Connect with us

ক্যাম্পাস

নেপথ্যে নিয়োগ বোর্ড, ইবি বাসচালককে মারধর, ভ্যানগার্ডে ছাত্রদল?

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চলছে নানান দৃশ্যপট। তবে এবার শিক্ষক নিয়োগের নাটকীয়তায় বলিরপাঠা হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কুহেলিকা’ বাসের চালক মাহফুজুর রহমান পল্টন। এমনটাই ধারণা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড ছিল। সেখানে রাকিবুল নামে অংশগ্রহণকারী একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভাষ্য— তিনি চিহ্নিত ছাত্রলীগ এবং অর্থ যোগানদাতা, অস্ত্র সরবরাহকারী চিহ্নিত ছাত্রলীগ। নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে তার ফলাফল আসায় খুব শিগগিরই ছাত্রলীগ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেই ছাত্রলীগ পূর্ণবাসন হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়োগ তার কনফার্ম করবেন বলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল।

একইসাথে ফ্যাসিস্টমুক্ত শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড গঠনের দাবি এবং পরবর্তীতে নিয়োগ বোর্ড বাতিলে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দেন তারা। পরদিন শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ল এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের নিয়োগ বোর্ডকে কেন্দ্র করে দিনভর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে দেখা গেছে উত্তেজনা। এদিন সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা ভবনের ভেতরে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ করে শাখা ছাত্রদল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ‘অবৈধ’ দাবি করে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের অংশগ্রহণের প্রতিবাদ করেন তারা। ফলে ১০ টার পরীক্ষা প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বের পর বেলা ১১টার দিকে বিভাগের নির্ধারিত পরীক্ষা শুরু হয়।

জানা যায়, ওই পরীক্ষা কেন্দ্র ও বোর্ডে ফ্যাসিস্ট অভিযুক্ত বিভাগের সভাপতি মো. মেহেদী হাসান উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। তাঁকে ছাড়াই বোর্ড সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। ওইদিন ছাত্রদলের সাথে সকল রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন একাত্মতা পোষণ করে শিক্ষক নিয়োগে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রতিবাদ জানায়।

পরবর্তীতে দুপুর আড়াইটার দিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘ফ্যাসিস্টদের অংশগ্রহণের’ প্রতিবাদ জানিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে উধাও হয়ে যায় ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী। এতে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহগামী বাসগুলো ফটকের সামনে আটকে পড়ে। তবে ছাত্রদলের ফটক আটকানোর মতো কর্মসূচি ছিল না বলে দাবি আহ্বায়কের। পরে প্রক্টরিয়াল টিমের উপস্থিতিতে নিরাপত্তাকর্মীরা তালা ভেঙে ফটক খুলে দেন। তবে ফটক খোলার নির্ধারিত সময় বাস শহরে পৌঁছালেও পরবর্তী ট্রিপের আগে ঝিনাইদহের টার্মিনালের কয়েকজন বাস চালককে অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি গাড়ি চালাতে নিষেধ করে তাদের হুমকি দিয়েছে।তারা বাস চালাতে রাজি না হলে পরিবহন প্রশাসকের নির্দেশে পরবর্তীতে ক্যাম্পাস থেকে একটি বাস আটকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের আনতে যায়। রাত সাড়ে আটটার দিকে বাসটি ঝিনাইদহের আরাপপুর নামক স্থানে পৌঁছালে বাসচালক মাহফুজুর রহমান পল্টনকে মারধর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ক্যাম্পাস ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ কলেজ ছাত্রদলের কর্মী ফয়সাল সামি ও হুসাইন-সহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জন জড়িত রয়েছে বলে ঝিনাইদহের স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। পরে ২০/৩০ জন অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে ঝিনাইদহ থানায় মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

যদিও এর আগের রাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর সাথে ভুক্তভোগীর পক্ষে বাস চালকরা সাক্ষাৎ করেন এবং দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।

এদিকে মেইন গেইটের দেয়া তালার চাবি এখনও পাননি বলে অভিযোগ নিরাপত্তা কর্মীদের। প্রতিদিনের ন্যায় রাতে ট্রিপে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার হতে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া বাস ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেখানে পৌঁছালে বাসটির চালক ও স্টাফরা জানান, “বাস ক্যাম্পাসে যাবে না। ক্যাম্পাসে ঝামেলা হয়েছে, আমরা যেতে পারব না।” এই ট্রিপে বাস ছিল রাজ মোটরস পরিবহনের ‘পদ্মা আরএম-গাজীপুর (নং ০৪০৪২০)’।

ভুক্তভুগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য— তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি বাস পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। বাসটি ঝিনাইদহের আরাপপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সৃজনী তেল পাম্পের সামনে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ২০/৩০ জন দুর্বৃত্তরা বাস-চালক পল্টনের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পল্টনকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারতে থাকে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বাস ঝিনাইদহ শহরে প্রবেশ করলে সেটি ভাঙচুর ও আটকে দেওয়ার হুমকিও দেয়। পরবর্তীতে আহত অবস্থায় পল্টনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং শিক্ষার্থীরা অন্য একটি লাইনের বাসে করে ক্যাম্পাসে ফিরে যান।

ক্যাম্পাসে ফিরে রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ রুটিন বাস টার্মিনালে পৌঁছালে চালক জানান, বাস আর ক্যাম্পাসে যাবে না। আমরা জানতে চাইলে তারা জানান, ‘ক্যাম্পাসে ঝামেলা হয়েছে, আপনি জানেন না?’ আমরা বললাম, ‘ নিয়োগ নিয়ে ঝামেলো তো আগেই হয়েছিল, এখন আবার কী ঝামেলা?’ তখন চালক জানালেন, ‘এখনও ঝামেলা চলছে, আমরা যেতে পারব না।’ এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, আমরা তাদের বিচার চাই।

স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ‘কুহেলিকা’ বাসে হামলার ঘটনায় ঝিনাইদহ কলেজ ছাত্রদলের কর্মী ফয়সাল সামী ও হুসাইনসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জন জড়িত রয়েছে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ভাড়াকৃত বাসকে বাঁধা দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ বাস মালিক সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, ‘ছাত্রদলের কিছু কর্মী বাস চালাতে নিষেধ করেছে এবং হুমকি দিয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বাস ঝিনাইদহ রুটে চললে তা ভাঙচুর করা হবে। এজন্য বাস মালিকরা বাস ছাড়েন নাই।’ এর পূর্বে দুপুরে এবং মালিক সমিতিকে যারা বাস বন্ধের হুমকি দিয়েছিল, তারাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত।

পরিবহন দপ্তর সূত্রে আরও জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিবহন প্রশাসক নিয়োগ পাওয়ার পর ইবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আর্থিক সহায়তা দাবি করে এবং সেসময় তারা উল্লেখ করেন যে তারা আগে থেকেই পরিবহন প্রশাসন অফিস থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকতেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে পরিবহন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী।

ভুক্তভোগী মাহফুজুর রহমান পল্টন বলেন, আমি বাস নিয়ে ঝিনাইদহ যাওয়ার সময় আরাপপুরের তেল পাম্পের সামনে বাস আটকানো হয়। তখন একটা ছেলে বাসে উঠেই আমাকে লাথি মারে। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশ থেকে লোকজন এসে আমাকে এলেপাথাড়ি মারধর করে।

অভিযুক্ত ফয়সাল সামি বলেন, ‘আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। ওইদিন ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমি ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ-সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মানিক এবং যুগ্ম সাধারণ-সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল ভাইয়ের রাজনীতি করি।’

জানা যায়, মুশফিকুর রহমান মানিক ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মানিক জানান, ‘আরাপপুরে একটি ঘটনর কথা শুনেছি। কারা কিভাবে হলো জানি না। সামি সমর্থক টাইপের কর্মী। আমি তার বিষয়ে অভিযোগ শুনিনি। আমাকে কেউ জানায়নি। সুতরাং এ বিষয়ে কিছুই জানি না। অভিযোগ আসলে খোঁজ নিয়ে দেখব।’

ভাড়াকৃত বাস রাজ মোটরসের মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, গাড়ি চালালে অসুবিধায় পড়তে হবে এমন হুমকি দিয়েছে এবং স্টাফদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। এজন্য তারা গাড়ি নিয়ে যেতে রাজি হয় নাই।

এদিকে তারা জানান ‘আমাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কিছুটা ঝামেলা চলছে; দুপুরে ক্যাম্পাসের গেটে তালা দেওয়া হয়েছিল।’ তবে কারা হুমকি দিয়েছে তাদের নাম বলতে পারব না।

জানতে চাইলে ঝিনাইদহ কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাসানুজ্জামান শিপন বলেন, আমি গতকাল ঘটনাটা শুনেছি। যাদের নামে অভিযোগ এসেছে তারা ছাত্রদল করে এটা সত্য। আমার জানামতে ওদের দু’জনের একজনও বাস চালকের হামলার ঘটনার ওখানে উপস্থিত ছিল না।

ইবির পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আব্দুর রউফ বলেন, ‘পদ্মা আরএম-গাজীপুর’ ভাড়াকৃত বাসটি ক্যাম্পাসে আসতে দেওয়া হয়নি। গতকাল যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলোর সঙ্গে এর প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। ফটক আটকানো এবং ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া বাস মালিক সমিতিকেও গাড়ি না চালানোর জন্য হুমকি দেওয়া হয়। হামলাকারীদের এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি।’

এদিকে, ওই রাতেই মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের বাস চালকরা উপাচার্য বরাবর মৌখিকভাবে নিরাপত্তা ও মারধরের ঘটনার বিচারের দাবি জানান। তৎক্ষনাৎ, উপাচার্য ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে মামলা করার নির্দেশ দেন এবং প্রক্টর ড. শাহিনুজ্জামানকে নিরাপত্তা জোরদার করতে নির্দেশ দেন।

উপাচার্যের আদেশ মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মনজুরুল ঝিনাইদহ থানায় মামলার আবেদন করা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তর বিষয়টি নিয়ে তদন্তের কাজ করছে বলে জানান।

মামলার বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা ২০/৩০ জনকে আসামি করে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ‘এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তবে যে বা যারা জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে দেওয়া হবে না।’

নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ বা ফ্যাসিস্ট সংশ্লিষ্ট কাউকে নিয়োগ দিব না। যোগ্যতা ও মেধাই হবে নিয়োগের মাপকাঠি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

বেরোবিতে শিবিরের আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে, ছাত্রদল শিবিরের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

Published

on

By

আনাস মাহমুদ, বেরোবি প্রতিনিধি:

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে শিবিরের নেতাকর্মীদের উপর ছাত্রদলের নেতাদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও শিবিরের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন কয়েকজন।

সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বেরোবির স্বাধীনতা স্মারক মাঠে আয়োজিত প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে বেরোবি শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াত নেতাসহ সাকা চৌধুরীর বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার নামক একটি ব্যানারটি সরাতে বলে। পরবর্তীতে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নীরবসহ কয়েকজন শিবিরের এক কর্মীকে লাথি মারে এবং পরে গাছের ডাল ভেঙে এবং চেয়ার নিয়ে ছাত্রদল নেতারা হামলা করলে মুখোমুখি অবস্থানে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় শিবির।

এ সময় শাখা শিবিরের নেতা মেহেদী হাসানকে স্টাম দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মারক মাঠে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিলে মূল ফটকের দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আগানো শুরু করেন এবং তারা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ডক্টর ফেরদৌস রহমান ঘটনাস্থলে এসে দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও উত্তেজনা বিন্দুমাত্র কমেনি।

এ সময় বস্তায় করে ভাঙা ইট নিয়ে আসতে দেখা যায় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মাসুদ রানাকে। এরপর শুরু হয় লাঠি সোটা এবং ইট পাটকেল নিক্ষেপ। এক পর্যায়ে মাসুদ রানাসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইট নিক্ষেপ করলে শিবির নেতাকর্মীদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এরপর শিবিরের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে পাল্টা ধাওয়া দিলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রভঙ্গ হয়ে চলে যায়।

উভয় দল থেকে বহিরাগত দ্বারা আক্রমণের অভিযোগ করা হয়েছে। ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া শেষে শিবির নেতাদের ক্যাম্পাসে মিছিল এবং মহড়া করতে দেখা গেছে। ৩ আগষ্ট বিকাল থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে এই উত্তেজনা বিরাজ করে। পরবর্তীতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে গেলে ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণে নেয় শিবির।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, যারা এই মারামারির পিছনে জড়িত তাদের আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে সনাক্ত করে অতি শ্রীগই বিচার করব। এজন্য তদন্ত কমিটি গঠন করব।

Continue Reading

top3

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষ উপলক্ষে ইবিতে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩ আগষ্ট) বেলা ১২ টায় টিএসসিসির ১১৬ নম্বর কক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় প্লে থেকে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘বুলেটের সামনে আমাদের আবু সাঈদ’, পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণির জন্য ‘পানি লাগবে, পানি…’ এবং অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির জন্য ‘জুলাই বিপ্লবে পুলিশের নৃশংসতা’ বিষয় নির্ধারণ করা হয়। শিক্ষার্থীদের চিত্রাঙ্কনের জন্য আধা ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। এ প্রতিযোগিতায় সকল শিক্ষার্থীদের একটি স্কেল ও কলম দেওয়া হয়।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান। পরিদর্শনে আর উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক। এছাড়াও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতাটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন চিত্রাঙ্কন, রচনা ও গ্রাফিতি প্রতিযোগিতা কমিটির সদস্য সচিব এবং আইআইইআর -এর প্রভাষক ড. হুসাইন আহমেদ লিটন, সদস্য চারুকলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. খোদেজা খাতুন ও সহকারী প্রক্টর মো. খাইরুল হাসান সহ ল্যাবরেটরি স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

প্রতিযোগী শিক্ষার্থীরা জানান, “আমাদের জন্য এরকম চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করার জন্য আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই। চব্বিশের জুলাই মাসকে জানা ও নিজের ভিতর লালন করার জন্য এরকম ভিন্নধর্মী এক আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। আমরা কেউ আবু সাঈদ, কেউ মীর মুগ্ধ ও জুলাই বিপ্লবে পুলিশের নৃশংসতা বিষয়ের উপর চিত্রাঙ্কন করেছি। আসলে প্রধান বিষয় পুরস্কার পাওয়া না আমরা এখানে অংশগ্রহণ করতে পেরেছি এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।”

কমিটির সদস্য সচিব আইআইইআর -এর প্রভাষক ড. হুসাইন আহমেদ লিটন বলেন, “আমাদের এই আয়োজন শিক্ষার্থীদেরকে জুলাই মাস সম্পর্কে অবগত করা ও তারা যেন এটা হৃদয়ের মধ্যে ধারণ ও লালন করতে পারে। তাদের যে চিত্রগুলোর বিষয় নির্ধারণ করে দেয়া হয় তারা যেন এটা অনুভব করে যে যারা এই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান যারাই দেশের জন্য শহীদ হয়েছে তাদেরকে স্মরণ রাখা দরকার।”

Continue Reading

top3

শাবিপ্রবিতে জুলাই শহীদ রুদ্র সেনের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি,

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) একমাত্র শহীদ রুদ্র সেনের স্মৃতি সংরক্ষণ ও প্রাপ্য মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে এ কর্মসূচির পালন করেন তারা। এতে রুদ্র সেনের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড পলিমার সাইন্স বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় তাদের অনেকের হাতে রুদ্র সেনের স্মৃতি রক্ষার্থে বিভিন্ন দাবি লেখা প্লেকার্ড দেখা যায়।

অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান দুইটি দাবি জানান অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা। রুদ্র সেনের স্মরণে ক্যাম্পাসে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের লক্ষ্যে আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি ও ৫ তারিখের মধ্যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে হবে।

শহীদ রুদ্র সেন লেকে সুস্পষ্ট ও নান্দনিক নামফলক স্থাপন করতে হবে, যেন নামটি দৃশ্যমান হয়। একই সাথে লেক সংরক্ষণ, সৌন্দর্যবর্ধন, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং লেকের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ সকল কার্যক্রম বন্ধ করে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পদ স্থগিত) জহিরুল ইসলাম বলেন, ” জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শাবিপ্রবির একমাত্র শহীদ রুদ্র সেনের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবিতে দুই বছর ধরে আন্দোলন করতে হচ্ছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। রুদ্র সেন শুধু একজন শহীদ নন, তিনি শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের ঐক্যের প্রতীক। ১৮ জুলাই তার আত্মত্যাগ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শোককে শক্তিতে পরিণত করেছিল। সিলেটের গণঅভ্যুত্থানকে বেগবান করতে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও স্মৃতি সংরক্ষণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র শিবিরের অফিস সম্পাদক শাকিল মাহমুদ বলেন, ”যারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যতে কেউ এমন আন্দোলনে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত হবে না। রুদ্র পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাদের কষ্ট ও আক্ষেপের কথা শুনেছি। তার মা, বাবা, বোনও চায় ক্যাম্পাসে তার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য দ্রুত শহীদ রুদ্র হোসেনের নামে স্থায়ী স্মৃতিফলক স্থাপন ও তার প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”

অবস্থান কর্মসূচি শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড মো খায়রুল ইসলাম বরাবর দুই দফা লিখিত দাবি জানান তারা।

উল্লেখ্য শহিদ রুদ্র সেন শাবিপ্রবির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৮জুলাই পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার মুখে পার্শ্ববর্তী সুরমা আবাসিক এলাকায় একটি খালে পড়ে মৃত্যু বরণ করেন।

Continue Reading

Trending