Connect with us

top1

বিএনপি জোট ২০৮, জামায়াত জোট পেতে পারে ৪৬টি আসন : ইএএসডি

Published

on

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন জনমত জরিপ প্রকাশ করেছে এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) নামের একটি সংস্থা। এতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ২০৮টি আসন ও জয়লাভ করতে পারে। আর জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ৪৬টি। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ৩টি, অন্যান্য দল ৪টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৭টি আসনে জয়ী হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের থ্রিডি সেমিনার হলে ইএএসডির এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

সাড়ে ৪১ হাজার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এই জরিপটি করেছে ইএএসডি। তাদের দাবি, এবারের নির্বাচন নিয়ে যতগুলো জরিপ হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে তাদের এই জরিপটিই সবচেয়ে বড় নমুনার।

অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হায়দার তালুকদার।

শামীম হায়দার তালুকদার জানান, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই প্রাইমারি স্যাম্পলিং ইউনিট (পিএসইউ) পদ্ধতি অনুসরণ করে জরিপটি পরিচালিত হয়েছে। মোট ৪১ হাজার ৫০০ জন উত্তরদাতার তথ্য ‘কোবো টুলবক্স’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। ১৮ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৫০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারী মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন। দেশের বিভিন্ন জনমিতিক ও আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করার জন্য সারা দেশে মোট ২ হাজার ৭৬৬টি পিএসইউ নির্বাচনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি পিএসইউ থেকে ধারাবাহিকভাবে ১৫টি পরিবার নির্বাচন করা হয়েছে এবং প্রতিটি পরিবার থেকে একজন যোগ্য উত্তরদাতার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, যাতে পদ্ধতিগত ও পক্ষপাতহীন তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত হয়। গ্রামীণ এলাকার জন্য ইউনিয়ন এবং শহরাঞ্চলের জন্য ওয়ার্ডগুলোকে ক্লাস্টার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা নিশ্চিত করেছে যে এই জরিপে গ্রাম ও শহর উভয় অঞ্চলের মানুষের সমান প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

তিনি জানান, মোট ৪১ হাজার ৫০০ জন উত্তরদাতার মধ্যে ২৬ হাজার ৫৬০ জন পুরুষ (মোট সংখ্যার ৬৪ শতাংশ) এবং ১৪ হাজার ৯২২ জন নারী (মোট সংখ্যার ৩৬ শতাংশ)। জরিপে ১৮-৩০ বছর বয়সী তরুণদের অংশগ্রহণ ছিল মোট ৩৭ দশমিক ২ শতাংশ। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

জরিপে অংশ নেওয়া সর্বোচ্চ ২১ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা ছিলেন ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে বড় ও মাঝারি ব্যবসায়ী ছিলেন ৫ শতাংশ এবং ছোট ব্যবসায়ী ছিলেন ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ। পাশাপাশি কৃষি ও গ্রামীণ শ্রমজীবী খাতে মোট অংশগ্রহণকারী ছিল ১৩ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে গৃহস্থালি ও অনানুষ্ঠানিক খাতে মোট অংশগ্রহণকারী ছিল ১৯ দশমিক ১ শতাংশ; শিক্ষার্থীদের মোট অংশগ্রহণকারী ছিল ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

ইএএসডির জরিপ অনুযায়ী, রাজনৈতিক পছন্দের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বেশির ভাগ ভোটারের পছন্দ বিএনপি। সর্বোচ্চ ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এর বিপরীতে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এনসিপি ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অন্যদের মধ্যে জাতীয় পার্টির জনসমর্থন ৪ শতাংশ আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

নারী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তা বেশি উল্লেখ করে জরিপের ফলাফলে বলা হয়, ৭১ দশমিক ১ শতাংশ নারী ভোটার বিএনপিকে সমর্থন দিচ্ছেন। বিএনপি জোটের প্রতি সর্বোচ্চ সমর্থন চট্টগ্রাম (৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ) এবং সিলেটে (৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ)। তবে বরিশাল (১৭ দশমিক ৮ শতাংশ) ও খুলনায় (১৮ দশমিক ৬ শতাংশ) জামায়াত জোটের শক্তিশালী অবস্থান লক্ষ করা গেছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের রংপুরে জাতীয় পার্টি ৩ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছে।

শামীম হায়দার তালুকদার বলেন, ‘তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের ১৫ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। বাকি ৫ শতাংশ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘জরিপে অংশগ্রহণকারী সর্বোচ্চ ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, আসন্ন নির্বাচনের পর বিএনপি জোট সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে এবং ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার তাদের নিজ নিজ আসনে বিএনপি প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে মতামত ব্যক্ত করেছেন। সামগ্রিকভাবে এই জরিপটি দেশের সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং একটি বৃহৎ পরিবর্তনের জন্য বিএনপির প্রতি প্রত্যাশাকেই জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।’

আগে নির্বাচনে আওয়ামী লীগে ভোট দেওয়া ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছেন, এমনটাও এই জরিপে উঠে এসেছে। শামীম হায়দার তালুকদার বলেন, ‘তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের ১৫ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। বাকি ৫ শতাংশ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।’

এই জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সর্বাধিক আসন পেতে পারে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। বিএনপি জোট প্রায় ২০৮টি আসনে জয়লাভ করতে পারে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ৪৬টি। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ৩টি, অন্যান্য দল ৪টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৭টি আসনে জয়ী হতে পারেন। একই সঙ্গে ২২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি (ক্লোজড কনটেস্ট) হতে পারে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমর্থন করেছেন সর্বাধিক ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের পক্ষে মত দিয়েছেন ১৪ শতাংশ আর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের পক্ষে মত দিয়েছেন ২ শতাংশ উত্তরদাতা। এ ছাড়া ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে মতপ্রকাশ করতে অনিচ্ছুক বলে জানিয়েছেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

পাটওয়ারী-সারজিসের গাড়িবহরে ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ

Published

on

By

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই জাগরণ পদযাত্রা’ শেষে ফেরার পথে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে এনসিপি।

হবিগঞ্জ সদরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে হামলার কথা জানিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেছেন, “হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। হামলায় সাংবাদিক ও এনসিপির একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন”।

তিনি আরও লেখেছেন, “উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পুলিশের উপস্থিতিতেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি এনসিপির মিডিয়া টিমের মাইক্রোবাস, জেলা সার্কিট হাউসের ভেতরে নিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে সংঘটিত এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক সহিংসতার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। হামলাকারীরা মোবাইল ফোন ও ক্যামেরাও ছিনিয়ে নিয়ে গেছে”।

নিজের ফেসবুকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, “উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক জনাব সারজিস সালামের ওপরও হামলা করা হয়। হবিগঞ্জের স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। কারও হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে, কারও পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়ে আছে। আমরা এই ন্যক্কারজনক, বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই”।

এর আগে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের থানার মোড় এলাকায় এ ঘটনায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

দুই পক্ষে সংঘর্ষের একপর্যায়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ সরিয়ে নেয়। পরে তাদের সার্কিট হাউসে নেওয়া হয়।

এনসিপির জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হলে থানার মোড় এলাকায় ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে দলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

অন্যদিকে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, “শান্তিপূর্ণ হবিগঞ্জে কেউ উসকানিমূলক বা অশালীন বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে”।

তবে সংঘর্ষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “অশালীন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ মানুষ ধাওয়া দিয়েছে বলে তিনি শুনেছেন”।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুল হক বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এনসিপির নেতারা বর্তমানে নিরাপদ স্থানে রয়েছেন এবং তাদের নিরাপদে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে”।

মঙ্গলবার দুপুরে আজমিরীগঞ্জ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ পদযাত্রা’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা, কর্মসংস্থান, সীমান্ত সুরক্ষা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

Continue Reading

top1

স্পিকার-সিইসির বৈঠক, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে ‘প্রস্তুত’ ইসি

Published

on

By

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিইসি। 

সিইসি জানান, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রাথমিক ও প্রক্রিয়াগত আলোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

তফসিল প্রসঙ্গে নাসির উদ্দিন বলেন, “বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যথাসময়ে নির্বাচন কমিশনের সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত করে তফসিল ঘোষণা করা হবে। দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি”।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা হবে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারই রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনাতেই পুরো নির্বাচন সম্পন্ন হবে। প্রয়োজন হলে প্রক্রিয়াগত কারণে ভোটগ্রহণের ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে। এ-সংক্রান্ত সব তথ্য গেজেটের মাধ্যমে জানানো হবে।

সিইসি আরও বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত। একই সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের প্রস্তুতি চললেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করতে কমিশন সক্ষম”।

ভোটার তালিকার বিষয়ে তিনি জানান, সম্ভাব্য ভোটারদের তালিকা চেয়ে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। তালিকা পাওয়ার পর ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশসহ পরবর্তী কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

সংসদ অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না- সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, “সংসদ অধিবেশন থাকুক বা না থাকুক, আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই”।

সাতক্ষীরা-৪ আসন নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বৈঠকের পুরো আলোচনাই ছিল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে”।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমদ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

top1

জামায়াত এমপি গোলাম রসুলের বাড়ি ঘেরাও

Published

on

By

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় শত শত মানুষ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তার বাড়িতে হামলার অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নীলগঞ্জ এলাকার আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও সংশ্লিষ্ট মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্য গোলাম রসুল ও তার মেয়ে অনন্যার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থী আয়ান এবং রেক্সনা নামে এক নারীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, ওই হামলায় রেক্সনার মাথায় আঘাত লাগে।

জানা গেছে, এ বিরোধ নিয়ে আগের রাতে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসা খুললে তা বন্ধ রাখতে বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পরই স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ১০টার দিকে তারা এমপির বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাদের অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে গোলাম রসুলের এক স্বজন ঘটনাস্থলে এলে বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তাকে মারধর করে। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে বিক্ষোভকারীরা যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং এমপি ও তার মেয়ের বিচারের দাবি জানান।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে গোলাম রসুলের স্ত্রী শারমিন ভিনা বলেন, তাদের মেয়ে অনন্যা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তার দাবি, মাদ্রাসা বন্ধ থাকার পরও কিছু শিশু সেখানে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ আনা হচ্ছে এবং বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এমপির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।

Continue Reading

Trending