Connect with us

রাজনীতি

জুলাই জাতীয় সনদ: ৮৪ বিষয়ে ‘ঐকমত্য’

Published

on

অলটাইম নিউজ ডেস্ক

জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। খসড়া্য় রয়েছে সাত দফা অঙ্গীকারনামা। যাতে সই করলে রাজনৈতিক দলগুলো এই সনদ নিয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না।

স্বাক্ষরের জন্য এই চূড়ান্ত খসড়া আজ বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো হয়েছে। কিছুক্ষেত্রে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্টসহ) মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে এই চূড়ান্ত খসড়ায়।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এর চূড়ান্ত ভাষ্য আজই পাঠানো হচ্ছে৷ এ সনদে সকলের মতের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে।’

সনদে স্বাক্ষরের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টার মধ্যে দুজন ব্যক্তির নাম কমিশনে পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

এই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করবে দলগুলো। তবে সনদ বাস্তবায়নের আইনি বাধ্যবাধকতার যে সুপারিশ এসেছিল, চূড়ান্ত খসড়ায় তা নেই।

আগের সমন্বিত খড়ায় বলা হয়েছিল, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর প্রতিটি বিধান, প্রস্তাব ও সুপারিশ সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে বলবৎ হিসেবে গণ্য হবে বিধায় এর বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা, কিংবা জারির কর্তৃত্ব সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না।’

সে অবস্থান থেকে সরে এসে চূড়ান্ত খসড়ায় বলা হয়েছে, এই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে সংবিধানে ‘তফসিল হিসেবে বা যথোপযুক্তভাবে’ সংযুক্ত করা হবে এবং স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলো এ সনদের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন তুলবে না।

অঙ্গীকারনামায় বলা হয়েছে, অবিলম্বে ‘বাস্তবায়নযোগ্য’ যেসব বিষয় রয়েছে তা অন্তবর্তীকালীন সরকারই বাস্তবায়ন করবে।

আগের সমন্বিত খসড়ায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামায় আটটি বিষয় ছিল। বলা হয়েছিল, ‘এ সনদের সকল বিধান, নীতি ও সিদ্ধান্ত সংবিধানে অন্তর্ভুক্তকরণ নিশ্চিত করব এবং বিদ্যমান সংবিধান বা অন্য কোন আইনে ভিন্নতর কিছু থাকলে সেই ক্ষেত্রে এই সনদের বিধান/প্রস্তাব/সুপরিশ প্রাধান্য পাবে।’

জামায়াতে ইসলামী ও জুলাই আন্দোলনের নেতাদের দল এনসিপির দাবিতেই এ শর্ত সনদে যুক্ত করা হয়েছিল। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছিল তাদের মূল দাবি।

তবে বিএনপিসহ কয়েকটি দল সংবিধানের ওপর এর অবস্থান করার বিরোধিতা করেছিল। চূড়ান্ত সনদে ওই শর্ত পরিবর্তন করে কেবল তফসিল আকারে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

সবশেষ জুলাই সনদের চূড়ান্ত সমন্বিত খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠিয়ে মতামতের জন্য ২২ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। এরপরই এ নিয়ে আবার দলগুলোর ভিন্ন মতের খবর আসে।

সেসব সমন্বয় করে চূড়ান্ত খসড়া ৪ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক দলগুলোকে সই করার জন্য দেওয়ার কথা ছিল। এদিন সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ঐকমত্য কমিশন সংশ্লিষ্টরা বহুল আলোচিত এ সনদে সই করবেন বলা হয়েছিল।

সনদে ১২ দলীয় জোটসহ ৩৩টি দলের জুলাই সনদে একমত হওয়ার কথা লেখা হয়েছে।

বলা হয়েছে, মোট ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোট তাদের মতামত কমিশনের কাছে প্রেরণ করে, অনেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণও প্রদান করে। মতামত গ্রহণের পাশাপাশি প্রথম পর্যায়ে চলতি বছরের ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ৩২টি দল ও জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মোট ৪৪টি বৈঠক হয়।

আলোচনা ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে কিছু দলের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়।

রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শেষ করে কমিশন অগ্রাধিকার ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় মোট ২০টি বিষয় নিয়ে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সাথে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় মিলিত হয়।

দ্বিতীয় দফায় ২০টি বিষয়ের ওপর আলোচনায় উক্ত ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মতামতই কেবল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফলস্বরূপ নিম্নলিখিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ কয়েকটি ভিন্নমতসহ সর্বসম্মতভাবে প্রণীত হয়।

অঙ্গীকার

জুলাই সনদের বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামায় বলা হয়েছে:

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রকাশিত জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীগণ এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে–

(১) জনগণের অধিকার ফিরে পাওয়া এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষের জীবন ও রক্তদান এবং অগণিত মানুষের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি ও ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত সুযোগ এবং তৎপ্রেক্ষিতে জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রণীত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করব।

(২) জনগণ এই রাষ্ট্রের মালিক; তাদের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের অভিপ্রায় প্রতিফলিত হয় রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে। এমতাবস্থায়, আমরা রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহ সম্মিলিতভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে জনগণের অভিপ্রায়ের সুস্পষ্ট অভিব্যক্তি হিসাবে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ গ্রহণ করেছি বিধায় এই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে সংবিধানে তফসিল হিসেবে বা যথোপযুক্তভাবে সংযুক্ত করব।

(৩) আমরা জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এর বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করব না; উপরন্তু উক্ত সনদ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করব।

(8) আমরা ঐকমত্যে উপনীত হয়েছি যে, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের দীর্ঘ ১৬ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম এবং বিশেষত ২০২৪ সালের অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে সাংবিধানিক তথা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করব।

(৫) আমরা সম্মিলিতভাবে ঘোষণা করছি যে, গণঅভ্যুত্থানপূর্ব ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত সকল হত্যাকান্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবারসমূহকে যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করব।

(৬) ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এ বাংলাদেশের সামগ্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা তথা সংবিধান, বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে যেসব সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন এবং বিদ্যমান আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিবর্তন, পরিমার্জন বা নতুন আইন প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন বা বিদ্যমান বিধি ও প্রবিধির পরিবর্তন বা সংশোধন করব।

(৭) আমরা এই মর্মে একমত যে, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ এর ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত যে সকল সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য সেগুলো কোনো প্রকার কালক্ষপেণ না করেই দ্রুততম সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে।

পিকেডি/অলটাইম

রাজনীতি

নেতৃত্ব নিয়ে আশাবাদী, দুর্দিনের সহযোদ্ধাদের মূল্যায়ন চাই: ইবি ছাত্রদল নেতা

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

জুলাই বিপ্লবের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠিত হলেও দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। মনের আক্ষেপ থেকে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেছেন, “যেহেতু আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে (২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পরবর্তী সময়, জুলাই-আগষ্ট গণঅভ্যুত্থান) ভূমিকা, ডেডিকেশন, শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, ক্লিন ইমেজ, কর্মীবান্ধব ও ছাত্রত্ব—এগুলো মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হবে তাই নেতৃত্ব নিয়ে আমি আশাবাদী। দুর্দিনের সহযোদ্ধাদের মূল্যায়ন চাই।”

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম— নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একথা লিখেন তিনি। নিচে তার স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো—

আগেই বলে রাখি গুপ্ত মানে সংখ্যা হ্রাস বৃদ্ধি না। রাজনীতি করা দোষের কিছু না কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বেশ ধরা মানে রাজনীতিকে কলঙ্কিত করা। রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করা কোন কৌশল না বরং কাপুরুষতা। যায় হোক মূল লেখনীতে আসি— যে সংগঠনকে ভালোবেসে, ধারণ করে জীবনের মহামূল্যবান সময় দিয়েছি তার নাম ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল,ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা’। হয়তো হতে পারতাম বাবা-মায়ের সেরা সন্তান, বোনের সেরা ভাই, ভাইয়ের কাছে সেরা ভাই। প্রতিবেশী, আত্মীয়, সমাজের কাছে সফল কেউ। শুভাকাঙ্ক্ষী, প্রিয়দের কাছে আরও প্রিয়। তবুও কোন আপসোস নেই। অনেক গর্বের সাথে পরিচয় দিতে পারি আমি “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল”—এর একজন নগন্য কর্মী। ২০২১ সালের ১৬ জুন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদিত হয়। দুর্দিনে কমিটিভুক্ত ৬-৭ জন সহ মোট ১৪-১৫ জন সহযোদ্ধারা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি; কমিটিভুক্ত ২৪-২৫ জন নিস্ক্রিয় থেকে যায়। ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে কমিটিভুক্ত সহযোদ্ধাদের সংখ্যা বেড়ে ৯-১০ জন হয়েছে।

তিনি আরও লিখেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কমিটি নতুন করে অনুমোদিত হয়েছে; এমনকি আমাদের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সমসাময়িক সকল কমিটিই পূর্ণাঙ্গ হয়েছে। অনেক জায়গায় আবারও কমিটি অনুমোদনের গুঞ্জন আছে। দুঃখের বিষয় আমাদের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয় নাই। যদি ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়েও পূর্ণাঙ্গ হতো তাহলে হয়তো নেতা ও কর্মীর মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো না [দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় যে কর্মী যে নেতার হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছে সেই নেতা ও কর্মীর মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা] কর্মীরা পরিচয় পেতো, সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়তো, সংগঠন অনেকটা প্রাণ ফিরে পেতো।বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের সময় বঞ্চিত হয়েছি তবে সংগঠন ছেড়ে কখনও নিস্ক্রিয় হয় নাই। একক প্রস্তাবিত সদস্য সচিব প্রার্থী থেকেও কাঙ্ক্ষিত পদবী না পেয়েও নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে সংগঠনের কাজ করে আসছি।আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক জনাব Tarique Rahman ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ সবার সব বিষয়ে অবগত আছেন। যেহেতু আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে (২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পরবর্তী সময়, জুলাই – আগষ্ট গণঅভ্যুত্থান) ভূমিকা, ডেডিকেশন, শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, ক্লিন ইমেজ, কর্মীবান্ধব ও ছাত্রত্ব এগুলো মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হবে তাই নেতৃত্ব নিয়ে আমি আশাবাদী। দুর্দিনের সহযোদ্ধাদের মূল্যায়ন চাই।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৬ জুন তিন মাসের জন্য ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয় ইবি ছাত্রদলের। তবে চার বছর পার করলেও নতুন কমিটি গঠিত হয়নি, যা সংগঠনের কার্যক্রমে স্থবিরতা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। সাহেদ আহম্মেদ (আহ্বায়ক) ও মাসুদ রুমী মিথুন (সদস্য সচিব) নেতৃত্বাধীন এ কমিটি ৩ মাস মেয়াদী হলেও বিবাহিত, অছাত্র ও নিষ্ক্রিয় সদস্য এবং নতুন নেতৃত্ব না আসায় বর্তমানে পুনর্গঠনের দাবি উঠেছে।

Continue Reading

রাজনীতি

বর্তমান সরকারের আমলে ৪৬৪ হত্যা ও ৬৬৬ ধর্ষণ মামলা হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published

on

By

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর (১৭ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে ৪৬৪টি হত্যা মামলা এবং ৬৬৬টি ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে। হত্যা মামলায় ৬০৪ জন ও ধর্ষণ মামলায় ৫৩০ জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যে হত্যা মামলায় ১১ জন এবং ধর্ষণ মামলায় ৭১ আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে এনসিপির সংসদ সদস্য (কুমিল্লা-৪) আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে দায়ী সকল আসামির কঠোর সাজা নিশ্চিত করার জন্য মামলাগুলো অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে মামলাসমূহে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

জামায়াতের এমপি মো. মুজিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ড ঘৃণ্য অপরাধ, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দেশের উন্নয়নে সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধমুক্ত সমাজ ব্যবস্থার বিকল্প নেই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার একটানা ১৫ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকাকালে তাদের অনুগত সন্ত্রাসী বাহিনী ভূমি দখল, জল, বালু মহাল দখল, বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। বর্তমান সরকার এ সকল অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করায় অল্প সময়ের মধ্যে ভূমি দখল, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার ফলে এ সকল অপরাধ অনেকাংশ হ্রাস পেয়েছে।

মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে ২ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৪টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ পদ ২ লাখ ৭ হাজার ৭৪৫, নন-পুলিশ পদ ৮ হাজার ৪৭টি এবং নন-পুলিশ আউটসোর্সিং পদ ২ হাজার ৭৬২টি। এ ছাড়া নতুন করে সাড়ে ১৪৫০০ পদ সৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে এএসপি পদ ৫০০, এসআই (নিরস্ত্র) ৪ হাজার এবং ১০ হাজার কনস্টেবল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে ২৭০৩টি কনস্টেবলের শূন্যপদের বিপরীতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া সরাসরি ২ হাজার এএসআই নিয়োগ করা হবে বলেও তিনি জানান।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা বিধানে বদ্ধপরিকর। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং নানাবিধ পদক্ষেপের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে জনগণের নিরাপত্তা বিধানসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর এমপি (চট্টগ্রাম-১৫) শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুম কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে সংরক্ষিত আছে। নিখোঁজ বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বা ভুক্তভোগী পরিবারগুলিকে আইনি সহায়তাসহ সকল ধরনের সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

Continue Reading

top3

ব্যর্থতা ঢাকতে ছাত্রদলের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে সরকার: সাদিক কায়েম

Published

on

By

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সরকার ও ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে তিনি দেশব্যাপী অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেছেন।

সাদিক কায়েম তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার যখন জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, কূটনৈতিক দুর্বলতা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে, তখন সেই ব্যর্থতা আড়াল করতেই তারা ছাত্রদলের লাঠিয়াল বাহিনীর হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে রামদা ও চাপাতি নিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে এবং ভুয়া স্ক্রিনশট ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও হত্যাচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে তিনি জানান, একটি ফেসবুক স্ক্রিনশটকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু হয়, যা পরে ফ্যাক্ট চেকিং প্লাটফর্মে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনার বিচার ও নিরাপত্তার আবেদন জানাতে গিয়ে শাহবাগ থানায় গিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, উবায়দুর রহমান হাসিবসহ ডাকসু ও হল সংসদের একাধিক নেতা ছাত্রদলের হামলার শিকার হয়েছেন। হামলায় মুসাদ্দিক, জুবায়ের, আলভি, সাদিক, জুমা ও সালমাসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টিও ডাকসু ভিপি তার স্ট্যাটাসে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১৬ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিককে ছাত্রদল হেনস্তা করেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য চেয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টিকেই তিনি শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল করার একটি পূর্বপরিকল্পিত অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

পরিশেষে, সাদিক কায়েম সরকারের মন্ত্রী এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ছাত্রদলের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ড অদূর ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যাকফায়ার করবে এবং বর্তমান প্রজন্ম ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের কর্তৃত্ববাদী বা অস্ত্রনির্ভর রাজনীতি মেনে নেবে না

Continue Reading

Trending