Connect with us

top1

জুলাই শহীদদের তথ্য লুকাতে রেকর্ড গায়েব

Published

on

জুলাই বিপ্লবের সময় হতাহতদের বড় একটি অংশকে যে কয়টি সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়, রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তার মধ্যে একটি। হাসপাতালের তথ্যমতে, এখানে ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত তিন শতাধিক আহত এবং ৪৭ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়। তবে ভিন্ন কথা বলছেন বিপ্লবের উত্তাল সময়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া চিকিৎসক ও নার্সরা। প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি বলে জানাচ্ছেন তারা।

চিকিৎসক ও নার্সদের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামীপন্থি হাসপাতাল পরিচালক ডা. শফিউর রহমান সরকারের নির্দেশে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা গোপন করতে নিবন্ধন বইয়ের বহু পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলেন। পাশাপাশি নতুন নিবন্ধন বইও গায়েব করেন। শেখ হাসিনা সরকারের নির্দেশে এমন ঘৃণ্য কাজে জড়িয়ে পড়েন তিনি। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার পরও অধিকাংশ চিকিৎসক যখন আহতদের চিকিৎসাসেবা দিতে ব্যস্ত ছিলেন, তখন হতাহতদের তথ্য গোপনে মরিয়া ছিলেন তিনি। তাকে সহযোগিতা করেন হাসপাতালে থাকা আওয়ামীপন্থি বেশ কয়েকজন চিকিৎসক।

অভিযোগ উঠেছে, জুলাই বিপ্লবের পর এসব অপকর্মের দায়ে শাস্তি হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি ও জামায়াতপন্থি চিকিৎসকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে স্বপদে টিকে থাকেন ডা. শফিউর। তবে শেষরক্ষা হয়নি। চলতি বছরের ১০ আগস্ট তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে সাভারের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ ম্যানেজমেন্টে (বিআইবিএম) যুক্ত করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে বেশি হতাহত আসতে শুরু করে ১৮ জুলাই থেকে। ওই সময় দায়িত্ব পালন করা সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের আট চিকিৎসক, তিন নার্স এবং দুজন ওয়ার্ডবয়ের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা জানান, ঢাকা মহানগর ও আশপাশের জেলাগুলো থেকে ১৮ জুলাই শতাধিক ব্যক্তিকে মৃত ও আহতাবস্থায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আনা হয়। আহতদের একটি অংশ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি অ্যান্ড ক্যাজুয়ালটি (ওসেক) বিভাগে আনার পরপরই মারা যান। কারো মৃত্যু হয় অ্যাম্বুলেন্সে থাকতেই আবার অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। 

পরদিন ১৯ জুলাই মৃত অবস্থায় আনা হয় ৩৩ জনকে। আহত অবস্থায় যাদের ২৫ থেকে ৩০ জনের মৃত্যু হয়। ওই দিন ওসেক, ক্যাজুয়ালটি এবং ইনডোরে ভর্তি থাকা অবস্থায় প্রায় ৬০ জনের মৃত্যু হয়। ২০ জুলাই এক শিফটেই ২০ জনের অধিকের লাশ আনা হয়।

চিকিৎসক ও নার্সরা আরো জানান, জুলাইয়ে হতাহতের যে স্রোত ছিল, আগস্টের শুরুতে সেটি আরো তীব্র আকার ধারণ করে। ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ জনের লাশ এসেছে হাসপাতালে। সে হিসাবে লাশের সংখ্যা দেড়শর মতো হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ লাশের হিসাব দিয়েছে এর তিনভাগের একভাগ। ফলে কর্তৃপক্ষ যে তালিকা করে তা নিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।

জুলাই বিপ্লবের সময় হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে দায়িত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ট্রেইনি ডাক্তার আমার দেশকে বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে এটি কোনোভাবেই সত্য নয়। কারণ, চারদিক থেকে হতাহতের স্রোত আসছিল, কোথাও জায়গা দেওয়ার অবস্থা ছিল না। ফ্লোরে ফ্লোরে আহত ও লাশের মিছিল। বিশেষ করে ১৮ জুলাই থেকে এই সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। এসব হতাহতের অধিকাংশের নাম ও ন্যূনতম পরিচয় যতটুকু পারা যায় নিবন্ধন বইয়ে লিখে রাখা হয়েছিল। নিবন্ধন বই বা রেজিস্ট্রার হচ্ছে এক ধরনের নথি যেখানে রোগীর পরিচয়, রোগের ইতিহাস, চিকিৎসা এবং প্রদত্ত ওষুধের তথ্য তারিখসহ লিখে রাখা হয়। অনেকেই পরবর্তী সময়ে ঝামেলা এড়াতে পরিচয় তালিকাভুক্ত করা ছাড়াই চলে যান। তবে ভর্তি রোগীদের তথ্য রেকর্ডভুক্ত হয়। সেই তালিকার কার্বন কপি আমাদের কাছে থাকলেও সেটি স্যাররা নিয়ে নেয়। পরে সেটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।’

ওই চিকিৎসক আরো বলেন, ‘ভর্তিদের ডেডিকেটেড ইউনিট ছিল ৪২১ নম্বর ওয়ার্ড। ১৮ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত সেখানে ১৮০ থেকে ২০০ জন ভর্তি ছিল। এর মধ্যে দৈনিক ২ থেকে ৩ জন করে মারা গেছেন।’

জুলাই বিপ্লবের শুরু থেকে হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর পর্যন্ত ক্যাজুয়ালটি বিভাগে দায়িত্ব পালন করা আরেক চিকিৎসক আমার দেশকে বলেন, ‘১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চলে। ওই দিন দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলাম। 

সেদিন অন্তত ৫০টি লাশ এসেছে। এর মধ্যে খুব কমসংখ্যকের লাশের নাম, পরিচয় নথিভুক্ত করা হয়। অনেকের তথ্য নথিভুক্ত করা হলেও সেই তথ্য কোথায় গেছে তা অজানা। ওই দিন সার্জারি বিভাগে দুপুর ২টা পর্যন্ত চার থেকে পাঁচজন রোগী ভর্তি ছিলেন। কিন্তু এরপর দুই ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় অর্ধশত গুলিবিদ্ধ আহতকে এখানে ভর্তি করা হয়। যাদের অধিকাংশের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন ছিল। ৪২০ ও ৪২১ ওয়ার্ড মিলে ১০০ শয্যাতে অন্তত ৫শ আহতকে ভর্তি করা হয় ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত। সেই তথ্য গেল কোথায়? এ ছাড়া ক্যাজুয়ালটিতে আসা রোগীদের তথ্য তো আছেই। সব মিলিয়ে অন্তত এক হাজার ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন এই হাসপাতালে।

কিছুক্ষেত্রে ঝামেলা এড়াতে অনেকেই নিজেদের তথ্য দেননি। তবে অধিকাংশের তথ্য নিবন্ধন বইতে ছিল। ফলে সরকারের চাপ বা পরিচালকের নিজের স্বার্থ—যেটাই হোক, তথ্য গোপন করা হয়েছে এটি শতভাগ নিশ্চিত।’

তিনি আরো বলেন, ‘৫ আগস্টের পর পরিচালকের কাছে বিষয়গুলো জানতে চাইলে ট্রেইনি ডাক্তাররা এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারে না বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিচালকের এসব অপকর্মে সহযোগিতা করেন আওয়ামীপন্থি ক্লিনিক্যাল অ্যাসিসটেন্ট ডা. তানজিদ ও ডা. জ্যোতি। অন্য চিকিৎসকরা যখন চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছিল, তখন তারা আসেননি। আবার যারা চিকিৎসা দিয়েছেন তাদের বিএনপি-জামায়াত হিসেবে ট্যাগ দেওয়া হতো।’

এই চিকিৎসক আরো বলেন, ‘হাসিনা না পালালে আমাদের মতো বহু চিকিৎসকের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের দরজা হয়তো চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যেত। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো, ৫ আগস্টের পর বিএনপি-জামায়াতপন্থি চিকিৎসকদের নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে টিকে ছিলেন পরিচালক, এটাই তার হাতিয়ার।’

অভিযোগ রয়েছে, জুলাই বিপ্লবের সময় বিপ্লবীদের চিকিৎসা দেওয়া বহু চিকিৎসককে বিএনপি-জামায়াত ট্যাগ দেন ক্লিনিক্যাল অ্যাসিসটেন্ট ডা. সৈয়দ তানজিদুল ইসলাম। এ বিষয়টি নিয়ে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বিভাগ পরিবর্তন করে লঘু শাস্তি দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি আমার দেশকে বলেন, ‘জুলাইয়ে ৪২০ নম্বর ওয়ার্ড ডেডিকেটেড ছিল। আমি সেখানে সহকারী রেজিস্ট্রার ছিলাম। আমি কাউকে কোনো ট্যাগ দিইনি। ওই সময় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়। পরে আমাকে এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে বদলি করা হয়েছে।’

ওসেকে দায়িত্ব পালন করা একজন সিনিয়র নার্স আমার দেশকে বলেন, ‘ওসেকে যেসব আহত এসেছে তার সর্বোচ্চ ২০ শতাংশকে সেবা দিতে পেরেছি আমরা। অনেকের নাম রেকর্ড করার মতো পরিস্থিতিও ছিল না। তারপরও সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় যতটুকু পারা যায় তা আমরা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরকারের চাপে হাসপাতালের পরিচালক নিবন্ধন বইয়ের বহু পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলেন। এমনকি নতুন একটি বই দেওয়া হয়েছিল। সেখানেও অনেক রোগীর পরিচয় থাকলেও সেটি পরবর্তী সময়ে গায়েব করা হয়।’

এই নার্স আরো বলেন, ‘পরিচালক নিজে উপস্থিত থেকে এগুলো করেছেন। এতে সহায়তা করেন সেবা তত্ত্বাবধায়ক শাহনেওয়াজ পারভীন।’

এই নার্সের কথার সত্যতা মেলে অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. রেহান উদ্দিন খানের দেওয়া তথ্যে। তিনি বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতা। আমার দেশকে তিনি বলেন, ‘হতাহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে বিএনপি করি বলে বাধা দেওয়া হয়েছে। পরিচালক নিজে রোগী নিবন্ধন বইয়ের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলেন। হাসপাতাল থেকে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে এটি সঠিক নয়। আহতদের সংখ্যাটা সহস্রাধিক না হলেও কাছাকাছি হবে। মৃত্যুর সংখ্যাও যা বলা হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।’

সার্জারি বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সহকারী অধ্যাপক বলেন, ‘যে হারে লাশ আর আহত আসছিল তাতে চিকিৎসকদের পাগল হওয়ার মতো অবস্থা ছিল। গুলিবিদ্ধ হয়ে আসাদের অনেকে হাসপাতালের গেটে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা গেছেন। চিকিৎসা শুরুর আগেও অনেকের মৃত্যু হয়েছে। এগুলোর তালিকা থাকার কথা। তবে হাসপাতাল যে তথ্য দিয়েছে এতে গরমিল রয়েছে।’

সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এস এম কামরুল আক্তার সঞ্জু। তিনি আওয়ামীপন্থি চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। আমার দেশকে তিনি বলেন, ‘শত শত আহত ব্যক্তি চতুর্দিক থেকে আসছিল। কোনো দিকে তাকানোর মতো সময় ছিল না। আমার কক্ষের সোফাতেই তিন দিন ছিলাম। অনেকের অস্ত্রোপচার খুব জরুরি ছিল কিন্তু করা হয়নি সে সময়। কারণ তাদের চেয়ে গুরুতর আহতদের বাঁচানোটা জরুরি ছিল।’

তথ্য গোপন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেবা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তথ্য গোপন হয়েছে কিনা জানি না। সরকার থেকে চাপ থেকে থাকলে সেটি প্রশাসনিক পর্যায়ে হতে পারে।’

তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক ডা. শফিউর রহমান। আমার দেশকে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয় মনোনীত কমিটি তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করেছে। সব ডকুমেন্টসও যথাযথভাবে সংরক্ষিত আছে। এখানে আমার তথ্য গোপন করে লাভ কি? অফিসিয়ালি নতুন পরিচালককে সব তথ্য বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। ভুল তথ্য দিয়ে আমাকে হেয় করায় যাদের আনন্দ হয় তারাই এগুলো বলছেন।’

সেবা তত্ত্বাবধায়ক শাহনেওয়াজ পারভীন এ ধরনের কার্যক্রমে যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এখানে পরিচালকই সবকিছু। উনি যেভাবে বলেছেন সেভাবেই আমরা সেবা দিয়েছি। তথ্য গোপন হয়েছে কিনা এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) কামাল আকবর আমার দেশকে বলেন, ‘তথ্য গোপনের বিষয়টি স্পর্শকাতর। এটি নিয়ে ইতোমধ্যে সেখানকার স্বাস্থ্য প্রতিনিধি কাজ করছেন। শুধু সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল নয়, অনেক জায়গাতেই তথ্য-প্রমাণ ধ্বংস করা হয়েছে। এর সঙ্গে তৎকালীন যারা হাসপাতালের প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন তাদের দায় আছে। সেটি তারা বাধ্য হয়ে নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে করেছেন তা খতিয়ে দেখতে হবে।’

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান আমার দেশকে বলেন, ‘এটি যদি ঘটে থাকে তবে তা অপরাধ। কিন্তু বিষয়টি এখনো আমাদের কাছে আসেনি। হাসপাতালের কেউ কিংবা ভুক্তভোগীরা আবেদন জানালে মন্ত্রণালয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবে।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ, সিটি করপোরেশনের ৩ গাড়িতে আগুন

Published

on

By

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হোপ মার্কেটের সামনের ফুটপাতে এ ঘটনা ঘটে।

মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চলার সময় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হকার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।

এ সময় একটি ভেকু ও পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাকিব হোসেন জানান, মিরপুরের আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।

Continue Reading

top1

আলজাজিরার কলাম/ট্রাম্প-শি শীর্ষ সম্মেলন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি সমস্যা সামনে এনেছে

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬-এ ওয়াশিংটন ডি.সি.-র হোয়াইট হাউসে একটি রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বক্তব্য প্রদানের পূর্বে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্রে এই রাষ্ট্রীয় সফরের সাথে সব ধরণের জাঁকজমক অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মধ্যে ছিল বি-২ সামরিক বিমানের ফ্লাইওভার, পান্ডা এবং নিক্সন আমলের ঐতিহাসিক টোস্ট। তবে গ্লোবাল সাউথ থেকে যারা এই ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছিলেন, তাঁদের জন্য এই দৃশ্যমান জাঁকজমক মূল বিষয় ছিল না। এর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের “গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতা”র ওপর জোর দেওয়া। রিয়াদ থেকে নয়াদিল্লি বা জাকার্তা পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের রাজধানীর জন্য এই শীর্ষ সম্মেলনটি চলতি দশকের বাকি সময়ে দুই পরাশক্তির সাথে কীভাবে সম্পর্ক পরিচালনা করা যায় তার একটি স্পষ্ট আভাস দিয়েছে।

বেইজিং এই শীর্ষ সম্মেলন থেকে কোনো সামরিক ঝামেলায় না জড়িয়ে কূটনৈতিক সুরক্ষার সুবিধা নিয়ে বের হয়েছে। বিপরীতে, ওয়াশিংটন ততক্ষণে সাত মাসের কাছাকাছি সময় ধরে চলা মার্কিন-ইসরায়েলি ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল, বাণিজ্য বিষয়ে মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল, লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য পুনর্প্রতিষ্ঠা করছিল এবং চীনকে ঠেকানোর প্রচেষ্টায় গ্লোবাল সাউথকে যেকোনো এক পক্ষ বেছে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছিল। ট্রাম্প নিজে শি-র উদ্দেশ্যে পরীক্ষা করেন এবং সম্মেলনটিকে সফল বলে ঘোষণা করলেও বেইজিং থেকে দূরত্ব বজায় রাখার তাগিদ পাওয়া গ্লোবাল সাউথের সরকারগুলোর কাছে এই স্পষ্ট বৈপরীত্য নজর না এড়িয়ে যাবে না।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এই বিষয়টি সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প চান যে ইরানের সর্ববৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার চীন যেন ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরায়েলি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অবরুদ্ধ থাকা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে সাহায্য করে। শি যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তীতে শান্তি আলোচনায় ফেরার সমর্থনের কথা বললেও, চীনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে প্রণালী খুলে দেওয়া বা ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ছিল না। বেইজিং কৌশলগতভাবে নিজেদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মনে হচ্ছে। রিয়াদ, আবুধাবি এবং দোহার জন্য এর স্পষ্ট সুবিধা রয়েছে। চীন একজন সৈন্যও না পাঠিয়ে বা কোনো সামরিক ঘাঁটি দাবি না করেই তেহরানে সরাসরি কথা বলতে পারে, জাতিসংঘে প্রস্তাব দিতে পারে বা মধ্যস্থতার প্রস্তাব রাখতে পারে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন এই যুদ্ধের সরাসরি পক্ষ এবং সংকটের কারণে নিরাপত্তা নিশ্চয়তাকারী হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো সামরিক সরঞ্জামের জন্য মার্কিন নিরাপত্তা ছত্রছায়ায় থাকলেও, কূটনৈতিক সংকট ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য বেইজিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের ঝুঁকি কমাচ্ছে। সহজ কথায়, চীনের উপযোগিতা কিছুটা হলেও এই তথ্যের মধ্যে রয়েছে যে ওয়াশিংটন যেসব যুদ্ধ লড়ছে চীন তাতে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিচ্ছে না।

এই হিসাব-নিকাশ সমগ্র অঞ্চলে বিস্তৃত রয়েছে। ইরাক, মিশর ও আলজেরিয়ার মতো দেশগুলো, যারা জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং নৌপথ অবরুদ্ধ হওয়া প্রত্যক্ষ করছে, তাদের কাছে চীনের এই সংযমের বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে। গ্লোবাল সাউথের নতুন কোনো পরাশক্তিকে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার প্রয়োজন নেই; তাদের এমন কাউকে প্রয়োজন যিনি রক্তপাত না ঘটিয়ে সব পক্ষের সাথে আলোচনা করতে পারেন। বেইজিং সেই ভূমিকা পালনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে।

গ্লোবাল সাউথের অন্যান্য সরকারের জন্য এটি কঠিন কিছু সিদ্ধান্তের সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প নিজে চীনের সাথে নতুন করে যুক্ত হওয়া সত্ত্বেও অন্যান্য দেশকে চীনের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। ওয়াশিংটন ও বেইজিং নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও দুই মাসের জন্য বাড়ালেও, বাকিদের শুল্ক ও সরবরাহ ব্যবস্থার ধাক্কা সহ্য করতে বলা হচ্ছে। এর ফলে ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, পরাশক্তিগুলোর বৈরিতার মূল্য অন্যান্য দেশের বহন করা আশা করা হলেও ওয়াশিংটন ও বেইজিং নিজেদের মধ্যে দরকষাকষির স্বাধীনতা বজায় রাখছে। এর প্রতিক্রিয়া ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান। ভারত রাশিয়ার তেল কেনার পাশাপাশি মার্কিন প্রযুক্তি ও চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ করে বহুপাক্ষিক ভারসাম্য বজায় রাখছে। ইন্দোনেশিয়া ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয়ের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে তাদের “মুক্ত এবং সক্রিয়” পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিল ব্রিকস (BRICS) প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে নিজেদের সুরক্ষার উপায় হিসেবে, যা কোনো পশ্চিমবিরোধী পদক্ষেপ নয় বরং এমন এক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিমা যেখানে অন্যরা নিয়ম নির্ধারণ করে। এই শীর্ষ সম্মেলনটি এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেনি, তবে এটি তা আরও জোরালো করতে পারে।

হুতিদের সামরিক শক্তির নেপথ্যে রুশ-ইরানি গোয়েন্দা তথ্য

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গ্লোবাল সাউথের জন্য একটি ভিন্ন প্রশ্ন তোলে: নিয়ম নির্ধারণের সুযোগ কার হাতে? শি-র “মানব নিয়ন্ত্রণ”-এর ওপর জোর দেওয়া এবং নতুন এআই নিয়মের প্রতি ট্রাম্পের অনীহা দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব করে, তবে এর কোনোটিই গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর স্বার্থকে কেন্দ্রে রেখে তৈরি হয়নি। উভয় পক্ষ একটি নতুন এআই সংলাপ চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে এবং দুর্ঘটনা-বিজ্ঞপ্তি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে, তবে কোনো বাধ্যবাধকতাযুক্ত নিয়ম তৈরি হয়নি। অনেক দেশই অন্যত্র তৈরি এআই ব্যবস্থা, অবকাঠামো ও মানদণ্ডের ওপর নির্ভরশীল থেকে যাবে, যেখানে এসব নিয়ম পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের খুব কম ভূমিকা থাকবে। চীনের রাষ্ট্র পরিচালিত মডেলকে আমেরিকার কর্পোরেট পরিচালিত বিকল্পের চেয়ে আকর্ষণীয় মনে হতে পারে, তবে এটিও এক প্রকারের নির্ভরতা। তবুও গ্লোবাল সাউথ সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় নয়। ভারত নিজস্ব বৃহৎ ভাষা মডেল (LLM) তৈরি করছে এবং তার ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামোর মডেল রফতানি করছে; সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজেকে একটি প্রধান এআই হাব হিসেবে গড়ে তুলেছে; এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন ডেটা-সারভৌমত্ব কাঠামো তৈরি করছে যাতে আফ্রিকান রাষ্ট্রগুলো তাদের ডেটা ও ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ পায়।

এই প্রচেষ্টাগুলো প্রাথমিক স্তরে হলেও মার্কিন বা চীনা মডেলের মধ্যে একটিকে সহজভাবে বেছে নেওয়ার প্রবণতা এড়ানোর সংকল্প প্রদর্শন করে। বেইজিং তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছে, ‘গ্লোবাল এআই গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভ’ চালু করেছে এবং ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন’ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছে, যার প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিতে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সাংহাইয়ে ২৯টি দেশ স্বাক্ষর করেছিল। কারও জন্য এটি পশ্চিমা কাঠামোর একটি বিকল্প; অন্যদের জন্য এটি এক নির্ভরতার বদলে অন্য নির্ভরতা গ্রহণ করা। প্রশ্ন হলো গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো নিজেরা নিয়ম তৈরি করতে যথেষ্ট সুসংগঠিত হতে পারবে কিনা।

আনুষ্ঠানিকতার বাইরে শীর্ষ সম্মেলনের বার্তাটি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। ওয়াশিংটন ছবি ও সাময়িক শুল্ক বিরতি নিশ্চিত করেছে; বেইজিং অর্জন করেছে নিজের শর্তে সম্পর্ক পরিচালনার কৌশলগত স্বীকৃতি। গ্লোবাল সাউথের সরকারগুলোর জন্য এই সম্মেলনটি পক্ষ নেওয়া এড়িয়ে চলা, উভয় পরাশক্তির সাথে সম্পর্ক রাখা এবং নিজেদের সুযোগ তৈরির কৌশলকে আরও শক্তিশালী করেছে। বেইজিংয়ের শর্তে পরাশক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা কোনো স্থায়ী শান্তি বয়ে আনে না। তবে রিয়াদ থেকে জাকার্তা পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের জন্য ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যবর্তী ক্ষেত্রটি প্রভাব তৈরি করা এবং নিজেদের স্বার্থ অনুসরণের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। মূল চ্যালেঞ্জ হলো ভবিষ্যতে এই দুই পরাশক্তির মধ্যকার চুক্তি যেন বাকি সবাইকে সমস্যার মধ্যে না ফেলে দেয়।

Continue Reading

top1

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎ

Published

on

By

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

মঙ্গলবার বিকেলে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎ।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিব ও শীর্ষ কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকসহ সফরের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি ভাষণটিকে ‘দূরদর্শী, দৃঢ়প্রত্যয়ী ও দিকনির্দেশনামূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

Continue Reading

Trending