Connect with us

top3

তরুণদের দক্ষ করে তুলতে না পারলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড হারাবে বাংলাদেশ: শিবির সভাপতি

Published

on

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী। কিন্তু এই তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে না পারলে দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের (কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সুবিধা) সুযোগ নষ্ট হবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দক্ষ ও যোগ্য মানুষ তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাখার উদ্যোগে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া মানেই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ে প্রবেশ করা। প্রথম বর্ষেই নিজের লক্ষ্য ঠিক করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শুধু স্বপ্ন দেখার জায়গা নয়, স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়ার জায়গাও।”

নিজেকে সময়ের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণী ডাইনোসর টিকে থাকতে পারেনি, কিন্তু তেলাপোকা এখনো টিকে আছে। কারণ, তেলাপোকার অভিযোজন ক্ষমতা বেশি। “জীবনেও একই বিষয়। পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে বদলাতে না পারলে কেউ টিকে থাকতে পারবে না,” বলেন তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ করার পর চাকরি জন্য সবাইকে ছুটাছুটি করতে হয়। বিসিএসের জন্য ৫-৬ বছর প্রস্তুতি নিতে হয়। “বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর কেন আবার পাঁচ-ছয় বছর বিসিএসের জন্য পড়তে হবে? বিশ্ববিদ্যালয় যদি দক্ষতা তৈরি করতে পারে, তাহলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি কর্মক্ষেত্রে যেতে পারবে।”
এসময় তিনি বলেন, বিদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিভাগ চালুর আগে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়, যাতে সেখান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এমন ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান তিনি।

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সময়কাল খুবই সীমিত। এই সময়কে কাজে লাগাতে না পারলে ভবিষ্যতে অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়বে। চীন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এসব দেশ দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করেই অর্থনৈতিকভাবে এগিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু ভালো সিজিপিএ অর্জন করলেই হবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), পাইথন, এক্সেল, গবেষণা, পরিসংখ্যান এবং ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে। তিনি বলেন, “থার্ড ইয়ার থেকেই পাইথন, এআই, স্ট্যাটিসটিকস ও গবেষণার টুল শেখা শুরু করুন। ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে এগুলোই আপনাকে এগিয়ে রাখবে।”

অর্থনীতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, অর্থনীতি আমাদের বলে পৃথিবীতে সম্পদের স্বল্পতা রয়েছে। কিন্তু সম্পদের অভাবের চেয়ে বড় সমস্যা সম্পদের অসম বণ্টন। তিনি দাবি করেন, বিশ্বের ৫ভাগ মানুষের হাতে ৯০ভাগ সম্পদ কেন্দ্রীভূত হওয়ায় বৈষম্য বাড়ছে। সুশাসন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এই বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিয়েও কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, “একজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করিয়ে যদি থাকার ব্যবস্থা না করা যায়, তাহলে ভর্তি করেন কেন? আবাসন না দিতে পারা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। এসময় তিনি গণরুম-গেস্টরুমের সংস্কৃতি বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান।”

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ভালো বন্ধু নির্বাচন করতে হবে, শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। “যে শিক্ষকের ভালো গবেষণা আছে, তার কাছেই বেশি বেশি যান। গ্রুপ স্টাডি করুন, একে অপরকে সহযোগিতা করুন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহযোগিতার সংস্কৃতিও থাকতে হবে,” বলেন তিনি।

রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে, তবে নিজেদের মূল লক্ষ্য হতে হবে জ্ঞান অর্জন ও দেশ গঠনে ভূমিকা রাখা। তিনি বলেন, “মেধাবীরা রাজনীতিতে এলে রাষ্ট্র আরও ভালোভাবে পরিচালিত হবে।”

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ সমাজ ও রাষ্ট্রের একটি বড় বিনিয়োগ। তাই শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। “নিজের পরিবার, সমাজ ও দেশের কথা মাথায় রেখে নিজেকে দক্ষ, সৎ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন। সঞ্চালনা করেন শাখা সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম। পরে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ এবং উপহার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং ছাত্রশিবিরের বর্তমান ও সাবেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ইবি পূজা উদযাপন পরিষদের নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি :

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) পূজা উদযাপন পরিষদের নবীন বরণ ও বিদায় সংবর্ধনা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ১১৬ নম্বর কক্ষে এ এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় নবীন শিক্ষার্থীদের গীতা, ফুল ও শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে বরণ, বিদায়ী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট প্রদানসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে সজীব বিশ্বাসের সঞ্চালনায় ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. লিটন বরণ সিকদার, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সহকারী অধ্যাপক বাপ্পা সরকার, কমিউনিকেশন বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার পাল, কোষাধ্যক্ষ দুরন্ত রায় মিলনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার পাল বলেন, ‘আজকের দিনটি আমাদের জন্য আনন্দ, আবেগ ও স্মৃতির। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জায়গা নয়। নিজেকে গড়ে তোলা ও মানুষকে বোঝার জন্য অন্যতম মাধ্যম এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আজকের এই বিদায় কোনো বিচ্ছেদ নয়, এটি একটি সুন্দর সম্পর্কে নতুন ঠিকানায় নিয়ে যাওয়ার মুহূর্ত। আশা করি, নবীনদের অংশগ্রহণে আমাদের কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি পাবে।’

Continue Reading

top3

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও তথ্য প্রকাশে অনুমোদনের বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশক্তির উদ্বেগ

Published

on

By

ববি প্রতিনিধি 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) জুলাই স্মৃতি স্তম্ভস্থলে বৈঠকখানা নির্মাণ এবং তথ্য প্রকাশে অনুমোদন নেয়ার বিষয়ে জারিকৃত নোটিশে বিষয়ে উদ্বেগ  জানিয়েছে ববি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাথে দেখা করে  বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক মোহাম্মদ বেলাল স্বাক্ষরিত লিখিত আবেদনে উদ্বেগের বিষয়টি জানান তারা। 

ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ  উদ্বেগ জানিয়ে লিখিত আবেদনে জানিয়েছেন, বিগত উপাচার্যের সময়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের লক্ষ্যে ছাত্র ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য একটি স্থান নির্ধারণ করা হয় এবং সেখানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বর্তমানে নির্ধারিত সেই স্থানটিতে বসার জন্য বৈঠকখানা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। জুলাইয়ের চেতনা ও জুলাইকে ধারণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হতাশাজনক।

আরও একটি বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ছাত্রশক্তির নেতৃবৃন্দ জানান,  গত ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে গণমাধ্যম ও গণমাধ্যম বক্তব্য প্রদান সংক্রান্ত যে নোটিশ জারি করা হয়েছে, তা আমাদের বিবেচনায় বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে নাগরিকের চিন্তা, বিবেক ও বাক্‌স্বাধীনতার যে অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কোনো নির্দেশনা যেন তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়-এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জারিকৃত নোটিশে ব্যবহৃত কিছু শব্দ ও ভাষার প্রয়োগ স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং মত প্রকাশের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ছাত্রশক্তি মনে করে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল মতপ্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এবিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি দুটি দাবির কথা জানিয়েছে দাবি দুটি হলো- 

১. দ্রুততম সময়ের মধ্যে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রকাশা করতে হবে।

২. রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে জারি করা গণমাধ্যম-সংক্রান্ত নোটিশটি প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে , যাতে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রচলিত সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

Continue Reading

top3

শাবিপ্রবিতে নিয়মতান্ত্রিক সিট বণ্টনসহ ৫ দফা দাবি ছাত্রশিবিরের

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আবাসিক হলগুলোতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সিট বণ্টন, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আয়োজন এবং উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।

গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জুনতলায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

ছাত্রশিবিরের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, হলের ফাঁকা আসনে দলীয় সুপারিশের পরিবর্তে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সিট বরাদ্দ, দ্রুত শাকসু নির্বাচন আয়োজন, উন্নয়ন প্রকল্পে নির্মাণকাজের মান ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত, ক্যাম্পাস ও হলে নিরবচ্ছিন্ন ওয়াই-ফাই ও ইন্টারনেট সেবা এবং মানসম্মত খাবার, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও পরিবহন সমস্যার সমাধান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদুল ইসলাম।

হলের সিট বণ্টন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ শতাংশ আসন রাখা হতো। নতুন প্রশাসন আসার পর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষা চলে আসলে তারা হলে সিট পায় নি। এছাড়া ফাঁকা সিটে দলীয় রেফারেন্সে শিক্ষার্থী তোলা হচ্ছে এরকম অভিযোগ ও পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের দাবি ফাঁকা সিটগুলোতে অবিলম্বে হল প্রশাসনের মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিভাগ অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’

শাহপরাণ হলে ছাত্রদল নেতাদের সিট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদল কর্তৃক নিয়মবহির্ভূতভাবে সিট নিয়ে নিজেদের দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’ ছাত্রশিবির কখনো প্রশাসনের কারও কাছে সিটের জন্য তদবির করেনি। নিউজে দেখতে পেলাম সাবেক ছাত্রকল্যাণ উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড মো এছাক মিয়া স্যার বলেছেন অন্যান্যরা সিটের জন্য তদবির করলেও ছাত্রশিবির কখনো হলের সিটের জন্য তদবির করেনি।

শাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শাকসু নির্বাচনের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরও বিএনপি ও ছাত্রদলের বাধার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’

জাতীয় নির্বাচনের পরও শিক্ষার্থীরা শাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপাচার্য সাক্ষাতের সময় দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেও ছাত্রদলকে সাক্ষাতের সময় দেওয়া এবং তাদের দলীয় কর্মসূচিতে প্রশাসনিক নিয়ম ভঙ্গ করে উপস্থিত থাকতে পারেন। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজকে ছাত্রদলের কর্মসূচি প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ করে দিচ্ছেন।

কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে শাকসুর দাবিতে আন্দোলনরত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অনতিবিলম্বে শাকসু বাস্তবায়নের স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলমান বিভিন্ন উন্নয়নকাজে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সব প্রকল্প যথাযথ তদারকি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে সম্পন্ন করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই এবং দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলের ইন্টারনেট সেবা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়াই-ফাই সেবার মান ও নিরবচ্ছিন্নতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট না থাকায় শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’

খাবারের মান নিয়ে মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাস ও হলের খাবারে অনেক সময় পোকামাকড় ও ময়লা পাওয়া যাচ্ছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে দুপুরের খাবারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই। মানসম্মত খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত খাবারের স্থান নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে প্রায়ই চুরি ও বিভিন্ন অপরাধের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে প্রশাসনের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবহনে শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন, অফিস সম্পাদক শাকিল মাহমুদ ও প্রচার সম্পাদক রেজা-ই-রাব্বি সাফওয়ান উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

Trending