Connect with us

ক্যাম্পাস

নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা চলছে, অথচ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলকভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে -ঢাবি উপাচার্য

Published

on

ডেস্ক নিউজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ব্যালট ছাপানোর স্থান ও সংখ্যা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং নানা অভিযোগের জবাব দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেছেন, পদ্ধতিগত নানা প্রশ্ন তুলে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা চলছে, অথচ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলকভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে।

রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল রুমে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগগুলোর জবাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন উপাচার্য।

ডাকসু নির্বাচনের পরে ব্যালট ছাপানোর নিয়ম ও স্থান নিয়ে নানা বিতর্ক ওঠে। অভিযোগ ছিল, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে নীলক্ষেতের একটি প্রতিষ্ঠানে ব্যালট ছাপানো হয়েছে এবং ভোট কারচুপি হয়েছে। পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী শিক্ষক সংগঠন- সাদা দল এবং বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা এসব অভিযোগের স্পষ্ট জবাব দাবি করেন। এক পর্যায়ে সাদা দল দাবি করেন, যদি নির্বাচনে কারচুপির কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে নতুন করে আরেকটি ডাকসু নির্বাচন দিতে হবে।

ডাকসু নির্বাচনের ব্যালট ছাপানোর প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্ভূত বিতর্কের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নীলক্ষেতে শুধুমাত্র প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পাঁচ থেকে ছয় ধাপের কঠোর সুরক্ষা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যালটগুলো ভোটের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া নীলক্ষেতের কোনো দোকানে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান এ বিষয়ে বলেন, নির্বাচনের জন্য ব্যালট ছাপানোর দায়িত্ব একটি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছিল। রেকর্ড সংখ্যক ভোটার ও প্রার্থীর কারণে দ্রুত ব্যালট প্রস্তুতির জন্য মূল ভেন্ডরের সঙ্গে একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে টেন্ডারের আওতায় যুক্ত করা হয়। তবে সহযোগী ভেন্ডর নীলক্ষেতে ২২ রিম কাগজে ৮৮ হাজার ব্যালট ছাপার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অবহিত করেনি, যা বিতর্কের সূত্রপাত ঘটায়। এ ঘটনায় ভেন্ডরকে শোকজ করা হয়েছে এবং তারা ক্ষমা চেয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে।

উপাচার্য বলেন, নীলক্ষেতে শুধুমাত্র প্রাথমিক ছাপানো ও কাটিংয়ের কাজ হয়েছে। এরপর ব্যালটগুলো সহযোগী ভেন্ডরের মূল কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে প্রি-স্ক্যান ও সিলগালাকরণের কাজ সম্পন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় ৮৬ হাজার ২৪৩টি ব্যালট সরবরাহযোগ্য করা হয় এবং অতিরিক্ত ব্যালট প্রচলিত পদ্ধতিতে নষ্ট করা হয়। ভেন্ডর জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ব্যালট প্রস্তুতি ও পরিবহনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্যস্ততার কারণে নীলক্ষেতে প্রাথমিক কাজের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাতে ভুলে যাওয়ার জন্য তারা ক্ষমা চেয়েছে।

অধ্যাপক নিয়াজ বলেন, ব্যালট প্রস্তুতির জন্য পাঁচ থেকে ছয় ধাপের সুরক্ষা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ব্যালট ছাপানো ও নির্দিষ্ট পরিমাপে কাটিং করা হয়। এরপর সুরক্ষা কোড আরোপ করে ওএমআর মেশিনে প্রি-স্ক্যানের মাধ্যমে ব্যালটগুলো মেশিনে পাঠযোগ্য করা হয়। শেষে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরসহ সীলমোহরের মাধ্যমে ব্যালট ভোটের জন্য উপযুক্ত করা হয়। উপাচার্য জোর দিয়ে বলেন, এই জটিল সুরক্ষা প্রক্রিয়া নীলক্ষেতের কোনো দোকানে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। নীলক্ষেতে শুধু প্রাথমিক কাজ হয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রক্রিয়া ভেন্ডরের কার্যালয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মোট ২,৩৯,২৪৪টি ব্যালট ভোট গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন ভোটারের মধ্যে ২৯ হাজার ৮২১ জন ভোট দিয়েছেন এবং ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯২৬টি ব্যালট ব্যবহৃত হয়েছে। অবশিষ্ট ৬০ হাজার ৩১৮টি ব্যালট বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ব্যালট ছাপানোর স্থান বা সংখ্যা নির্বাচনের সুষ্ঠুতার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। পাঁচ ধাপের সুরক্ষা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যালট প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, এবং পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরাপদ ছিল।

তিনি আরও বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বরের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, ওএমআর মেশিনে স্ক্যানিংয়ের মতো জটিল প্রক্রিয়া নীলক্ষেতে সম্ভব নয় এবং এটিই ব্যালটের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে।

অভিযোগকারীদের অন্যতম আরেকটি দাবি ছিল তাদেরকে সিসিটিভি ফুটেজ ও ভোটার তালিকা দেখার সুযোগ দেয়া। উপাচার্য এ প্রসঙ্গে বলেন, কোনো প্রার্থী যদি সুনির্দিষ্ট সময়ের বা ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখতে চান, তবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে মনোনীত বিশেষজ্ঞ বা ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে তা দেখা যাবে।

উপাচার্য জানান, ভোটারদের স্বাক্ষর তালিকা দেখার বিষয়েও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। যথাযথ আবেদন ও যৌক্তিক কারণ উল্লেখ করলে বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে তা দেখানো হবে।

ড. নিয়াজ আহমদ জানান, নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের কাছে ৪৮টি অভিযোগ এসেছে, যার মধ্যে সাধারণ অভিযোগগুলোর লিখিত জবাব দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত অভিযোগগুলো ৬৯ ধারায় অফিসিয়াল চিঠির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রতিটি অভিযোগের ব্যবস্থা নিয়েছি। এরপরও কিছু মহল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য পদ্ধতিগত প্রশ্ন তুলছে।

এদিকে নির্বাচনের দিন দুইটি অভিযোগ বিশেষভাবে সামনে আসে—একুশে হলে অনিয়ম ও টিএসসিতে আগে থেকে চিহ্নিত ব্যালট পাওয়া। উপাচার্যের দাবি, তদন্তে দেখা গেছে এক ভোটার একাধিকবার বুথে প্রবেশ করে পরিকল্পিত বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল।

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য জানান, নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়ায় সাত শতাধিক সাংবাদিক মাঠে কাজ করেছেন। শিক্ষার্থীরাও গভীর আগ্রহের সঙ্গে অংশ নেন। তার ভাষায়, যদি শিক্ষার্থীরা মনে করতেন তাদের মত প্রতিফলিত হয়নি, তারা নিশ্চয়ই প্রতিবাদ করতেন। কিন্তু এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।এছাড়া বিভিন্ন পর্যবেক্ষকরাও নির্বাচনে উপস্থিত ছিলেন। কিছু বিচ্যুতি ছাড়া নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়েছে বলেই মতামত দেয় পর্যবেক্ষকরা।

অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেন, নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ পর খড়কুটো ধরে ডুবন্ত মানুষ বাঁচার মতো মরিয়া চেষ্টা চলছে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার। এটি দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, যে ছেলে বা মেয়েটি জীবনে প্রথমবার ডাকসু ভোটে দাঁড়িয়ে নিজের মত প্রকাশ করল, সেই ম্যান্ডেটকে এ ধরনের অভিযোগ সম্মান দেয় না। যে সাংবাদিকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে ডাকসু কাভার করেছেন, একজন তো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন— অভিযোগগুলো তাদের শ্রমকেও অবমূল্যায়ন করে।

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য সর্বশেষ জানান, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরাপদ ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে। সব অভিযোগের যথাযথ জবাব ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করবে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

ইবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ একাধিক অভিযোগ

Published

on

By

প্রতিনিধি, ইবি

সংগঠনের প্রায় ১৮ হাজার টাকা আত্মসাত, হল ডিবেটিং সোসাইটির কমিটিতে ছাত্রলীগ নেতাকে সভাপতিত্ব দেওয়া, মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট থেকে বয়ক্তিগত তথ্য গোপন করে বৃত্তি নেওয়া সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (আইইউডিএস) সভাপতি ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে। এছাড়াও রাজনৈতিক ট্যাগিং, সদস্যদের হয়রানি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে একক আধিপত্য বিস্তারেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইয়াছিন আলী।

গত ১২ জুলাই ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন ডিবেটিং সোসাইটির সদস্য মিশুক শাহরিয়ার। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও রাজনৈতিক ট্যাগিং দিয়ে তাকে কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। তার দাবি, আইইউডিএস নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর তাকে ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে কমিটিতে রাজা হয়নি। একই সঙ্গে তার সম্পর্কে জুনিয়র সদস্য ও হল প্রভোস্টের কাছে ভুল বা অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। মিশুকের অভিযোগ, আইইউডিএসের কমিটি গঠনের সময় উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তও অনুসরণ করা হয়নি। তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও একেবারেই কমিটিতে রাখা হয়নি, অন্যদিকে হল কমিটির আনুষ্ঠানিক সদস্য নন এমন একজনকে কমিটিতে দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

সম্প্রতি আইইউডিএসের মডারেটর বরাবর দেওয়া আরেক লিখিত অভিযোগে সংগঠনটির শিক্ষা ও প্রকাশনা সম্পাদক ও সাদ্দাম হোসেন হল ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. শান্ত শিশির ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া এক্সিকিউটিভ কমিটি বা হল ডিবেটিং সোসাইটিগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে বিতার্কিকদের জাতীয় উৎসবে পাঠানো, বিভিন্ন ব্যক্তিকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে হয়রানি, মেধাবী বিতার্কিকদের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা এবং হলগুলোর সঙ্গে সমন্বয়হীনতার অভিযোগও করেন তিনি। অভিযোগে শিশির আরও বলেন, ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে আইইউডিএসের প্রায় ১৮,০০০ টাকা আত্মসাতের মতো অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতা রয়েছে।

এছাড়াও গত ২০ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটির সদ্য ঘোষিত কমিটি স্থগিত করেন হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। কমিটির সভাপতি মোহাইমিনুল ইসলাম রক্তিমের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ও কমিটিতে যোগ্যদের মূল্যায়ন না করার অভিযোগ ওঠে। কমিটি গঠনে আইইউডিএস সভাপতি ইয়াছিন আলীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে আসে। প্রভোস্ট এ সম্বন্ধে জানান, এ কমিটিকে আইইউডিএসের সভাপতি ইয়াসিন আলী শুভেচ্ছা জানায়। তাড়াহুড়ো করে তার কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়া হলেও পরে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি স্থগিত করা হয়েছে।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইয়াছিন আলী বলেন, জাতীয় বিতর্ক উৎসবে জ্যেষ্ঠদের মতামতের ভিত্তিতে সব হল থেকে পর্যায়ক্রমে বিতর্কিক পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আমি নিজে ফোন দিয়ে মিশুক এবং শিশিরকে বলেছি। কিন্তু তারা সেটা মানা করে দেয় এবং করবেনা বলে। এরপর ঝিনাইদহ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্তৃক আয়োজিত একটি বিতর্কতে আমি ২০-২১ শিক্ষাবর্ষের বিচারকদের কে পাঠাই। সেখানে সিনিয়রদের সাথে একমাত্র জুনিয়র ২১-২২ এর শান্ত শিশিরকে পাঠিয়েছি আমি। তারপরেও তাদের এই অভিযোগ।

মিশুক শাহরিয়ারের হয়রানি ও তথ্য গোপনের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, সে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে হুমকি দিয়ে প্রোগ্রাম বন্ধ করিয়েছে এবং ভরা মজলিসে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ডিবেটিং সোসাইটিকে অপমান করেছে। শিবির ট্যাগিং দিয়ে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিও ভিত্তিহীন, মূলত তার বারবার বেয়াদবি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণেই তাকে কমিটিতে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ব্যাপারে বলেন, ২০২৩ সালে আন্তঃবিভাগ বিতর্কে ডিপার্টমেন্ট থেকে সংগৃহীত ১৮,৫৮০ টাকা তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত আবু হুরায়রা ভাই ফেরত দিয়েছেন, যা বর্তমান ট্রেজারার রাকিবুল ইসলামের কাছে জমা আছে। তথ্য গোপন করে বৃত্তি নেওয়ার অভিযোগও ভিত্তিহীন; আমি এনটিআরসিএ-র ইবতেদায়িতে চাকরি পাওয়ার বিষয়টি জানানো হলে সংশ্লিষ্টরা সানন্দে গ্রহণ করেন এবং মাস্টার্স শেষ করে পূর্ণাঙ্গ যোগদানের পর বৃত্তি ছাড়ার বিষয়ে সম্মতি দেন। তাছাড়া, মিশুককে কখনো শিবির ট্যাগ দেওয়া হয়নি, বরং সে লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটিকমিটিতে সভাপতি না বানালে সিন ক্রিয়েট ও নিউজ করানোর হুমকি দেয় এবং বিভিন্ন সময়ে সিনিয়রদের সাথে বেয়াদবি করে।

ইবি ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলফিকার হোসেন এ নিয়ে বলেন, সংগঠনের সভাপতির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে, তা মূলত ব্যক্তিগত রেষারেষি ও পূর্বের কিছু ভুলভ্রান্তির ফল, যা আগেও একবার সমাধান করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।

সংগঠনের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, ইতোপূর্বে ব্যাংকে সংগঠনের নামে নিজস্ব কোনো অ্যাকাউন্ট ছিল না। তবে সম্প্রতি ‘আইইউডিএস’-এর নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যাতে পূর্বের ও বর্তমানের সকল আর্থিক লেনদেন স্বচ্ছতার সাথে সংরক্ষণ করা যায়। কমিটি গঠনে বঞ্চিত করার ব্যাপারে বলেন, আইইউডিএস-এর অর্ডিন্যান্সে কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে। একটি সহায়ক কমিটির মাধ্যমে এসব নিয়মকানুন ও গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা করে সংশোধন করা হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য কোনো বিতর্ক বা ব্যক্তিগত কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে আটকে থাকা নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্ক চর্চার পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় করা।

Continue Reading

top3

মামলা ছাড়া হবে না ফরেনসিক, কমিটির এই দাবিতে অডিওর সত্যতা যাচাই ছাড়াই মিলল অব্যাহতি

Published

on

By

বেরোবি প্রতিনিধি:

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবনের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানি ও নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অডিও রেকর্ডের ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন না হলেও তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর অধ্যাপক পদে পদোন্নতির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।কমিটির দাবি মামলা ছাড়া ফরেনসিক পরিক্ষা করার কোনো নিয়ম নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক সাবেক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার বরাবর ই-মেইলে অভিযোগ দেন। অভিযোগে ওই শিক্ষককের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, যৌন হয়রানি এবং নম্বর টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল খারাপ করে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক ও এক ছাত্রীর কথোপকথনের কণ্ঠসদৃশ তিনটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৫তম সিন্ডিকেট সভায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এবং গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলামকে রাখা হয়।তদন্ত কমিটি অডিওগুলো পর্যালোচনা করে।

পর্যালোচনায় অডিওতে অন্য একজন শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততার আভাস পাওয়া গেছে উল্লেখ করে অডিওগুলোর সত্যতা যাচাই ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পৃথকভাবে তদন্তের সুপারিশ করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অডিওগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্দেশ্যে আরেকটি কমিটি গঠন করে। তবে শেষ পর্যন্ত অডিওগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি।

এ বিষয়ে ২০২৫ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছিল।

ফরেনসিক পরীক্ষা না হওয়ার বিষয়ে কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ফরেনসিক রিপোর্ট করতে হলে আগে মামলা থাকা লাগে। জীবন স্যারের নামে কোনো মামলা নেই। বিষয়টি সিন্ডিকেটকে জানানো হয়েছে—এখন কী করা দরকার, সেটি সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে মামলা ছাড়া ফরেনসিক পরীক্ষা করানোর সুযোগ নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো আইনি অভিযোগ নেই।শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের লেখা রয়েছে।

পরবর্তীতে সিন্ডিকেট সভায় অডিওগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন না হলেও ড. তানজিউল ইসলাম জীবনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তাহলে মামলা ছাড়া কোনো ফরেনসিক করতে বলা হলো এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীকে একাধিকবার ফোন কলের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ড. তানজিউল ইসলাম জীবনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে তিনি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছিলেন।

Continue Reading

top3

ইবির চার হলের নতুন প্রভোস্টের দায়িত্বে যারা

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চারটি আবাসিক হলে নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন—শহীদ আনাস হলের প্রভোস্ট দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল করিম, জুলাই ৩৬ হলের প্রভোস্ট আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের অধ্যাপক ড. হামিদা খাতুন, উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের প্রভোস্ট বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান এবং খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অ্যাপ্লাইড নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আয়নুল হক আকন্দ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

পৃথক অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২৯ সেপ্টেম্বর পূর্ববর্তী প্রভোস্টদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে নবনিযুক্ত প্রভোস্টরা দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনের জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়, দায়িত্ব পালন করায় পূর্ববর্তী প্রভোস্টদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে।

দায়িত্ব পেয়ে শহীদ আনাস হলে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় উপাচার্য আমার প্রতি আস্থা রেখে শহীদ আনাস হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। এজন্য মাননীয় উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। হলটিতে বর্তমানে হলটির এক্সটেনশন ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় সমাপ্তির পর্যায়ে রয়েছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে হলটিকে একটি আধুনিক আবাসিক হল হিসেবে গড়ে তোলার এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে আমার সাধ্যমতো আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ কাজে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’

খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এএসএম আয়নুল হক আকন্দ বলেন, ” আমি চিঠি হাতে পেয়েছি। হলে গিয়ে শিক্ষার্থী সমস্যাগুলো শুনবো এবং গুরুত্বের ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করবো। এজন্য আমি সকলের সহযোগিতা কামান করি।

উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের প্রভোস্ট ড. মো. রশিদুজ্জামান বলেন, “আমি ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেছি এবং হল ডিবেটিং সোসাইটি, কালচারাল সোসাইটি, স্পোর্টসসহ বিভিন্ন উইংয়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যাগুলো শুনেছি। এসব কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি নিজে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তাই হলে একটি পারিবারিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সবাই মিলেমিশে বসবাস করতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যেসব যৌক্তিক ও নৈতিক বিষয় আমার নজরে আনবে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব।”

এর আগে শহীদ আনাস হলে দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাদের , খালেদা জিয়া হলে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিন, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলে আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. রাশেদুজ্জামান ও জুলাই ৩৬ হলে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে.এম শামছুল হক ছিদ্দিকী দায়িত্ব পালন করেন।

Continue Reading

Trending