Connect with us

top2

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘লজ্জাহীন পতিতালয়’ মন্তব্যে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা

Published

on

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক ও হল ছাত্রদলের সাহিত্য সম্পাদক রায়হান আহম্মেদ সিব্বির ওরফে সুহৃদ রায়হান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) নিয়ে আবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। তার মন্তব্যে ঢাবিকে তিনি ব্রোথেল অর্থাৎ পতিতালয়ের সঙ্গে তুলনা করেন। বেশকিছু দিন আগে করা এ মন্তব্য করলেও, সম্প্রতি বিষয়টি ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা ও তোলপাড় চলছে।

তার ভাষ্য, ‘এটা (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) একটা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান। মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন বললেও কম হবে। এটি পরিণত হইছে একটা লজ্জাহীন ব্রোথেল-এ (পতিতালয়)। এইখানের কাস্টমার এবং রিটেইলার একই কিসিমের।’ যদিও তার দাবি, বক্তব্যে তিনি মেটাফোর ব্যবহার করেছেন। 

বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগী) আসনে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসান ডাকসু ও নারীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। এর জেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনার রেশ না কাটতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর করা এ ছাত্রদল নেতার অবমাননাকর মন্তব্যটি ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর তারিখ নিয়ে ডাকসুর স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ ‘জকসু নির্বাচনকে ভয় পেয়েই কি আজকে ভোরে খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘোষণা?’ শীর্ষক একটি বিতর্কিত ফেসবুক পোস্ট করেন, যেটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয় এবং এক পর্যায়ে তিনি ক্ষমা চান। এসময় তার পোস্টটি শেয়ার করে এবং প্রতিবাদ জানিয়ে একটি পোস্ট করেন এই ছাত্রদল নেতা রায়হান আহম্মেদ সিব্বির। এতেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, যা নিয়ে বর্তমানে সমালোচনা হচ্ছে।

৩০ ডিসেম্বর দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের এ শিক্ষার্থী তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আমি যদি বলি, ঢাবির ম্যাজোরিটি মূর্খ যারা এদের ভোট দিয়ে জিতাইছে, যাদের মিনিমাম কার্টেসি নাই। ভদ্রতা সমবেদনা নাই। আমি ভুল বলব? না। ঢাবি সময়ের পরিক্রমায় জ্ঞানহীন, বিচক্ষণহীন এক স্কুলে পরিণত হইছে। এইখানে কোন জ্ঞান চাষ হয় না। যা হয়, যতটুকু হয়, সেইটা পপুলিজম, সেইটা কোনমতে পাস করার একটা পথ। একটা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান। মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন বললেও কম হবে। এটি পরিণত হইছে একটা লজ্জাহীন ব্রোথেল-এ (পতিতালয়)। এইখানের কাস্টমার এবং রিটেইলার একই কিসিমের।

এদিকে, তার মন্তব্যের সমালোচনা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ডাকসুর নির্বাচিত সদস্য মেফতাহুল হোসাইন আল মারুফ ফেসবুকে লেখেন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য,বর্তমানে জিয়া হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক, একই সাথে জিয়া হল সংসদের ছাত্রদল মনোনীত ও নির্বাচিত সাহিত্য সম্পাদক রায়হান আহমেদ শিব্বির ওরফে সুহৃদ রায়হান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিণত হয়েছে একটি লজ্জাহীন বেশ্যালয়ে (ব্রোথেল)। কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়ে ছাত্রশিবিরের সমর্থিত প্যানেলকে অধিকাংশ পদগুলোতে বিজয়ী করেছে। শিক্ষার্থীরা এইখানে খদ্দের এবং বিক্রেতা।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য শাহেদ হোসাইন ইমন বলেন, তিনি (সুহৃদ রায়হান) সরাসরি ঢাবিকে নিয়ে এমন বাজে মন্তব্যগুলো করেছেন। ঢাবিকে কিন্ডারগার্টেন, বেশ্যাখানা বলে উল্লেখ করেছেন। একই সাথে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন। কদিন আগে জামায়াতের এক নেতা ডাকসুকে বেশ্যাখানা বলে বক্তব্য দেয়। যার ফলশ্রুতিতে তার বিরুদ্ধে ঢাবি প্রশাসন বিবৃতি দেয় এবং জামায়াত তাকে বহিষ্কার করে। এই বক্তব্য যে লিখেছে সে ঢাবির শিক্ষার্থী, ভেবেচিন্তে লিখেছে। জিয়া হল সংসদের একজন সদস্য হিসেবে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং ঢাবি প্রশাসনের নিকট তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

আমিনুল ইসলাম সোহান ফেসবুকে লেখেন, হেমা চাকমারা এখন চুপ থাকবেন, প্রয়োজনে মায়া কান্না কেঁদে ভিক্টিম কার্ড প্লে করবেন। ঘটনা অন্যদিকে নিয়ে যাবেন। এটাতে হেমা চাকমার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। হেমারা চুপ থাকবেন কারণ ঢাবিকে ইংরেজিতে ‘বেশ্যাখানা’ বলা ভাইটি ঢাবি ছাত্রদলের পদস্থ নেতা এবং হাসিনা রেজিমে ছিলেন সোশাল সায়েন্স শাখা ছাত্রলীগের পদস্থ নেতা। কুশপুত্তলিকা দাহন হবে কাঠালপাড়ার জামাতের মুরব্বির আর এই বাম সুশিল পদস্থ ভাইটি ‘মাদ্রাসা’কে অবমাননা করেও বেঁচে যাবেন, কারণ তিনি হেমা চাকমার সহযোদ্ধা। ছাত্রলীগের পদ থেকে ছাত্রদলে ম্মুথ ট্রানজিশান হয়েছে এই বাম করার কারণে।

অন্যদিকে, নতুন করে সমালোচনার জবাবে ছাত্রদল নেতা রায়হান গতকাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিজ অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এ পোস্টে তিনি লেখেন, ম্যাডামের ডেথ বা অন্য যে কারো মৃত্যু নিয়ে যারা নোংরামি করতে পারে, তাদের সাথে ব্রোথেল ম্যাটাফর জুড়ে দেওয়া বেশি অযৌক্তিক? আমি মনে করি না। এইখানে কোন এক্সকিউজ নাই। শব্দের অলঙ্কার নাই। যারা প্রোপাগাণ্ডা ক্যামপেইন করতেছে, তাদের বলি, ঢাবি আসলেই দিনদিন একটা জ্ঞানহীন বিদ্যাপিঠে পরিণত হইছে। জ্ঞানের চাষ না। ঘৃণার হয়। পপুলিজমের চর্চা হয়। মবোক্রেসির ক্যান্টনমেন্ট হয়। এইটার পরিবেশ তো যে কোন প্রাইমারি স্কুলের চাইলে ভালো। এটাই সত্য। তার উদাহরণ আমারে নিয়া এক মাস আগের ভিন্ন কনটেক্সের একটা ক্যাপশন নিয়া বটঝড়। মিডিয়া ট্রায়াল। এরা ভাত খাইয়াইয়া চুর সন্দেহে মানুষ পিটায়া মারে। বিচার হয় না।

তিনি আরও লেখেন, এরা ভোট দিয়া গান্ডু নির্বাচিত করে, যারা স্লাটমেশিং করে, মৃত্যু নিয়ে মসকারা করে, মোরাল পুলিশিং করে, যারা না বুঝে ইউরেনিয়াম না বুঝে চারুকলা। এরা না বুঝে কবিতা। না বুঝে আর্ট কালচার। একবার নিৎসে সাহেব বলছিলেন, গড ইজ ডেড। তখন যদি ভুলেও শিবিরের রাহবাররা বেঁচে থাকতো, বলতো, নিৎসের গোষ্ঠীকে আজ বারোটা বাজাইয়া দিব। নিৎসে একজন ইসলামোফোব, বাম গোসলহীন মানব। এজন্য বলি, আল্লাহ তুমি তাদের জ্ঞান বাড়াইয়া দিতে সূদুর চীন দেশ প্রেরণ কর।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজ জেলায় মাদক বন্ধ করতে পারে না, সারাদেশে করবে কীভাবে ?

Published

on

By

নিজ জেলায় মাদক বন্ধ করতে পারে না, সারাদেশে কীভাবে করবে, এমন প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। এনসিপির মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, কয়েক দিন আগে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দলেরই একজন সংসদ সদস্য কক্সবাজারকে মাদক কারবারের সূতিকাগার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি নিজের জেলাতেই মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাহলে সারাদেশে মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা কীভাবে নিশ্চিত করবেন—সেই প্রশ্ন উঠেছে।

তিনি বলেন, “আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব, আগে কক্সবাজারে মাদক কারবার বন্ধ করুন। এরপর সারা বাংলাদেশে মাদক নিয়ন্ত্রণ করুন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করুন।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এনসিপির মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার কালীগঞ্জ থেকে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু হয়।

সমাবেশে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দলীয় কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন

Continue Reading

top2

অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্ততি ইসির: প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভা

Published

on

By

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা নির্বাচনের আয়োজন করা হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ করা সম্ভব হবে।

রাজধানীর নির্বাচন ভবনে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

রহমানেল মাছউদ বলেন, বর্তমানে স্থানীয় সরকারের প্রায় সব স্তরের নির্বাচন বাকি রয়েছে। সংবিধান ও আইনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এসব নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে হবে। কমিশন ইতোমধ্যে অক্টোবরকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে।

তিনি বলেন, কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে, সে বিষয়ে কমিশনের আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বাস্তবতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজন বিবেচনায় প্রথমে ইউপি এবং পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। উপজেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের গুরুত্ব রয়েছে। তাই এ দুটি নির্বাচন আগে সম্পন্ন করে পরবর্তী সময়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান।

নির্বাচন কমিশনার মাছউদ বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে পাবলিক পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান, বর্ষা মৌসুম এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক ও যোগাযোগ পরিস্থিতি। এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই কমিশন চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণা করবে।

সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখনও এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকেও কমিশনের কাছে কোনো চিঠিও আসেনি। তবে কমিশন নিজস্ব উদ্যোগে সব ধরনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

সবধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে কত সময় লাগতে পারে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

এই নির্বাচন কমিশনার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষ্যে আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আচরণবিধির খসড়া ইতোমধ্যে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মতামত আহ্বান করা হয়েছে। প্রাপ্ত মতামত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও বিয়োজন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সংশোধিত বিধিমালায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হবে। অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না। পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাও থাকছে না। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের মতো পোস্টার ব্যবহারও থাকবে না।

বর্তমানে কতটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, প্রায় সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং আনসার সদস্যদের দায়িত্বে নির্বাচন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন অঞ্চলভিত্তিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রহমানেল মাছউদ বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যম নির্বাচনটিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেই মান বজায় রাখতে কমিশন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে এবং এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও ভোটারদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে তুলনামূলক বেশি সংঘাত ও সহিংসতা দেখা গেছে। কারণ এসব নির্বাচন প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়। কমিশন এবার সহিংসতা কমিয়ে এনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি সংসদে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলেও তিনি জানান।

Continue Reading

top2

শনিবারের মধ্যে সব ক্লিনিকে লেবার রুম স্থাপন না করলে লাইসেন্স বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Published

on

By

দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালকে নরমাল ডেলিভারির জন্য বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীতে বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন।

এ সময় নরমাল ডেলিভারির জন্য মিডওয়াইফারি নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হবে বলেও নিদের্শনা দেন তিনি। সেই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বন্ধ করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি প্রসূতি মায়ের নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে মানসম্মত লেবার রুম থাকা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, গত দুই মাস ধরে উপজেলাপর্যায়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ট্যাবলেট সরবরাহ করা হবে।

তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও মোবাইল সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিছুদিন স্যালাইনের ঘাটতি থাকলেও এখন পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জ্বর কমে গেলেও চিকিৎসক সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কোনো রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না। বিশেষ করে প্লাজমা লিকেজের সম্ভাবনা আছে কি না, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Continue Reading

Trending