Connect with us

খেলাধুলা

পাকিস্তানের বদলে বিশ্বকাপে উগান্ডাকে খেলানোর পথও খোলা রাখছে আইসিসি!

Published

on

পাকিস্তান বিশ্বকাপে খেলবে নাকি বর্জন করবে, এই অচলাবস্থার অবসান হয়েছে গত রোববার। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে পাকিস্তান, তবে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি খেলবেন না সালমান আলী আঘারা।

পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তের পর থেকে আলোচনা-সমালোচনা কম হচ্ছে না। আইসিসিও অবশ্য পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সতর্কবার্তাও দিয়েছে পিসিবিকে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, পাকিস্তান নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে আইসিসি থেকে কড়া শাস্তি পেতে পারে পাকিস্তান। সেই শাস্তির একটি হতে পারে- পুরো বিশ্বকাপ থেকেই পাকিস্তানকে নিষিদ্ধ করা!

পাকিস্তানকে যদি নিষিদ্ধ করা হয়, তবে তাদের জায়গায় বিশ্বকাপে খেলবে কোন দল? যদি আইসিসি থেকে এমন কড়া সিদ্ধান্ত আসেই, সেক্ষেত্রে কপাল খুলতে পারে উগান্ডার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, র‍্যাঙ্কিং বিবেচনায় তখন বিশ্বকাপে সুযোগ পাবে আফ্রিকার দেশটি।

পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের এই পর্বটার সূত্রপাত হয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ ইস্যু থেকে। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার অনড় অবস্থান নেয় বাংলাদেশ। পরবর্তীতে নানান ঘটনার পর বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয় আইসিসি।

ওদিকে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের কথা ভাবতে থাকে পাকিস্তান। পরবর্তীতে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুরো বিশ্বকাপ নয়, শুধু ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে হতে যাওয়া গ্রুপ পর্বের ম্যাচটা খেলবেন সালমান-বাবর আজমরা।

আইসিসি এরই মধ্যে পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত নিয়ে পুনরায় ভাবার আহ্বান জানিয়েছে। কারণ এই ম্যাচটার সঙ্গে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব জড়িত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সূত্র জানিয়েছে, পিসিবি যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে জয় শাহের নেতৃত্বাধীন আইসিসি পাকিস্তানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

পাকিস্তানের ওপর সম্ভাব্য শাস্তির তালিকায় আছে-

পুরোপুরি নিষিদ্ধ: ১৯৭০-রে দশকের সাউথ আফ্রিকার মতো সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকেই পাকিস্তানকে নিষিদ্ধ করা।

এনওসি স্থগিত: বিদেশি ক্রিকেটারদের পিএসএস খেলায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া। এতে পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটি কার্যত অচল হয়ে পড়বে।

রাজস্ব বণ্টন স্থগিত: আইসিসি থেকে পাকিস্তানকে যে রাজস্ব দেওয়া হতো, সেটা বন্ধ করে দেওয়া। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে বছরে আনুমানিক ৩ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার রাজস্ব পায় পাকিস্তান। বাংলাদেশি অর্থমূল্যে যার পরিমাণ প্রায় ৪২৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

এর বাইরে আসন্ন বিশ্বকাপ থেকেও পাকিস্তানকে নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে আইসিসি। আর যদি সেটা কার্যকর হয়, তাহলে পাকিস্তানের জায়গায় সুযোগ পাবে উগান্ডা। এর আগে বাংলাদেশকে যখন বাদ দেওয়া হলো, তখন র‍্যাঙ্কিং বিবেচনায় ১৪ নম্বরে থাকা স্কটল্যান্ড সুযোগ পেয়েছিল। এবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হলেও একই পথে হাঁটতে পারে আইসিসি। সে হিসেবে ২০ দলের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর বাইরে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে সবার ওপরে উগান্ডা। তাই পাকিস্তান বাদ পড়লে র‍্যাঙ্কিংয়ে ২১ নাম্বারে থাকা উগান্ডাই সুযোগ পাবে বিশ্বকাপে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বিজেপির ‘হিন্দুত্ববাদের’ থাবায় যেভাবে বিপন্ন ক্রিকেট

Published

on

By

১৯৯৩ সালের কথা। ‘ডর’ ও ‘বাজিগর’–এর মতো পরপর দুটি মেগাহিট সিনেমা দিয়ে বলিউডে এক কিংবদন্তি ক্যারিয়ারের সূচনা করেছিলেন এক উদীয়মান তারকা। তিনিই প্রথম দর্শকদের কাছে ‘অ্যান্টি-হিরো’ বা খলনায়ক চরিত্রের নতুন এক ধারণা নিয়ে আসেন। এর ঠিক ৩৩ বছর পর, সেই ঘটনার জেরেই বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কৃত হতে হলো বাংলাদেশকে!

কথাগুলো পড়ে যদি আপনার কাছে অর্থহীন মনে হয়, তবে এই দুই ঘটনার পেছনের যোগসূত্র মেলাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। তবে এই গল্পের মূলে যে নতুন উদ্বেগজনক বাস্তবতা, তা হলো—বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কীভাবে ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী সরকারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

গত ২ জানুয়ারি ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা সংগীত সোম দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় মুসলিম ব্যক্তিত্ব শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করে বসেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) মালিক শাহরুখ। তার দলই মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভিড়িয়েছিল। 

মোস্তাফিজকে ‘ভয়াবহ পরিণতির’ হুমকি দিয়ে সংগীত সোম দাবি করেন, ভারতে শাহরুখের ‘বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই’। 

এর কয়েক দিনের মধ্যেই ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (বিসিসিআই) কেকেআরকে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার ‘অনুরোধ’ করে। কারণ হিসেবে ‘চারপাশে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাবলির’ মতো একটি অস্পষ্ট অজুহাত দাঁড় করায় তারা।

এমন ঘটনার পর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিক্রিয়া জানান বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় নিতে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসিকে জানাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) নির্দেশ দেন তিনি।

আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, ‘যদি একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার ভারতে খেলতে না পারেন… তাহলে পুরো বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপের জন্য ভারতে ভ্রমণ করাটা নিরাপদ বোধ করতে পারে না।’

বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পর আইসিসি কড়া ভাষায় বাংলাদেশের এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। সংস্থাটি জানায়, এমন কিছু করা হলে তা ‘এমন এক নজির স্থাপন করবে, যা আইসিসির ভবিষ্যৎ ইভেন্টগুলোর স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন করবে এবং বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এর নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।’ 

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকেই সরিয়ে দিয়ে আইসিসি বাংলাদেশের বদলি হিসেবে স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করে।

এরপর, আইসিসির এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তিনি আইসিসির এই পদক্ষেপকে ‘দ্বৈত নীতি’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র বিরোধিতা করেন। এর কয়েক দিন পরই পাকিস্তান সরকার তাদের ক্রিকেট দলকে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষের ম্যাচটি বয়কট করার নির্দেশ দেয়।

এখন প্রশ্ন হলো, এই পুরো ঘটনার সঙ্গে ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী আদর্শের সম্পর্ক কোথায়?

শুরুতেই বলা যায়, শাহরুখ খান ও মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে সংগীত সোমের দেওয়া হুমকি মূলত বিজেপির সেই পুরনো মুসলিমবিদ্বেষী কৌশলেরই অংশ। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে এই ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। 

সেখানকার স্থানীয় মুসলমানদের ‘বাংলাদেশি শরণার্থী’ দাবি করে বহিষ্কারের ডাক দিচ্ছে বিজেপি, কট্টর সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অংশ হিসেবেই এসব বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে তারা।

যদিও হিন্দুত্ববাদী বিজেপির লক্ষ্যবস্তুতে শাহরুখ খান এবারই প্রথম নন। কয়েক দশকের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কারণে ভারতীয় সমাজে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ‘আইকন’ হিসেবে তাকে বারবার নিশানা করা হয়েছে।

তবে এবারে খোদ বিসিসিআই সরাসরি হস্তক্ষেপ করে মোস্তাফিজকে সরিয়ে নিতে কেকেআরকে ‘অনুরোধ’ জানায়। এই সিদ্ধান্তের আগে বিসিসিআইয়ের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের আলোচনা বা বিতর্ক হয়নি। 

‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোর্ডের একেবারে উচ্চপর্যায় থেকে এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বোর্ডের সাধারণ সদস্য বা আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গেও কোনো পরামর্শ করা হয়নি। বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা নিজেরাও সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। কোনো আলোচনা হয়নি, আমাদের কোনো পরামর্শও নেওয়া হয়নি।’

কেকেআরের কাছে বিসিসিআইয়ের সেই অনুরোধটিও ছিল ইচ্ছাকৃতভাবে অস্পষ্ট। কেন বা কী কারণে এমন দাবি তোলা হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা সেখানে ছিল না। আর এই অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়েই আইসিসি পরবর্তীতে বিসিবির নিরাপত্তা উদ্বেগের দাবিটি নাকচ করে দেওয়ার সুযোগ পায়।

ভারতীয় ক্রীড়া সাংবাদিক শারদা উগ্রার মতে, এই ‘অস্পষ্টতা’ মূলত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাম্প্রতিক কর্মপদ্ধতির একটি কৌশলগত বৈশিষ্ট্য। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে ভারতীয় দলকে কেন হাত মেলাতে নিষেধ করা হয়েছিল, তার কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব তিনি অনেক চেষ্টা করেও পাননি।

একইভাবে গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য ভারত কেন পাকিস্তান সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানাল, তারও কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত নির্দেশনা নেই। শারদা বলেন, ‘বিদেশ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র দপ্তর কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়—কোথাও কোনো স্পষ্ট বিবৃতি বা নির্দেশনা নেই। কোনো সুনির্দিষ্ট আদেশ ছাড়াই সবকিছু ঘটছে।’

মোস্তাফিজের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। শারদা বলেন, ‘কোনো দাপ্তরিক নথিপত্র বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার কোনো প্রমাণ নেই। এমন কোনো কাগজ নেই যেখানে লেখা আছে যে এই ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি করা যাবে না কিংবা তিনি বিপদে আছেন। সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সতর্কতাও নেই। পুরোটাই ঘটেছে শুধুমাত্র ফিসফাস আর গুঞ্জনের ওপর ভিত্তি করে।’

বিসিসিআই যদি ভারতের ক্ষমতাসীন দলের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে আইসিসিও তার থেকে আলাদা কিছু নয়। আইসিসির বর্তমান প্রধান জয় শাহ স্বয়ং ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছেলে—যিনি নরেন্দ্র মোদির পর ভারতের বর্তমান শাসনব্যবস্থার দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। 

বিশেষ করে, পাকিস্তানের মাটিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচগুলো ভারতের আপত্তির মুখে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত যারা হাসিমুখে মেনে নিয়েছিল, তাদের মুখে নিরপেক্ষতার বুলি এখন উপহাসের মতোই শোনায়।

গার্ডিয়ান-এর সাংবাদিক তাহা হাশিম লিখেছেন, ‘ভবিষ্যৎ ইভেন্টগুলোর পবিত্রতা রক্ষার দাবিটি আইসিসির জন্য একটি ‘কমেডি’। কারণ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে তাদের হাইব্রিড মডেলের সিদ্ধান্তই একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে, যা আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোকে হাসির খোরাক বানিয়ে দিয়েছে।’

ক্রিকেট বোর্ডগুলোর মধ্যে একমাত্র পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভিই এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির এই আচরণকে ‘দ্বৈত নীতি’ ও ‘অবিচার’ হিসেবে অভিহিত করে পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই সংকটে পাকিস্তানের মতো মিত্র পেলেও বাংলাদেশের বাস্তবতাকে একটু ভিন্নভাবে দেখছেন জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক মোহাম্মদ ইসাম।

ইসামের মতে, তিন দিকে ভারতবেষ্টিত একটি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ওপারের বাংলা ভাষাভাষীদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অনেক বেশি গভীর। ফলে বাংলাদেশের সামনে বিকল্প পথগুলো সীমিত। তিনি মনে করেন, বর্তমান সংকটটি সরাসরি সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও আসন্ন নির্বাচনমুখী রাজনীতির ফল।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা ছিল, মোস্তাফিজের ঘটনার পর বিসিবি হয়তো একটি কূটনৈতিক অবস্থান নেবে। ইসাম বলেন, ‘বিসিবি একটি মধ্যমপন্থি বিবৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। কারণ, বর্তমান সরকারের জন্য ভারতের বিরোধিতা করা রাজনৈতিক বিষয় হতে পারে, কিন্তু ক্রিকেট বোর্ডের কাছে ভারতীয় ক্রিকেটই সব। 

বিসিবি আসলে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে না। কারণ, ভারতের একটি মাত্র সফর দিয়ে বিসিবির কয়েক বছরের খরচ চলে যায়।’ 

আর্থিক লোকসানের এই ভয়টাই হলো ভারতের সেই ‘লাঠি’, যা দিয়ে তারা বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের একচ্ছত্র দাপট বজায় রাখে। পাকিস্তান ক্রিকেট প্রায় দুই দশক ধরে ভারতীয় অর্থ ও সম্পর্কের বাইরে থেকে টিকে থাকার অভ্যাস করে নিলেও, অন্য ছোট বোর্ডগুলোর সেই সক্ষমতা বা সাহস নেই। এমনকি ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রভাবশালী বোর্ডগুলোও এই বিষয়ে আশ্চর্যরকম উদাসীন।

ইয়েল ইউনিভার্সিটির লেকচারার সুশান্ত সিং এক ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, ‘সংখ্যাগুরুবাদী রাজনীতির বেদীতে বিসর্জন দেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে মোস্তাফিজই শেষ ব্যক্তি নন… এই তলোয়ার এখন প্রস্তুত এবং এর কার্যকারিতাও প্রমাণিত। আইসিসি, অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ড কিংবা বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যম—কারোরই এই ধারা থামানোর সদিচ্ছা নেই।’

এই স্রোত প্রতিরোধের উপায় কী? সুশান্ত সিং মনে করেন, ‘ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো যখন এমন পরিস্থিতির শিকার হবে, তখনই হয়তো কোনো পালটা প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। কিন্তু তার আগ পর্যন্ত আয়ের অংকের কথা চিন্তা করে এই অপমান মুখ বুজে সয়ে যাওয়াই হয়তো বোর্ডগুলোর নীতি হয়ে থাকবে।’

আইসিসি কিংবা ভারত বাদে অন্য দুই শক্তিশালী বোর্ড (ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া) থেকে কোনো প্রতিবাদের আশা দেখছেন না শারদা উগ্রাও। তিনি গত ৩০ বছর ধরে ক্রিকেট কাভার করছেন। তার মতে, ‘আইসিসিকে এর আগে কখনো এতটা অসহায় ও ছন্নছাড়া মনে হয়নি। এটি এখন একটি নীতিহীন সংস্থায় পরিণত হয়েছে। 

আর অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডগুলো বর্তমান ক্রিকেটের ‘বিগ ডন’ বিসিসিআইয়ের আজ্ঞাবহ সহযোগী ছাড়া আর কিছুই নয়। আইসিসিতে এখন কোনো যোগ্য বা পরিপক্ক নেতৃত্ব নেই।’

আইসিসির এই কথিত নেতৃত্বের দুর্বলতা ফুটে উঠেছে পাকিস্তানের ভারত-ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের পর। প্রতিটি টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি আয় আসে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে। পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর আগেই আইসিসি তড়িঘড়ি করে এক বিবৃতিতে জানায়, তারা আশা করে পিসিবি আলোচনার মাধ্যমে একটি ‘পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খুঁজে নেবে। 

বাংলাদেশের অনুরোধের ক্ষেত্রে আইসিসি যেমন কঠোর ছিল, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তাদের সুর ঠিক ততটাই নরম ও নমনীয়। স্পষ্টতই, বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় আইসিসি তাদের নীতি বিসর্জন দিতে প্রস্তুত।

শারদা উগ্রা বলেন, ‘হিন্দুত্ববাদী আন্দোলন ও বিসিসিআইয়ের ওপর বিজেপির নিয়ন্ত্রণ ক্রিকেটের বারোটা বাজাচ্ছে। বিসিসিআই এখন ক্রিকেট ভক্তদের চেয়ে ভারতের ‘ভোটের রাজনীতির’ মাঠকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।’ 

ভারতের কোনো একটি রাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারণার আঁচ গিয়ে পড়ছে ভিনদেশের খেলোয়াড় বা ক্রিকেট বোর্ডের ওপর, যা এই খেলার ভবিষ্যৎকেই পঙ্গু করে দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একজন ভারতীয় বিশ্লেষক যেমনটি লিখেছেন, ‘কয়েকজন মানুষের খুশির জন্য আপনি যদি আপনার সবচেয়ে বড় ‘সফট পাওয়ার’ (ক্রিকেট) পুড়িয়ে ফেলেন, তবে এমনই হবে। মোস্তাফিজকে নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের জেরেই পাকিস্তানের এই বয়কটের সিদ্ধান্ত।’

দুর্ভাগ্যবশত, এই সংকটের কোনো সহজ সমাধান নেই। সুশান্ত সিং মনে করেন, এই খেলার ‘শেষ উইকেটটি’ কোনো প্রতিপক্ষ বোলারের ডেলিভারিতে পড়বে না; বরং এটি পড়বে ব্রডকাস্টারদের মামলা কিংবা বাণিজ্যিক চুক্তির পতনের মাধ্যমে। এর ফলে ক্রিকেট নৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং আর্থিক—সব দিক থেকেই দেউলিয়া হয়ে যাবে। এই পথ থেকে ফেরার একমাত্র উপায় হলো ‘জবাবদিহি’।

ততদিন পর্যন্ত ক্রিকেটের মাঠের নিষ্ঠুর বাস্তবতা এটাই যে, ভারতের স্থানীয় রাজনীতিতে একটি প্রজাপতির ডানা ঝাপটানো অন্য দেশের ক্রিকেটের ভাগ্যে ঝড় ডেকে আনতে পারে।

সুত্র: টিবিএস

Continue Reading

top3

পিএসএলে মোস্তাফিজের চমক, নিলামের আগেই পেলেন দল

Published

on

By

নিলামের আগেই পাকিস্তান সুপার লিগে দল পেলেন বাংলাদেশের কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। সরাসরি চুক্তিতে পাকিস্তান সুপার লিগ-এর অন্যতম সফল ফ্র্যাঞ্চাইজি লাহোর কালান্দার্স গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করেছে তার নাম। যে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে সরাসরি সাইনিং হিসেবে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মুস্তাফিজুর রহমানকে ক্যালান্ডার্স ২০১৬ এবং ২০১৮ সালে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এবার আবারও তিনি লাহোর কালান্দার্সের জার্সি পরবেন। চুক্তি অনুযায়ী তার বেতন ৬ কোটি ৪৪ লাখ পাকিস্তানি রুপি।

লাহোর কালান্দার্সের মালিক সামীন রানা বলেন, “একবার কালান্দারস , সবসময় ক্যালান্দার। মুস্তাফিজুর কেবল একজন খেলোয়াড় নয়; তিনি আমাদের পরিবারের ভাই, এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশ যিনি কখনো আমাদের ছেড়ে যাননি। আমরা তাকে আবার আমাদের ড্রেসিং রুমে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত। তার প্রতিভা, অভিজ্ঞতা এবং নিষ্ঠা আমাদের জন্য অমূল্য হবে, যখন আমরা আমাদের শিরোপা রক্ষা করতে এবং শক্তিশালী ছাপ রাখতে চাই।”

এর আগে লাহোর কালান্দার্স তাদের অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি, প্রধান ব্যাটসম্যান আবদুল্লাহ শফিক, বহুমুখী খেলোয়াড় সিকান্দার রাজা এবং তরুণ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নাঈমকে ধরে রেখেছিল। এই কৌশলগত পদক্ষেপ দলের মূল কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং আগামী নিলামের আগে শক্তিশালী অভিযান গড়ার ভিত্তি তৈরি করেছে।

Continue Reading

top3

যেভাবে ‘স্বৈরাচার’ হয়ে ওঠে ওরা

Published

on

By

ক্রিকেট কি এখনো খেলা আছে, নাকি এটি ভারতের একচেটিয়া বাণিজ্যের একটি ‘পণ্য’ মাত্র? যে খেলাটির মূল মন্ত্র ছিল ‘জেন্টলম্যানস গেম’, আজ তা বিসিসিআই-এর টাকার থলে আর রাজনৈতিক কূটচালের কাছে বন্দি।

আইসিসি এখন আর কোনো স্বাধীন সংস্থা নয়, বরং এটি ভারতের স্বার্থরক্ষাকারী একটি আজ্ঞাবহ দপ্তরে পরিণত হয়েছে। ক্রিকেটবিশ্বে এখন যা চলছে, তাকে ভদ্রভাষায় ‘আধিপত্য’ বলা হলেও মূলত এটি একটি ‘ক্রিকেটীয় মাফিয়াতন্ত্র’।

এককালে ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট শাসন করলেও তারা অন্তত নিয়মের তোয়াক্কা করত। কিন্তু বর্তমান ভারত সেই নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আইসিসিকে বানিয়েছে তাদের হাতের পুতুল। আইসিসির প্রতিটি সিদ্ধান্তে এখন বিসিসিআই-এর সিলমোহর লাগে।

রাজস্ব বণ্টনের অদ্ভুত মডেল তৈরি করে সিংহভাগ টাকা ভারত নিজেদের পকেটে নিচ্ছে, আর বাকি দেশগুলো দয়ার পাত্র হিসেবে চেয়ে থাকছে। জয় শাহর আইসিসি সভাপতি হওয়ার পর এই ‘মাফিয়াতন্ত্রের’ কফিনে শেষ পেরেক ঠুকছে ভারত।

ক্রিকেটকে রাজনীতির উর্ধ্বে রাখার বুলি আওড়ানো ভারত আজ ক্রিকেটকে ব্যবহার করছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে। পাকিস্তানকে একঘরে করার পর ভারতের নজর এখন উদীয়মান শক্তি বাংলাদেশের দিকে।

মুস্তাফিজুর রহমানের মতো একজন বিশ্বমানের বোলারকে আইপিএল থেকে ছুড়ে ফেলা কেবল ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এটি মূলত একটি ‘কূটনৈতিক সংকেত’। ভারত চায় না তাদের প্রতিবেশী দেশের ক্রিকেটাররা বিশ্বমঞ্চে স্বনির্ভর হোক।

বরং তারা চায় সবাই যেন ভারতীয় অর্থের দাসের মতো আচরণ করে। আইপিএল এখন আর মেধার যাচাই নয়, বরং অনুগতদের পুরস্কৃত করার মঞ্চ।

আইসিসি ইভেন্টগুলোতে ভারতের সুবিধামতো পিচ তৈরি করা, বিভিন্ন দোহাই দিয়ে সূচি পরিবর্তন করা এবং আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ভারতের পক্ষ নেওয়া—এসব এখন নিয়মিত চিত্র।

মাঠের আম্পায়ার থেকে শুরু করে সম্প্রচারকারী ক্যামেরা, সবই যেন ভারতের ‘হোম কন্ডিশন’ নিশ্চিত করতে ব্যস্ত। তথাকথিত বিশ্বমঞ্চে ভারত এখন এমন এক প্রতিদ্বন্দ্বী, যাদের বিরুদ্ধে জিততে হলে কেবল ১১ জন খেলোয়াড় নয়, লড়তে হয় খোদ সিস্টেমের বিরুদ্ধে।

ক্রিকেট এখন আর প্রতিভা দিয়ে জেতা যায় না, এটি এখন ক্ষমতারও সমীকরণ। আইসিসি হলো সেই বিচারক যে বিবাদীর কাছ থেকেই সুবিধা নিচ্ছে!

যেভাবে একটি নির্দিষ্ট দেশ পুরো খেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে, তাতে ক্রিকেটের ‘গ্লোবাল’ তকমা আজ হাস্যকর। যদি ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট কেবল ভারতের ব্যবসায়িক লাভের জন্য আয়োজিত হয়, তবে বাকি দেশগুলোর ক্রিকেট খেলার প্রয়োজন কী? ক্রিকেটের এই ‘ভারতীয়করণ’ আসলে এই খেলাটিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

অনেকেই আফসোসের সুরে বলেছেন, ক্রিকেট বোর্ডগুলো যদি এখনই এই একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ায়, তবে অচিরেই ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় এমন এক খেলা হিসেবে পরিচিত হবে, যা একটি দেশের দাপটে তার প্রাণ হারিয়েছ

Continue Reading

Trending