Connect with us

top1

প্রাথমিকে ফিরছে পরীক্ষা বদল আসছে মূল্যায়নেও

Published

on

খাতা-কলমের সেই চিরচেনা লড়াই আর পরীক্ষার আগের সেই টানটান উত্তেজনা আবারও ফিরছে প্রাথমিকের আঙিনায়। শিশুদের পড়ার টেবিলে ফেরানো, ডিভাইসের আসক্তি কমিয়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ফিরছে পরীক্ষা। আর চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে বাড়ানো হয়েছে সামষ্টিক মূল্যায়নের (লিখিত) নম্বর। এতে বদলে যাচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের সমীকরণও।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গত ২৬ জানুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) এক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে এতদিনের শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি থেকে সরে এসে এখন থেকে ৫০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়ন (পরীক্ষা) এবং ৫০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। অন্যদিকে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সামষ্টিক মূল্যায়নের গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। এই শ্রেণিতে আগে ৪০ শতাংশ ধারাবাহিক এবং ৬০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়ন ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ১০ শতাংশ কমিয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে এবং সেই ১০ শতাংশ যুক্ত হয়েছে সামষ্টিক মূল্যায়নের সঙ্গে। এতে তৃতীয় শ্রেণিতে সামষ্টিক মূল্যায়নের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ শতাংশে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতেও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ দুই শ্রেণিতে এখন থেকে ৩০ শতাংশ ধারাবাহিক এবং ৭০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের ফল নির্ধারণ করা হবে। চলতি সপ্তাহেই প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের নতুন নির্দেশিকা জারি করার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতা কমাতে তৎকালীন সরকার ২০২১ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পরীক্ষা বাতিল করে। এতে সুফলের পরিবর্তে খুদে শিক্ষার্থীরা বইবিমুখ ও ডিজিটাল ডিভাইসনির্ভর হয়ে পড়ে। পাশাপাশি বাসায় নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাসও দুর্বল হয়ে পড়ে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিক স্তরে ফের পরীক্ষার গুরুত্ব বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২১ ডিসেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি পাঠান জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক পাটওয়ারী। চিঠিতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন মূল্যায়ন নির্দেশিকার একটি গাইডলাইন তুলে ধরা হয়। এর আগে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ২০২৬ সালের বার্ষিক পাঠ পরিকল্পনায় সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করার প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে ‘গাইডেড রিডিং রুটিন (জিআরআর)’ মডেল এবং বহুমুখী সহশিক্ষা কার্যক্রম চালুর একটি রূপরেখা অন্তর্ভুক্ত ছিল। নতুন এই মূল্যায়ন কাঠামো নিয়ে প্রথম দফায় গত ১৩ জানুয়ারি এবং পরবর্তী সময়ে ২৬ জানুয়ারি এনসিসির সভা হয়। ওই সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সবার মতামতের ভিত্তিতেই প্রাথমিক স্তরের জন্য নতুন মূল্যায়ন কাঠামো চূড়ান্ত করা হয়।

নতুন মূল্যায়ন কাঠামো নিয়ে নেপ মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ কালবেলাকে বলেন, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিকে শিশুরা আরও বেশি শ্রেণিমুখী হবে, সঙ্গে শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা বাড়বে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, নতুন মূল্যায়ন নির্দেশকা প্রাথমিক স্তরে আমূল পরিবর্তন আনবে। আশা করছি চলতি সপ্তাহে মূল্যায়নের নতুন নির্দেশিকা জারি করা হবে।

নতুন মূল্যায়ন প্রস্তাবে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৫০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং ৫০ শতাংশ লিখিত (সামষ্টিক) পরীক্ষা, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ৭০ শতাংশ লিখিত পরীক্ষা ও ৩০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং সামষ্টিক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রাথমিকে জিআরআর মূল্যায়ন: নেপের প্রস্তাবে প্রাথমিকে জিআরআর মূল্যায়ন পদ্ধতি কথা বলা হয়। এ পদ্ধতিতে মুখস্থবিদ্যার চিরচেনা পথ ছেড়ে খুদে শিক্ষার্থীদের দক্ষতাভিত্তিক করে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এটা এমন একটি কাঠামো যেখানে শিক্ষক ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীকে স্বাধীনভাবে শিখতে সক্ষম করে তুলবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের পঠন দক্ষতা উন্নয়নে জিআরআর মূল্যায়ন পদ্ধতি ‘গ্র্যাজুয়াল রিলিজ অব রেসপনসিবিলিটি’ নামে পরিচিত। জিআরআর হলো একটি শিক্ষণ পদ্ধতি, যেখানে শিক্ষক ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের ওপর শেখার দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এখানে শিক্ষার্থীদের ‘আমি করি, আমরা করি, তুমি একা করো’ (I do, we do, you do) কৌশলে শেখানো হয়। এটি মূলত চারটি ধাপে সম্পন্ন হবে। শিক্ষক প্রথমে নিজে পড়ে শোনাবেন, এরপর শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মিলে একসঙ্গে পড়বেন, তারপর জুটিতে বা সহপাঠীরা মিলে একে অপরকে সহযোগিতা করে পড়বে এবং সর্বশেষ শিক্ষার্থী শিক্ষক বা অন্য কারও সাহায্য ছাড়াই নিজে পড়তে শিখবে।

এ রূপরেখার সঙ্গে যুক্ত নেপের বিশেষজ্ঞরা জানান, নতুন মানবণ্টনে পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থীদের দুর্বল জায়গাগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যাবে। এ ছাড়া শিশুদের শুধু অক্ষরজ্ঞানই নয়, বরং স্বাধীনভাবে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রারম্ভিক স্তরে (প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণি) শিক্ষকের সহায়তায় ‘পড়তে শেখা’ এবং পরবর্তী স্তরে (তৃতীয়-পঞ্চম শ্রেণি) নিজে নিজে ‘পড়তে শেখার’ ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ পুরো প্রক্রিয়াতে শিক্ষকের সহায়তা ধীরে ধীরে কমিয়ে শিক্ষার্থীকে স্বনির্ভর করে তোলা হয়। সহায়ক হিসেবে এসআরএম (সাপ্লিমেন্টারি রিডিং ম্যাটেরিয়ালস) থাকবে, যেখানে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাড়তি জ্ঞানের জন্য সরবরাহ করা হবে সম্পূরক পঠন সামগ্রী। শ্রেণিকক্ষে গল্পের বইয়ের মাধ্যমে শিশুদের পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলাই এর মূল লক্ষ্য। প্রতিটি বিদ্যালয়ে এ বইগুলো বিতরণের জন্য সুনির্দিষ্ট রেজিস্টার ও ‘বুক ক্যাপ্টেন’ নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধা বিকাশ বা পুথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ১০টিরও বেশি কার্যক্রমকে পাঠ পরিকল্পনার অংশ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্বাস্থ্য ও পরিবেশ, সাংস্কৃতিক চর্চা যেমন ছড়া, গান, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও একক অভিনয়। দক্ষতা উন্নয়নে সুন্দর হাতের লেখা, ইংরেজি কথোপকথন ও উপস্থিত বক্তৃতা থাকবে। উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রকাশ এবং দলভিত্তিক বিজ্ঞান মেলার আয়োজনও করা হবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে শিক্ষার্থীদের শিখন নিশ্চিত করতে আমরা একটি সমন্বিত মূল্যায়ন নির্দেশিকা পাঠিয়েছি। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা জারি করবে, আমরা শুধু বাস্তবায়ন করব।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতিতে মুখস্থনির্ভর পরীক্ষার পরিবর্তে শিক্ষার্থীর প্রকৃত শেখা, দক্ষতা ও প্রয়োগ ক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর দৈনন্দিন শিখন অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে এবং সামষ্টিক মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় শেষে শিক্ষার্থীর সার্বিক দক্ষতা নিরূপণ সম্ভব হবে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার প্রতি ভীতি কমে শেখার প্রতি আগ্রহ ও আনন্দ বাড়বে।

নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে আগে শ্রেণি কার্যক্রম থাকলেও ২০২৬ সালে সামষ্টিক মূল্যায়ন (লিখিত পরীক্ষা) যুক্ত করা হয়েছে। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে শ্রেণি মূল্যায়ন এবং সামষ্টিক মূল্যায়নের সঙ্গে নতুন করে ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা যুক্ত করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ধারাবাহিক নম্বর রাখা হয়েছে ৫০ এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় রাখা হয়েছে বাকি ৫০ নম্বর। এই দুই শ্রেণিতে অন্য বিষয়গুলোয় ৫০ নম্বরের মধ্যে ২৫ ধারাবাহিক মূল্যায়নে এবং ২৫ সামষ্টিক মূল্যায়নে রাখা হয়েছে। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, বিজ্ঞান ও ধর্ম শিক্ষা বিষয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৩০ ধারাবাহিক নম্বর এবং সামষ্টিকে (লিখিত ও মৌখিক বা ব্যাবহারিক পরীক্ষা) ৭০ নম্বর রাখা হয়েছে। শিল্পকলা এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা বিষয়ে ৫০ নম্বরের মধ্যে ধারাবাহিক মূল্যায়নে ১৫ ও সামষ্টিক মূল্যায়নে ৩৫ নম্বর রাখা হয়েছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

ইবিতে নাটোর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির ক্যালেন্ডারের মোড়ক উন্মোচন

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নাটোর জেলার অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘নাটোর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাডেমিক ক্যালেন্ডারের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১টায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিক বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম সালেহের অফিস কক্ষে এ আয়োজন করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিক বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এম সালেহ, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. এটিএম মিজানুর রহমান, মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলাল উদ্দিন।

এছাড়া সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আমিনুল হক,যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইশমাম সাইফ শিহাব ও ইয়াসিন আরাফাত, দপ্তর সম্পাদক হাসিনুর রহমান,অর্থ সম্পাদক সবুজ আলীসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “এতিহ্যের সমাহার নিয়ে গড়ে উঠা বনলতা সেনের নাটোর জেলা। নাটোর থেকে আগত সকল শিক্ষার্থীদের মেলবন্ধন সুদৃঢ় করতে এবং একাডেমিক উৎকর্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের এই আয়োজন। আমরা ক্যালেন্ডারের একাডেমিক ছুটির তালিকা ও নাটোর জেলার ৭টি উপজেলার ঐতিহাসিক ও পর্যটন স্থানসমূহের দৃশ্য অন্তর্ভুক্ত করেছি।”

তিনি আরো বলেন, “এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর, বিভাগ, হল, সামাজিক ও সেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বিভিন্ন জেলা ছাত্রকল্যাণ সংগঠন এবং নাটোর জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির রানিং শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করবো।”

Continue Reading

top1

রোজার পরেই এসএসসি পরীক্ষা,পেছানোর পরিকল্পনা নেই

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে রোজার পরই এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, আপাতত এসএসসি পরীক্ষা পেছানোর কোনো কারণ নেই।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণে সামগ্রিক বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু করলে তা এক মাস ধরে চলবে এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াবে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত রমজান থাকায় এ সময় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি জানান, এসএসসি পরীক্ষা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য। বাংলাদেশের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসকে পরীক্ষার উপযুক্ত সময় মনে করা হলেও এবার রমজানের কারণে ওই সময়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রমজানের আগে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্টদের অনুরোধে বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে এতে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা রিভিউয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, রমজানের পর পরীক্ষা নেওয়া হলে তা কিছুটা বিলম্বিত হবে। তবে রমজান একটি বাস্তবতা হওয়ায় এর সঙ্গে সময়সূচির সমন্বয় করতে হবে। সবদিক বিবেচনা করেই রমজানের পর এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পরীক্ষা আরও পেছানোর আশঙ্কা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আপাতত পরীক্ষা পেছানোর কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না।’ জাতীয় পর্যায়ে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি না হলে পরীক্ষা পেছানোর প্রয়োজন নেই বলেও জানান তিনি।

Continue Reading

top1

ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম বরদাস্ত করা হয়নি: অর্থমন্ত্রী

Published

on

By

অনলাইন ডেস্ক

ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ফ্যামেলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি; প্রকৃত হকদারদের ন্যায্যতার ভিত্তিতে কার্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এইচএসবিসি ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় এবং ব্র্যাকের বাস্তবায়নে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন সহায়তা প্রকল্প’-এর উদ্বোধন ও প্রকল্প পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো হচ্ছে। অতীতে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এতে দুর্নীতি কমার পাশাপাশি কাজ দ্রুত ও সঠিকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষে সব ক্ষেত্রে সরাসরি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ নয়। সেবা প্রদানের ব্যবস্থায় বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলো যুক্ত থাকলে কাজ দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগও কমে।

সভায় জানানো হয়, জুলাই মাসের আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিবারগুলোর নিরাপদ আবাসন, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যবিধি, জীবিকা, কৃষি ও শিক্ষা খাত পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া, কক্সবাজারের চকরিয়া এবং চট্টগ্রাম নগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করবে ব্র্যাক। সাত মাস মেয়াদি প্রকল্পে ৪০০ পরিবারকে ল্যাট্রিন নির্মাণে সহায়তা, ৩০টি টিউবওয়েল মেরামত ও পুনর্নির্মাণ, ৩০০ পরিবারকে জীবিকা পুনরুদ্ধারে সহায়তা এবং ২৫০ পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত ও পুনর্নির্মাণে সহায়তা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ৬০০ পরিবারকে কৃষি উপকরণ, ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় মেরামত ও পুনর্নির্মাণ এবং ১০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে ৩০০টি সচেতনতামূলক সেশন আয়োজন করা হবে।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ১০ কোটি টাকা, যার পুরো অর্থায়ন করবে এইচএসবিসি ব্যাংক।

Continue Reading

Trending