Connect with us

ক্যাম্পাস

নেপথ্যে নিয়োগ বোর্ড, ইবি বাসচালককে মারধর, ভ্যানগার্ডে ছাত্রদল?

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চলছে নানান দৃশ্যপট। তবে এবার শিক্ষক নিয়োগের নাটকীয়তায় বলিরপাঠা হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কুহেলিকা’ বাসের চালক মাহফুজুর রহমান পল্টন। এমনটাই ধারণা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড ছিল। সেখানে রাকিবুল নামে অংশগ্রহণকারী একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভাষ্য— তিনি চিহ্নিত ছাত্রলীগ এবং অর্থ যোগানদাতা, অস্ত্র সরবরাহকারী চিহ্নিত ছাত্রলীগ। নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে তার ফলাফল আসায় খুব শিগগিরই ছাত্রলীগ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেই ছাত্রলীগ পূর্ণবাসন হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়োগ তার কনফার্ম করবেন বলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল।

একইসাথে ফ্যাসিস্টমুক্ত শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড গঠনের দাবি এবং পরবর্তীতে নিয়োগ বোর্ড বাতিলে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দেন তারা। পরদিন শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ল এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের নিয়োগ বোর্ডকে কেন্দ্র করে দিনভর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে দেখা গেছে উত্তেজনা। এদিন সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা ভবনের ভেতরে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ করে শাখা ছাত্রদল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ‘অবৈধ’ দাবি করে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের অংশগ্রহণের প্রতিবাদ করেন তারা। ফলে ১০ টার পরীক্ষা প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বের পর বেলা ১১টার দিকে বিভাগের নির্ধারিত পরীক্ষা শুরু হয়।

জানা যায়, ওই পরীক্ষা কেন্দ্র ও বোর্ডে ফ্যাসিস্ট অভিযুক্ত বিভাগের সভাপতি মো. মেহেদী হাসান উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। তাঁকে ছাড়াই বোর্ড সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। ওইদিন ছাত্রদলের সাথে সকল রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন একাত্মতা পোষণ করে শিক্ষক নিয়োগে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রতিবাদ জানায়।

পরবর্তীতে দুপুর আড়াইটার দিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘ফ্যাসিস্টদের অংশগ্রহণের’ প্রতিবাদ জানিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে উধাও হয়ে যায় ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী। এতে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহগামী বাসগুলো ফটকের সামনে আটকে পড়ে। তবে ছাত্রদলের ফটক আটকানোর মতো কর্মসূচি ছিল না বলে দাবি আহ্বায়কের। পরে প্রক্টরিয়াল টিমের উপস্থিতিতে নিরাপত্তাকর্মীরা তালা ভেঙে ফটক খুলে দেন। তবে ফটক খোলার নির্ধারিত সময় বাস শহরে পৌঁছালেও পরবর্তী ট্রিপের আগে ঝিনাইদহের টার্মিনালের কয়েকজন বাস চালককে অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি গাড়ি চালাতে নিষেধ করে তাদের হুমকি দিয়েছে।তারা বাস চালাতে রাজি না হলে পরিবহন প্রশাসকের নির্দেশে পরবর্তীতে ক্যাম্পাস থেকে একটি বাস আটকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের আনতে যায়। রাত সাড়ে আটটার দিকে বাসটি ঝিনাইদহের আরাপপুর নামক স্থানে পৌঁছালে বাসচালক মাহফুজুর রহমান পল্টনকে মারধর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ক্যাম্পাস ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ কলেজ ছাত্রদলের কর্মী ফয়সাল সামি ও হুসাইন-সহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জন জড়িত রয়েছে বলে ঝিনাইদহের স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। পরে ২০/৩০ জন অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে ঝিনাইদহ থানায় মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

যদিও এর আগের রাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর সাথে ভুক্তভোগীর পক্ষে বাস চালকরা সাক্ষাৎ করেন এবং দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।

এদিকে মেইন গেইটের দেয়া তালার চাবি এখনও পাননি বলে অভিযোগ নিরাপত্তা কর্মীদের। প্রতিদিনের ন্যায় রাতে ট্রিপে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার হতে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া বাস ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেখানে পৌঁছালে বাসটির চালক ও স্টাফরা জানান, “বাস ক্যাম্পাসে যাবে না। ক্যাম্পাসে ঝামেলা হয়েছে, আমরা যেতে পারব না।” এই ট্রিপে বাস ছিল রাজ মোটরস পরিবহনের ‘পদ্মা আরএম-গাজীপুর (নং ০৪০৪২০)’।

ভুক্তভুগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য— তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি বাস পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। বাসটি ঝিনাইদহের আরাপপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সৃজনী তেল পাম্পের সামনে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ২০/৩০ জন দুর্বৃত্তরা বাস-চালক পল্টনের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পল্টনকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারতে থাকে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বাস ঝিনাইদহ শহরে প্রবেশ করলে সেটি ভাঙচুর ও আটকে দেওয়ার হুমকিও দেয়। পরবর্তীতে আহত অবস্থায় পল্টনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং শিক্ষার্থীরা অন্য একটি লাইনের বাসে করে ক্যাম্পাসে ফিরে যান।

ক্যাম্পাসে ফিরে রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ রুটিন বাস টার্মিনালে পৌঁছালে চালক জানান, বাস আর ক্যাম্পাসে যাবে না। আমরা জানতে চাইলে তারা জানান, ‘ক্যাম্পাসে ঝামেলা হয়েছে, আপনি জানেন না?’ আমরা বললাম, ‘ নিয়োগ নিয়ে ঝামেলো তো আগেই হয়েছিল, এখন আবার কী ঝামেলা?’ তখন চালক জানালেন, ‘এখনও ঝামেলা চলছে, আমরা যেতে পারব না।’ এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, আমরা তাদের বিচার চাই।

স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ‘কুহেলিকা’ বাসে হামলার ঘটনায় ঝিনাইদহ কলেজ ছাত্রদলের কর্মী ফয়সাল সামী ও হুসাইনসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জন জড়িত রয়েছে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ভাড়াকৃত বাসকে বাঁধা দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ বাস মালিক সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, ‘ছাত্রদলের কিছু কর্মী বাস চালাতে নিষেধ করেছে এবং হুমকি দিয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বাস ঝিনাইদহ রুটে চললে তা ভাঙচুর করা হবে। এজন্য বাস মালিকরা বাস ছাড়েন নাই।’ এর পূর্বে দুপুরে এবং মালিক সমিতিকে যারা বাস বন্ধের হুমকি দিয়েছিল, তারাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত।

পরিবহন দপ্তর সূত্রে আরও জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিবহন প্রশাসক নিয়োগ পাওয়ার পর ইবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আর্থিক সহায়তা দাবি করে এবং সেসময় তারা উল্লেখ করেন যে তারা আগে থেকেই পরিবহন প্রশাসন অফিস থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকতেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে পরিবহন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী।

ভুক্তভোগী মাহফুজুর রহমান পল্টন বলেন, আমি বাস নিয়ে ঝিনাইদহ যাওয়ার সময় আরাপপুরের তেল পাম্পের সামনে বাস আটকানো হয়। তখন একটা ছেলে বাসে উঠেই আমাকে লাথি মারে। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশ থেকে লোকজন এসে আমাকে এলেপাথাড়ি মারধর করে।

অভিযুক্ত ফয়সাল সামি বলেন, ‘আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। ওইদিন ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমি ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ-সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মানিক এবং যুগ্ম সাধারণ-সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল ভাইয়ের রাজনীতি করি।’

জানা যায়, মুশফিকুর রহমান মানিক ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মানিক জানান, ‘আরাপপুরে একটি ঘটনর কথা শুনেছি। কারা কিভাবে হলো জানি না। সামি সমর্থক টাইপের কর্মী। আমি তার বিষয়ে অভিযোগ শুনিনি। আমাকে কেউ জানায়নি। সুতরাং এ বিষয়ে কিছুই জানি না। অভিযোগ আসলে খোঁজ নিয়ে দেখব।’

ভাড়াকৃত বাস রাজ মোটরসের মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, গাড়ি চালালে অসুবিধায় পড়তে হবে এমন হুমকি দিয়েছে এবং স্টাফদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। এজন্য তারা গাড়ি নিয়ে যেতে রাজি হয় নাই।

এদিকে তারা জানান ‘আমাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কিছুটা ঝামেলা চলছে; দুপুরে ক্যাম্পাসের গেটে তালা দেওয়া হয়েছিল।’ তবে কারা হুমকি দিয়েছে তাদের নাম বলতে পারব না।

জানতে চাইলে ঝিনাইদহ কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাসানুজ্জামান শিপন বলেন, আমি গতকাল ঘটনাটা শুনেছি। যাদের নামে অভিযোগ এসেছে তারা ছাত্রদল করে এটা সত্য। আমার জানামতে ওদের দু’জনের একজনও বাস চালকের হামলার ঘটনার ওখানে উপস্থিত ছিল না।

ইবির পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আব্দুর রউফ বলেন, ‘পদ্মা আরএম-গাজীপুর’ ভাড়াকৃত বাসটি ক্যাম্পাসে আসতে দেওয়া হয়নি। গতকাল যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলোর সঙ্গে এর প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। ফটক আটকানো এবং ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া বাস মালিক সমিতিকেও গাড়ি না চালানোর জন্য হুমকি দেওয়া হয়। হামলাকারীদের এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি।’

এদিকে, ওই রাতেই মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের বাস চালকরা উপাচার্য বরাবর মৌখিকভাবে নিরাপত্তা ও মারধরের ঘটনার বিচারের দাবি জানান। তৎক্ষনাৎ, উপাচার্য ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে মামলা করার নির্দেশ দেন এবং প্রক্টর ড. শাহিনুজ্জামানকে নিরাপত্তা জোরদার করতে নির্দেশ দেন।

উপাচার্যের আদেশ মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মনজুরুল ঝিনাইদহ থানায় মামলার আবেদন করা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তর বিষয়টি নিয়ে তদন্তের কাজ করছে বলে জানান।

মামলার বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা ২০/৩০ জনকে আসামি করে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ‘এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তবে যে বা যারা জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে দেওয়া হবে না।’

নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ বা ফ্যাসিস্ট সংশ্লিষ্ট কাউকে নিয়োগ দিব না। যোগ্যতা ও মেধাই হবে নিয়োগের মাপকাঠি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

নিরাপত্তা শঙ্কায় হেলমেট পরে ক্লাসে জবি শিক্ষার্থীরা

Published

on

By

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গণিত বিভাগের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে গিয়ে আতঙ্কে অনেক শিক্ষার্থী এখন হেলমেট পরে অংশ নিচ্ছেন।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে গণিত বিভাগের একটি সেমিনার কক্ষে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর নিয়াজ ফাহিম ও মাহফুজুর রহমান মিতুল আহত হন।

ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক একাডেমিক ভবন দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। মাঝেমধ্যে ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। এর আগেও গণিত বিভাগের একটি শিক্ষক কক্ষে একই ধরনের ঘটনা ঘটে।

নিরাপত্তার শঙ্কায় গণিত বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হেলমেট পরে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে শুরু করেছেন।

গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম বলেন, কখন কার মাথায় পলেস্তারা পড়বে, তা বলা যায় না। তাই বাধ্য হয়েই হেলমেট ব্যবহার করছি।

আরেক শিক্ষার্থী নয়ন বলেন, কালকে আমার ছোট দুই ভাই আহত হয়েছেন, অথচ প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এখনও। আমাদের ক্লাস-পরীক্ষাও চলমান রেখেছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ক্লাসরুমে বসে ক্লাস-পরীক্ষা দিতে শঙ্কা বোধ করায় হেলমেট পরে পরীক্ষা দিতে আসছি।

শিক্ষার্থীরা জানান, অনেক শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার অনুপযোগী হলেও বিকল্প না থাকায় সেখানে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) নেতারা প্রশাসনের সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলা করা হয়েছে। দ্রুত কার্যকর সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংস্কারের সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে। বড় ধরনের কাজের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি জানান, ফলস সিলিং থাকার কারণে মূল ছাদের ফাটল আগে ধরা পড়েনি। এখন সেগুলো অপসারণ করা হচ্ছে। বিজ্ঞান ভবনের সংস্কারের নকশা ও ব্যয় হিসাবও প্রস্তুত রয়েছে।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

গোবিপ্রবির আইন বিভাগে সাফল্যের ঝলক: বার কাউন্সিল পরীক্ষায় ৮১ শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব

Published

on

By

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি:
এবারের বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষায় গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) আইন বিভাগ অর্জন করেছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। চারটি ব্যাচ থেকে মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন মোট ৮১ জন শিক্ষার্থী।

নবীন বিভাগ হওয়া সত্ত্বেও ধারাবাহিকভাবে সাফল্যের ধারা বজায় রেখে চলেছে আইন বিভাগটি। বর্তমানে বিভাগে মোট ১০টি ব্যাচ অধ্যয়নরত রয়েছে। শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের মেধা, পরিশ্রম ও পারস্পরিক সহযোগিতার ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জানা গেছে, এই বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় ৩ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে বিচার বিভাগে যোগ দিয়েছেন।

গত ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, সারা দেশ থেকে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের মৌখিক পরীক্ষায় মোট ৮,৫৯৯ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। উত্তীর্ণরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্থ আদালত, ট্রাইব্যুনাল ও রাজস্ব কর্তৃপক্ষের অধীনে আইনজীবী হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তবে পেশা শুরু করতে হলে তাদের ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ গ্রহণ করতে হবে।

উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নব্য আইনজীবী ও ১৭তম বিজেএস-এ সুপারিশপ্রাপ্ত সিভিল জজ সাদিকুর রহমান রোমান বলেন, নবীন বিভাগ হওয়া সত্ত্বেও এখান থেকে ইতোমধ্যে ৩ জন বিচারক বের হয়েছেন এবং এবছর প্রায় ১০০ জন নতুন আইনজীবী তালিকাভুক্ত হয়েছেন, যা বিভাগের জন্য গর্বের। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন আইনজীবীরা ভবিষ্যতে পেশায় সুনাম অর্জন করবেন এবং বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

একইসঙ্গে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও সদ্য তালিকাভুক্ত আইনজীবী মোঃ রিয়াদ আহমেদ বলেন, আইন শিক্ষার্থীদের জন্য বেয়ার অ্যাক্টে গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শুধুমাত্র গাইড বা কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করলে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়। তিনি সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দক্ষ আইনজীবী হওয়ার আহ্বান জানান।

আইন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মানসুরা খানম বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানো বিভাগের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি নবীন আইনজীবীদের অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতেও এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সহযোগী অধ্যাপক ড. রাজিউর রহমান বলেন, বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে বিচার বিভাগ, উচ্চশিক্ষা, ব্যাংক-বীমা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন। নতুন আইনজীবীরাও পেশাগত জীবনে দক্ষতা ও সুনাম অর্জন করবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে ইবি ছাত্রদল নেতাদের, উঠতি নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিতে দিতে বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে অধিকাংশ নেতার। দীর্ঘদিন নেতৃত্বের পরিবর্তন না হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে, হতাশা দেখা দিয়েছে এই সিনিয়র নেতাদের এবং নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের মধ্যে। এদিকে গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) আনুমানিক ৪০ বছর উর্ধ্ব ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (ইবি) ও কেন্দ্রীয় সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদের বিয়ে হয়। এতে অন্যান্য ছাত্রদল নেতাদের বিয়ের বয়স পার হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে ক্যাম্পাসজুড়ে।

জানা যায়, ছাত্রদলের সদ্য-সাবেক সাধারণ সম্পাদক (ইবি) ও কেন্দ্রীয় সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদ আইন বিভাগের ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ফলে তার বয়স আনুমানিক ৪০ উর্ধ্ব। এদিকে বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ (২০০৭-৮ শিক্ষাবর্ষ), সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুন ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার পারভেজের (২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ) বয়স পার হলেও বিয়ে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তাদের নাই কোনো কর্মসংস্থান। আহ্বায়ক কমিটির নামে ক্যাম্পাসে এখনও তৎপর তারা। সংগঠনটির আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ ২০০৭-৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়ায় আনুমানিক বয়স ৩৭ অধিক। এদিকে সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুন ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার পারভেজ ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হলে ২০১৭-১৮ দিকে শেষ হওয়ার কথা। যাদের আনুমানিক বয়স ৩২ এর কাছাকাছি।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১৬ জুন মো. সাহেদ আহম্মেদকে আহ্বায়ক ও মাসুদ রুমী মিথুনকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্যের কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। কমিটিতে অছাত্রত্ব, বিবাহিত ও চাকরিজীবীদের পদ দেওয়ায় প্রতিবাদ করে কমিটি প্রত্যাখ্যান করে একাংশ। এর পরিপ্রেক্ষিতে আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, আহসান হাবীব, সবুজ হোসাইন ও সদস্য সাব্বির হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

দলীয় তথ্য মতে, ৩১ সদস্যের কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবু দাউদ চাকরিজীবী ও বিবাহিত, মো. ওমর শরীফ চাকরিজীবী ও দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয়, নাজমুল ইসলাম চাকরিজীবী ও নিষ্ক্রিয়, নৌশিন তাবাসসুম বিবাহিতা ও সদস্য মাহমুদুল মৃদুলও বিবাহিত। এছাড়াও যুগ্ম আহ্বায়ক শাহানুর হোসেন, মো. সবুজ হোসাইন, মেহেদী হাসান হিরা, মনিরুল ইসলাম, তুহিন হোসাইন, লিমন হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কার্যক্রমে আসেন না। এছাড়াও ‘অপরিচিত’ হিসেবে কমিটিতে আছেন সদস্য রাজু আহমেদ, মো. সম্রাট হোসাইন, সানজিদা ইসলাম ও রুমা খাতুন। ইবি শাখার সক্রিয় নেতাকর্মীরা তাদেরকে চেনেন না বলে দাবি করেছেন। এদিকে বর্তমান কমিটিকে আঁকড়ে ধরলেও কিছু নেতার বিয়ের বয়স পার হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব ও আনারুলের বয়সও পার হয়ে গেছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক তরুণ কর্মী জানান, কর্মী হিসেবে তাদের বয়সও পর্যাপ্ত। বাড়িতে কারো কারো বিয়ের আলাপ হলেও পদের আশায় প্রহর গুনছেন। নেতাদের তো অনেক আগেই বয়স পার হয়েছে। কমিটি ধরে রাখলে কর্মী বাড়বে না। কর্মীরা কেন রাজনীতিতে জড়ায়? একটা পরিচয় দেওয়ার সুযোগ না হলে কর্মী সমর্থক বাড়বে কী করে? আমাদেরও সুযোগ দিক আর ভাইয়েরাও সুযোগ নিক। এতে সমালোচনা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।

ছাত্রদলের তরুণ কর্মী তৌহিদুল ইসলাম জানান, “বিয়ের বিষয়টা ব্যক্তিগত, এতে কমেন্ট করতে পারি না। হয় তো সংগঠনকে ভালোবাসে বলেই সেক্রিফাইস করছেন। যদিও বিয়ে নিয়ে সংগঠনে লিখিত কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নাই। এদিকে একটা আফসোসের জায়গা থাকবে যে নিজের নামের সাথে কোনো পদবি না নিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়তে হচ্ছে। পুরাতন কমিটি প্রায় ৫ বছর হয়ে যাচ্ছে। নতুন করে রাজনীতিতে যারা যুক্ত হয়েছে তারাও পুরাতন হয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদও শেষ, ওটা নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। আমাদের নিয়ে ভাবার সময় হয়তো আরও বিলম্ব হলো।” 

আরেক তরুণ ছাত্রদল কর্মী স্বাক্ষর জানান, “আমাদের সিভি নিয়েছেন রানিং স্টুডেন্টদের। রানিং দিবে কিনা বা মিক্সড করে নেতৃত্ব ঠিক করবে কিনা একান্ত সেন্ট্রাল ভালো জানবেন। আমরা আশাবাদী ভালো কিছু হবে।” 

আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রাফিজ আহমেদ জানান, “বিবাহিত হলে সংগঠনে পদ পদবি পায় না, সেই দৃষ্টিকোণ থেকে অনেকে সেক্রিফাইজ করেন। যদিও এটা কেন্দ্রের মৌখিক নির্দেশনা। নতুন কমিটির বিষয়ে শুনে আসছি রানিং স্টুডেন্ট দিয়ে দিবেন। বাকিটা কেন্দ্র বুঝবেন।”

বিয়ে নিয়ে সংগঠনের ধারণা

শুধু ‘ছাত্রত্ব’ দিয়ে ছাত্র রাজনীতি করা যাবে না, হতে হবে ‘অবিবাহিত’ – এমনই রীতি ছাত্রদলের ওপর আরোপ করে দেন বিএনপি। এ নিয়ে দলটির দায়িত্বশীলদের যৌক্তিক ব্যাখ্যাও আছে। তারা মনে করেন— ছাত্ররা যেহেতু সমাজ পরিবর্তনের নিয়ামক, ফলে বিবাহিত অবস্থায় রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের পক্ষে ঝুঁকি নেওয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণেই ছাত্রদলে অলিখিত অবিবাহিত শর্ত আরোপ হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত, ছাত্রত্ব থাকলেই যে কোনো ছাত্র সংগঠন করার অধিকার একজন শিক্ষার্থীর রয়েছে। এছাড়া ছেলেদের ২১ এবং মেয়েদের ১৮ বছর বয়সে বিয়ে করার আইনগত ও সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। রাজনীতির দোহাই দিয়ে ছাত্রনেতাদের এ অধিকার কেড়ে নেওয়া বেআইনি ও অন্যায্য। বরং রাজনৈতিক সংগঠনের কাজই হলো ছাত্র তথা সব নাগরিকের এসব অধিকার নিশ্চিত করা। তা করতে প্রয়োজন রাষ্ট্রীয়ভাবে কাজ করা।

সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, “কারো বিরুদ্ধে বিয়ের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে আমরা পদোন্নতির বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

Continue Reading

Trending