নতুন বাংলাদেশ গঠনে জুলাই সনদের খসড়া চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন। পাঠিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে। তবে পিআর পদ্ধতি সহ গণ-অধিকার পরিষদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বড় মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী সাংসদে ও নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতি চায়।
জামায়াত ইসলামী-সহ সাত দলের বিক্ষোভ:
জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ সাতটি দল রাজধানীতে একযোগে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জুলাই সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন আয়োজন ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী বলেছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার বিষয়ে সফলতা আসছে না বলেই তারা মাঠের কর্মসূচিতে গেছে। ইসলামী আন্দোলন পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন প্রশ্নে ‘গণভোট’ দাবি করে বলেছে, জনগণ না চাইলে তারা এ দাবি থেকে সরে যাবে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, জাতীয় প্রেসক্লাব ও বিজয়নগর এলাকায় সাত দলের এই বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়। বিক্ষোভকারী অপর দলগুলো হলো, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও খেলাফত আন্দোলন।একই দাবিতে শুক্রবার সারা দেশে সব মহানগরে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে।
দলগুলোর দাবি— জামায়াত-সহ কয়েকটি দল দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের সাথে আলোচনা করে আসছিলেন। তবে টেবিলে তাদের দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়ায় মাঠে নামতে বাধ্য হয়েছে। জুলাই সনদ ও পিআর পদ্ধতি নাকচ করে বিএনপি একতরফা নির্বাচনে যেতে চায়।
আন্দোলনে নেই এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ ও এবি পার্টি:
জামায়াত তার ভাষায়– জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন দলকে নিয়ে একটি জোট গড়ার চেষ্টা করছে।রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে একটা ‘শোডাউনেরও’ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে করেন অনেকে।
তবে এখনো যুগপৎ মডেলে কোনো কর্মসূচিতে যেতে আগ্রহ দেখায়নি এনসিপি। যদিও শুরু থেকেই ইসলামী বিভিন্ন দল এবং এর বাইরে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় সম্পৃক্ত ছিল এই দলটি। দলটি উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চাইলেও নিম্নকক্ষে আগের মতো নির্বাচন চান।
জামায়াতে ইসলামীর আন্দোলন:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৫ দফা দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছে। দাবিগুলো হলো— জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা এবং স্বৈরাচারী শক্তির দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ।
এই দাবিগুলো আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ১৮, ১৯ ও ২৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ জামায়াতের যৌথ উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছে সংগঠনটি। তবে ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাবি আদায় করতে পারবে কিনা প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সেখানে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা চলমান অবস্থায় কেন জামায়াত মাঠের কর্মসূচিতে গেল, তার ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘আলোচনার টেবিলে যাচ্ছি, কিন্তু সে আলোচনায় সফলতার মুখ দেখছি না। মনে হয়, কোনো চাপের মধ্যে পড়ে সরকার একটি শুভংকরের ফাঁকির দিকে যাচ্ছে।’
এই আন্দোলনকে ‘রাজনীতির অংশ’ উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘এই আন্দোলন জনগণের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরার জন্য।’ সমাবেশে পিআরের পক্ষে গণভোটের দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘আমরা চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি, গণভোট দিন। জনগণ যদি পিআর মানে, তো আপনাদেরও (অন্তর্বর্তী সরকার) মানতে হবে। আর জনগণ যদি বিপক্ষে যায়, আমরা জামায়াতে ইসলামী তা মেনে নেব।’
জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ সমাবেশ
বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোতে নির্বাচন হলে আরেকটি ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে উল্লেখ করে পরওয়ার বলেন, ‘সংস্কার যদি এখন না হয়; রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যগুলো ঠিক করার জন্য যত সংস্কার, তা যদি নির্বাচনের আগে না হয়; বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোতে যদি আবার নির্বাচন হয়, তাহলে এই কাঠামোতে আরেকটি ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে। আরেকটি হাসিনার জন্ম হবে। বাংলার মানুষ আর ফ্যাসিবাদ জন্ম হতে দেবে না।’
এই যুগপৎ কর্মসূচি বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আন্দোলন হবে কি-না শঙ্কায় রাজনীতিবিদরা। কথার উত্তাপ আর রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে নিয়ে যাবে কারো জানা নেই। এদিকে আলোচনার টেবিল থেকে মাঠে নামাটা ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে বলে মনে করছে বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু বলেন, ‘আন্দোলনের নামে আমি তো চাইলে রাস্তা অবরোধ করতে পারবো না৷ মবক্রেসি করতে পারি না৷ কেউ যদি রাস্তায় নেমে জোর করে চাপিয়ে দিতে চায় তাহলে জনগণের উপর আস্থার অভাব।’
আমীর খসরু
পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক উত্তাপ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘সবাই চাচ্ছে আর আপনি চাচ্ছেন না এটা কেমন সংস্কার? আপনি যেটা চাচ্ছেন সেটা বাংলাদেশে আর হবে না। আমরা জনগণের পক্ষে আন্দোলন করতেছি। এখানে সংঘাত-ক্লেশ হবে কেন? এখনও কি স্বৈরাচার মাঠে আছে?’
হামিদুর রহমান আযাদ
বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করিম বলেন, ‘টেবিলে সমাধান করতে পারেনি। জনগণ কী চায় তা তারা বুঝতেছে না। যদি ঐক্যমতে পৌঁছাতে না পারেন, তাহলে গণভোট দেন। ডিসাইড করবে জনগণ— তারা পিআর চায় কি চায় না।’
বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন
এদিকে বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাতকারে গণঅধিকার পরিষদের নেতা রাশেদ খান মন্তব্য করেন, ‘যুগপৎ আন্দোলন নামে আমরা বিভক্ত হয়ে গেলে আবারো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে পারে।’
এদিকে রাজপথে জবাব দিতে প্রস্তুত না বিএনপি, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন গোছানোর পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।
পিআর পদ্ধতির সুবিধা-আসুবিধা:
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পিআর পদ্ধতিতে যেসব সুবিধা রয়েছে তা হচ্ছে:
১. অসংখ্য রাজনৈতিক দলের এ দেশে বহু মত-পথ থেকে ভোটারদের কাছে যাওয়া হয়। অতীতের নির্বাচনগুলোতে আট-দশটির বেশি দল সংসদে যেতে পারেনি। হয়তো কোনো দল ৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে কিন্তু আসন একটিও পায়নি। কিন্তু পিআর পদ্ধতি হলে ৯টি আসন পেতে পারত। সুতরাং পিআর পদ্ধতি ছোট দলগুলোর সংসদে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। লক্ষণীয়, কোনো কোনো ছোট দলে বড় মাপের দু’-একজন নেতা দেখা যায়। পিআর পদ্ধতি হলে ছোট ছোট দলের একাধিক নেতা সংসদে স্থান পাবেন। তাতে সংসদে জনপ্রতিনিধিত্ব যেমন বাড়বে, তেমনি সংসদে মানসম্মত নেতারা যেতে পারবেন।
২. বর্তমান পদ্ধতিতে একটি আসনে যদি পাঁচজন প্রার্থী থাকেন, তার মধ্যে একজন ২৫ শতাংশ ভোট পেয়েও বিজয়ী হতে পারেন। তার মানে তিনি ৭৫ শতাংশ ভোটারের সমর্থন ছাড়া নির্বাচিত হয়েছেন। পিআর পদ্ধতি এ দিক থেকে অধিকতর প্রতিনিধিত্বশীল।
৩. বর্তমান পদ্ধতিতে প্রার্থীরা যেকোনো আঞ্চলিক ইস্যুতে আবেগ ছড়িয়ে দিয়ে বা কালো টাকা ব্যবহার করে সুইং ভোটারদের মন জয় করতে পারেন। কিন্তু পিআর পদ্ধতিতে কোনো নির্বাচনী এলাকায় বিশেষ কোনো প্রার্থী থাকেন না বিধায় বিশেষ কোনো ইস্যু নিয়ে জোয়ার সৃষ্টি করার সুযোগ পাবেন না। ভোটারদের নিজ নিজ দলের এবং জাতীয় বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে।
৪. বর্তমানে দেশের সংসদ সদস্যরা এলাকার বিচার সালিস থেকে শুরু করে ছোটখাটো উন্নয়নমূলক কাজেও হস্তক্ষেপ করে থাকেন। তারা বিভিন্ন কাজে মন্ত্রণালয়ে তদবির কাজে ব্যস্ত থাকেন। অথচ তাদের প্রধান কাজ দেশের জন্য আইন প্রণয়ন করা। আইন প্রণয়নে যথেষ্ট পড়াশোনা ও যোগ্যতা থাকতে হয়। পিআর পদ্ধতিতে কোনো সংসদ সদস্য যেহেতু নির্দিষ্ট কোনো এলাকার প্রতিনিধিত্ব করবেন না, সেহেতু তারা আইন প্রণয়নে অধিকতর সময় ব্যয় করতে পারবেন। এতে করে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ করতে স্থানীয় সরকার তথা ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা বা জেলা পরিষদ অধিকতর সক্রিয় হয়ে উঠতে পারবে।
৫. আমাদের সংস্কৃতিতে যার ভোটে প্রার্থী জিততে পারেন না তার ভোট মূল্যহীন গণ্য করা হয়। পিআর পদ্ধতিতে কোনো দল কমপক্ষে ১ শতাংশ ভোট পেলেও দলটি সংসদে তিনটি আসন পাবে। ফলে ছোট ছোট দলকে যারা ভোট দিয়েছেন তাদের ভোটটি নষ্ট হয় না বলে বিবেচনা করা হয়।
৬. বিদ্যমান ব্যবস্থায় কোনো নির্বাচনী এলাকার কয়েকজন প্রার্থী থাকলে একজন ন্যায়নিষ্ঠ ভোটার তাদের কাউকে পছন্দ নাও করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তিনি হয়তো ‘না’ ভোট দিতে পারবেন, কারণ তার কাছে আর কোনো অপশন থাকে না। কিন্তু পিআর পদ্ধতিতে একটি দলের অনেক প্রার্থীর কারণে তিনি কোনো একটি দলকে বেছে নিতে পারেন। অর্থাৎ- তার ভোট দেয়ার জন্য বৃহত্তর অপশন থাকে।
৭. বিদ্যমান ব্যবস্থায় একজন প্রার্থী জয়লাভে মরিয়া হয়ে উঠেন এবং বিশাল বাজেট (যা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না), পেশিশক্তি দিয়ে ভোটারদের ভয় দেখানো, ভোটকেন্দ্র দখল, অনৈতিক আচরণ ইত্যাদির আশ্রয় নিয়ে থাকেন। কিন্তু পিআর পদ্ধতি হলে যেহেতু ব্যক্তি মুখ্য থাকে না, সেহেতু তিনি দলের হয়ে ততটা মরণপণ করবেন না। ফলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
৮. বিদ্যমান দু-একটি দল প্রভাবশালী হওয়ায় নির্বাচনকালে অধিকতর সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। কিন্তু পিআর পদ্ধতি হলে ছোট-বড় সব দল সমান সুবিধা পাবে।৯. বিদ্যমান ব্যবস্থায় একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি দলীয় মনোনয়ন লাভে অর্থ ব্যয় করেন (অনেক দলের ক্ষেত্রে এটি সত্য)। কিন্তু পিআর পদ্ধতি হলে অর্থ ব্যয়ে মনোনয়ন লাভের আগ্রহ কমে যেতে পারে।
১০. অনেকে যুক্তি দিয়ে থাকেন, পিআর পদ্ধতিতে কোনো দলের পক্ষে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়া সম্ভব হয় না বিধায় কোয়ালিশনের বিকল্প থাকে না; ফলে সরকার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। বিষয়টি ইতিবাচকভাবেও দেখা যেতে পারে। সেটি হচ্ছে- কোয়ালিশন বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের সুযোগ করে দিতে পারে। একটি দেশের সব মত-পথকে সমান মর্যাদা দিতে হবে।
১১. বিদ্যমান ব্যবস্থায় কোনো একটি জেলা বা উপজেলার দোহাই দিয়ে আঞ্চলিকতার সুর তুলে ভোটারদের মন জয় করা যেতে পারে। যেমন- রংপুরের ভোটাররা একসময়ে জেনারেল এরশাদকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতেন। কিন্তু তার দল অন্য জেলায় ভালো ভোট পেত না। আবার কোনো দল গোপালগঞ্জের বা পার্বত্য চট্টগ্রামের দোহাই দিয়ে কয়েকজন প্রার্থী জিতিয়ে আনতে পারে। পিআর পদ্ধতি হলে সেটি সম্ভব হবে না। জার্মানিতে ১৯৪৯ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত একাধারে ৫০ বছরের মধ্যে আট বছর ছাড়া ফ্রি ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কোয়ালিশন করে ক্ষমতায় ছিল, যদিও কখনো ১২ শতাংশের বেশি ভোট পায়নি।
পিআর পদ্ধতির অসুবিধাগুলো কী কী:-
১. পিআর পদ্ধতির অসুবিধাগুলোর মধ্যে প্রধান হচ্ছে কোয়ালিশন সরকারের স্থিতিশীলতা থাকে না। সে জন্য সরকার কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। আমাদের দেশে রাজনৈতিক বিভাজন এত বেশি যে, কোয়ালিশন সরকারের কতটা স্থিতিশীল থাকবে তা বলা কঠিন। যদিও নির্বাচনী জোট গঠনের সুখকর উদাহরণ একাধিক রয়েছে।
২. পিআর পদ্ধতি যদিও ছোট দলগুলোকে সুবিধা দেয় কিন্তু কোনো উগ্রবাদী দল যদি সরকার গঠনে অপরিহার্য হয়ে উঠে সে ক্ষেত্রে বেশি ভোট পাওয়া দলটির জন্য বিপদ হয়ে যেতে পারে। উগ্রবাদীদের চাপে সরকার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে সরকার বাধ্য হতে পারে।
৩. পিআর পদ্ধতি যদিও কোয়ালিশন সরকারের প্রবণতা নিশ্চিত করে, সমধর্মী পার্টিগুলো যদি একত্র হয়ে সরকার গঠন করে, সে ক্ষেত্রে ক্ষমতা আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে।
৪. পিআর পদ্ধতি ছোট দলগুলোকে আরো সুবিধা দেয়, এরা সরকার গঠনে অপরিহার্য শক্তি হয়ে উঠতে পারে। ফলে নির্বাচকমণ্ডলীর একটি ক্ষুদ্র অংশ দেশের বৃহত্তর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে অনুঘটকের কাজ করতে পারে।
৫. বিদ্যমান পদ্ধতিতে কোনো নির্বাচিত সদস্য যদি কোনো ভুলত্রুটি করেন বা জনগণের চাহিদা/দাবি পূরণে ব্যর্থ হন, তাহলে ভোটাররা পরবর্তী নির্বাচনে আর ভোট দেবেন না। কিন্তু পিআর পদ্ধতির একটি বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে, প্রার্থী কোনো বিশেষ এলাকার না হওয়ায় ব্যর্থ সংসদ সদস্যের প্রতি অনাস্থা দেয়ার সুযোগ থাকে না। কারণ তিনি ব্যক্তি হিসেবে নন, দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচিত হন।
৬. ব্রিটিশ আমল থেকে বাংলাদেশে প্রচলিত পদ্ধতিতে ভোট হয়ে আসছে। পিআর পদ্ধতি কারো কাছে বেশ জটিল মনে হতে পারে। এ জন্য ভোটার এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রায়হান সুবহান পিআর পদ্ধতির অসুবিধা নিয়ে ফেসবুক স্টাটাসে লিখেন, পিআর সিস্টেমের একটা বড় অসুবিধা হলো-মুফতি আমীর হামজার মতো রিলিজিয়াস কাভারে রাতদিন বানোয়াট কথা বলা ব্যক্তিও এমপি হয়ে যেতে পারে। যারা এমন ব্যক্তিকে এমপি নমিনেট করলো তারা পিআর এ তাকে এমপি বানাতেও পারে।একজন এমপি -এর মূল কাজ কী? – Making laws or supporting them. এই দেশের ৫০%+ নেতা আইনের Definitionও জানে কি-না ডাউট আছে। আমাদের রাজনৈতিক সিস্টেম এমন এখানে অতীতে মমতাজ ও ভবিষ্যতে আমীর হামজারা আইন বানাবে এবং আইন অনুমোদন দিবে। যাহোক , ভালো থাকুন এবং ভালো রাখুন।’
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের চার দিন আগেও দলের ‘অভিমানী’ নেতাদের নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে বিএনপি। ধানের শীষ না পেয়ে এখনো অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপি নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া এসব নেতাকে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে দেখছে দলটি। তবে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ছাড় দেবে না বিএনপি।
দলটি মনে করছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে ভোটের মাঠে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। তাই দলীয় নানা উদ্যোগের পরও যেসব স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজেদের নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে নেবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে দল। নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ধানের শীষ ও জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হওয়ায় এখন পর্যন্ত ১১ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিএনপির অবস্থান হচ্ছে, দলের ডাকে এখন ‘বিদ্রোহী’ নেতারা সাড়া না দিলে পরবর্তী সময়ে তাদের ডাকেও দল সাড়া দেবে না। তবে অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা ও ত্যাগ বিবেচনায় নিয়ে এজন্য মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন অর্থাৎ আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত দেখবে দল। বিএনপির প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলের অধিকাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীই তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বিএনপির মতো এত বড় দলে যোগ্য প্রার্থী প্রচুর। তবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় এখনো শেষ হয়নি। আমরা আহ্বান জানিয়েছি, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি যেন তারা শ্রদ্ধাশীল হয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। অনেকে এরই মধ্যে প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছেন। আশা করি, তপশিল ঘোষিত সময়সীমার মধ্যেই বিএনপির বিদ্রোহীরা সবাই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন। সেটি না করা হলে দল থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শরিকদের জন্য ১৭টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, নিবন্ধিত শরিকরা তাদের নিজেদের প্রতীকে আর অনিবন্ধিত শরিকরা বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করছেন। অবশ্য বিজয় নিশ্চিতে কৌশলের অংশ হিসেবে শরিক কয়েকটি দলের নেতাদের বিএনপিতে যোগদান করিয়ে ধানের শীষ দেওয়া হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, জোটের ৮ শীর্ষ নেতা ধানের শীষে ভোট করছেন। অন্যদিকে, নিবন্ধিত ছয়টি দলের ৯ জন নেতা তাদের নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করছেন। আসন ছেড়ে দেওয়া ১২টি দলের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ছাড়া বাকি দলগুলো আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক।
মনোনয়নপত্র দাখিলের পর দেখা গেছে, একদিকে জোটের প্রার্থীদের ধানের শীষ অথবা সমঝোতার ভিত্তিতে আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বিএনপির নেতারাও সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন। এ অবস্থায় মিত্রদের কাছে যাতে কোনো ভুল বার্তা না যায়, জোটের ঐক্যে কোনো ফাটল না ধরে, সেজন্য বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে বিএনপি। ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে জোট নেতাদের বিজয় সুনিশ্চিত করতে চায় দলটি। তাই বিদ্রোহী প্রার্থীদের বুঝিয়ে নির্বাচন থেকে সরাতে অঞ্চলভিত্তিক বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের বেশ আগেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, সরাসরি কথা বলছেন; আগামী নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের গুরুত্ব তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কেও সতর্ক করা হচ্ছে। আর সর্বশেষ উদ্যোগ হিসেবে তারেক রহমান নিজেই ঢাকায় ডেকে তাদের কারও কারও সঙ্গে কথা বলছেন।
এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতির জোনায়েদ সাকির বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিষ্কৃত হওয়া দলের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ একে একরামুজ্জামান, ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিষ্কৃত হওয়া দলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, ঢাকা-১৪ আসনে দলের ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া দারুস সালাম থানা বিএনপির আহ্বায়ক এসএ সিদ্দিক সাজুসহ কয়েকজনকে ঢাকায় ডেকে কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। জানা গেছে, তারেক রহমান ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করছেন। এর অংশ হিসেবে নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে ধানের শীষ অথবা বিএনপি জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের যথাযথ মূল্যায়নেরও আশ্বাস দিচ্ছেন। আর এরই মধ্যে বহিষ্কৃত হয়ে থাকলে শিগগির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ব্যাপারেও আশ্বস্ত করা হচ্ছে।
তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এরই মধ্যে আব্দুল খালেক ও সৈয়দ একে একরামুজ্জামান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এর পরপরই তাদের দুজনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আরএকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ একে একরামুজ্জামান বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সেই নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।
তবে বিএনপি চেয়ারম্যানের নির্দেশনার পরও সাইফুল আলম নীরব ও এসএ সিদ্দিক সাজু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে থাকছেন। সে কারণে গত বুধবার সাজুকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাজু বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত এসএ খালেকের ছেলে।
জানতে চাইলে ঢাকা-১২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব কালবেলাকে বলেন, ‘আমি এই এলাকার সন্তান, এখানেই বড় হয়েছি, এই এলাকায় ৪৩ বছর রাজনীতি করি। এই এলাকায় এরশাদবিরোধী-হাসিনাবিরোধী আন্দোলন করেছি। এই এলাকার জনগণের সঙ্গে আমার সামাজিক বন্ধন আছে। অন্যদিকে যারা এমপি হতে এখানে নির্বাচন করতে আসছেন, তারা কেউ এই এলাকার সন্তান না। তারা এই এলাকায় এরশাদবিরোধী কিংবা হাসিনাবিরোধী আন্দোলনও করেননি, মামলাও খাননি।’
তিনি বলেন, ‘আমি গণসংযোগ করছি, এলাকার জনগণ আমার সঙ্গে আছে। সুতরাং আসন্ন নির্বাচনে আমি ঢাকা-১২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি।’
এদিকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খানের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুর্শিদা খাতুন (মুর্শিদা জামান পপি) এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তিনি জেলা বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত শহীদুজ্জামান বেল্টুর স্ত্রী। ওদিকে মাদারীপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ভোলা-১ আসন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীর। এ আসনটি জোট শরিক বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শরিকদের আসন ছাড় দিয়ে বিএনপির তৃণমূলকে হাইকমান্ড থেকে এরই মধ্যে কঠোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এরপরও কিছু আসনে ‘বিদ্রোহী’রা মাঠে রয়ে গেছেন। ফলে মাঠপর্যায়ে এখনো দ্বিধা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে বিষয়টি জানানোর পর কিছু এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হলেও তা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম বলে জোট নেতারা মনে করছেন। বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধেও দলের নেতারা স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে রয়েছেন।
নাটোর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে ফারজানা শারমিন পুতুল। ধানের শীষ না পেয়ে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু। টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল। বগুড়া-২ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি দলীয় প্রতীক ‘কেটলি’ নিয়ে লড়ছেন। এ আসনে বিএনপির শাহে আলমও দলীয় প্রার্থী হয়েছেন। পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তবে ধানের শীষ না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটে রয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুন। যদিও বহিষ্কারের আগেই দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি।
বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষ পান গণঅধিকারের রাশেদ খান। তবে এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ। যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে প্রথমে বিএনপির মনোনয়ন পান দলের উপজেলা শাখার সভাপতি শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। পরে এই আসনটি চূড়ান্তভাবে ১২ দলীয় জোট শরিক ‘অনিবন্ধিত’ জমিয়তের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রশিদ বিন ওয়াক্কাসকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। তবে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন ইকবাল। নড়াইল-২ আসনে প্রথমে দলের মনোনয়ন পান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম। পরে জোট শরিক ‘অনিবন্ধিত’ এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে আসনটি ছেড়ে দেয় বিএনপি। তবে মনিরুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
বাগেরহাট-১, ২ ও ৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম। তিনি সিলভার লাইন গ্রুপের চেয়ারম্যান। জানতে চাইলে এম এ এইচ সেলিম কালবেলাকে বলেন, ‘একটা গ্যাপ হওয়ার কারণে আমি এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় কিংবা জেলা কমিটির কোনো পদে নেই। মূলত আমি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের অনুরোধে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি এবং তিনটি আসনেই নির্বাচন করব।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারম্যান যদি আমাকে ডাকেন, তিনি কী বলেন আমি শুনব; তারপর আমার সিদ্ধান্ত জানিয়ে আসব।’
এদিকে, ধানের শীষ না পেয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করা বিএনপি নেতাদের নিয়ে গত বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্ট দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করা আপনার ব্যক্তিগত ও সাংবিধানিক অধিকার, এতে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু ভুল করবেন না, বিএনপির চেয়ে বড় বিএনপি হতে যাওয়ার ইতিহাস কখনোই সুখকর নয়, বরং নিষ্ঠুর। বি. চৌধুরী, মান্নান ভূঁইয়া, শমসের মবিন চৌধুরী, তৈমুর আলম খন্দকার—এরা সবাই এক সময় সেই আত্মঘাতী ভুলটাই করেছিলেন। পরিণতি কী হয়েছিল, তা ব্যাখ্যার দরকার নেই; ইতিহাস নিজেই রায় দিয়ে রেখেছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা আজ ঐক্য বদ্ধ হয়েছি দেশ গড়ার জন্য। এটা আসলে নির্বাচনি কোনো ঐক্য নয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে (২য় তলা) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তিনি এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির(এলডিপি) অলি আহাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জোটের পক্ষ থেকে এ আসন সমঝোতার ঘোষণা দেন।
ঘোষণা অনুযায়ী— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৭৯, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফত মজলিস ১০, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি(এলডিপি) ৭, আমার বাংলাদেশ পার্টি(এবি পার্টি) ৩, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২ ও বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি ২।
এর বাইরে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জন্য আসন চূড়ান্ত করা হয়নি। চূড়ান্ত হয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আসন সমঝোতার বিষয়টিও।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের প্রাথমিক বক্তব্যে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির(এলডিপি) অলি আহাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের উপস্থিত ছিলেন।