Connect with us

top2

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘লজ্জাহীন পতিতালয়’ মন্তব্যে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা

Published

on

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক ও হল ছাত্রদলের সাহিত্য সম্পাদক রায়হান আহম্মেদ সিব্বির ওরফে সুহৃদ রায়হান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) নিয়ে আবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। তার মন্তব্যে ঢাবিকে তিনি ব্রোথেল অর্থাৎ পতিতালয়ের সঙ্গে তুলনা করেন। বেশকিছু দিন আগে করা এ মন্তব্য করলেও, সম্প্রতি বিষয়টি ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা ও তোলপাড় চলছে।

তার ভাষ্য, ‘এটা (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) একটা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান। মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন বললেও কম হবে। এটি পরিণত হইছে একটা লজ্জাহীন ব্রোথেল-এ (পতিতালয়)। এইখানের কাস্টমার এবং রিটেইলার একই কিসিমের।’ যদিও তার দাবি, বক্তব্যে তিনি মেটাফোর ব্যবহার করেছেন। 

বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগী) আসনে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসান ডাকসু ও নারীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। এর জেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর করা এ ছাত্রদল নেতার অবমাননাকর মন্তব্যটি ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর তারিখ নিয়ে ডাকসুর স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ ‘জকসু নির্বাচনকে ভয় পেয়েই কি আজকে ভোরে খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘোষণা?’ শীর্ষক একটি বিতর্কিত ফেসবুক পোস্ট করেন, যেটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয় এবং এক পর্যায়ে তিনি ক্ষমা চান। এসময় তার পোস্টটি শেয়ার করে এবং প্রতিবাদ জানিয়ে একটি পোস্ট করেন এই ছাত্রদল নেতা রায়হান আহম্মেদ সিব্বির। এতেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা নিয়ে বর্তমানে সমালোচনা হচ্ছে।

৩০ ডিসেম্বর দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের এ শিক্ষার্থী তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আমি যদি বলি, ঢাবির ম্যাজোরিটি মূর্খ যারা এদের ভোট দিয়ে জিতাইছে, যাদের মিনিমাম কার্টেসি নাই। ভদ্রতা সমবেদনা নাই। আমি ভুল বলব? না। ঢাবি সময়ের পরিক্রমায় জ্ঞানহীন, বিচক্ষণহীন এক স্কুলে পরিণত হইছে। এইখানে কোন জ্ঞান চাষ হয় না। যা হয়, যতটুকু হয়, সেইটা পপুলিজম, সেইটা কোনমতে পাস করার একটা পথ। একটা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান। মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন বললেও কম হবে। এটি পরিণত হইছে একটা লজ্জাহীন ব্রোথেল-এ (পতিতালয়)। এইখানের কাস্টমার এবং রিটেইলার একই কিসিমের।

এদিকে, তার মন্তব্যের সমালোচনা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ডাকসুর নির্বাচিত সদস্য মেফতাহুল হোসাইন আল মারুফ ফেসবুকে লেখেন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য,বর্তমানে জিয়া হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক, একই সাথে জিয়া হল সংসদের ছাত্রদল মনোনীত ও নির্বাচিত সাহিত্য সম্পাদক রায়হান আহমেদ শিব্বির ওরফে সুহৃদ রায়হান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিণত হয়েছে একটি লজ্জাহীন বেশ্যালয়ে (ব্রোথেল)। কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়ে ছাত্রশিবিরের সমর্থিত প্যানেলকে অধিকাংশ পদগুলোতে বিজয়ী করেছে। শিক্ষার্থীরা এইখানে খদ্দের এবং বিক্রেতা।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য শাহেদ হোসাইন ইমন বলেন, তিনি (সুহৃদ রায়হান) সরাসরি ঢাবিকে নিয়ে এমন বাজে মন্তব্যগুলো করেছেন। ঢাবিকে কিন্ডারগার্টেন, বেশ্যাখানা বলে উল্লেখ করেছেন। একই সাথে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন। কদিন আগে জামায়াতের এক নেতা ডাকসুকে বেশ্যাখানা বলে বক্তব্য দেয়। যার ফলশ্রুতিতে তার বিরুদ্ধে ঢাবি প্রশাসন বিবৃতি দেয় এবং জামায়াত তাকে বহিষ্কার করে। এই বক্তব্য যে লিখেছে সে ঢাবির শিক্ষার্থী, ভেবেচিন্তে লিখেছে। জিয়া হল সংসদের একজন সদস্য হিসেবে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং ঢাবি প্রশাসনের নিকট তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

আমিনুল ইসলাম সোহান ফেসবুকে লেখেন, হেমা চাকমারা এখন চুপ থাকবেন, প্রয়োজনে মায়া কান্না কেঁদে ভিক্টিম কার্ড প্লে করবেন। ঘটনা অন্যদিকে নিয়ে যাবেন। এটাতে হেমা চাকমার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। হেমারা চুপ থাকবেন কারণ ঢাবিকে ইংরেজিতে ‘বেশ্যাখানা’ বলা ভাইটি ঢাবি ছাত্রদলের পদস্থ নেতা এবং হাসিনা রেজিমে ছিলেন সোশাল সায়েন্স শাখা ছাত্রলীগের পদস্থ নেতা। কুশপুত্তলিকা দাহন হবে কাঠালপাড়ার জামাতের মুরব্বির আর এই বাম সুশিল পদস্থ ভাইটি ‘মাদ্রাসা’কে অবমাননা করেও বেঁচে যাবেন, কারণ তিনি হেমা চাকমার সহযোদ্ধা। ছাত্রলীগের পদ থেকে ছাত্রদলে ম্মুথ ট্রানজিশান হয়েছে এই বাম করার কারণে।

অন্যদিকে, নতুন করে সমালোচনার জবাবে ছাত্রদল নেতা রায়হান গতকাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিজ অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এ পোস্টে তিনি লেখেন, ম্যাডামের ডেথ বা অন্য যে কারো মৃত্যু নিয়ে যারা নোংরামি করতে পারে, তাদের সাথে ব্রোথেল ম্যাটাফর জুড়ে দেওয়া বেশি অযৌক্তিক? আমি মনে করি না। এইখানে কোন এক্সকিউজ নাই। শব্দের অলঙ্কার নাই। যারা প্রোপাগাণ্ডা ক্যামপেইন করতেছে, তাদের বলি, ঢাবি আসলেই দিনদিন একটা জ্ঞানহীন বিদ্যাপিঠে পরিণত হইছে। জ্ঞানের চাষ না। ঘৃণার হয়। পপুলিজমের চর্চা হয়। মবোক্রেসির ক্যান্টনমেন্ট হয়। এইটার পরিবেশ তো যে কোন প্রাইমারি স্কুলের চাইলে ভালো। এটাই সত্য। তার উদাহরণ আমারে নিয়া এক মাস আগের ভিন্ন কনটেক্সের একটা ক্যাপশন নিয়া বটঝড়। মিডিয়া ট্রায়াল। এরা ভাত খাইয়াইয়া চুর সন্দেহে মানুষ পিটায়া মারে। বিচার হয় না।

তিনি আরও লেখেন, এরা ভোট দিয়া গান্ডু নির্বাচিত করে, যারা স্লাটমেশিং করে, মৃত্যু নিয়ে মসকারা করে, মোরাল পুলিশিং করে, যারা না বুঝে ইউরেনিয়াম না বুঝে চারুকলা। এরা না বুঝে কবিতা। না বুঝে আর্ট কালচার। একবার নিৎসে সাহেব বলছিলেন, গড ইজ ডেড। তখন যদি ভুলেও শিবিরের রাহবাররা বেঁচে থাকতো, বলতো, নিৎসের গোষ্ঠীকে আজ বারোটা বাজাইয়া দিব। নিৎসে একজন ইসলামোফোব, বাম গোসলহীন মানব। এজন্য বলি, আল্লাহ তুমি তাদের জ্ঞান বাড়াইয়া দিতে সূদুর চীন দেশ প্রেরণ কর।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

হরমুজে মার্কিন হামলায় ৩ ভারতীয় নিহতের ঘটনায় ইরানের শোক

Published

on

By

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালীর ওমান উপকূলে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিকের নিহতের ঘটনায় শোক জানিয়েছে ইরান।

শুক্রবার (১২ জুন) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ শোক জানিয়েছেন।

এক্সবার্তায় বাঘায়েই বলেন, ‘ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর নিষ্ঠুর হামলা এবং তার জেরে ভারতের ৩ জন নাগরিকের মৃত্যু আরও একবার প্রমাণ করলো যে যুক্তরাষ্ট্র সশস্ত্র ডাকাতি এবং সরকারি জলদস্যুতার নীতি গ্রহণ করেছে। আমরা নিহত ভারতীয় নাগরিক, তাদের পরিবার, বন্ধু-স্বজন, ভারতের জনগণ এবং সরকারের প্রতি গভীর সহানুভূতি এবং স্বান্তনা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে এ ধরনের আইনবহির্ভূত কাজের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের জবাবদিহিতার দাবি জানাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্রের বেপরোয়া আচরণের কারণে আজ বৈশ্বিক শান্তি এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর সমুদ্র চলাচলের স্বাধীনতা- উভয়েই গুরুতর হুমকির মধ্যে আছে।’

উল্লেখ্য, গত ১০ জুন বুধবার হরমুজ প্রনালীর ওমান উপকূলে পালাউয়ের পতাকাবাহী জাহাজের ইঞ্জিনকক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে মার্কিন বাহিনী। জাহাজটিতে মোট ২৮ জন নাবিক বা ক্রু ছিলেন, তাদের মধ্যে ২৪ জনই ভারতীয়।

মার্কিন হামলার পর তিন জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের জাহাজ চলাচলমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিখোঁজ ৩ জনই নিহত হয়েছেন।

সূত্র: ফার্স্টপোস্ট

Continue Reading

top2

বাংলাদেশে এসেই দুই দেশ এক করার কথা বললেন নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার

Published

on

By

বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেছেন,ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যা আর বাংলাদেশের ২০ কোটি যদি এই সঙ্গে করা হয় ১৬০ কোটি। দুই গণতান্ত্রিক দেশের শক্তি এক হলে বিশ্ব শক্তিতে পরিণত হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবে তা বৃহৎ একটি জনশক্তিতে রূপান্তরিত হবে। এ জন্য দুই দেশের সহযোগিতা থাকা দরকার।

শুক্রবার (দুপুর সাড়ে ১১টার পর) বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশে পৌঁছে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, একটা শক্তি হলে হবে না। দুই দেশ মিলে যে শক্তি হবে ওইটা আসল শক্তি। ওই শক্তিটা যেন পুরো পৃথিবী দেখে। ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশে যে ট্যালেন্ট আছে তাদের নিয়ে আগামী প্রজন্ম খেলাধুলা, স্বাস্থ্য, টেকনোলজি —সবকিছু নিয়ে কাজ করব।

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার পর বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। ছবি: আজকের পত্রিকা

দুই দেশের প্রতিভা ও সম্পদ কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খেলাধুলা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

সীমান্তে ‘পুশইন’ ইস্যু, ভ্রমণ ও বাণিজ্যে আরোপিত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ অভিন্ন আকাশ-বাতাস ভাগাভাগি করে। দুই দেশের জন্য যা কল্যাণকর, ভবিষ্যতে সে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার পর বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে আসেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাংলাদেশে আসার সময় নোম্যান্সল্যান্ডে তাকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতীয় হাইকমিশন ও বেনাপোল স্থলবন্দরের প্রতিনিধিরা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদী।

দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘একটা শক্তি হলে হবে না। দুই দেশ মিলে যে শক্তি হবে, সেটাই আসল শক্তি।’

গত এপ্রিল মাসে ভারত সরকার সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। দুই দেশের ৫৫ বছরের কূটনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার করা হলো। তিনি প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। প্রণয় ভার্মা বর্তমানে ব্রাসেলসে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন

Continue Reading

top2

দুর্যোগ কি সরকারি-বিরোধী দল দেখে আসে, প্রশ্ন আখতারের

Published

on

By

সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য বিবেচনা করে দেশে দুর্যোগের কোনো আলাদা মানচিত্র তৈরি হয়েছে কি না, জাতীয় সংসদে এমন প্রশ্ন তুলেছেন সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দলের এমপিদের টিআর-কাবিখার বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের এমপিদের তা দেওয়া হয়নি।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সংসদকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, যেসব সংসদ সদস্য বরাদ্দের জন্য চাহিদাপত্র দিয়েছেন, তারা আগামী দু দিনের মধ্যেই তা পেয়ে যাবেন।

সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস‌্য আখতার হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ আশ্বাস দেন। বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরু হয়।

অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে ত্রাণ বরাদ্দে বৈষম্যের সমালোচনা করেন সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশের দুর্যোগের যে ম্যাপ সেটাতে কি কোনো ধরনের পরিবর্তন এসেছে? কারণ আমরা দেখলাম যে, দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে গত ৩০শে এপ্রিলে যে বরাদ্দটা দেওয়া হয়েছে, সেটা শুধুমাত্র সরকারি দলের আসনগুলোতে দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের কারো ওটাতে বরাদ্দ দেওয়া হয় নাই। যদি এরকমটা হয়ে থাকে, যে বাংলাদেশে দুর্যোগগুলো যখন আসবে তখন শুধু সরকারি দলের আসনগুলোতেই আসবে, বিরোধী দলের আসনগুলোতে আসবে না… তাহলে হয়তো একভাবে হতে পারতো। কিন্তু দুর্যোগ যখন আসে তখন কিন্তু আমরা সবাই সাফারার (ভুক্তভোগী) হই।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ৩০শে এপ্রিলে ৮৫ লাখ টাকা এবং ৯০ টন করে চাল ও গম শুধুমাত্র সরকারি দলের এমপি বা সরকার দলের আসনগুলোতে বরাদ্দ করা হয়েছে। বিরোধী দলের কোনো আসনেই এটি দেওয়া হয়নি। এই অর্থ জনগণের ট্যাক্সের টাকা। জনগণের অর্থ আহরণ করে তারপরে এই বরাদ্দ করা হয়। বিরোধী দলের আসনের সাধারণ নাগরিকদের প্রতি এটি চূড়ান্ত বৈষম্য।’

এ সময় তিনি ত্রাণমন্ত্রীর কাছে বৈষম্য দূর করে কবে নাগাদ বিরোধী দলের এমপিদের সমতাভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হবে তা জানতে চান।

সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এই অভিযোগের পর সংসদে সভাপতিত্ব করা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেন। তিনি ত্রাণমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মাননীয় সদস্য আপনাকে ধন্যবাদ। মাননীয় মন্ত্রী, এটি একটি ভেরি ফান্ডামেন্টাল কোয়েশ্চেন (অত্যন্ত মৌলিক প্রশ্ন)। ইফ ইট ইজ ট্রু, আনফেয়ার (যদি এটি সত্য হয়, তবে তা অনুচিত)। আপনি দয়া করে একটু উত্তর দেন আমরা সকলেই শুনি।’

ডেপুটি স্পিকারের নির্দেশনার পর জবাব দিতে দাঁড়িয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের নানা প্রস্তুতি সবসময়ই থাকে। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র করি। পাশাপাশি যখন যেখানে দুর্যোগ সংঘটিত হয়, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে জেলা পর্যায়ে প্রত্যেকটা জেলা প্রশাসকের কাছে আমাদের জিআর ক্যাশ (নগদ অর্থ) এবং জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া রয়েছে।’

এমপিদের উন্নয়ন বরাদ্দের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘উনি (আখতার হোসেন) টিআর-কাবিখার কথা বলেছেন। যে সমস্ত এমপি মহোদয়রা আমাদের কাছে চাহিদাপত্র দেন, সেখানে আমরা বরাদ্দ দিয়ে থাকি। আমার মনে হয় যে কাল-পরশুর মধ্যে ওনারা ওনাদের বরাদ্দ পেয়ে যাবেন।’

এ সময় সংসদে উপস্থিত অভিযোগকারী সংসদ সদস্যসহ অন্যদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাও পেয়ে যাবেন। আপনাদের মধ্যে যারা চাহিদাপত্র দিয়েছেন তাদেরকে আমরা বরাদ্দ দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ পেয়ে যাবেন। ধন্যবাদ আপনাকে।

Continue Reading

Trending