Connect with us

top2

দক্ষিণ ইয়েমেনে ভয়াবহ সংঘর্ষ: সৌদি আরবের বিমান হামলায় উত্তেজনা নতুন মাত্রায়

Published

on

দক্ষিণ ইয়েমেনে সৌদি আরব–সমর্থিত বাহিনী ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সাদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC)–এর লড়াই নতুন করে রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে। সৌদি যুদ্ধবিমান সাম্প্রতিক দিনগুলোতে STC–নিয়ন্ত্রিত এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে, যা অঞ্চলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
হাদরামাউত প্রদেশে তীব্র লড়
ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি-সমর্থিত গভর্নরের বাহিনী ও ইউএই-সমর্থিত STC যোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। STC অভিযোগ করে যে, সৌদি আরব তাদের অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। ঘটনাস্থলে ধ্বংস হওয়া সামরিক যানও দেখা গেছে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ইউএই থেকে অস্ত্র আসা নিয়ে সংশয় ও উত্তেজনা
মুকাল্লা বন্দর শহরে ইউএই থেকে আসা বলে দাবি করা একটি অস্ত্রবাহী জাহাজের ব্যাপারে সৌদি আরব সন্দেহ প্রকাশ করে এবং শহরটিতে বিমান হামলা চালায়। সৌদির দাবি অনুযায়ী, জাহাজে থাকা অস্ত্র STC বাহিনীর জন্য আনা হয়েছিল, যা ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ইউএই এ অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে ইয়েমেন থেকে তাদের বাকি সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।

STC–এর অবস্থান ও নতুন সংকট
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে STC হাদরামাউত ও আল-মাহরা অঞ্চলের বেশ কিছু সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। সৌদি আরব তাদের এসব এলাকা থেকে সরে যেতে আহ্বান জানালেও STC নেতৃত্ব ঘোষণা দেয় যে তারা কোনোভাবেই পিছু হটবে না এবং দখল করা ভূমি ধরে রাখবে।

নতুন গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও ইউএই—যারা একসময় ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থন করে যৌথভাবে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল— এখন পরস্পরবিরোধী পক্ষকে সমর্থন করায় নতুন করে গৃহযুদ্ধের শঙ্কা বাড়ছে। সৌদি আরব এটি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করছে, অন্যদিকে STC দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতার দাবি আরও জোরালো করছে।
দক্ষিণ ইয়েমেনের সংঘর্ষের প্রধান কারণ

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) স্বার্থের দ্বন্দ্ব
ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষে এবং ইউএই দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদী সাদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC)–এর পক্ষে সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে STC যখন হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে, সৌদি আরব এটিকে তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করে। ফলে দুই দেশের সমর্থিত পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাড়তে থাকে।

ইউএই থেকে অভিযোগিত অস্ত্র পাঠানো ও সৌদির প্রতিক্রিয়া
সৌদি আরব অভিযোগ করে যে ইউএই গোপনে STC–এর জন্য অস্ত্রবাহী জাহাজ পাঠাচ্ছে, বিশেষ করে মুকাল্লা বন্দরে একটি বড় অস্ত্র চালান আসার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সৌদি বিমান বাহিনী ওই বন্দরে হামলা চালায়, যা দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনাকে চরমে পৌঁছে দেয়। ইউএই অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে ইয়েমেন থেকে তাদের বাকি সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।

STC–এর দক্ষিণ ইয়েমেনকে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য
STC দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ ইয়েমেনকে আবার স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছে (যেমনটি ১৯৬৭–১৯৯০ পর্যন্ত ছিল)। এ কারণে তারা হাদরামাউতসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী তাদের এসব এলাকা থেকে সরে যেতে বললেও STC সরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এটি সামরিক মুখোমুখি অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে।

সৌদি-সমর্থিত ন্যাশনাল শিল্ড ফোর্সেসকে সরিয়ে দেওয়া
STC যখন সৌদি-সমর্থিত ন্যাশনাল শিল্ড ফোর্সেস (NSF)–কে বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে সরিয়ে দেয়, তখন সৌদি আরব বিষয়টিকে নিজেদের সহযোগীদের ওপর হামলা হিসেবে দেখে। এতে উত্তেজনা তীব্র হয় এবং সৌদি আরব সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করে।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও অঞ্চলে কর্তৃত্ব হারানোর আশঙ্কা
হাদরামাউত প্রদেশ সৌদি সীমান্তের খুব কাছে হওয়ায় STC–এর দ্রুত অগ্রযাত্রাকে সৌদি আরব নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে। তাই তাদের পিছু হটাতে সৌদি আরব শক্ত অবস্থান নেয়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা ইরানের

Published

on

By

ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি প্রাণ হারিয়েছেন। এ হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান আমির হাতামি। খবর বিবিসির।

প্রতিবেদনে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি জানায়, লারিজানি হত্যার চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেওয়া কথা জানিয়েছেন হাতামি। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “উপযুক্ত সময় ও স্থানে অপরাধী আমেরিকা এবং রক্তপিপাসু জয়নিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত প্রতিরোধমূলক এবং অনুতাপজনক জবাব দেওয়া হবে।”

বিবৃতিতে লারিজানিকে শহীদ আখ্যা দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান। 

এদিকে, লারিজানির মৃত্যুর ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে ইতোমধ্যেই মধ্য ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার কথা জানিয়েছে ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা বলছে, ইরানের হামলায় মধ্য ইসরায়েলে দু’জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কাতার, সৌদি আরব, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে হামলার সাইরেন বাজতে শোনা গেছে।

কাতারের প্রতিরক্ষা বাহিনী বলছে, আমাতের সশস্ত্র বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইন্টারসেপ্ট করেছে। আর কুয়েতের ন্যাশনাল গার্ড সাতটি মানবহীন ড্রোন ভূপাতিতের কথা জানিয়েছে।

অন্যদিকে, লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। রাজধানী বৈরুতে তীব্র শব্দ শোনা গেছে। 

Continue Reading

top2

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী কার্যক্রমের উদ্বোধন শনিবার

Published

on

By

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের ধর্মীয় প্রতিনিধিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সহযোগিতা প্রদানের লক্ষে এই বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসানের পাঠানো ওই বার্তায় জানানো হয় যে, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের ধর্মীয় সেবকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেবল ইমাম ও মুয়াজ্জিনদেরই নয়, বরং দেশের সব ধর্মের ধর্মীয় প্রতিনিধিদের এই সম্মানী কার্যক্রমের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, একই দিনে মসজিদের খাদেম, মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েত এবং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদেরও এই সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হবে। সরকারের এই উদ্যোগকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের জীবনমান উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষণার পর ধর্মীয় প্রতিনিধিদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সম্মানী কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে সারা দেশের কয়েক হাজার ধর্মীয় সেবক সরাসরি উপকৃত হবেন।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, স্বচ্ছতা বজায় রেখে এই সম্মানী বন্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং এটি দেশের সামগ্রিক ধর্মীয় কাঠামোর প্রতি সরকারের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Continue Reading

top2

বেঁচে আছেন খামেনির স্ত্রী

Published

on

By

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ জীবিত আছেন। তাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর খবর সঠিক নয় বলে জানিয়েছে ইরানের আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির স্ত্রী মারা গেছেন—এমন যে দাবিগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো ভিত্তিহীন।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বৃহস্পতিবার তার প্রথম বিবৃতিতে মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ না করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

এর আগে যুদ্ধের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে খবর প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ওই হামলায় তার স্ত্রীও নিহত হয়েছেন।

তবে ফার্স নিউজ জানিয়েছে, মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ জীবিত রয়েছেন এবং তার মৃত্যুর খবর সত্য নয়।

কোমায় আছেন মোজতবা খামেনি— ব্রিটিশ গণমাধ্যমের দাবিকোমায় আছেন মোজতবা খামেনি— ব্রিটিশ গণমাধ্যমের দাবি
খামেনির স্ত্রী সাধারণত জনসম্মুখে খুব কমই আসতেন। তিনি ইরানের শাসক পরিবারের সবচেয়ে ব্যক্তিগত জীবনযাপন করা সদস্যদের একজন হিসেবে পরিচিত।

এদিকে স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে হওয়া হামলায় আলী খামেনির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে পুত্রবধূ, জামাতা, মেয়ে ও নাতি-নাতনিও রয়েছেন।

অন্যদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রথম জনসম্মুখের ভাষণে মোজতবা খামেনি চলমান যুদ্ধে নিহত ইরানিদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একজন সংবাদ উপস্থাপকের মাধ্যমে প্রচারিত ওই বিবৃতিতে তিনি তেহরানের অবস্থানও তুলে ধরেন এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কথাও উল্লেখ করেন।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল।

Continue Reading

Trending