শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চলছে নানান দৃশ্যপট। তবে এবার শিক্ষক নিয়োগের নাটকীয়তায় বলিরপাঠা হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কুহেলিকা’ বাসের চালক মাহফুজুর রহমান পল্টন। এমনটাই ধারণা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড ছিল। সেখানে রাকিবুল নামে অংশগ্রহণকারী একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভাষ্য— তিনি চিহ্নিত ছাত্রলীগ এবং অর্থ যোগানদাতা, অস্ত্র সরবরাহকারী চিহ্নিত ছাত্রলীগ। নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে তার ফলাফল আসায় খুব শিগগিরই ছাত্রলীগ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেই ছাত্রলীগ পূর্ণবাসন হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়োগ তার কনফার্ম করবেন বলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল।
ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের নিয়োগ বোর্ড শুরু (৯ অক্টোবর)
একইসাথে ফ্যাসিস্টমুক্ত শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড গঠনের দাবি এবং পরবর্তীতে নিয়োগ বোর্ড বাতিলে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দেন তারা। পরদিন শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ল এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের নিয়োগ বোর্ডকে কেন্দ্র করে দিনভর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে দেখা গেছে উত্তেজনা। এদিন সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা ভবনের ভেতরে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভ করে শাখা ছাত্রদল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ‘অবৈধ’ দাবি করে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের অংশগ্রহণের প্রতিবাদ করেন তারা। ফলে ১০ টার পরীক্ষা প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বের পর বেলা ১১টার দিকে বিভাগের নির্ধারিত পরীক্ষা শুরু হয়।
জানা যায়, ওই পরীক্ষা কেন্দ্র ও বোর্ডে ফ্যাসিস্ট অভিযুক্ত বিভাগের সভাপতি মো. মেহেদী হাসান উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। তাঁকে ছাড়াই বোর্ড সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। ওইদিন ছাত্রদলের সাথে সকল রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন একাত্মতা পোষণ করে শিক্ষক নিয়োগে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রতিবাদ জানায়।
পরবর্তীতে দুপুর আড়াইটার দিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘ফ্যাসিস্টদের অংশগ্রহণের’ প্রতিবাদ জানিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে উধাও হয়ে যায় ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী। এতে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহগামী বাসগুলো ফটকের সামনে আটকে পড়ে। তবে ছাত্রদলের ফটক আটকানোর মতো কর্মসূচি ছিল না বলে দাবি আহ্বায়কের। পরে প্রক্টরিয়াল টিমের উপস্থিতিতে নিরাপত্তাকর্মীরা তালা ভেঙে ফটক খুলে দেন। তবে ফটক খোলার নির্ধারিত সময় বাস শহরে পৌঁছালেও পরবর্তী ট্রিপের আগে ঝিনাইদহের টার্মিনালের কয়েকজন বাস চালককে অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি গাড়ি চালাতে নিষেধ করে তাদের হুমকি দিয়েছে।তারা বাস চালাতে রাজি না হলে পরিবহন প্রশাসকের নির্দেশে পরবর্তীতে ক্যাম্পাস থেকে একটি বাস আটকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের আনতে যায়। রাত সাড়ে আটটার দিকে বাসটি ঝিনাইদহের আরাপপুর নামক স্থানে পৌঁছালে বাসচালক মাহফুজুর রহমান পল্টনকে মারধর করা হয়।
প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে উধাও (১০ অক্টোবর)
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ক্যাম্পাস ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় ঝিনাইদহ কলেজ ছাত্রদলের কর্মী ফয়সাল সামি ও হুসাইন-সহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জন জড়িত রয়েছে বলে ঝিনাইদহের স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। পরে ২০/৩০ জন অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে ঝিনাইদহ থানায় মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
যদিও এর আগের রাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর সাথে ভুক্তভোগীর পক্ষে বাস চালকরা সাক্ষাৎ করেন এবং দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।
উপাচার্যের সঙ্গে বাস চালকরা সাক্ষাৎ করেন ( রাত ১০টা)
এদিকে মেইন গেইটের দেয়া তালার চাবি এখনও পাননি বলে অভিযোগ নিরাপত্তা কর্মীদের। প্রতিদিনের ন্যায় রাতে ট্রিপে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার হতে ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাড়া বাস ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেখানে পৌঁছালে বাসটির চালক ও স্টাফরা জানান, “বাস ক্যাম্পাসে যাবে না। ক্যাম্পাসে ঝামেলা হয়েছে, আমরা যেতে পারব না।” এই ট্রিপে বাস ছিল রাজ মোটরস পরিবহনের ‘পদ্মা আরএম-গাজীপুর (নং ০৪০৪২০)’।
ভুক্তভুগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য— তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি বাস পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। বাসটি ঝিনাইদহের আরাপপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সৃজনী তেল পাম্পের সামনে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ২০/৩০ জন দুর্বৃত্তরা বাস-চালক পল্টনের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পল্টনকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারতে থাকে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বাস ঝিনাইদহ শহরে প্রবেশ করলে সেটি ভাঙচুর ও আটকে দেওয়ার হুমকিও দেয়। পরবর্তীতে আহত অবস্থায় পল্টনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং শিক্ষার্থীরা অন্য একটি লাইনের বাসে করে ক্যাম্পাসে ফিরে যান।
ক্যাম্পাসে ফিরে রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ রুটিন বাস টার্মিনালে পৌঁছালে চালক জানান, বাস আর ক্যাম্পাসে যাবে না। আমরা জানতে চাইলে তারা জানান, ‘ক্যাম্পাসে ঝামেলা হয়েছে, আপনি জানেন না?’ আমরা বললাম, ‘ নিয়োগ নিয়ে ঝামেলো তো আগেই হয়েছিল, এখন আবার কী ঝামেলা?’ তখন চালক জানালেন, ‘এখনও ঝামেলা চলছে, আমরা যেতে পারব না।’ এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, আমরা তাদের বিচার চাই।
ক্যাম্পাসে ফিরে রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা
স্থানীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ‘কুহেলিকা’ বাসে হামলার ঘটনায় ঝিনাইদহ কলেজ ছাত্রদলের কর্মী ফয়সাল সামী ও হুসাইনসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জন জড়িত রয়েছে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যম বরাত অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ভাড়াকৃত বাসকে বাঁধা দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ বাস মালিক সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, ‘ছাত্রদলের কিছু কর্মী বাস চালাতে নিষেধ করেছে এবং হুমকি দিয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বাস ঝিনাইদহ রুটে চললে তা ভাঙচুর করা হবে। এজন্য বাস মালিকরা বাস ছাড়েন নাই।’ এর পূর্বে দুপুরে এবং মালিক সমিতিকে যারা বাস বন্ধের হুমকি দিয়েছিল, তারাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত।
পরিবহন দপ্তর সূত্রে আরও জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিবহন প্রশাসক নিয়োগ পাওয়ার পর ইবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আর্থিক সহায়তা দাবি করে এবং সেসময় তারা উল্লেখ করেন যে তারা আগে থেকেই পরিবহন প্রশাসন অফিস থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকতেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে পরিবহন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী।
ভুক্তভোগী মাহফুজুর রহমান পল্টন বলেন, আমি বাস নিয়ে ঝিনাইদহ যাওয়ার সময় আরাপপুরের তেল পাম্পের সামনে বাস আটকানো হয়। তখন একটা ছেলে বাসে উঠেই আমাকে লাথি মারে। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশ থেকে লোকজন এসে আমাকে এলেপাথাড়ি মারধর করে।
অভিযুক্ত ফয়সাল সামি বলেন, ‘আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। ওইদিন ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমি ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ-সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মানিক এবং যুগ্ম সাধারণ-সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল ভাইয়ের রাজনীতি করি।’
জানা যায়, মুশফিকুর রহমান মানিক ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মানিক জানান, ‘আরাপপুরে একটি ঘটনর কথা শুনেছি। কারা কিভাবে হলো জানি না। সামি সমর্থক টাইপের কর্মী। আমি তার বিষয়ে অভিযোগ শুনিনি। আমাকে কেউ জানায়নি। সুতরাং এ বিষয়ে কিছুই জানি না। অভিযোগ আসলে খোঁজ নিয়ে দেখব।’
ভাড়াকৃত বাস রাজ মোটরসের মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, গাড়ি চালালে অসুবিধায় পড়তে হবে এমন হুমকি দিয়েছে এবং স্টাফদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। এজন্য তারা গাড়ি নিয়ে যেতে রাজি হয় নাই।
এদিকে তারা জানান ‘আমাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কিছুটা ঝামেলা চলছে; দুপুরে ক্যাম্পাসের গেটে তালা দেওয়া হয়েছিল।’ তবে কারা হুমকি দিয়েছে তাদের নাম বলতে পারব না।
জানতে চাইলে ঝিনাইদহ কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাসানুজ্জামান শিপন বলেন, আমি গতকাল ঘটনাটা শুনেছি। যাদের নামে অভিযোগ এসেছে তারা ছাত্রদল করে এটা সত্য। আমার জানামতে ওদের দু’জনের একজনও বাস চালকের হামলার ঘটনার ওখানে উপস্থিত ছিল না।
ইবির পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. আব্দুর রউফ বলেন, ‘পদ্মা আরএম-গাজীপুর’ ভাড়াকৃত বাসটি ক্যাম্পাসে আসতে দেওয়া হয়নি। গতকাল যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলোর সঙ্গে এর প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। ফটক আটকানো এবং ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া বাস মালিক সমিতিকেও গাড়ি না চালানোর জন্য হুমকি দেওয়া হয়। হামলাকারীদের এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি।’
এদিকে, ওই রাতেই মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের বাস চালকরা উপাচার্য বরাবর মৌখিকভাবে নিরাপত্তা ও মারধরের ঘটনার বিচারের দাবি জানান। তৎক্ষনাৎ, উপাচার্য ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে মামলা করার নির্দেশ দেন এবং প্রক্টর ড. শাহিনুজ্জামানকে নিরাপত্তা জোরদার করতে নির্দেশ দেন।
উপাচার্যের আদেশ মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মনজুরুল ঝিনাইদহ থানায় মামলার আবেদন করা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তর বিষয়টি নিয়ে তদন্তের কাজ করছে বলে জানান।
মামলার বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা ২০/৩০ জনকে আসামি করে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ‘এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তবে যে বা যারা জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে দেওয়া হবে না।’
নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ বা ফ্যাসিস্ট সংশ্লিষ্ট কাউকে নিয়োগ দিব না। যোগ্যতা ও মেধাই হবে নিয়োগের মাপকাঠি।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) সেন্ট্রাল লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও প্রযুক্তিবান্ধব করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে লাইব্রেরিতে অটোমেশন, ই-রিসোর্স বৃদ্ধি, নতুন বই সংযোজন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রয়েছে।
ডিজিটাল ও ই-রিসোর্স সংযোজন:
শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণা ও পড়াশোনার সুযোগ সহজ করতে আন্তর্জাতিক মানের ই-বুকস ও ই-জার্নালের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকাশনার (JSTOR এবং Emerald) ই-জার্নাল ক্রয় করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইপি (IP) অ্যাড্রেস ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই ডাউনলোড ও পড়তে পারছেন।এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) (HEAT) প্রকল্পের আওতায় ৭টি প্রকাশনার প্রায় ৩০,৭০০ শিরোনামের ১১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার ই-বুকস ও ই-জার্নাল ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি লাইব্রেরিতে অটোমেশনের প্রাথমিক ধাপের কাজও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
নতুন বই সংযোজন:
শিক্ষার্থীদের পাঠ্যচাহিদা পূরণে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ৩৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকার নতুন বই ক্রয় করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে রিডিং রুমে পাঠের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালে প্রায় ২৫ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকার নতুন বই ক্রয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। খুব শীঘ্রই এসব বই লাইব্রেরি সংগ্রহে যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিরাপত্তা:
শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে পড়ালেখার পরিবেশ নিশ্চিত করতে লাইব্রেরি ভবনের পশ্চিমাংশে আউটডোর রিডিং জোনে উভয়মুখী বসার বেঞ্চ ও টেবিল স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণ অংশেও একই ধরনের বসার ব্যবস্থা করার কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া আউটডোর রিডিং জোনের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে দুটি আধুনিক ওয়াশরুম নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও (স্টাফদের) যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে ভবনের বাইরে গাড়ি রাখার জন্য একটি গ্যারেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ইনডোর ও আউটডোর উভয় জোনের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ভাবনা:
লাইব্রেরির এই আধুনিকায়ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ বলেন, লাইব্রেরিতে JSTOR এবং Emerald-এর মতো আন্তর্জাতিক মানের ই-জার্নাল যুক্ত হওয়া আমাদের জন্য দারুণ একটি সুযোগ। আগে গবেষণার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক ভালো আর্টিকেল বা বই আমরা পেতাম না। এখন ক্যাম্পাসের আইপি ব্যবহার করে খুব সহজেই এগুলো ডাউনলোড করে পড়তে পারছি। এছাড়া আউটডোর রিডিং জোনে বসার সুন্দর ব্যবস্থা ও নতুন ওয়াশরুমের সুবিধা দীর্ঘ সময় লাইব্রেরিতে পড়ার ক্ষেত্রে বেশ স্বস্তি দেবে।
একই বিষয়ে নাম প্রকায় না করার শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভিত্তি হলো তার শিক্ষা ও গবেষণা। সেন্ট্রাল লাইব্রেরিকে এভাবে প্রযুক্তিবান্ধব ও আধুনিক করার উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। বিপুল পরিমাণ ই-বুক ও ই-জার্নাল সংযোজন শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণার মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। একই সাথে নতুন বইয়ের সংযোজন এবং লাইব্রেরির অটোমেশন প্রক্রিয়া শিক্ষক ও গবেষকদের সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচাবে।
অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম:
আর্কাইভস সেকশনকে সমৃদ্ধ করতে ২০১১ সাল থেকে অদ্যাবধি বাছাইকৃত ৬টি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পত্রিকা টেন্ডারের মাধ্যমে বাঁধাইকরণের কাজ চলছে। পাশাপাশি লাইব্রেরি ভবনের ৩য় তলার আংশিক সম্প্রসারণের কাজও খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, এসব উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার সিংহভাগই ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ লাভ করেছে, যা বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এ শহীদ আবু সাঈদ গেটের নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহিদ আবু সাঈদের পিতা মোঃ মকবুল হোসেন । উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, রংপুর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান প্রমুখ।
নির্মাণকাজের উদ্বোধন শেষে বেরোবি রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোঃ ফেরদৌস রহমানের সঞ্চালনায় এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি। তিনি বলেন, আবু সাঈদ মুক্তিকামী মানুষের প্রতীক। আমরা রংপুরকে নিয়ে তিনটি কারণে গর্ববোধ করতে পারি। প্রথমত, যার নামে এই বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া। দ্বিতীয়ত, রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত এই ভাওয়াইয়া গানকে সারা বিশ্বে সমৃদ্ধ করেছেন সুরসম্রাট আব্বাস উদ্দিন। এবং তৃতীয়ত, শহিদ আবু সাঈদ, জুলাই আন্দোলনের বীর আবু সাঈদ যেভাবে বুক চিতিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছে, রংপুরের মানুষ যে সাহসী- তা সারা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের কাছে এখন পরিচিত। এই তিন ব্যক্তিত্ব রংপুর অঞ্চলের গর্ব। মন্ত্রী বলেন, ২৪-এর আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারের অধীনে বাংলাদেশ এখন সঠিক পথে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি জানান. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে নেওয়া বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে একনেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পাস করার ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি বলেন, সারা বিশ্বে যে কয়টি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম জুলাই আন্দোলন। শহিদ আবু সাঈদের আত্মদানের ঘটনা বিশ্বের বুকে সবার উপরে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প একনেকে পাস করা হবে।
তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামে আধুনিক ও যুগোপযোগী সাবজেক্ট যেমন—রোবটিক্স, এআই, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স—এগুলি খুব দ্রুত চালু করা হবে। এছাড়া শিক্ষক সংকট দূর করতে নতুনভাবে শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রমও শুরু হবে। উত্তরাঞ্চলের এই বিদ্যাপীঠকে এগিয়ে নিতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
সভাপতির বক্তব্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শওকাত আলী বলেন, শহিদ আবু সাঈদ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ব এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত এই গেট শুধু একটি প্রবেশদ্বার নয়, এটি আমাদের স্বাধীনতা, মূল্যবোধ ও চেতনার এক অবিচ্ছেদ্য স্মারক। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সহযোগিতায় এবং বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যুগোপযোগী নতুন কিছু সাবজেক্ট বা বিভাগ চালুর জন্য ইতিমধ্যেই ইউজিসিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বর্তমান সরকারের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আরো সমৃদ্ধ হবে বলে উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বেরোবি শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন, রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন এবং রিফাত হোসেন রাফি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
জাপানে উচ্চশিক্ষা, সরকারি বৃত্তি ও গবেষণার সুযোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জাপান এডুকেশন সেমিনার ২০২৬’। এতে জাপানের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা, মনবুকাগাকুশো (মেক্সট) বৃত্তি, আবেদন প্রক্রিয়া, গবেষণা ও ক্যারিয়ার গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে জাপানিজ ইউনিভার্সিটিজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (জুয়াব) ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দূতাবাস।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাপান দূতাবাসের জনসংযোগ ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান ইউ আওয়াগি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুয়াবের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ টি এম জাফরুল আজম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম জুলফিকার রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, বর্তমানে জাপানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হওয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটিতে উচ্চশিক্ষার পথ আরও সহজ হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাস্টার্স, পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল পর্যায়ে জাপানে বৃত্তিসহ পড়াশোনা ও গবেষণার বহুমুখী সুযোগ রয়েছে। উন্নত গবেষণা অবকাঠামো, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং সাংস্কৃতিক সাদৃশ্যের কারণে দেশটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তৃতীয় ভাষা চালুর নীতিমালার আওতায় জাপানি ভাষা শেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এ টি এম জাফরুল আজম বলেন, জাপানে সরকারি বৃত্তির কোটা কিছুটা কমায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে। তবে বেসরকারি বৃত্তি ও গবেষণা তহবিলের সুযোগও বাড়ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতার আওতায় শিক্ষার্থীরা টিউশন ফিতে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপান দূতাবাসের জনসংযোগ ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান ইউ আওয়াগি বলেন, দূতাবাসের সুপারিশে বৃত্তির আসনসংখ্যা সাধারণত দশটি বা তার কম হওয়ায় আবেদনকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকে। গত দুই বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, মাস্টার্স পর্যায়ে বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত গবেষণার সঙ্গে সম্ভাব্য তত্ত্বাবধায়কের গবেষণার সামঞ্জস্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপকের গবেষণার ক্ষেত্র ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্স ও উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজতে ‘নাভি জাপান’-এর মতো তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে জাপানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. ইমদাদুল হক এবং বাকৃবির কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এম. মাসুদ রানা।
এ সময় জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা, বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া, গবেষণা প্রস্তাব প্রস্তুত, তত্ত্বাবধায়ক নির্বাচন ও উচ্চশিক্ষা-পরবর্তী কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার উত্তর দেন আলোচকেরা।