Connect with us

রাজনীতি

টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে পরিকল্পিতভাবে দূরে রাখা হয়েছে

Published

on

বাংলাদেশ ছাড়াই ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ। আর এই বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে পরিকল্পিতভাবে দূরে রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ ঘটনায় ক্রিকেটারদের সাথে জাতিকেও অপমান করা হয়েছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা জানান।

ফেসবুক পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, প্রিয় ক্রিকেটপ্রেমী বন্ধুরা, আজ আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ শুরু হলো। এমন দিনে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের চোখ থাকতো টিভি স্ক্রিনে, সবাই অপেক্ষা করতাম টাইগারদের মাঠের লড়াই আর বিজয়ের আনন্দ দেখতে।

তিনি বলেন, দুঃখের বিষয়, এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে আজ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও আমরা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের ক্রিকেটারদের সাথে জাতিকেও অপমান করা হয়েছে। লাল-সবুজের হয়ে উল্লাস করার মুহূর্ত থেকে আমাদেরকে পরিকল্পিতভাবে দূরে রাখা হলো।

তিনি আরো বলেন, প্রিয় ক্রিকেটার ভাইয়েরা, আমি তোমাদের সাথে সমব্যথী। দেশের মর্যাদা, দেশের স্বপ্নের সাথে কোনো আপোষ নয়। কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে আমরা হার মানতে পারি না। দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশকে আমরা আন্তর্জাতিক ইভেন্টে মর্যাদার আসনে নিয়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশ ফিরবে মাথা উঁচু করে- গর্ব নিয়ে, শক্তি নিয়ে, সম্মান নিয়ে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবার ২০ ওভারের এ টুর্নামেন্টের আসর বসে। সব মিলিয়ে ৯ বার মাঠে গড়িয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। প্রতিবারই অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

এককভাবে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী, প্রত্যাশা দেখছেন মানুষের

Published

on

By

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের পর এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবেন বলে আশা করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ডয়চে ভেলেকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান নারীর ক্ষমতায়ন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং গুম-খুনের বিচার নিয়েও কথা বলেন।

১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার পর মা খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি—দুটোর সামঞ্জস্য রাখাই তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে জানান তারেক রহমান।

ডয়চে ভেলে: ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট। তো এই নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে বলে আপনি আশাবাদী?

তারেক রহমান : আমরা আশা করছি যে নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে। মানুষেরও তাই প্রত্যাশা। আমরা আশাবাদী।

ডয়চে ভেলে : ১৭ বছর পর আপনি বাংলাদেশে এসেছেন। আপনি নির্বাসনে ছিলেন নানা কারণে। এই ১৭ বছর পর আসার পরে আপনার দল গোছানো নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটা ছিল?

তারেক রহমান : চ্যালেঞ্জটা হয়তো কিছুটা খুব সম্ভবত আমারই ছিল। এত বছর পরে এসেছি, আসার পরে মানুষের চোখেমুখে একটা প্রত্যাশা দেখেছি। এটা হলো রাজনৈতিক দিক, অন্যদিকে আসার পাঁচ দিন পরেই আম্মা মারা গেলেন। উনি অসুস্থ ছিলেন অনেক দিন ধরে। স্বাভাবিকভাবে এটাও একটা খুব কষ্টকর বিষয় আমাদের সবার জন্য। আমরা পরিবার যে একসাথে বসে নিজেদের কষ্টটা ভাগ করে নেব, সেই সুযোগটা বা সময়টা হয়নি। কারণ আমরা একদম নির্বাচনের ডামাডোলের ভেতরে। একদিকে নির্বাচনী ডামাডোল, অন্যদিকে ব্যক্তিগত বিষয়টা—দুটোর সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, এটাই আসলে আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে, হয়ত এই চ্যালেঞ্জটা মোটামুটিভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি আমি।

ডয়চে ভেলে : এবার নতুন ভোটাররা প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছেন। গত তিনটি নির্বাচন বিতর্কিত, তা আপনি জানেন। ফলে মানুষের মধ্যে একটা বাড়তি আগ্রহ রয়েছে। তরুণদের আগ্রহী করতে বা তরুণদের কাছে পৌঁছাতে, আপনার দলের পক্ষ থেকে কি আলাদা করে বা বিশেষ করে কোনো কিছু করা হয়েছে যেটাতে তরুণরা একটু আকৃষ্ট হতে পারে?

তারেক রহমান : দেখুন আপনি যদি আমাদের মেনিফেস্টোটা দেখে থাকেন, যেটা আমরা কয়েক দিন আগে জাতির সামনে উপস্থাপন করেছি, সেখানে কিন্তু আমরা সমাজের তরুণদের জন্য, একইভাবে বয়স্কদের জন্য, একই সঙ্গে দেশের চল্লিশ লাখ প্রতিবন্ধীর জন্য, একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক যে নারী, তাদের ক্ষমতায়নের জন্য আমরা পরিকল্পনা রেখেছি। কর্মসূচি রেখেছি, বিশেষ করে শুধু তরুণদের জন্য না, সবার জন্য। কারণ দেশটা গঠন করতে হবে সবাইকে নিয়ে।

ডয়চে ভেলে : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তারপর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের ক্রমেই অবনতি হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। এই যে সম্পর্ক এবং অতীতে দেখা গেছে যে গত এক দশকে অনেকে মনে করেন যে ভারতের সঙ্গে বিএনপির একটা দূরত্ব রয়ে গেছে এবং সেই দূরত্বটা ঘোচানো যায়নি। ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনার অবস্থান কী হবে?

তারেক রহমান : দেখুন, আপনি যেটা বললেন যে দেখা গিয়েছে যে বিএনপির সঙ্গে তাদের একটা দূরত্ব আছে। অবশ্যই আমরা যদি দেখি যে এমন কোনো চুক্তি হচ্ছে, যেটা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থি, বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি, সেটা যেকোনো দেশের সঙ্গেই হোক, তাদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব হবে। কারণ আমি তো প্রতিনিধিত্ব করি আমার দেশের মানুষকে। কাজেই যেকোনো দুই দেশের মধ্যে যদি কোনো চুক্তি হয়, যেটা আমার দেশের স্বার্থের সঙ্গে যাবে না, সে ক্ষেত্রে যে কারও সঙ্গেই আমাদের এ রকম দূরত্ব হতে পারে।

ডয়চে ভেলে : ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, দেখা যাচ্ছে যে চীনের একটা বাড়তি আগ্রহ আছে বাংলাদেশ নিয়ে। আপনাদের কি চীনের জন্য আলাদা কোনো নীতি বা কোনো পদক্ষেপ আছে?

তারেক রহমান : বর্তমান বিশ্বে যদি আমরা চিন্তা করি আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সম্পর্ক থাকবে, আমরা একা বসবাস করতে পারব না। গ্লোবাল ভিলেজ বলা হয় এখন পৃথিবীকে। কাজেই আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে। আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন দেশে যাবে চাকরি-বাকরি বিভিন্ন কারণে। কাজেই আমার দেশের স্বার্থ যেখানে বজায় থাকবে, দেশের মানুষের স্বার্থ যেখানে বজায় থাকবে, আমাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো হবে।

ডয়চে ভেলে : একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে আপনি কয়েক দিন আগেই বলেছেন যে, বিএনপি কোনো রকম ঐক্যের সরকার বা জাতীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনা নেই জামায়াতের সঙ্গে। কিন্তু জামায়াত বলছে যে, তারা যদি সুযোগ পায় তারা বিএনপির সঙ্গে এখনো ঐক্যের সরকার করতে রাজি এবং তারা আমন্ত্রণ জানাবে। সে ক্ষেত্রে কি আপনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন?

তারেক রহমান : আমরা কনফিডেন্ট যে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের মানুষের রায় আমরা পাব। আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হব এককভাবে। সে ক্ষেত্রে তো কাউকে অপজিশনে থাকতে হবে। কারণ একটা ব্যালেন্সড রাষ্ট্র যদি হতে হয়, ব্যালেন্সড সরকার যদি হতে হয় তাদের সে ক্ষেত্রে অপজিশনে থাকতে হবে কাউকে। সবাই সরকারে চলে এলে কেমন করে দেশ চলবে?

ডয়চে ভেলে : বাংলাদেশে প্রায় ১৩ কোটি ভোটার এবং তার অর্ধেকের মতোই নারী। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে রাজনৈতিক দলগুলো যে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন তার মধ্যে নারীর সংখ্যা খুবই কম এবং এটা নিয়ে একটা আলোচনা হচ্ছে দেশে-বিদেশে যে নারীকে কেন এতটা কম সুযোগ দেওয়া হচ্ছে ভোটের রাজনীতিতে? যদি জুলাই বিপ্লবের কথা বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের কথা বলা হয়, সেখানেও তারা বিশেষভাবে অবদান রেখেছেন। বিষয়টা কীভাবে দেখছেন?

তারেক রহমান : বিষয়টাকে আমি অন্যভাবে দেখি। বেগম খালেদা জিয়া যখন এর আগে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন উনি একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন এবং সেটা হচ্ছে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা। ক্লাস ওয়ান থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত উনি ফ্রি করে দিয়েছিলেন। এটি হচ্ছে নারী সমাজকে এমপাওয়ার করার প্রথম একটি পদক্ষেপ। অর্থাৎ আপনি একজনের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করলেন। আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে নারীদের এই শিক্ষার সুযোগটা আরও হায়ার ক্লাস পর্যন্ত আমরা নিয়ে যাব। এটা হলো এক নম্বর। দ্বিতীয়ত, আপনি নিশ্চয়ই শুনেছেন, আমরা দেশের প্রত্যেক হাউসওয়াইফের জন্য, বিশেষ করে শুরু করব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর থেকে, আমরা একটি ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই, যার মাধ্যমে আমরা তাকে একটি রাষ্ট্র বা সরকার থেকে একটা সহযোগিতা দেব। এই ফ্যামিলি কার্ডটা যখন পাবে, সে মানসিকভাবে সে এমপাওয়ার্ড ফিল করবে এবং সহযোগিতা যখন বজায় থাকবে আস্তে আস্তে অর্থনৈতিকভাবে সে স্বাবলম্বী হবে। একদিকে আমরা চেষ্টা করছি নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে। একই সঙ্গে আমরা তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছি।

আমরা শুধু কথার কথা বলে কিছু নমিনেশন বা কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কিছু নারীকে দিয়ে দিলাম না। কিন্তু আপনি যদি সত্যিই নারীদের ক্ষমতায়নের কথা বলেন, তা এভাবে আনতে হবে। তাদের শিক্ষা এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে। আমরা চাইছি শিক্ষার পাশাপাশি নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে। তাহলে সে তার নিজ যোগ্যতাতেই যেকোনো পর্যায়ের নির্বাচন হোক, স্থানীয় হোক বা জাতীয় নির্বাচন, সে তার নিজ যোগ্যতাবলে নমিনেশন আদায় করেই নিতে সক্ষম হবে। বিষয়টিকে আমরা লংটার্মে নিয়ে যেতে চাইছি। ধীরে ধীরে স্থায়ীভাবে জিনিসটাকে গড়ে তুলতে চাইছি আমরা।

ডয়চে ভেলে : আমরা যখন কথা বলি নারী ভোটারদের সঙ্গে, তাদের কারও কারো মধ্যে একধরনের ভয় বা উৎকণ্ঠাও কাজ করছে যে, ১২ তারিখের পরে কী হবে, তারা কতটা নিরাপদ থাকতে পারবেন বা তাদের উপরে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ হবে কি না, তাদের জীবন সংকুচিত করার কোনো রকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না। এ রকম এক ধরনের ভয়, এক ধরনের উৎকণ্ঠা কাজ করছে। তাদের উদ্দেশ্যে আপনার কি কোনো বার্তা আছে?

তারেক রহমান : আপনি যেই বিষয়গুলো বললেন, এটি অবশ্যই আমাদের পক্ষ থেকে নয়। এটি বাংলাদেশে কিছু কিছু অন্য রাজনৈতিক দল আছে, যাদের বিভিন্ন কথাবার্তা বা সোশ্যাল মিডিয়াতে তাদের বিভিন্ন স্টেটমেন্টের মাধ্যমে এই ধারণাগুলো জন্ম নিয়েছে মানুষের মাঝে বা নারীদের মাঝে। আমরা সবসময়ই নারীদের এম্পাওয়ারমেন্ট এর কথা বলেছি। কারণ আমরা যত যাই পরিকল্পনাই করি না কেন, যখন দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হয়ে থাকেন, তাদেরকে আলাদা রেখে আমরা দেশকে সামনে নিতে পারব না। আমাদের সকলকে নিয়েই নিতে হবে। সেজন্যই আমরা তাদের শিক্ষার আরও এমন ব্যবস্থা করতে চেয়েছি যাতে তারা আরও উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারে সহজে। আমরা এমন ব্যবস্থা করতে চাইছি যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। অর্থাৎ তাদের কনফিডেন্স আমরা আরও স্ট্রং করতে চাইছি। তাদের আত্মবিশ্বাসটা আমরা দৃঢ় করতে চাইছি। শুধু তাই নয়, আমরা এরই মধ্যে বলেছি যে, আমরা দেশে সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আমরা দেশে এমন শিল্পও নিয়ে আসতে চাই যেখানে নারীরা তাদের কর্মসংস্থানে বেশি হবে। কর্মসংস্থানে নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারেন, সেই জন্য কেয়ার সেন্টারসহ অন্যান্য বিষয়গুলো আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে।

আমরা এটাও বলেছি যে, নারীরা যাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন, ঢাকা শহরসহ বড় শহরগুলোতে আমরা নারীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস ইন্ট্রোডিউস করব, যেটা শুধু নারীরাই ব্যবহার করবেন এবং সেই বাস পরিচালনাও করবেন নারীরা। কাজেই আমাদের দলীয় অবস্থান থেকে আমরা পরিকল্পনা রেখেছি, যেগুলো আমরা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন করব সুযোগ পেলে যাতে করে নারীরা তাদের জন্য যত বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

ডয়চে ভেলে : গণঅভ্যুত্থানের পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না এবং কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ এরকম মত দিচ্ছেন যে, আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় এই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না। এই বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

তারেক রহমান : দেখুন এটা তো পুরো রাজনীতি। আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, মানুষের সমর্থন নিয়ে। কাজেই আমি মনে করি, রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে তাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। আর যাকে মানুষ গ্রহণ করবে না, যত শক্তিই থাকুক না কেন, শক্তি প্রয়োগ করে সে ধরে রাখতে পারে না, ৫ই আগস্ট যার উদাহরণ।

ডয়চে ভেলে : দুর্নীতি দমনের যে উদ্যোগের কথা আপনি বলছেন এবং আপনার ম্যানিফেস্টোতে সেটা রয়েছে, ইশতেহারে রয়েছে। কিন্তু টিআইবি ও একাধিক সংগঠন নানারকম পরিসংখ্যান দিচ্ছে এবং তাতে দেখা যাচ্ছে যে বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রার্থী ঋণখেলাপি। তারা আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে তারপরে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং অনেকে আছেন যারা ঋণগ্রস্ত। এই বিষয়ে আপনার মতামত কী?

তারেক রহমান : দেখুন, দুর্নীতি এবং ঋণগ্রস্ত বা ব্যাংক ডিফল্ট দুটো ভিন্ন জিনিস। আমাদের দলের লাখো নেতাকর্মীর নামে বিগত স্বৈরাচার সরকার কেস দিয়েছিল। আমাদের দলের মধ্যে যারা আছেন, যারা আমাদের দলীয় রাজনীতির সাথে আছে, যারা ব্যবসা বাণিজ্য করে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য চলতে দেওয়া হয়নি। তাদেরকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। তাদের ন্যায্য ব্যাংক লোন যেটা আছে সেটা তাদেরকে দেওয়া হয়নি। কাজেই এরকম একটি অবস্থার মধ্যে আমাদের লোকজন, আমাদের ব্যবসায়ীরা, আমাদের নেতাকর্মীরা যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন, তাদের জন্য তো এরকম ডিফল্ট হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। দুর্নীতি ও ডিফল্ট হয়ে যাওয়ার মধ্যে সম্পর্ক তো নেই। দুটো একদম ভিন্ন জিনিস।

ডয়চে ভেলে : সম্পূর্ণভাবে গণঅভ্যুত্থানের কথা আপনি যেটা বলছেন যে, বিএনপির অনেক নেতাকর্মী হতাহত হয়েছেন বলে আপনার দল থেকে জানানো হয়েছে। গত ১৫-১৬ বছরে গুম খুনের শিকার হয়েছেন অনেকে। যারা ভুক্তভোগী, তাদের পরিবারকে বা তাদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

তারেক রহমান : অবশ্যই আমাদের পরিকল্পনা আছে, কারণ আমাদের নেতাকর্মীরা যেরকম গুম খুনের শিকার হয়েছে, অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল যারা আমাদের সাথে আন্দোলন সংগ্রামে ছিল তারা গুম খুনের শিকার হয়েছে। হয়ত সংখ্যা কম-বেশি হবে। এমনকি অনেক মানুষ আছেন যারা রাজনীতির সাথে জড়িত না। কিন্তু তারা অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছে, গুম খুনের শিকার হয়েছে। এটি একটি অন্যায় ব্যাপার। একটি সভ্য দেশে মানুষ গুম হয়ে যাবে, দেশের মানুষ খুন হয়ে যাবে, কিন্তু তার কোনো বিচার হবে না, এটা তো হতে পারে না। কাজেই দেশের আইন অনুযায়ী অবশ্যই প্রত্যেকটা মানুষ কারো সাথে যদি অন্যায় হয়ে থাকে তার বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।

Continue Reading

top3

পোলিং এজেন্টদের হুমকির অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর, বিএনপির পাল্টা দাবি

Published

on

By

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে পোলিং এজেন্টদের হুমকি, প্রচারণায় বাধা এবং ভোট ডাকাতির পরিকল্পনার অভিযোগ তুলেছেন ১১ দলীয় জোটের জামায়াত প্রার্থী মু. গোলাম কিবরিয়া ভিপি। মঙ্গলবার রাতে নালিতাবাড়ী পৌরশহরের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে গোলাম কিবরিয়া ভিপি দাবি করেন, ভোটের দিন তাঁদের নির্ধারিত পোলিং এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, ফলে কয়েকজনকে পরিবর্তন করতে হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকলেও বিরোধী পক্ষ উঠান বৈঠক করে প্রচার চালাচ্ছে এবং ভোটারদের মাঝে পান বিতরণের মাধ্যমে কালো টাকা ছড়ানো হচ্ছে।

এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং নকলার চন্দ্রকোনা ও চরাঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়নে ভোট ডাকাতির প্রস্তুতির তথ্যও পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এসব বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন জামায়াত প্রার্থী।

তবে জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ নাকচ করে বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরীর নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির নালিতাবাড়ীর নির্বাহী প্রধান ভিপি আনোয়ার বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই জামায়াত প্রার্থী মিথ্যা অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন।

Continue Reading

top3

চ্যালেঞ্জ বড় হলেও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান

Published

on

By

জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হলে দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে সবার আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনের অবসানের পর দেশ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারেক রহমান।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাদের দেশে একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করা দরকার, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকে। নির্বাচিত হলে দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশা মোকাবিলা করাও তাদের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে থাকবে বলে জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের প্রায় দেড় দশকের শাসনামলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে তারেক রহমান বলেন, মেগা প্রকল্পের নামে আমরা মেগা দুর্নীতি দেখেছি। অল্প কিছু ব্যক্তি ধনী হয়েছে, কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ কিছুই পায়নি।

অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ বেকার। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেলে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চেয়ে ভালো করার চেষ্টা করবেন বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান।

ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ১৭ কোটি মানুষের এই দেশের সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জ্বালানি খাতকে ধ্বংস করেছে।

বিভিন্ন জরিপে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমরা আশা করি, জনগণের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ম্যান্ডেট পাব— একটি বড় ম্যান্ডেট। তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন তারা নিজেরাই পাবে বলে আশা করছেন; নতুন কোনো জোটের প্রয়োজন দেখছেন না।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ ও দেশের স্বার্থই সবার আগে বিবেচনায় থাকবে।

এ ছাড়া আইন করে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন বলে জানান তারেক রহমান। তবে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করার পক্ষে মত দেন তিনি।

Continue Reading

Trending