Connect with us

top2

‘টাকাটা দিয়ে দিয়েন’ শর্তে বৈধ হলো ১৭০০ কোটির ঋণখেলাপি আসলামের মনোনয়ন

Published

on

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী লায়ন আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র নিয়ে উত্তাপ ছড়াল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিল শুনানিতে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) ইসির আপিল শুনানিতে দীর্ঘ যুক্তিতর্কের পর তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় নির্বাচন কমিশনার ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘মনোনয়নপত্র বৈধ করলাম। ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিয়েন। টাকাটা না দিলে জনরোষ তৈরি হবে। মানুষ হিসেবে কথাটা বললাম।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইয়ে যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছিল, তাদের আপিল শুনানির শেষ দিনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর বিষয়টি ওঠে আসে। শুনানিকালে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

আপিল শুনানিতে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে দাঁড়ান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি ইসিকে জানান, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী নিজে ঋণ নেননি, তিনি জামিনদার হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

এর আগে ঋণ খেলাপির অভিযোগ তুলে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে আপিল করেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ার ছিদ্দিক। দুই পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে ইসি জামায়াত প্রার্থীর আপিল গ্রহণ না করে। এতে বহাল থাকে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা।

হট্টগোল ও আপত্তি

সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর শুনানিকক্ষে হট্টগোল শুরু হয়। একজন দাঁড়িয়ে বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপি প্রমাণিত হওয়ার পরও আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলো, এটা হতে পারে না।

জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ার ছিদ্দিকের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, আসলাম চৌধুরী কনভিক্টেড। ইসি কোনোভাবেই তার প্রার্থিতা বহাল রাখতে পারে না। ইসিতে ন্যায়বিচার পাওয়া যায়নি, উচ্চ আদালতে রিট করা হবে।

আসলামের সম্পদ ও ঋণের চিত্র

চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী এবং দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লায়ন আসলাম চৌধুরীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার টাকা। তবে অন্য প্রার্থীদের তুলনায় তার ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে তার মোট ঋণ রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

পাঁচটি ব্যাংক ও অন্যান্য খাতে তার ঋণের পরিমাণ ৩৫৪ কোটি ৪১ লাখ ৬৩ হাজার ২৬৯ টাকা। এছাড়া জামিনদার হিসেবে তার ঋণ ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিচালক হিসেবে ২৮৫ কোটি টাকা।

তার সম্পদের তুলনায় ঋণের পরিমাণ ২৪ দশমিক ২৫ গুণ বেশি। যদিও হলফনামায় বিএনপির এই নেতা উল্লেখ করেন, এসব ঋণের বেশিরভাগই জামিনদার ও পরিচালক থাকার কারণে যুক্ত হয়েছে।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঋণের পরিমাণ বেশি হলেও নগদ অর্থের দিক থেকে আসলাম চৌধুরী এগিয়ে। বর্তমানে তার হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ১১ কোটি টাকা।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মবকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে: ডা. জাহেদ

Published

on

By

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মব বা গণপিটুনির মতো ঘটনাকে ভীষণভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। যার ফলে সমাজে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার একটি বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে এগোচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জাহেদ বলেন, কোনো অবস্থাতেই গণপিটুনি বা মব জাস্টিস মেনে নেওয়া হবে না। অপরাধী যত বড়ই হোক না কেন, শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র রাষ্ট্রের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা সমাজে অরাজকতা তৈরি করে এবং এটি সম্পূর্ণরূপে দণ্ডনীয় অপরাধ।

তিনি বলেন, অতীতে কিছু সময়ে এসব কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে সমাজে একটি ভুল প্রবণতা তৈরি হয়েছে। মানুষ মনে করছে, চাইলেই কাউকে শাস্তি দেওয়া যায়। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কেউ গুরুতর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও তাকে পিটিয়ে মারা তো দূরের কথা, শারীরিকভাবে আঘাত করাও আইনসম্মত নয়।

তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যর্থতা থাকতে পারে, তবে সেটি দূর করার জন্য সরকার কাজ করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিকল্পিত বা সংগঠিত সহিংসতাকে কঠোরভাবে দমন করা হবে। প্রকৃত অপরাধী ধরা পড়লেও তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। গণপিটুনির মাধ্যমে নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মানসিকতা পরিহার করতে হবে এবং যে কোনো অভিযোগ বা অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা রাখতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Continue Reading

top2

দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে: জামায়াত আমির

Published

on

By

দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনায় চরম অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক বিবৃতি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ কালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ১৪ এপ্রিল রাত ৩টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও অন্তত ৬ জন আহত হওয়ার ঘটনায় আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। এমন মৃত্যুবরণ অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মর্মস্পর্শী। আমি নিহতদের শহীদ হিসেবে কবুল করার জন্য মহান রবের কাছে কায়মনোবাক্যে দোয়া করছি। নিহতদের পরিবার-পরিজন ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

তিনি আরও বলেন, বারবার সংঘটিত এই জাতীয় সড়ক দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করছে, দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনায় চরম অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। বেপরোয়া গতি, যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব এবং মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রতিনিয়ত মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে অবিলম্বে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, চালকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং মহাসড়কে কার্যকর নজরদারি জোরদারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি বিধান এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

Continue Reading

top2

তিন ইস্যুতে বিরোধ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের

Published

on

By

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চললেও মূল কয়েকটি বিষয়ে মতপার্থক্য থাকায় দুই পক্ষ চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।

রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এই বৈঠকে তেহরানের পক্ষ থেকে মোট ১০টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও তাদের নিজস্ব কিছু প্রস্তাব দেয়। কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতবিরোধ থেকেই যায়, যার কারণে চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব হয়নি। তবে ঠিক কোন তিনটি ইস্যু—তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অন্যতম বড় মতবিরোধের বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালি। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের শর্ত না মানে, তাহলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

আরেকটি বড় ইস্যু ছিল ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান এই মজুত ত্যাগ করুক, কিন্তু তেহরান এতে রাজি নয়। ফলে এই বিষয়টিও আলোচনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এছাড়া পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগের প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি না হওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি, ইউরেনিয়াম মজুত ও পারমাণবিক কর্মসূচি এই তিনটি ইস্যু দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু। তাই এসব বিষয়ে সমঝোতা না হলে ভবিষ্যতেও আলোচনায় অগ্রগতি কঠিন হবে।

দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও বড় ধরনের অচলাবস্থা থেকেই গেছে। ফলে যুদ্ধবিরতি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত অনিশ্চয়তায় রয়ে গেল।

Continue Reading

Trending