Connect with us

top1

জুলাই শহীদদের তথ্য লুকাতে রেকর্ড গায়েব

Published

on

জুলাই বিপ্লবের সময় হতাহতদের বড় একটি অংশকে যে কয়টি সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়, রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তার মধ্যে একটি। হাসপাতালের তথ্যমতে, এখানে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত তিন শতাধিক আহত এবং ৪৭ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়। তবে ভিন্ন কথা বলছেন বিপ্লবের উত্তাল সময়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া চিকিৎসক ও নার্সরা। প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি বলে জানাচ্ছেন তারা।

চিকিৎসক ও নার্সদের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামীপন্থি হাসপাতাল পরিচালক ডা. শফিউর রহমান সরকারের নির্দেশে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন করতে নিবন্ধন বইয়ের বহু পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলেন। পাশাপাশি নতুন নিবন্ধন বইও গায়েব করেন। শেখ হাসিনা সরকারের নির্দেশে এমন ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার পরও অধিকাংশ চিকিৎসক যখন আহতদের চিকিৎসাসেবা দিতে ব্যস্ত ছিলেন, তখন হতাহতদের তথ্য গোপনে মরিয়া ছিলেন তিনি। তাকে সহযোগিতা করেন হাসপাতালে থাকা আওয়ামীপন্থি বেশ কয়েকজন চিকিৎসক।

অভিযোগ উঠেছে, জুলাই বিপ্লবের পর এসব অপকর্মের দায়ে শাস্তি হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি ও জামায়াতপন্থি চিকিৎসকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে স্বপদে টিকে থাকেন ডা. শফিউর। তবে শেষরক্ষা হয়নি। চলতি বছরের ১০ আগস্ট তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে সাভারের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্টে (বিআইবিএম) যুক্ত করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে বেশি হতাহত আসতে শুরু করে ১৮ জুলাই থেকে। ওই সময় দায়িত্ব পালন করা সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের আট চিকিৎসক, তিন নার্স এবং দুজন ওয়ার্ডবয়ের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা জানান, ঢাকা মহানগর ও আশপাশের জেলাগুলো থেকে ১৮ জুলাই শতাধিক ব্যক্তিকে মৃত ও আহতাবস্থায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আনা হয়। আহতদের একটি অংশ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি অ্যান্ড ক্যাজুয়ালটি (ওসেক) বিভাগে আনার পরপরই মারা যান। কারো মৃত্যু হয় অ্যাম্বুলেন্সে থাকতেই আবার অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। 

পরদিন ১৯ জুলাই মৃত অবস্থায় আনা হয় ৩৩ জনকে। আহত অবস্থায় যাদের ২৫ থেকে ৩০ জনের মৃত্যু হয়। ওই দিন ওসেক, ক্যাজুয়ালটি এবং ইনডোরে ভর্তি থাকা অবস্থায় প্রায় ৬০ জনের মৃত্যু হয়। ২০ জুলাই এক শিফটেই ২০ জনের অধিকের লাশ আনা হয়।

চিকিৎসক ও নার্সরা আরো জানান, জুলাইয়ে হতাহতের যে স্রোত ছিল, আগস্টের শুরুতে সেটি আরো তীব্র আকার ধারণ করে। ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ জনের লাশ এসেছে হাসপাতালে। সে হিসাবে লাশের সংখ্যা দেড়শর মতো হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ লাশের হিসাব দিয়েছে এর তিনভাগের একভাগ। ফলে কর্তৃপক্ষ যে তালিকা করে তা নিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।

জুলাই বিপ্লবের সময় হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ট্রেইনি ডাক্তার আমার দেশকে বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে এটি কোনোভাবেই সত্য নয়। কারণ, চারদিক থেকে হতাহতের স্রোত আসছিল, কোথাও জায়গা দেওয়ার অবস্থা ছিল না। ফ্লোরে ফ্লোরে আহত ও লাশের মিছিল। বিশেষ করে ১৮ জুলাই থেকে এই সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। এসব হতাহতের অধিকাংশের নাম ও ন্যূনতম পরিচয় যতটুকু পারা যায় নিবন্ধন বইয়ে লিখে রাখা হয়েছিল। নিবন্ধন বই বা রেজিস্ট্রার হচ্ছে এক ধরনের নথি যেখানে রোগীর পরিচয়, রোগের ইতিহাস, চিকিৎসা এবং প্রদত্ত ওষুধের তথ্য তারিখসহ লিখে রাখা হয়। অনেকেই পরবর্তী সময়ে ঝামেলা এড়াতে পরিচয় তালিকাভুক্ত করা ছাড়াই চলে যান। তবে ভর্তি রোগীদের তথ্য রেকর্ডভুক্ত হয়। সেই তালিকার কার্বন কপি আমাদের কাছে থাকলেও সেটি স্যাররা নিয়ে নেয়। পরে সেটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।’

ওই চিকিৎসক আরো বলেন, ‘ভর্তিদের ডেডিকেটেড ইউনিট ছিল ৪২১ নম্বর ওয়ার্ড। ১৮ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সেখানে ১৮০ থেকে ২০০ জন ভর্তি ছিল। এর মধ্যে দৈনিক ২ থেকে ৩ জন করে মারা গেছেন।’

জুলাই বিপ্লবের শুরু থেকে হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর পর্যন্ত ক্যাজুয়ালটি বিভাগে দায়িত্ব পালন করা আরেক চিকিৎসক আমার দেশকে বলেন, ‘১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চলে। ওই দিন দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলাম। 

সেদিন অন্তত ৫০টি লাশ এসেছে। এর মধ্যে খুব কমসংখ্যকের লাশের নাম, পরিচয় নথিভুক্ত করা হয়। অনেকের তথ্য নথিভুক্ত করা হলেও সেই তথ্য কোথায় গেছে তা অজানা। ওই দিন সার্জারি বিভাগে দুপুর ২টা পর্যন্ত চার থেকে পাঁচজন রোগী ভর্তি ছিলেন। কিন্তু এরপর দুই ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় অর্ধশত গুলিবিদ্ধ আহতকে এখানে ভর্তি করা হয়। যাদের অধিকাংশের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন ছিল। ৪২০ ও ৪২১ ওয়ার্ড মিলে ১০০ শয্যাতে অন্তত ৫শ আহতকে ভর্তি করা হয় ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত। সেই তথ্য গেল কোথায়? এ ছাড়া ক্যাজুয়ালটিতে আসা রোগীদের তথ্য তো আছেই। সব মিলিয়ে অন্তত এক হাজার ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন এই হাসপাতালে।

কিছুক্ষেত্রে ঝামেলা এড়াতে অনেকেই নিজেদের তথ্য দেননি। তবে অধিকাংশের তথ্য নিবন্ধন বইতে ছিল। ফলে সরকারের চাপ বা পরিচালকের নিজের স্বার্থ—যেটাই হোক, তথ্য গোপন করা হয়েছে এটি শতভাগ নিশ্চিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘৫ আগস্টের পর পরিচালকের কাছে বিষয়গুলো জানতে চাইলে ট্রেইনি ডাক্তাররা এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারে না বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিচালকের এসব অপকর্মে সহযোগিতা করেন আওয়ামীপন্থি ক্লিনিক্যাল অ্যাসিসটেন্ট ডা. তানজিদ ও ডা. জ্যোতি। অন্য চিকিৎসকরা যখন চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছিল, তখন তারা আসেননি। আবার যারা চিকিৎসা দিয়েছেন তাদের বিএনপি-জামায়াত হিসেবে ট্যাগ দেওয়া হতো।’

এই চিকিৎসক আরো বলেন, ‘হাসিনা না পালালে আমাদের মতো বহু চিকিৎসকের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের দরজা হয়তো চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যেত। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো, ৫ আগস্টের পর বিএনপি-জামায়াতপন্থি চিকিৎসকদের নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে টিকে ছিলেন পরিচালক, এটাই তার হাতিয়ার।’

অভিযোগ রয়েছে, জুলাই বিপ্লবের সময় বিপ্লবীদের চিকিৎসা দেওয়া বহু চিকিৎসককে বিএনপি-জামায়াত ট্যাগ দেন ক্লিনিক্যাল অ্যাসিসটেন্ট ডা. সৈয়দ তানজিদুল ইসলাম। এ বিষয়টি নিয়ে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বিভাগ পরিবর্তন করে লঘু শাস্তি দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি আমার দেশকে বলেন, ‘জুলাইয়ে ৪২০ নম্বর ওয়ার্ড ডেডিকেটেড ছিল। আমি সেখানে সহকারী রেজিস্ট্রার ছিলাম। আমি কাউকে কোনো ট্যাগ দিইনি। ওই সময় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। পরে আমাকে এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে বদলি করা হয়েছে।’

ওসেকে দায়িত্ব পালন করা একজন সিনিয়র নার্স আমার দেশকে বলেন, ‘ওসেকে যেসব আহত এসেছে তার সর্বোচ্চ ২০ শতাংশকে সেবা দিতে পেরেছি আমরা। অনেকের নাম রেকর্ড করার মতো পরিস্থিতিও ছিল না। তারপরও সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় যতটুকু পারা যায় তা আমরা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরকারের চাপে হাসপাতালের পরিচালক নিবন্ধন বইয়ের বহু পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলেন। এমনকি নতুন একটি বই দেওয়া হয়েছিল। সেখানেও অনেক রোগীর পরিচয় থাকলেও সেটি পরবর্তী সময়ে গায়েব করা হয়।’

এই নার্স আরো বলেন, ‘পরিচালক নিজে উপস্থিত থেকে এগুলো করেছেন। এতে সহায়তা করেন সেবা তত্ত্বাবধায়ক শাহনেওয়াজ পারভীন।’

এই নার্সের কথার সত্যতা মেলে অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. রেহান উদ্দিন খানের দেওয়া তথ্যে। তিনি বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতা। আমার দেশকে তিনি বলেন, ‘হতাহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে বিএনপি করি বলে বাধা দেওয়া হয়েছে। পরিচালক নিজে রোগী নিবন্ধন বইয়ের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলেন। হাসপাতাল থেকে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে এটি সঠিক নয়। আহতদের সংখ্যাটা সহস্রাধিক না হলেও কাছাকাছি হবে। মৃত্যুর সংখ্যাও যা বলা হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।’

সার্জারি বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সহকারী অধ্যাপক বলেন, ‘যে হারে লাশ আর আহত আসছিল তাতে চিকিৎসকদের পাগল হওয়ার মতো অবস্থা ছিল। গুলিবিদ্ধ হয়ে আসাদের অনেকে হাসপাতালের গেটে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা গেছেন। চিকিৎসা শুরুর আগেও অনেকের মৃত্যু হয়েছে। এগুলোর তালিকা থাকার কথা। তবে হাসপাতাল যে তথ্য দিয়েছে এতে গরমিল রয়েছে।’

সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এস এম কামরুল আক্তার সঞ্জু। তিনি আওয়ামীপন্থি চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। আমার দেশকে তিনি বলেন, ‘শত শত আহত ব্যক্তি চতুর্দিক থেকে আসছিল। কোনো দিকে তাকানোর মতো সময় ছিল না। আমার কক্ষের সোফাতেই তিন দিন ছিলাম। অনেকের অস্ত্রোপচার খুব জরুরি ছিল কিন্তু করা হয়নি সে সময়। কারণ তাদের চেয়ে গুরুতর আহতদের বাঁচানোটা জরুরি ছিল।’

তথ্য গোপন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেবা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তথ্য গোপন হয়েছে কিনা জানি না। সরকার থেকে চাপ থেকে থাকলে সেটি প্রশাসনিক পর্যায়ে হতে পারে।’

তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক ডা. শফিউর রহমান। আমার দেশকে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয় মনোনীত কমিটি তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করেছে। সব ডকুমেন্টসও যথাযথভাবে সংরক্ষিত আছে। এখানে আমার তথ্য গোপন করে লাভ কি? অফিসিয়ালি নতুন পরিচালককে সব তথ্য বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। ভুল তথ্য দিয়ে আমাকে হেয় করায় যাদের আনন্দ হয় তারাই এগুলো বলছেন।’

সেবা তত্ত্বাবধায়ক শাহনেওয়াজ পারভীন এ ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এখানে পরিচালকই সবকিছু। উনি যেভাবে বলেছেন সেভাবেই আমরা সেবা দিয়েছি। তথ্য গোপন হয়েছে কিনা এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) কামাল আকবর আমার দেশকে বলেন, ‘তথ্য গোপনের বিষয়টি স্পর্শকাতর। এটি নিয়ে ইতোমধ্যে সেখানকার স্বাস্থ্য প্রতিনিধি কাজ করছেন। শুধু সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল নয়, অনেক জায়গাতেই তথ্য-প্রমাণ ধ্বংস করা হয়েছে। এর সঙ্গে তৎকালীন যারা হাসপাতালের প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন তাদের দায় আছে। সেটি তারা বাধ্য হয়ে নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে করেছেন তা খতিয়ে দেখতে হবে।’

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান আমার দেশকে বলেন, ‘এটি যদি ঘটে থাকে তবে তা অপরাধ। কিন্তু বিষয়টি এখনো আমাদের কাছে আসেনি। হাসপাতালের কেউ কিংবা ভুক্তভোগীরা আবেদন জানালে মন্ত্রণালয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: যুবলীগ নেতা অনিক গ্রেপ্তার

Published

on

By

অনলাইন ডেস্ক

জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাহ আলম অনিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহসভাপতি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিবি সূত্রের দাবি, মিরপুরের সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত শাহাদাতের সঙ্গে অনিকের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। শাহাদাত ও ইব্রাহিমের হয়ে অনিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে সূত্রটি।

অনিককে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুর রহমান বলেন, তাকে কিছুক্ষণ আগে আটক করে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ডিবি সূত্রের দাবি, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি কনডোমিনিয়াম সিটিতে সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অনিক সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনিককে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিল ও মিরপুরের সাবেক স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত করা হতো। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিরপুর, ভাষানটেক, কাফরুল, পল্লবী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার কথাও জানিয়েছে সূত্র।

এ ছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে অনিক সামনের সারিতে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও সংগঠিত করার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে সূত্রের দাবি।

মিরপুর, পল্লবী, ভাষানটেক ও কাফরুল এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও অনিকের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছে সূত্র। বিদেশ থেকে আসা বিভিন্ন নির্দেশনা দেশে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রাখতেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ছোট ভাই মোতাহার হোসেন খান সুফলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সূত্রের দাবি, সুফল ও অনিক একসঙ্গে ঢাকায় অস্থিরতা তৈরির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

Continue Reading

top1

ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, পুলিশকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published

on

By

পুলিশের মধ্যে কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তাদের নানা ধরনের সংবাদ দিচ্ছে। এমন কার্যক্রমে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬-এর ‘পদক প্রদান অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের মধ্যে কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে, তাদের নানা ধরনের সংবাদ দিচ্ছে। পুলিশের কোন সদস্য শৃঙ্খলা না মানলে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকার পিছপা হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পানিশমেন্ট-রিওয়ার্ড’ চালু থাকবে। যারা ভালো কাজ করবেন এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। আর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, শৃঙ্খলাভঙ্গ কিংবা কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার ও অপব্যবহারের অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে। অনেক পুলিশ সদস্যকে অবৈধ নির্দেশ পালনেও বাধ্য করা হয়েছিল। তবে এখন তাদের সামনে নিজেদের সংশোধন ও নতুনভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণ এখন রাজা-বাদশাহ নয়, ‘জনগণের পুলিশ’ দেখতে চায়। কোনো সিনিয়র কর্মকর্তা এমন কর্মকাণ্ড করবেন না, যা জনগণের কাছে অস্বাভাবিক বা অগণতান্ত্রিক মনে হয়। একইভাবে অধস্তন কোনো সদস্যের এমন কর্মকাণ্ডেও অনুমতি বা আশ্রয় দেওয়া যাবে না, যা সমাজে অশান্তি বা অস্বস্তি তৈরি করে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে ভুলত্রুটি থাকলেও কেউ যদি সৎভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন, তাহলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা কিংবা অপরাধ সংঘটিত হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য পুলিশ বাহিনীর জনবল, সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানো হবে।

পুলিশের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট গঠনের কথাও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে আলাদা সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে। এর সদর দপ্তরের পাশাপাশি মেট্রো, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শাখা থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তি, ফরেনসিক ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অপরাধের বড় একটি অংশ সাইবার স্পেসকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হচ্ছে। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও অপরাধ দমনের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটকে নতুন কাঠামোর আওতায় এনে আরও কার্যকর করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী মেট্রো ও অন্যান্য এলাকায় বিশেষ ইউনিটের সক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং অবকাঠামো ও লজিস্টিক সুবিধা দেওয়া হবে।

পুলিশের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পুলিশের সবচেয়ে বেশি। সততা, ন্যায়নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করলে পুলিশই সমাজ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর আসার আগেই আপনাদের পরিবর্তনটা দেখাতে হবে’।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশকে স্বাধীনভাবে ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিচ্ছে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশকে আহ্বান জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিষয়ে পুলিশের গোয়েন্দা সক্ষমতা কাজে লাগাতে হবে। দেশের জনগণের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Continue Reading

top1

ইবিতে প্রেমিক যুগল ধরা, বিয়ের সিদ্ধান্ত

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের (প্রেমিক যুগল) হাতেনাতে ধরেছে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানীয়রা। প্রক্টরিয়াল বডির সিদ্ধান্তে আগামীকাল (২৬ সেপ্টেম্বর) বিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি মেসের পাশে এই ঘটনা ঘটে। প্রেমিক যুগল শিক্ষার্থীরা হলেন- মার্কেটিং বিভাগের ২০২৩-২৪ বর্ষের এক ছাত্র এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২৪-২৫ বর্ষের এক ছাত্রী।

জানা গেছে, ওই মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন মল্লিক মেসে থাকেন। রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে হস্তান্তর করেন। পরে প্রক্টর অফিসে আনা হলে স্বীকারোক্তি দিয়ে বিয়ের সম্মতি দেয় প্রেমিক যুগল। প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের সিদ্ধান্তে কাল (২৬ সেপ্টেম্বর) উভয় পক্ষের পিতামাতার উপস্থিতিতে বিয়ে পড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা কয়েকমাস ধরে নিয়মিত নির্জন জায়গায় বসে। তাদের গতিবিধি লক্ষ্য রেখে এবার হাতেনাতে ধরে তারা। পরে নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে তুলে দেয়। তবে ওই সময় ছাত্রকে চড় থাপ্পড় মারছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের বিরুদ্ধে।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, দুই শিক্ষার্থকে প্রক্টর অফিসে এনে জিজ্ঞেসাবাদ করলে তারা স্বীকারোক্তি দেয়। পরে বিয়ের সম্মতি জানান তারা। বাবা-মাকে আহ্বান করবো। তারপর বিয়ে দিয়ে দিব। অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া মেয়েটি যে মেসে থাকে ওই মেস মালিককে তলব করবো, যেহেতু সাড়ে ৮টার মধ্যে মেসগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

Continue Reading

Trending