দক্ষিণ ইয়েমেনে সৌদি আরব–সমর্থিত বাহিনী ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সাদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC)–এর লড়াই নতুন করে রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে। সৌদি যুদ্ধবিমান সাম্প্রতিক দিনগুলোতে STC–নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে, যা অঞ্চলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
হাদরামাউত প্রদেশে তীব্র লড়
ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি-সমর্থিত গভর্নরের বাহিনী ও ইউএই-সমর্থিত STC যোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। STC অভিযোগ করে যে, সৌদি আরব তাদের অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। ঘটনাস্থলে ধ্বংস হওয়া সামরিক যানও দেখা গেছে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
ইউএই থেকে অস্ত্র আসা নিয়ে সংশয় ও উত্তেজনা
মুকাল্লা বন্দর শহরে ইউএই থেকে আসা বলে দাবি করা একটি অস্ত্রবাহী জাহাজের ব্যাপারে সৌদি আরব সন্দেহ প্রকাশ করে এবং শহরটিতে বিমান হামলা চালায়। সৌদির দাবি অনুযায়ী, জাহাজে থাকা অস্ত্র STC বাহিনীর জন্য আনা হয়েছিল, যা ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ইউএই এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে ইয়েমেন থেকে তাদের বাকি সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
STC–এর অবস্থান ও নতুন সংকট
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে STC হাদরামাউত ও আল-মাহরা অঞ্চলের বেশ কিছু সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। সৌদি আরব তাদের এসব এলাকা থেকে সরে যেতে আহ্বান জানালেও STC নেতৃত্ব ঘোষণা দেয় যে তারা কোনোভাবেই পিছু হটবে না এবং দখল করা ভূমি ধরে রাখবে।
নতুন গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও ইউএই—যারা একসময় ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন করে যৌথভাবে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল— এখন পরস্পরবিরোধী পক্ষকে সমর্থন করায় নতুন করে গৃহযুদ্ধের শঙ্কা বাড়ছে। সৌদি আরব এটি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করছে, অন্যদিকে STC দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতার দাবি আরও জোরালো করছে।
দক্ষিণ ইয়েমেনের সংঘর্ষের প্রধান কারণ
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) স্বার্থের দ্বন্দ্ব
ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে এবং ইউএই দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদী সাদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC)–এর পক্ষে সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে STC যখন হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে, সৌদি আরব এটিকে তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করে। ফলে দুই দেশের সমর্থিত পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়তে থাকে।
ইউএই থেকে অভিযোগিত অস্ত্র পাঠানো ও সৌদির প্রতিক্রিয়া
সৌদি আরব অভিযোগ করে যে ইউএই গোপনে STC–এর জন্য অস্ত্রবাহী জাহাজ পাঠাচ্ছে, বিশেষ করে মুকাল্লা বন্দরে একটি বড় অস্ত্র চালান আসার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সৌদি বিমান বাহিনী ওই বন্দরে হামলা চালায়, যা দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনাকে চরমে পৌঁছে দেয়। ইউএই অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে ইয়েমেন থেকে তাদের বাকি সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
STC–এর দক্ষিণ ইয়েমেনকে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য
STC দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ ইয়েমেনকে আবার স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছে (যেমনটি ১৯৬৭–১৯৯০ পর্যন্ত ছিল)। এ কারণে তারা হাদরামাউতসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী তাদের এসব এলাকা থেকে সরে যেতে বললেও STC সরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এটি সামরিক মুখোমুখি অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে।
সৌদি-সমর্থিত ন্যাশনাল শিল্ড ফোর্সেসকে সরিয়ে দেওয়া
STC যখন সৌদি-সমর্থিত ন্যাশনাল শিল্ড ফোর্সেস (NSF)–কে বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে সরিয়ে দেয়, তখন সৌদি আরব বিষয়টিকে নিজেদের সহযোগীদের ওপর হামলা হিসেবে দেখে। এতে উত্তেজনা তীব্র হয় এবং সৌদি আরব সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করে।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও অঞ্চলে কর্তৃত্ব হারানোর আশঙ্কা
হাদরামাউত প্রদেশ সৌদি সীমান্তের খুব কাছে হওয়ায় STC–এর দ্রুত অগ্রযাত্রাকে সৌদি আরব নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে। তাই তাদের পিছু হটাতে সৌদি আরব শক্ত অবস্থান নেয়।