Connect with us

top1

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে আজ বসছে উপদেষ্টা পরিষদ

Published

on

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজ উদ্যোগে সমঝোতায় পৌঁছানোর সময়সীমা কার্যত গতকাল সোমবার শেষ হয়েছে। এ সময়ে সমঝোতার বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। দেখা যায়নি দলগুলোর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগও। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বিএনপিসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বিএনপি এতে সাড়া দেয়নি। দলটি জানিয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দল নয়, সরকার ডাকলে তারা আলোচনায় অংশ নেবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নবিষয়ক পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে আজ মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা বৈঠকে বসবেন। ওই বৈঠকে সার্বিক বিষয়ে পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও গণভোটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিশেষ করে গণভোট, উচ্চকক্ষে পিআর এবং নতুন সংসদের ২৭০ দিনের মধ্যে সনদ বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চরম মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। বিএনপিসহ সমমনাদের দাবি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে হবে। তারা ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ করা জাতীয় সংসদে নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ গঠনেরও বিরুদ্ধে। দলটির দাবি বিদ্যমান সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের আদলে উচ্চকক্ষ গঠিত হতে হবে। এজন্য বিএনপি কমিশনের এই সুপারিশসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে নোট অব ডিসেন্টও দিয়েছে। তবে ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সুপারিশে নোট অব ডিসেন্টগুলোকে আমলে নেয়নি।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আটদলীয় জোট চায় সংসদ নির্বাচনের আগে নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট হতে হবে। উচ্চকক্ষের পিআর ইস্যুতেও এ দলগুলোর অবস্থান বিএনপির সম্পূর্ণ বিপরীত। তারা চায় প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে পিআর হবে। দুদলের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশ হলে তাদের বিরোধ আরো প্রকট হয়ে ওঠে। এ সুপারিশকে বিএনপি প্রতারণা বলে আখ্যায়িত করেছে। অন্যদিকে জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও ওই আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনের দাবিতে রাজপথে কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। এ দাবিতে তারা আজ ঢাকায় জনসভার ডাক দিয়েছে। এ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা হবে বলে দলগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এদিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও গণভোট নিয়ে মতবিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। গত ৩ নভেম্বর উপদেষ্টা পরিষদ বিশেষ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দলগুলোকে স্বউদ্যোগে সমঝোতায় পৌঁছতে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে দলগুলো সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলে সরকার তার মতো করে সিদ্ধান্ত জানাবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়। এ হিসাবে গতকালই এক প্রকার সময় শেষ হয়েছে।

তবে এরই মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রকাশ্যে কোনো আলোচনা বা সমঝোতার আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। অবশ্য জামায়াত সরকারের এই উদ্যোগে সাড়া দিয়ে দলের দুই নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই কমিটির সদস্য দলের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ৬ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে টেলিফোন করেন।

ওইদিন রাতেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের দিনক্ষণ নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট নিরসনে জামায়াতের আলোচনায় বসার আহ্বান সঠিক পন্থা নয়। আলোচনার জন্য সরকারে কোনো উদ্যোগ নিলে তারা সাড়া দেবে বলেও স্থায়ী কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সিদ্ধান্ত বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশিত হওয়ার পর দলগুলোর মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ আমার দেশকে বলেন, বিএনপি আমাদের আলোচনার প্রস্তাবে রাজি হয়নি। তারা আমাদের সঙ্গে বসতে চাচ্ছে না। বিএনপি ডাকলেও আমরা বসতে রাজি। বিএনপি আলোচনায় বসতে রাজি হলে অন্যান্য দলগুলোও সাড়া দিত বলে দাবি করেন আযাদ।

এদিকে রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া সময় শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বসছে। অবশ্য প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, এটি কোনো বিশেষ বৈঠক নয়। অনানুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, নির্বাচনসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা তার পরিষদের সিনিয়র সদস্যদের নিয়ে যমুনায় আলোচনা করেন। ওই আলোচনায় বৃহস্পতিবারের নিয়মিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের এজেন্ডা চূড়ান্তকরণসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। তারই অংশ হিসেবে আজকের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, মঙ্গলবারের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও সাধারণত অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফওজুল কবীর এবং পরিবেশ ও বন উপদেষ্টা সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও প্রয়োজনে প্রধান উপদেষ্টা তার পরিষদের অন্য উপদেষ্টাদের ডাকবেন বলে জানা গেছে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, আজকের বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এক্ষেত্রে সার্বিক বিষয়ে পর্যালোচনা করে উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠকের এজেন্ডাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। যার পরিপ্রেক্ষিতে উপদেষ্টা পরিষদেরে বৃহস্পতিবারের নিয়মিত বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সরকারের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোটের বিষয়টি বেশি ঝুলিয়ে রাখতে চাচ্ছে না। সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে আগামী ১৫ নভেম্বর সরকারের তরফ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

শিগগিরই সরকার সিদ্ধান্ত জানাবে : উপদেষ্টা রিজওয়ানা

গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আলোচনার জন্য সরকার থেকে দেওয়া সাতদিনের সময়সীমা শেষ হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের সময় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নেই। জুলাই সনদ ও গণভোট বিষয়ে সরকার শিগগির সিদ্ধান্ত জানাবে।

জাতীয় নির্বাচন আর গণভোট একসঙ্গে করা বা আগে করার সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে উপদেষ্টা রিজওয়ানা বলেন, সরকার একসঙ্গে বসে সামষ্টিকভাবে এই সিদ্ধান্তটা নেবে। আপনাদের খুব দ্রুতই এটা আমরা জানিয়ে দেব।

নির্বাচনের আগে গণভোট করার কোনো যৌক্তিকতা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ব্যক্তিগত মতামত দেওয়ার আমার কোনো সুযোগই নেই। সরকারের অংশ হিসেবে আমাকে অপেক্ষা করতে হবে। সরকার যখন বসবে এ বিষয়ে আলোচনা করবে। আলোচনা করে যখন সিদ্ধান্ত হবে তখন সেটা আপনারা জানবেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

পাটওয়ারী-সারজিসের গাড়িবহরে ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ

Published

on

By

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই জাগরণ পদযাত্রা’ শেষে ফেরার পথে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে এনসিপি।

হবিগঞ্জ সদরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে হামলার কথা জানিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেছেন, “হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। হামলায় সাংবাদিক ও এনসিপির একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন”।

তিনি আরও লেখেছেন, “উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পুলিশের উপস্থিতিতেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি এনসিপির মিডিয়া টিমের মাইক্রোবাস, জেলা সার্কিট হাউসের ভেতরে নিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে সংঘটিত এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক সহিংসতার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। হামলাকারীরা মোবাইল ফোন ও ক্যামেরাও ছিনিয়ে নিয়ে গেছে”।

নিজের ফেসবুকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, “উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক জনাব সারজিস সালামের ওপরও হামলা করা হয়। হবিগঞ্জের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। কারও হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে, কারও পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়ে আছে। আমরা এই ন্যক্কারজনক, বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই”।

এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের থানার মোড় এলাকায় এ ঘটনায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

দুই পক্ষে সংঘর্ষের একপর্যায়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ সরিয়ে নেয়। পরে তাদের সার্কিট হাউসে নেওয়া হয়।

এনসিপির জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হলে থানার মোড় এলাকায় ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে দলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

অন্যদিকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, “শান্তিপূর্ণ হবিগঞ্জে কেউ উসকানিমূলক বা অশালীন বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে”।

তবে সংঘর্ষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “অশালীন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ মানুষ ধাওয়া দিয়েছে বলে তিনি শুনেছেন”।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুল হক বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এনসিপির নেতারা বর্তমানে নিরাপদ স্থানে রয়েছেন এবং তাদের নিরাপদে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে”।

মঙ্গলবার দুপুরে আজমিরীগঞ্জ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ পদযাত্রা’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা, কর্মসংস্থান, সীমান্ত সুরক্ষা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

Continue Reading

top1

স্পিকার-সিইসির বৈঠক, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে ‘প্রস্তুত’ ইসি

Published

on

By

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিইসি। 

সিইসি জানান, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রাথমিক ও প্রক্রিয়াগত আলোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

তফসিল প্রসঙ্গে নাসির উদ্দিন বলেন, “বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যথাসময়ে নির্বাচন কমিশনের সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত করে তফসিল ঘোষণা করা হবে। দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি”।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারই রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনাতেই পুরো নির্বাচন সম্পন্ন হবে। প্রয়োজন হলে প্রক্রিয়াগত কারণে ভোটগ্রহণের ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে। এ-সংক্রান্ত সব তথ্য গেজেটের মাধ্যমে জানানো হবে।

সিইসি আরও বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত। একই সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের প্রস্তুতি চললেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করতে কমিশন সক্ষম”।

ভোটার তালিকার বিষয়ে তিনি জানান, সম্ভাব্য ভোটারদের তালিকা চেয়ে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশসহ পরবর্তী কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

সংসদ অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না- সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, “সংসদ অধিবেশন থাকুক বা না থাকুক, আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই”।

সাতক্ষীরা-৪ আসন নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বৈঠকের পুরো আলোচনাই ছিল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে”।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমদ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

top1

জামায়াত এমপি গোলাম রসুলের বাড়ি ঘেরাও

Published

on

By

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় শত শত মানুষ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তার বাড়িতে হামলার অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নীলগঞ্জ এলাকার আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও সংশ্লিষ্ট মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য গোলাম রসুল ও তার মেয়ে অনন্যার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থী আয়ান এবং রেক্সনা নামে এক নারীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, ওই হামলায় রেক্সনার মাথায় আঘাত লাগে।

জানা গেছে, এ বিরোধ নিয়ে আগের রাতে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসা খুললে তা বন্ধ রাখতে বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পরই স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ১০টার দিকে তারা এমপির বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাদের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে গোলাম রসুলের এক স্বজন ঘটনাস্থলে এলে বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তাকে মারধর করে। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে বিক্ষোভকারীরা যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং এমপি ও তার মেয়ের বিচারের দাবি জানান।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে গোলাম রসুলের স্ত্রী শারমিন ভিনা বলেন, তাদের মেয়ে অনন্যা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তার দাবি, মাদ্রাসা বন্ধ থাকার পরও কিছু শিশু সেখানে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ আনা হচ্ছে এবং বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এমপির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।

Continue Reading

Trending