Connect with us

সারাদেশ

দিনাজপুরের আসনগুলোতে কোন্দলে বিএনপি, জয়ের সুযোগ দেখছে জামায়াত

Published

on

প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করছেন বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা

বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে দিনাজপুরের রাজনীতির মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকেই জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৪টিতে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে সমাবেশ, মহাসড়ক অবরোধ, মশালমিছিল, কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ ও গলায় প্রতীকী ফাঁসির দড়ি লাগিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন দলটির মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা। তাদের এই কোন্দলে আসনগুলোতে জয়ের সুযোগ দেখছে জামায়াত।

দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ১১ ডিসেম্বর পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। টার্মিনালের গোল চত্বরে টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করেন মনোনয়নবঞ্চিত নেতার অনুসারীরা। এর আগেও ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এজেডএম রেজওয়ানুল হকের সমর্থকরা। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। ৪ ডিসেম্বর আসনটিতে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হয় একেএম কামরুজ্জামানের। এরপর থেকেই এসব কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আকরাম হোসেন বলেন, ‘দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। কারণ এই আসনে যোগ্য প্রার্থী এজেডএম রেজওয়ানুল হক। তিনি দীর্ঘ ৩০-৩২ বছর ধরে বিএনপিকে আগলে রেখেছেন। এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন।’

দিনাজপুর-৫ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া একেএম কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমাকে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করছে। কিন্তু তাদের দলের নেতাকর্মীর সংখ্যা অনেক কম। দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মীই আমার সঙ্গে আছেন। তাদের এমন কর্মসূচির ফলে আমার নির্বাচনে কোনও প্রভাব পড়বে না।’

একই অবস্থা দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনেও। প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকেই কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ, গলায় প্রতীকী ফাঁসির দড়ি লাগিয়ে মানববন্ধন ও মশালমিছিল করা হয়। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাকের নাম ঘোষণা হয়। তিনি যোগ্য প্রার্থী নন দাবি এই আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোজাহারুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ন.ম বজলুর রশিদ কালু ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম সমর্থিত নেতাকর্মীদের। আবার সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন তারা। যদিও বিষয়টি শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন বিএনপির প্রার্থী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী।

দিনাজপুর-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত বিরল উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা এই আসনে এমন একজনকে চাই যিনি বিজয়ী হতে পারবেন। যাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি উপযুক্ত নন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের অভিযোগ আছে। এজন্য প্রার্থী পরিবর্তনের কথা বলছি আমরা।’

প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে প্রতীকী ফাঁসির দড়ি গলায় ঝুলিয়েছেন বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতার অনুসারীরা

একই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করছেন। আমাদের নেতাকর্মীদের যে দাবি তা কেন্দ্র বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করছি।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক বলেন, ‘আমাকে কেন্দ্র যোগ্য মনে করেছে এবং এই এলাকায় সংসদ সদস্য হিসেবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আমি দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলাকায় কাজ করছি। যারা আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করছেন তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই।’

দলীয় কোন্দল আছে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) ও দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনেও। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দিনাজপুর-১ আসনে মনজুরুল ইসলাম ও দিনাজপুর-৪ আসনে আখতারুজ্জামান মিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়।

যাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে তারা যোগ্য নয় আখ্যা দিয়ে দিনাজপুর-১ আসনে মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। প্রায় একই দাবিতে দিনাজপুর-৪ আসনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ এবং সংবাদ সম্মেলন করেছেন এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আব্দুল হালিম ও মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। তাদের দাবি, এসব আসনে প্রার্থী পরিবর্তন খুবই জরুরি। নয়তো বিএনপি এসব আসন হারাবে।

মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘এই এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীরা চান একজন যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিক দল। নয়তো এই আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়ে যাবে। তাই একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিকে বিএনপির মনোনয়ন দিয়ে আসনটি ঘরে তোলা উচিত।’

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমি দলীয় কোন্দল, চাঁদাবাজি, দখলদারি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। আমার কোনও লোকজনও জড়িত নয়। দলীয়ভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। যেহেতু প্রার্থী পরিবর্তন করার দলীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেহেতু আমি দিনাজপুর-৪ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলীয় হাইকমান্ডের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’

দিনাজপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব হচ্ছে তা অন্য দলকে সাহায্য করার একটি এজেন্ডা। দল যাচাই-বাছাই করে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমাকে মনোনয়ন দেওয়া ভুল হলে দলকে জানাতে হবে। কিন্তু রাস্তায় নেমে আন্দোলন নয়। আমি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে আহ্বান করছি, যারা এসব করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার। নিশ্চয়ই হাইকমান্ড এটি দেখবেন এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’

বিরল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘কথা ছিল দলের যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার পক্ষেই সবাই কাজ করবেন। এখন দেখছি উল্টো চিত্র। আমি চাই দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন।’

এ ব্যাপারে দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন, ‘দ্বন্দ্ব সংগঠনকে বিকশিত করে। বড় দলে প্রতিযোগিতা থাকবে। যারা প্রতিযোগী ছিলেন তারা চেষ্টা করছেন মনোনয়ন পাওয়ার। এটা দোষের নয়, বরং দলের কাঠামোগত দিক থেকে, দল অনেক গ্রহণযোগ্য এগুলো তারই প্রমাণ। কিছু কিছু আসনে প্রার্থী শতভাগ ভালো হয়নি। সেক্ষেত্রে কেন্দ্র, তারেক রহমান চাইলে পরিবর্তন হতে পারে, নাও হতে পারে। তবে দলের নেতাদের এসব কোন্দলে অন্য দলের প্রার্থীদের সুযোগ নেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই।’

এদিকে, এবার দিনাজপুর-৩ আসনে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।দিনাজপুর সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর-১ আসনে খালেদা জিয়া আগে কখনও প্রার্থী হননি। ১৯৯৬ সালের দুটি নির্বাচনে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন তার বোন খুরশীদ জাহান হক (বর্তমানে প্রয়াত)। সদরে মনোনয়ন নিয়ে নেতাদের মধ্যে বিভেদ থাকলেও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করায় তারা এককাট্টা হয়েছেন। 

অন্যদিকে অনেক আগে থেকেই সবগুলো আসনে মাঠে রয়েছে জামায়াত। ছয়টি আসনে প্রচার-প্রচারণা করছে দলটি। ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন দলের প্রার্থীরা। 

বিএনপির এমন কোন্দলে জেলার সবগুলো আসনে জয়ের আশা করছে জামায়াত, এমনটি জানিয়েছেন দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দিনাজপুর-১ আসনে আমাদের এমপি ছিলেন, মেয়র ছিলেন। সেদিক দিয়ে এটি আমাদের আসন। আর বিএনপির সেখানে কোন্দল আছে। আমরাই জিতবো। দিনাজপুর-২ আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভক্ত। বিরলের জনগণ আমাদেরও ভোট দেবেন। সেখানেও আমরা জিতবো। আর দিনাজপুর-৩ আসনে বিএনপির চারটি গ্রুপ। সেখানে তাদের দলীয় প্রধান প্রার্থী হলেও আমাদের প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। দিনাজপুর-৪ আসনটি ও দিনাজপুর-৫ আসনটিতেই জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন। সেখানে আমাদের বিপুল ভোটার। দিনাজপুর-৬ আসনেও আমাদের প্রার্থী বিজয়ী হবেন। সবগুলো আসনে বিএনপির সঙ্গে আমাদের প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এবং আমাদের প্রার্থীরাই জিতবে।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

ফরিদপুরে ৪ গ্রামবাসীর তুমুল সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত শতাধিক

Published

on

By

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দফায় চার গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল থেকে তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রণক্ষেত্রে পুলিশসহ উভয় পক্ষের নারী-পুরুষ ও কিশোরসহ অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ গ্রামের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগাড়িয়া গ্রামের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় খাপুরা গ্রামের তিন যুবককে আখের রস খাওয়া নিয়ে মারধর করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এর জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম দফায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। রাতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও শনিবার ভোরে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়।

শনিবার সকাল ৭টা থেকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়। একপক্ষে মুনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দারা এবং অন্যপক্ষে খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগাড়িয়া— এই তিন গ্রামের লোকজন অবস্থান নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষকারীরা ঘরবাড়ির ছাদ, দোকানের চালা ও বিভিন্ন আড়াল থেকে বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুরো মুনসুরাবাদ বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যসহ উভয় পক্ষের শতাধিক সমর্থক আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তাদের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা জরুরি। নতুবা যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, দ্বিতীয় দফায় শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Continue Reading

সর্বশেষ

প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার না পৌঁছানোয় এমপিকে শিশির মনিরের চিঠি

Published

on

By

ঈদের ১০ দিন পরও প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার স্থানীয় জনগণের কাছে না পৌঁছানোয় সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা) আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীকে চিঠি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দেওয়া ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, দিরাই ও শাল্লা উপজেলার অনেক মানুষের হাতে এখনও সরকারি ঈদ উপহার পৌঁছায়নি। ফলে সুবিধাভোগীদের একটি বড় অংশ সময়মতো এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

চিঠিতে বিষয়টিকে জরুরি উল্লেখ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংসদ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান শিশির মনির।

মঙ্গলবার দুপুরে চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শিশির মনিরের মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়।

সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিশির মনির উল্লেখ করেন, বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

চিঠির শেষাংশে মোহাম্মদ শিশির মনির ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি।

Continue Reading

সর্বশেষ

রাজশাহী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে হাম, জনমনে আতঙ্ক

Published

on

By

রাজশাহী অঞ্চলে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এরই মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার হামে আক্রান্ত চার শিশুকে আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে তিনজন মারা গেছে। বেঁচে থাকা শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে শনিবার বিকেলে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। একই দিনে আরও তিন শিশুকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চলতি মাসে রামেক হাসপাতালে হামে আক্রান্ত অন্তত ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউতে নেওয়ার পরও ৯ জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া আইসিইউর অপেক্ষায় থেকেও কয়েকজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় জানায়, হাম ইতোমধ্যে রাজশাহী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় ১৮ মার্চ ১৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা মোটের ওপর প্রায় ২৯ শতাংশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনায় সংক্রমণ বেশি।

১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত রাজশাহীতে হামে আক্রান্ত ৮৪ জন শিশুকে আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আইসিইউতে নেওয়ার পরও ৯ জন এবং অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনা সদর হাসপাতালে শনিবার সকাল পর্যন্ত হামে আক্রান্ত ২৬ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে সেখানে মৃত্যুর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে গত তিন মাসে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ৭০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক বিভাগের কনসালট্যান্ট মাহফুজ রায়হান জানান, গত তিন মাস ধরে আলাদা ওয়ার্ডে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চলতি মাসেই দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শঙ্কর কে বিশ্বাস বলেন, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় রোগী স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। আপাতত ১০ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে আইসোলেশন কর্নার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, শনিবার বিকেল পর্যন্ত নির্ধারিত ওয়ার্ডে কার্যকর আইসোলেশন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে একই ওয়ার্ডে ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও হামের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যা সংক্রমণ ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার এক অভিভাবক জানান, নিউমোনিয়া ও জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দেয়।

চিকিৎসকদের মতে, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতিও সংক্রমণ বৃদ্ধির একটি কারণ। অনেক শিশুর টিকা কার্ডে নির্ধারিত সময়ের হামের টিকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। আবার ৯ মাস বয়সের আগেই অনেক শিশু আক্রান্ত হচ্ছে। দ্রুত আইসিইউ সুবিধা বৃদ্ধি, কার্যকর আইসোলেশন ব্যবস্থা এবং টিকাদান জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে পরিস্থিতি তুলনামূলক বেশি উদ্বেগজনক। আক্রান্তদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ করে শিগগিরই হালনাগাদ চিত্র জানানো হবে।

Continue Reading

Trending