Connect with us

সারাদেশ

দিনাজপুরের আসনগুলোতে কোন্দলে বিএনপি, জয়ের সুযোগ দেখছে জামায়াত

Published

on

প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করছেন বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা

বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে দিনাজপুরের রাজনীতির মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকেই জেলার ৬টি আসনের মধ্যে ৪টিতে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে সমাবেশ, মহাসড়ক অবরোধ, মশালমিছিল, কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ ও গলায় প্রতীকী ফাঁসির দড়ি লাগিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন দলটির মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা। তাদের এই কোন্দলে আসনগুলোতে জয়ের সুযোগ দেখছে জামায়াত।

দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ১১ ডিসেম্বর পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। টার্মিনালের গোল চত্বরে টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করেন মনোনয়নবঞ্চিত নেতার অনুসারীরা। এর আগেও ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এজেডএম রেজওয়ানুল হকের সমর্থকরা। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। ৪ ডিসেম্বর আসনটিতে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হয় একেএম কামরুজ্জামানের। এরপর থেকেই এসব কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আকরাম হোসেন বলেন, ‘দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। কারণ এই আসনে যোগ্য প্রার্থী এজেডএম রেজওয়ানুল হক। তিনি দীর্ঘ ৩০-৩২ বছর ধরে বিএনপিকে আগলে রেখেছেন। এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন।’

দিনাজপুর-৫ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া একেএম কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমাকে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করছে। কিন্তু তাদের দলের নেতাকর্মীর সংখ্যা অনেক কম। দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মীই আমার সঙ্গে আছেন। তাদের এমন কর্মসূচির ফলে আমার নির্বাচনে কোনও প্রভাব পড়বে না।’

একই অবস্থা দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনেও। প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর থেকেই কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ, গলায় প্রতীকী ফাঁসির দড়ি লাগিয়ে মানববন্ধন ও মশালমিছিল করা হয়। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাকের নাম ঘোষণা হয়। তিনি যোগ্য প্রার্থী নন দাবি এই আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহসভাপতি মোজাহারুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ন.ম বজলুর রশিদ কালু ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম সমর্থিত নেতাকর্মীদের। আবার সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন তারা। যদিও বিষয়টি শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন বিএনপির প্রার্থী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী।

দিনাজপুর-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত বিরল উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হামিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা এই আসনে এমন একজনকে চাই যিনি বিজয়ী হতে পারবেন। যাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি উপযুক্ত নন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগের অভিযোগ আছে। এজন্য প্রার্থী পরিবর্তনের কথা বলছি আমরা।’

প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে প্রতীকী ফাঁসির দড়ি গলায় ঝুলিয়েছেন বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতার অনুসারীরা

একই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করছেন। আমাদের নেতাকর্মীদের যে দাবি তা কেন্দ্র বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করছি।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক বলেন, ‘আমাকে কেন্দ্র যোগ্য মনে করেছে এবং এই এলাকায় সংসদ সদস্য হিসেবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আমি দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলাকায় কাজ করছি। যারা আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করছেন তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ নেই।’

দলীয় কোন্দল আছে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) ও দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনেও। বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দিনাজপুর-১ আসনে মনজুরুল ইসলাম ও দিনাজপুর-৪ আসনে আখতারুজ্জামান মিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়।

যাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে তারা যোগ্য নয় আখ্যা দিয়ে দিনাজপুর-১ আসনে মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। প্রায় একই দাবিতে দিনাজপুর-৪ আসনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ এবং সংবাদ সম্মেলন করেছেন এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আব্দুল হালিম ও মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। তাদের দাবি, এসব আসনে প্রার্থী পরিবর্তন খুবই জরুরি। নয়তো বিএনপি এসব আসন হারাবে।

মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘এই এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীরা চান একজন যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিক দল। নয়তো এই আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়ে যাবে। তাই একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিকে বিএনপির মনোনয়ন দিয়ে আসনটি ঘরে তোলা উচিত।’

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমি দলীয় কোন্দল, চাঁদাবাজি, দখলদারি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। আমার কোনও লোকজনও জড়িত নয়। দলীয়ভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। যেহেতু প্রার্থী পরিবর্তন করার দলীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেহেতু আমি দিনাজপুর-৪ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলীয় হাইকমান্ডের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।’

দিনাজপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব হচ্ছে তা অন্য দলকে সাহায্য করার একটি এজেন্ডা। দল যাচাই-বাছাই করে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমাকে মনোনয়ন দেওয়া ভুল হলে দলকে জানাতে হবে। কিন্তু রাস্তায় নেমে আন্দোলন নয়। আমি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে আহ্বান করছি, যারা এসব করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার। নিশ্চয়ই হাইকমান্ড এটি দেখবেন এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’

বিরল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘কথা ছিল দলের যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার পক্ষেই সবাই কাজ করবেন। এখন দেখছি উল্টো চিত্র। আমি চাই দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন।’

এ ব্যাপারে দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বলেন, ‘দ্বন্দ্ব সংগঠনকে বিকশিত করে। বড় দলে প্রতিযোগিতা থাকবে। যারা প্রতিযোগী ছিলেন তারা চেষ্টা করছেন মনোনয়ন পাওয়ার। এটা দোষের নয়, বরং দলের কাঠামোগত দিক থেকে, দল অনেক গ্রহণযোগ্য এগুলো তারই প্রমাণ। কিছু কিছু আসনে প্রার্থী শতভাগ ভালো হয়নি। সেক্ষেত্রে কেন্দ্র, তারেক রহমান চাইলে পরিবর্তন হতে পারে, নাও হতে পারে। তবে দলের নেতাদের এসব কোন্দলে অন্য দলের প্রার্থীদের সুযোগ নেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই।’

এদিকে, এবার দিনাজপুর-৩ আসনে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।দিনাজপুর সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর-১ আসনে খালেদা জিয়া আগে কখনও প্রার্থী হননি। ১৯৯৬ সালের দুটি নির্বাচনে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন তার বোন খুরশীদ জাহান হক (বর্তমানে প্রয়াত)। সদরে মনোনয়ন নিয়ে নেতাদের মধ্যে বিভেদ থাকলেও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রার্থী ঘোষণা করায় তারা এককাট্টা হয়েছেন। 

অন্যদিকে অনেক আগে থেকেই সবগুলো আসনে মাঠে রয়েছে জামায়াত। ছয়টি আসনে প্রচার-প্রচারণা করছে দলটি। ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন দলের প্রার্থীরা। 

বিএনপির এমন কোন্দলে জেলার সবগুলো আসনে জয়ের আশা করছে জামায়াত, এমনটি জানিয়েছেন দিনাজপুর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আনিছুর রহমান। তিনি বলেন, ‘দিনাজপুর-১ আসনে আমাদের এমপি ছিলেন, মেয়র ছিলেন। সেদিক দিয়ে এটি আমাদের আসন। আর বিএনপির সেখানে কোন্দল আছে। আমরাই জিতবো। দিনাজপুর-২ আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভক্ত। বিরলের জনগণ আমাদেরও ভোট দেবেন। সেখানেও আমরা জিতবো। আর দিনাজপুর-৩ আসনে বিএনপির চারটি গ্রুপ। সেখানে তাদের দলীয় প্রধান প্রার্থী হলেও আমাদের প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। দিনাজপুর-৪ আসনটি ও দিনাজপুর-৫ আসনটিতেই জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন। সেখানে আমাদের বিপুল ভোটার। দিনাজপুর-৬ আসনেও আমাদের প্রার্থী বিজয়ী হবেন। সবগুলো আসনে বিএনপির সঙ্গে আমাদের প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এবং আমাদের প্রার্থীরাই জিতবে।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

পাটওয়ারী-সারজিসের গাড়িবহরে ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ

Published

on

By

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই জাগরণ পদযাত্রা’ শেষে ফেরার পথে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে এনসিপি।

হবিগঞ্জ সদরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে হামলার কথা জানিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেছেন, “হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। হামলায় সাংবাদিক ও এনসিপির একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন”।

তিনি আরও লেখেছেন, “উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পুলিশের উপস্থিতিতেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি এনসিপির মিডিয়া টিমের মাইক্রোবাস, জেলা সার্কিট হাউসের ভেতরে নিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে সংঘটিত এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক সহিংসতার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। হামলাকারীরা মোবাইল ফোন ও ক্যামেরাও ছিনিয়ে নিয়ে গেছে”।

নিজের ফেসবুকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, “উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক জনাব সারজিস সালামের ওপরও হামলা করা হয়। হবিগঞ্জের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। কারও হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে, কারও পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়ে আছে। আমরা এই ন্যক্কারজনক, বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই”।

এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের থানার মোড় এলাকায় এ ঘটনায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

দুই পক্ষে সংঘর্ষের একপর্যায়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ সরিয়ে নেয়। পরে তাদের সার্কিট হাউসে নেওয়া হয়।

এনসিপির জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হলে থানার মোড় এলাকায় ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে দলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

অন্যদিকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, “শান্তিপূর্ণ হবিগঞ্জে কেউ উসকানিমূলক বা অশালীন বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে”।

তবে সংঘর্ষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “অশালীন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ মানুষ ধাওয়া দিয়েছে বলে তিনি শুনেছেন”।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুল হক বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এনসিপির নেতারা বর্তমানে নিরাপদ স্থানে রয়েছেন এবং তাদের নিরাপদে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে”।

মঙ্গলবার দুপুরে আজমিরীগঞ্জ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ পদযাত্রা’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা, কর্মসংস্থান, সীমান্ত সুরক্ষা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

Continue Reading

সর্বশেষ

‘মানুষের জয়গান গাওয়া’ সেই তরুণের নাম আজহারুল

Published

on

By

-তুমি হিন্দু? -আমি আগে মানুষ

এভাবে কথা বলে আলোচনার ঝড় তোলা সেই তরুণের নাম মো. আজহারুল। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে বানানো ‘রাজিব শাহের আস্তানাসহ’ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সময় এক ব্যক্তির সঙ্গে আজহারুলের এমন কথোপকথন সম্প্রতি ভাইরাল হয়।

এই বয়সে আজহারুল যেভাবে কথা বলেছেন এবং তার কথার বিষয়বস্তুতে অসাম্প্রদায়িকতার যে বার্তা ফুটে উঠেছে, তার জন্যই মূলত তিনি মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনরা লিখছেন, আজহারুলের কথায় ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’ বাণীর প্রতিধ্বনি আছে।

ভিডিও চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর আজহারুল মঙ্গলবার সকালে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এই জায়গায় যদি মসজিদের বদলে নতুন করে কোনো মন্দির নির্মাণ করা হতো, তাহলেও আমি একইভাবে বলতাম, এখানে মসজিদ ও গির্জা নির্মাণের সমান অধিকারও থাকতে হবে। প্রয়োজনে মসজিদ নির্মাণে আমি নিজেই অর্থায়ন করতাম।’

‘কারণ আমার কাছে প্রশ্নটি কোনো একটি ধর্মের নয়, প্রশ্নটি ন্যায্যতা, সমঅধিকার ও আইনের সমান প্রয়োগের। এই নীতির ক্ষেত্রে আমি একবিন্দুও ছাড় দিতাম না।

তবে দুঃখের বিষয়, মন্তব্যগুলো দেখে মনে হলো সনাতনী ভাই-বোনদের পাশাপাশি খুব অল্প কিছু মুসলিম ভাই-ই আমাকে সমর্থন করেছেন। হয়তো অনেকেই আমাকে আগে মানুষ বলেছি বলে ভুল বুঝেছেন।

আমি বিশ্বাস করি, মানুষ হিসেবে আমরা সবাই এক কাতারে দাঁড়াতে পারি। কিন্তু ধর্মকে পরিচয়ের ভিত্তি বানালে আমরা স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যাই। তাই আমার ধর্ম আমার অন্তরে। এটি মাইক দিয়ে ঘোষণা করা বা উচ্চস্বরে বলার প্রয়োজন আমি অনুভব করি না। কারণ সৃষ্টিকর্তা তো জানেন- ‘আমরা কী করছি, কী বিশ্বাস করছি এবং কাকে উপলব্ধি করছি।’

Continue Reading

top1

জামায়াত এমপি গোলাম রসুলের বাড়ি ঘেরাও

Published

on

By

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় শত শত মানুষ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তার বাড়িতে হামলার অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নীলগঞ্জ এলাকার আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও সংশ্লিষ্ট মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য গোলাম রসুল ও তার মেয়ে অনন্যার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থী আয়ান এবং রেক্সনা নামে এক নারীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, ওই হামলায় রেক্সনার মাথায় আঘাত লাগে।

জানা গেছে, এ বিরোধ নিয়ে আগের রাতে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসা খুললে তা বন্ধ রাখতে বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পরই স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ১০টার দিকে তারা এমপির বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাদের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে গোলাম রসুলের এক স্বজন ঘটনাস্থলে এলে বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তাকে মারধর করে। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে বিক্ষোভকারীরা যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং এমপি ও তার মেয়ের বিচারের দাবি জানান।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে গোলাম রসুলের স্ত্রী শারমিন ভিনা বলেন, তাদের মেয়ে অনন্যা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তার দাবি, মাদ্রাসা বন্ধ থাকার পরও কিছু শিশু সেখানে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ আনা হচ্ছে এবং বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এমপির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।

Continue Reading

Trending