ষোভ করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। একই সময়ে জিয়া মোড়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন শিবিরের নেতাকর্মীরা।

পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন ছাত্রদল ও বিএনপির কিছু নেতাকর্মী। এ সময় কয়েকজনের হাতে রামদা, ছুরি ও হাতুড়ির মতো দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। একপর্যায়ে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়। পরে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রক্টর কার্যালয়ে বৈঠক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেখানে ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এসে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পর বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে যেন পরিস্থিতি উত্তপ্ত না হয়, সে জন্য আমাদের অবস্থান রয়েছে।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

Continue Reading

top1

কুমিল্লা-নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ ঘোষণার দাবি জামায়াত আমিরের

Published

on

By

কুমিল্লা ও নোয়াখালীকে আলাদা বিভাগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর ধানাই-পানাই করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন হোক। পাশের নোয়াখালী, বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষও বিভাগ চাচ্ছেন। তারাও একটি বিভাগ পাওয়ার দাবিদার। তাদেরও দিন। কিন্তু কুমিল্লার দাবি যেহেতু ১৯৯৪ সাল থেকে চলে আসছে, আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করুন।’

শনিবার (৫ আগস্ট) কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মোশতাক আহমেদের বাড়ি কুমিল্লায় উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই কারণে গোঁসা করে কুমিল্লার নামে বিভাগ দেওয়া হবে না, আগে এ নিয়ে ধানাই-পানাই করা হয়েছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, কোনো জেলার নাম নিয়ে যদি বাড়াবাড়ি করা হয়, তাহলে সেটা ওই জেলা এবং সেখানে বসবাসকারী প্রত্যেকটি মানুষকে অপমান করার শামিল।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারও বলেছে, কুমিল্লা বিভাগ দেওয়া হবে। তাহলে দিচ্ছেন না কেন? এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করুন। বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার যাবতীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করুন।’

কুমিল্লায় বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এখানে বিমানবন্দর হওয়ার যে বিষয়টি আছে, সেটিও দেখতে হবে। এখানে একটি ইপিজেড আছে, একটি বিমানবন্দরও আছে। সেই বিমানবন্দরটি সম্ভাব্যতা যাচাই করে যদি সবদিক থেকে উত্তম হয়, তাহলে জনগণের জন্য সেটিও চালু করা হোক। তবে বিভাগটা আগে দেন। বিভাগের দাবিটা আগে পূরণ করুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লার মানুষকে এখন প্রশাসনিক কাজের জন্য চট্টগ্রামে দৌড়াতে হয়। এখানে বিভাগ হলে তাদের প্রশাসনিক কাজগুলো এখানেই হবে।’

লংমার্চ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘আজকের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলো। প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে ইনশাআল্লাহ আমাদের লংমার্চ যাবে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। সেই মহাসমাবেশ কি শুধু চিড়ামুড়ি খাওয়ার জন্য হবে, নাকি আমাদের দাবি আদায়ের জন্য হবে? কুমিল্লার মানুষ, আপনারা যাবেন। প্রয়োজনে চিড়ামুড়ি হাতে নিয়েই যাবেন। দাবি আদায় করে ইনশাআল্লাহ ঘরে ফিরবেন। আপনারা প্রস্তুতি নেন। আমরা আশাবাদী, জনতার বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করেন? তিনি তো সংসদের সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন, কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়েরই কোনো খবর নেই।’

উল্লেখ্য, জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ এবং সারের সংকট সমাধানসহ ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করছে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। আজ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চের কর্মসূচি শুরু হয়। চট্টগ্রামের লালদিঘীর মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।

Continue Reading

top2

বিপ্লবী ছাত্রনেতা থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

বামপন্থি বিপ্লবী ছাত্ররাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক জীবনের শুরু। এরপর ছাত্রদলের নেতৃত্ব পেরিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে উঠে আসা রুহুল কবির রিজভী এখন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপি যখন রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা ছিল, তখন দলটির হয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন রিজভী। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থানকালে প্রায় প্রতিদিনই দলীয় কার্যালয়ে দেখা যেত তাকে।

রুহুল কবির রিজভীর পৈতৃক নিবাস কুড়িগ্রামে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ থেকে এবং ইতিহাস বিষয়ে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিও রয়েছে তার।

উচ্চ মাধ্যমিকের পর বামপন্থি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় রিজভীর। তিনি সংগঠনটির রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠিত হলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দেন।

ছাত্রদলের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রচার সম্পাদক ও পরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পান।

১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন রিজভী। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন তিনি। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৫ আগস্ট বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয় তাকে।

সবশেষ ২০ আগস্ট ২০২৬ রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়। তার এ দায়িত্বপ্রাপ্তিতে নিজ এলাকা কুড়িগ্রামের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ দেখা দিয়েছে।

Continue Reading

Trending