Connect with us

রাজনীতি

দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন দল এবার ক্ষমতা পাওয়ার আগেই পাথর-বালু লুটে চ্যাম্পিয়ন -রফিকুল ইসলাম খান

ছবি: সংগৃহীত

Published

on

ডেস্ক নিউজ 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, দুর্নীতিতে টানা ৫ বছর চ্যাম্পিয়ন হওয়া দল এবার ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই পাথর-বালু লুটে চ্যাম্পিয়ন। তারা ৫ আগস্ট পরবর্তীতে দেশের মালিক বনে গেছে। সারাদেশে লুটপাট, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কারা করছে জনগণ সেটি দেখছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, লুটপাটকারীদের জনগণ ভোটের মাধ্যমে বয়কট করবে।

আগামী নির্বাচনে ভোটাররা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারলে ইসলামের পক্ষে এক নীরব বিপ্লব ঘটবে। আলেমদের ঐক্যের আভাসে পুরো জাতি খুশি হলেও একটি দল খুশি হতে পারেনি। কারণ তারা জানে ইসলামী দলগুলোর ঐক্য হলে জনগণ ইসলামী দলের পক্ষে রায় দিবে, তাদেরকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ঢাকা-৬ আসনের সর্বস্তরের ওলামা-মাশায়েখ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, দেশের প্রত্যেকটি আন্দোলনে আলেম সমাজের ভূমিকা রয়েছে। আগামী দিনে একটি সুন্দর বাংলাদেশ নির্মাণে আলেম সমাজ এক হয়ে ইসলামের পক্ষে ভূমিকা রাখবেন ইনশাআল্লাহ। তিনি আগামী নির্বাচনে সকল আলেম সমাজ একত্রিত হয়ে ইসলামী শক্তিকে বিজয়ের জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

যারা ক্ষমতায় গিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায়, এখন বাস্তবায়নে তাদের আপত্তি কেন প্রশ্ন রেখে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, এর মানে হচ্ছে ঐ দল আবারও জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। সব দল জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির পক্ষে অবস্থান নিলেও একটি দল বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যারা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে চায় না, তারা জুলাই বিপ্লবকেই অস্বীকার করে। 

জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করলে আওয়ামী লীগের মতোই পরিণতি ভোগ করতে হবে হুশিয়ারি করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশিত রাজনীতি করতে হবে। নতুবা জনগণ উপযুক্ত জবাব দিবে। ‘জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি’, ‘পিআর পদ্ধতিতে সংসদের উভয় কক্ষের নির্বাচন’, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ’, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা’, এবং ‘স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ করার ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ওলামা-মাশায়েখ পরিষদ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ. এইচ. এম. আব্দুল হালিম বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করা হবে। আলেম-ওলামাদের হারানো সম্মান পুনরুদ্ধার করা হবে। ইমামদের চাকরি জাতীয়করণ করা হবে। ইসলাম ও দ্বীনের প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করবো। আলেমদের ঐক্য ব্যতীত দ্বীন কায়েম করা সম্ভব হবে না। তাই দলমত, বিভেদ ভুলে ইসলাম ও দ্বীনের প্রশ্নে সকলকে ঐক্য বজায় রাখতে তিনি আহ্বান জানান।

সমাবেশের শুরুতে ঢাকা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান, ঢাকা-৬ আসনে নিজের উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরেন। পরবর্তীতে উপস্থিত আলেম-ওলামা বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ উপস্থাপন করেন। আলেম-ওলামাদের মতামত ও পরামর্শের আলোকে আগামী ঢাকা-৬ আসন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ড. মান্নান বলেন, নতুন বাংলাদেশের রোল মডেল হবে ঢাকা-৬ সংসদীয় এলাকা। স্বপ্নের ঢাকা-৬ সংসদীয় এলাকা গড়তে তিনি দলমত, ধর্ম-বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সর্বসাধারণের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন।

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচন পরিচালক মো. কামরুল আহসান হাসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মজলিসুল মুফাসসিরিনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ, কাটাবন জামে মসজিদের খতিব প্রফেসর ড. রফিকুর রহমান মাদানী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর আহমদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ বিভিন্ন মসজিদের খতিব ও মাদ্রাসায় মুফাসসির, মুফতি এবং মুহাদ্দিসীনে কেরাম। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ঢাকা-৬ সংসদীয় এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সকল থানা আমীর-সেক্রেটারি সহ দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে শনিবার সকালে মতিঝিলে এক ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন স্থানীয় ইমাম-খতিব ও আলেমদের সাথে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ চেয়ারম্যান সাইয়্যেদ কামাল উদ্দিন আব্দুল্লাহ জাফরী। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অনুষ্ঠানে ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম-খতিব ও মাদ্রাসায় মুফাসসির, মুফতি এবং মুহাদ্দিসগণ উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রাজনীতি

নেতৃত্ব নিয়ে আশাবাদী, দুর্দিনের সহযোদ্ধাদের মূল্যায়ন চাই: ইবি ছাত্রদল নেতা

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

জুলাই বিপ্লবের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠিত হলেও দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। মনের আক্ষেপ থেকে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেছেন, “যেহেতু আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে (২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পরবর্তী সময়, জুলাই-আগষ্ট গণঅভ্যুত্থান) ভূমিকা, ডেডিকেশন, শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, ক্লিন ইমেজ, কর্মীবান্ধব ও ছাত্রত্ব—এগুলো মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হবে তাই নেতৃত্ব নিয়ে আমি আশাবাদী। দুর্দিনের সহযোদ্ধাদের মূল্যায়ন চাই।”

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম— নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একথা লিখেন তিনি। নিচে তার স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলো—

আগেই বলে রাখি গুপ্ত মানে সংখ্যা হ্রাস বৃদ্ধি না। রাজনীতি করা দোষের কিছু না কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বেশ ধরা মানে রাজনীতিকে কলঙ্কিত করা। রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করা কোন কৌশল না বরং কাপুরুষতা। যায় হোক মূল লেখনীতে আসি— যে সংগঠনকে ভালোবেসে, ধারণ করে জীবনের মহামূল্যবান সময় দিয়েছি তার নাম ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল,ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা’। হয়তো হতে পারতাম বাবা-মায়ের সেরা সন্তান, বোনের সেরা ভাই, ভাইয়ের কাছে সেরা ভাই। প্রতিবেশী, আত্মীয়, সমাজের কাছে সফল কেউ। শুভাকাঙ্ক্ষী, প্রিয়দের কাছে আরও প্রিয়। তবুও কোন আপসোস নেই। অনেক গর্বের সাথে পরিচয় দিতে পারি আমি “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল”—এর একজন নগন্য কর্মী। ২০২১ সালের ১৬ জুন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদিত হয়। দুর্দিনে কমিটিভুক্ত ৬-৭ জন সহ মোট ১৪-১৫ জন সহযোদ্ধারা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি; কমিটিভুক্ত ২৪-২৫ জন নিস্ক্রিয় থেকে যায়। ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে কমিটিভুক্ত সহযোদ্ধাদের সংখ্যা বেড়ে ৯-১০ জন হয়েছে।

তিনি আরও লিখেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কমিটি নতুন করে অনুমোদিত হয়েছে; এমনকি আমাদের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সমসাময়িক সকল কমিটিই পূর্ণাঙ্গ হয়েছে। অনেক জায়গায় আবারও কমিটি অনুমোদনের গুঞ্জন আছে। দুঃখের বিষয় আমাদের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয় নাই। যদি ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়েও পূর্ণাঙ্গ হতো তাহলে হয়তো নেতা ও কর্মীর মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো না [দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় যে কর্মী যে নেতার হাত ধরে রাজনীতিতে এসেছে সেই নেতা ও কর্মীর মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা] কর্মীরা পরিচয় পেতো, সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়তো, সংগঠন অনেকটা প্রাণ ফিরে পেতো।বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের সময় বঞ্চিত হয়েছি তবে সংগঠন ছেড়ে কখনও নিস্ক্রিয় হয় নাই। একক প্রস্তাবিত সদস্য সচিব প্রার্থী থেকেও কাঙ্ক্ষিত পদবী না পেয়েও নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে সংগঠনের কাজ করে আসছি।আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক জনাব Tarique Rahman ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ সবার সব বিষয়ে অবগত আছেন। যেহেতু আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে (২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পরবর্তী সময়, জুলাই – আগষ্ট গণঅভ্যুত্থান) ভূমিকা, ডেডিকেশন, শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, ক্লিন ইমেজ, কর্মীবান্ধব ও ছাত্রত্ব এগুলো মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হবে তাই নেতৃত্ব নিয়ে আমি আশাবাদী। দুর্দিনের সহযোদ্ধাদের মূল্যায়ন চাই।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৬ জুন তিন মাসের জন্য ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয় ইবি ছাত্রদলের। তবে চার বছর পার করলেও নতুন কমিটি গঠিত হয়নি, যা সংগঠনের কার্যক্রমে স্থবিরতা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। সাহেদ আহম্মেদ (আহ্বায়ক) ও মাসুদ রুমী মিথুন (সদস্য সচিব) নেতৃত্বাধীন এ কমিটি ৩ মাস মেয়াদী হলেও বিবাহিত, অছাত্র ও নিষ্ক্রিয় সদস্য এবং নতুন নেতৃত্ব না আসায় বর্তমানে পুনর্গঠনের দাবি উঠেছে।

Continue Reading

রাজনীতি

বর্তমান সরকারের আমলে ৪৬৪ হত্যা ও ৬৬৬ ধর্ষণ মামলা হয়েছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Published

on

By

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর (১৭ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে ৪৬৪টি হত্যা মামলা এবং ৬৬৬টি ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে। হত্যা মামলায় ৬০৪ জন ও ধর্ষণ মামলায় ৫৩০ জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যে হত্যা মামলায় ১১ জন এবং ধর্ষণ মামলায় ৭১ আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে এনসিপির সংসদ সদস্য (কুমিল্লা-৪) আবুল হাসনাতের (হাসনাত আব্দুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে দায়ী সকল আসামির কঠোর সাজা নিশ্চিত করার জন্য মামলাগুলো অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে মামলাসমূহে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

জামায়াতের এমপি মো. মুজিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ড ঘৃণ্য অপরাধ, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দেশের উন্নয়নে সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধমুক্ত সমাজ ব্যবস্থার বিকল্প নেই। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার একটানা ১৫ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকাকালে তাদের অনুগত সন্ত্রাসী বাহিনী ভূমি দখল, জল, বালু মহাল দখল, বিভিন্ন সেক্টরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। বর্তমান সরকার এ সকল অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করায় অল্প সময়ের মধ্যে ভূমি দখল, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার ফলে এ সকল অপরাধ অনেকাংশ হ্রাস পেয়েছে।

মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে ২ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৪টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ পদ ২ লাখ ৭ হাজার ৭৪৫, নন-পুলিশ পদ ৮ হাজার ৪৭টি এবং নন-পুলিশ আউটসোর্সিং পদ ২ হাজার ৭৬২টি। এ ছাড়া নতুন করে সাড়ে ১৪৫০০ পদ সৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে এএসপি পদ ৫০০, এসআই (নিরস্ত্র) ৪ হাজার এবং ১০ হাজার কনস্টেবল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে ২৭০৩টি কনস্টেবলের শূন্যপদের বিপরীতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া সরাসরি ২ হাজার এএসআই নিয়োগ করা হবে বলেও তিনি জানান।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা বিধানে বদ্ধপরিকর। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং নানাবিধ পদক্ষেপের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করছে। এর ফলে জনগণের নিরাপত্তা বিধানসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর এমপি (চট্টগ্রাম-১৫) শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুম কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে সংরক্ষিত আছে। নিখোঁজ বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বা ভুক্তভোগী পরিবারগুলিকে আইনি সহায়তাসহ সকল ধরনের সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

Continue Reading

top3

ব্যর্থতা ঢাকতে ছাত্রদলের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে সরকার: সাদিক কায়েম

Published

on

By

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সরকার ও ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসে তিনি দেশব্যাপী অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করেছেন।

সাদিক কায়েম তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার যখন জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, কূটনৈতিক দুর্বলতা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে, তখন সেই ব্যর্থতা আড়াল করতেই তারা ছাত্রদলের লাঠিয়াল বাহিনীর হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে রামদা ও চাপাতি নিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে এবং ভুয়া স্ক্রিনশট ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও হত্যাচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে তিনি জানান, একটি ফেসবুক স্ক্রিনশটকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু হয়, যা পরে ফ্যাক্ট চেকিং প্লাটফর্মে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনার বিচার ও নিরাপত্তার আবেদন জানাতে গিয়ে শাহবাগ থানায় গিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, উবায়দুর রহমান হাসিবসহ ডাকসু ও হল সংসদের একাধিক নেতা ছাত্রদলের হামলার শিকার হয়েছেন। হামলায় মুসাদ্দিক, জুবায়ের, আলভি, সাদিক, জুমা ও সালমাসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টিও ডাকসু ভিপি তার স্ট্যাটাসে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১৬ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিককে ছাত্রদল হেনস্তা করেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য চেয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টিকেই তিনি শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল করার একটি পূর্বপরিকল্পিত অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

পরিশেষে, সাদিক কায়েম সরকারের মন্ত্রী এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ছাত্রদলের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ড অদূর ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যাকফায়ার করবে এবং বর্তমান প্রজন্ম ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের কর্তৃত্ববাদী বা অস্ত্রনির্ভর রাজনীতি মেনে নেবে না

Continue Reading

Trending