Connect with us

সর্বশেষ

ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২৮০৫ টাকা

Published

on

রমজানে বাংলাদেশে ফিতরার হার জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা ও সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরও (২০২৫) সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ফিতরার হার একই ছিল।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভায় ১৪৪৭ হিজরি সনের ফিতরার এ হার নির্ধারণ করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক।

এতে ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের ফিতরার হার জানান।

সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় যে, ইসলামী শরীয়াহ মতে মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী গম, আটা, যব, খেজুর, কিসমিস ও পনির- যে কোনো একটি পণ্যের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা এর বাজার মূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করতে পারবেন।

গম ও আটার ক্ষেত্রে এর পরিমাণ এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’)। খেজুর, কিসমিস, পনির ও যবের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রামের (এক সা’) মাধ্যমে সাদকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায় করতে হয়।

এসব পণ্যের বাজার মূল্য হিসাব করে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়।

মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক জানান, উন্নতমানের আটা বা গমের ক্ষেত্রে ফিতরা এক কেজি ৬৫০ গ্রাম (অর্ধ সা’) বা এর বাজার মূল্য ১১০ টাকা (প্রতি কেজি ৬৫ টাকা ধরে)। যবের ক্ষেত্রে (এক সা’) ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ৫৯৫ টাকা ফিতরা দিতে হবে (প্রতি কেজি ১৮০ টাকা ধরে)।

এছাড়া প্রতি কেজি ৮০০ টাকা ধরে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম কিসমিস বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৬৪০ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে। খেজুরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৪৭৫ টাকা (প্রতি কেজি ৭৫০০ টাকা ধরে) ও পনিরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম বা এর বাজার মূল্য ২ হাজার ৮০৫ টাকা (প্রতি কেজি ৮৫০ টাকা ধরে) দিয়ে ফিতরা আদায় করতে হবে বলে জানান কমিটির সভাপতি।

ফিতরার পণ্যের স্থানীয় খুচরা বাজার মূল্যের তারতম্য রয়েছে। সে অনুযায়ী স্থানীয় মূল্য পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে বলেও জানান আবদুল মালেক।

আব্দুল মালেকের পক্ষে বক্তব্য পাঠ করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ।

কোনো ব্যক্তি (ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময়) নেছাব পরিমাণ (সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমপরিমাণ) মালের মালিক হলে ঈদের দিন সকালে তার ওপর নিজের, নাবালক সন্তানসহ নির্ভরশীলদের সাদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হয়। ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে ফিতরা আদায় করতে হয়।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

২ জুলাই থেকে ইবিতে আন্দোলনের সূচনা: ‘মুক্তির নতুন সূর্যোদয়’

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের পরে দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ জুলাই চব্বিশের আন্দোলনে সরব ও সতর্ক ছিলেন। ছাত্র জনতার নেতৃত্বে আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। সেই সময় শিক্ষার্থীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মহাসড়কে সক্রিয় অবস্থান নেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই অবিনাশী চেতনা স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় “জুলাই স্মৃতিকথা” নামে একটি স্মারক প্রকাশিত হয়। যার— সম্পাদনায় ছিলেন, অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান, অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা এস এম সুইট, সাদিক আহমদ, ইমতিয়াজ আহমেদ ইমন ও চয়ন হোসেন।

‘জুলাই স্মৃতিকথা’ স্মারকে ৫৩টি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর লেখা স্থান পেয়েছে। তন্মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী এহসানুল হকের লেখা ‘মুক্তির নতুন সূর্যোদয়’ পাঠকদের সুবিধার্থে ইবি প্রতিনিধি হুবহু তুলে ধরেছেন।

শুরুর সময়টা ২০১৮ এর প্রথম থেকেই। সবেমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পা দিয়েছি। বছরের শুরু থেকেই আন্দোলন কিছুতেই পিছু ছাড়ার মতো না। ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফি পূর্বের থেকে অনেক বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেটা কমানোর আন্দোলন, বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির আন্দোলন, সবশেষে যুক্ত হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন। সবগুলো আন্দোলনেই অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয়। একে একে বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে মুক্তিকামী জনতার বিজয়ের বার্তা নিয়ে হাজির হয় ২০২৪। আমি তখন এম.এস.সি. তে অধ্যায়নরত অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ পর্যায়ে।

২ জুলাই ২০২৪ তারিখ থেকে ক্যাম্পাস যেন আবার ২০১৮-তে ফিরে যায়। কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে সারাদেশের সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও শুরু হয় আন্দোলন। আবারও সুযোগ আসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশীদার হওয়ার। মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। একই আন্দোলন চলে ৮ তারিখ পর্যন্ত।

১০ জুলাই ২০২৪, বাসায় যাই। খুলনা থাকাকালীন আন্দোলন থেকে দূরেই ছিলাম। ১৫ জুলাই ২০২৪ শিক্ষার্থীদের অবস্থান খুলনা জিরো পয়েন্ট। ১৭ জুলাই খুবির শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ এর সামনে শহীদ আবু সাঈদ এর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তখন সিচুয়েশন এমন যে— বাসায় থাকাও অনিরাপদ। হয়রানির এক পর্যায়ে ৩১ জুলাই আমি খুলনা থেকে সাতক্ষীরা যাই।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:

ইবি ক্যাম্পাসের সিদ্ধান্ত যেকোনো মূল্যে ৩ আগস্টের মধ্যে ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে হবে। অস্থিরতা বেড়ে চলে। ৩ আগস্ট ২০২৪, খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠি। সকাল বেলা রওনা রওনা হই। ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হওয়ার সুবাদে এই দিনের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল ক্যাম্পাসে পৌঁছানো। দুপুর ২ টার দিকে বাসায় পৌঁছি।

দুপুরে খেতে খেতে ক্যাম্পাসে আসার কথা বললে আব্বু আম্মু কেউ রাজি হন না। শেষতক চোরের পানিসমেড কিছুটা সম্মতি দিলেন। বাসা থেকে বের হব শুধু এতটুকুই নিশ্চিত। এরপর কী হবে একমাত্র আল্লাহই জানেন। বাসা থেকে ভিন্ন রাস্তা দিয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে গাড়িতে উঠি। রাত ৯ টার দিকে শেখপাড়া বাজারে গাড়ি থেকে নেমে ত্রিবেনী রোড দিয়ে অজানা গন্তব্যে হাঁটতে শুরু করি। থাকার কোন সমাধান না পেয়ে আবু মুসা ভাইকে নক করলে তিনি থাকার ব্যবস্থা করেন।

বদলে যাওয়ার বার্তা:

৩ আগস্ট ২০২৪, ঢাকায় আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ নেতৃতাধীন সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়।

৪ আগস্ট ২০২৪, সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটের দিকে রুম থেকে বের হয়ে ডায়না চত্ত্বরে পৌছলাম। তখন কারোরই থাকা-খাওয়ার কোন ঠিক নেই। আল্লাহর কাছে শুধু একটাই ফরিয়াদ ছিল আল্লাহ যেন শহীদ হিসাবে কবুল করে নেন। পুলিশ, বিজিবিসহ সকল বাহিনীর সদস্যরা মেইন গেইটসহ রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়েই ডায়না চত্ত্বর থেকে মিছিল শুরু হল। কোন ক্লান্তি নেই, থেমে যাওয়ার আশংকা নেই। আন্দোলনের মাঝে ভাইয়েরা শুকনো খাবার ও পানি বিতরণ করছিল। সবশেষে এস এম সুইট ভাইয়ের পরবর্তী দিনে আন্দোলন চলমান রাখার ঘোষণার মাধ্যমে আজকের আন্দোলন সমাপ্ত হয়।

রাত ১১টা ৩০ মিনিটে প্রচণ্ড মাথা ব্যাথাসহ ঘুমাতে যাই। এ সময় ইউসুফ ভাই নির্দেশ দেন- মেস পাহাড়া দিতে হবে। আমরা ফজর পর্যন্দ মেস পাহাড়া দেই ও অসুস্থ হয়ে পড়ি।

নতুন সূর্যোদয়:

৫ আগস্ট ২০২৪, সকাল দশটায় এলার্মের শব্দে ঘুম ভাঙ্গে। সকাল ১১ টায় ক্যাম্পাস থেকে আন্দোলন শুরু হবে। রুম থেকে বের হই। নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত জায়গা থেকেই শ্লোগানে-স্লোগানে আন্দোলন শুরু হয়। আশেপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আমাদের সাথে যোগ দিতে থাকে। এলাকার মা-বোনেরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের সাথে অংশ গ্রহণ করে। লাঠিতে ভর করে ও ঠিকমতো হাঁটতে না পারা আশি উর্ধ্ব বয়সের মুরুব্বী এবং হাত-পা না থাকা লোকও আমাদের সাথে অংশগ্রহণ করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো মেইন গেট এলাকা লোকারণ্য হয়ে যায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নামে স্বৈরাচারের দোসর বিপুল সংখ্যক পুলিশ, বিজিবিসহ যৌথ বাহিনীর সদস্যরা মেইন গেটের আশেপাশে অবস্থান নেয়।

বেলা আড়াইটার দিকে মাইক্রোফোন হাতে ভ্যানের উপরে দাড়িয়ে আছে হাসানুল বান্না অলি। ওর সাথে জাকারিয়া, আমিনুর, জোবায়েরসহ আরো কয়েকজন। হঠাৎ কানে ভেসে আসে সেই অকাঙ্ক্ষিত বাক্য। যা শোনার অপেক্ষায় ছিল বাংলার লক্ষ-কোটি মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা। মাইক থেকে ঘোষণা হয়- স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে। মনে হচ্ছিল সদ্য মুক্ত হওয়া স্বাধীন নতুন এক বাংলাদেশে নতুন করে প্রশ্বাস নিচ্ছি। বাংলাদেশের আকাশে যেন নতুন এক সূর্য উঠেছে। মহান রবের কাছে ফরিয়াদ, তিনি যেন আন্দোলনে আহতদের সুস্থতা দানের পাশাপাশি নিহতদের শহীদ হিসাবে কবুল করে নেন এবং আমাদের সকলের এই প্রচেষ্টাকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করে নেন।

লেখক: এহসানুল হক
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

Continue Reading

top1

অপরিবর্তিত থাকছে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার 

Published

on

By

মধ্যবিত্ত পরিবারের কথা ভেবে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ছয় মাসের জন্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

বর্তমানে মেয়াদ ও বিনিয়োগের পরিমাণ বিবেচনায় সঞ্চয়পত্র থেকে একজন বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ সুদ পেয়ে থাকেন ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত। পরে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সঞ্চয় অধিদপ্তর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলেছেন চিঠিতে সই করা অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা।

এর আগে সঞ্চয় অধিদপ্তর ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সুদহার কমানোর প্রজ্ঞাপন জারি করে। বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর হয়। এতে সঞ্চয়পত্রের বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে সুদহার কমানো হয়।

তবে মধ্যবিত্ত সঞ্চয়পত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে, এমন শঙ্কায় চার দিন পর চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপনটি স্থগিত করা হয়। ফলে জানুয়ারি-জুন সময়ের জন্যও আগের হারে সুদ অপরিবর্তিত রয়ে যায়। বর্তমানে ছয়মাস পরপর সঞ্চয়পত্রের সুদহার নির্ধারণ করে আসছে আইআরডির সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তর।

স্থগিত হওয়া প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অর্থবছরের শেষ ছয় মাস, অর্থাৎ জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে সাড়ে সাত লাখ টাকা বা এর চেয়ে কম বিনিয়োগে সর্বোচ্চ মুনাফা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ; সর্বনিম্ন ধরা হয়েছিল ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

তার আগে গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য এ ধরনের সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার ছিল ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার সরকারের সবশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একজন বিনিয়োগকারী সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে একই হারে তথা আগের মতই সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ সুদ পাবেন। তবে বিনিয়োগের মেয়াদ অনুযায়ী সুদের হারে ভিন্নতা রয়েছে।

পরিবার সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফা নির্ধারণ করা আছে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি হলে এমন বিনিয়োগে সুদের হার আগের মতোই ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ থাকছে।

বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে পাঁচ বছর মেয়াদি বিনিয়োগের সুদের হার সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে আগের মতই ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ থাকছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি হলে তা ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ।

এছাড়া তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকার কম বিনিয়োগ হলে সুদের হার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। বিনিয়োগ সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি হলে তা ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

ডাকঘর সঞ্চয়পত্রে তিন বছর মেয়াদে সাড়ে সাত লাখ টাকার বিনিয়োগের সুদহার ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি হলে তা ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সরকার ছয় মাস পরপর সঞ্চয়পত্রে সুদহার ঘোষণা করে। তবে সুদহার বদলালেও যখন যে স্কিমে বিনিয়োগ করা হয়, সেটির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেনার সময়কার সুদহারই বহাল থাকে।

একক বা যৌথভাবে সঞ্চয়পত্রে সাড়ে সাত লাখ টাকা বিনিয়োগে এক ধরনের সুদহার পাওয়া যায়। এর চেয়ে বেশি বিনিয়োগে অপেক্ষাকৃত কম সুদহার দেয় সরকার। বিনিয়োগের মেয়াদ অনুযায়ী সুদের হারেও ভিন্নতা রয়েছে। এক স্কিমে এক থেকে পাঁচ বছরের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে বিনিয়োগ করা যায়। সঞ্চয় স্কিমে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় পরিবার সঞ্চয়পত্র।

Continue Reading

top3

প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে যুবদল নেতা আটক, গাছে বেঁধে রাখলো জনতা

Published

on

By

চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় যুবদল নেতা আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

বুধবার (০১ জুলাই) রাত আনুমানিক ১টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের চৈতন্যপুর বালুটুঙ্গি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটককৃত নেতা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য ও ধাইনগর ইউনিয়নের বামুনগাঁও গ্রামের আবু বাক্কারের ছেলে আব্দুর রহমান বিশ্বাস।

স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে বালুটুঙ্গি এলাকার প্রবাসী মো. বুলুর স্ত্রী মোসা. আনিকার ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে স্থানীয়রা। পরে আটককৃত যুবদল নেতা আব্দুর রহমান বিশ্বাস ও প্রবাসীর স্ত্রী আনিকাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে উত্তেজিত জনতা। পরে পুলিশ তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম, সিফাত আলী, মাহবুব আক্তার সময় সংবাদকে জানান, এলাকার কয়েকজন যুবক ফুটবল বিশ্বকাপ দেখার সুবাদে বাইরে অবস্থান করছিল। এসময় যুবদল নেতা আব্দুর রহমান বিশ্বাসকে রাতের অন্ধকারে ওই বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখে সন্দেহ হলে অনুসরণ করতে থাকে। পরে আনিকার ঘরের মধ্যে তাদেরকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে বাড়ির বাইরে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।

ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বলেন, সকালে উঠে আমিও প্রবাসীর স্ত্রী এক নারীর ঘরে যুবককে আটকের ঘটনা শুনেছি। স্থানীয়রা আটকের পর তাদের দুজনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। এমনকি আটকের পর তাদেরকে পুলিশে নিয়ে গেছে বলে জানতে পেরেছি।

এনিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায় জেলা যুবদলের সদস্য আব্দুর রহমান বিশ্বাসের। জেলা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া শাওন মুঠোফোনে সময় সংবাদকে জানান, আমিও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য তাকে (আব্দুর রহমান বিশ্বাস) ফোন দিলে বন্ধ পেয়েছি। বিষয়টি যেহেতু আপত্তিকর, তাই আশা করি দল এব্যাপারে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আব্দুর রহমান বিশ্বাসের জেলা যুবদলের সদস্য পদটি নিশ্চিত করেন তিনি।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, স্থানীয়রা আটক করে থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে তাদের দুজনকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এনিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি।

Continue Reading

Trending