Connect with us

top1

বিরোধী মত দমনে আইনটি যেন ব্যবহার না হয়: বিরোধী দল

Published

on

জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল-২০২৬ পাস হয়েছে। এ বিলটি পাসের আগে জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে বিরোধী দলের সদস্যরা সাইবার স্পেস ব্যবহার করে এক দলের বিরুদ্ধে আরেক দল অপপ্রচার চালানো, ব্যক্তির চরিত্রহনন বন্ধের দাবি করেন। এ ছাড়া সাইবার স্পেসে নারীদের জন্য সুরক্ষা বিষয়ে সরকারের মনোযোগের দাবি জানানোর পাশাপাশি এ আইন যাতে বিরোধী মত দমনের ব্যবহার না করা হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকার দাবি তোলা হয়।

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল পাসের জন্য সংসদে তোলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিলের ওপর আনা জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি শেষে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

বিদ্যমান আইনের ২০ ধারাটি বিলুপ্ত করতে সংশোধনী বিল পাস করা হয়। এ ধারায় সাইবার স্পেসে জুয়া খেলার বিষয়ে অপরাধ ও দণ্ডের বিধান আছে। আজই জুয়া ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে নতুন আইন করতে বিল পাস করা হয়। সেখানে অনলাইন জুয়ার বিস্তারিত সংজ্ঞা ও দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তাই সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে এ সংক্রান্ত ধারাটি বাদ দেওয়া হচ্ছে।

সাইবার স্পেসে নারীর সুরক্ষার বিষয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, আমরা যারা রাজনীতি করি, পাবলিক ফিগার, নোন ফেস তাদের প্রতিনিয়ত সাইবার নিপীড়নের শিকার হচ্ছি, সাইবার বুলিংসহ নানা রকমের সাইবার অপরাধের শিকার হতে হয়।

তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির বিষয়ে তিনি বলেন, অস্বীকার করার উপায় আমরা এখন এআই জগতে আছি। অস্বীকার করার উপায় নেই, কোনটা ভুয়া, কোনটা সঠিক। শিক্ষিত সমাজের অনেকেও বের করতে হিমশিম খেয়ে যায়। সে রকম প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে গ্রামের প্রতিটি মানুষের হাতে যখন স্মার্ট ফোন, ফেসবুক তখন বিশেষ করে নারীরা এবং পরিচিত নারীরা— যারা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বা মিডিয়াজগতের সঙ্গে যুক্ত তাদের সাইবার স্পেসটি প্রতিদিনই আরেকটু আরেকটু করে কঠিন হয়ে যায়। আমি আশা করবো নারীদের জন্য একটা নিরাপদ সাইবার স্পেস রাখতে পারি, তৈরি করতে পারি, সেই ব্যাপারে সরকার মনোযোগী হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ থাকবে, নারীরা যে দলেরই কর্মীরা হোক, যে দলের সমর্থক হোক না তাদের নিপীড়ন করা আপাতত..বিরোধী মতের কর্মীদের নিপীড়ন আপাতত আনন্দদায়ক হতে পারে কিন্তু সেটা বুমেরাং হবে।

সাইবার সুরক্ষা আইনের অপব্যবহার হবে না সেই ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য জনমত যাচাইয়ের আলোচনায় বলেন শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ারা যখন সরকারের বিরুদ্ধে কোন কথা বলেছে, তখন সাইবার আইন দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। এই আইনে রাজনৈতিক নেতাদেরও হয়রানি করা হয়। নতুন আইনটি যাতে শিক্ষার্থীসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে ব্যবহার না হয় সে জন্য জনমত যাচাইয়ের দাবি করেন তিনি। শাহাজাহান চৌধুরী বলেন, সাইবার অপরাধের নামে দিবারাত্রী পুলিশ গ্রেপ্তার করতো।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলাম বলেন, যোগাযোগ, ব্যবসা ও বিনোদনসহ জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্র এখন অনলাইন ও সাইবার স্পেসের ওপর নির্ভরশীল। তবে ডিজিটাল অগ্রগতির সঙ্গে হ্যাকিং, ব্ল্যাকমেইল, ভুয়া তথ্য ছড়ানো, আর্থিক জালিয়াতি ও অনলাইন হয়রানিও বেড়েছে। তিনি বলেন, সাইবার অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো সুরক্ষিত করা দরকার। তবে আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগে সতর্কতা থাকতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারও রক্ষা পায়।

চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, সাইবার অপরাধ, এআইয়ের অপব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানো ও বিভ্রান্তি তৈরির মতো অপরাধ প্রতিরোধে আইন প্রয়োজন। তবে এই আইন যেন বাকস্বাধীনতা খর্ব করার পরিবেশ তৈরি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা পক্ষ অনেক সময় প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে এ ধরনের আইন ব্যবহার করে। তাই ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করেই আইন সংশোধন করা উচিত।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে আইন আরও কঠোর করার দাবি জানান। তিনি বলেন, সাইবার স্পেস ব্যবহার করে এক দলের বিরুদ্ধে আরেক দল অপপ্রচার চালাচ্ছে, ব্যক্তির চরিত্রহনন করা হচ্ছে। যারা এসব করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে চরিত্রহনন, অপতথ্য, গুজব, মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার বিষয়ে সরকার আলাদা উদ্যোগ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে, বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই চলছে। এ বিষয়ে পরে প্রয়োজনীয় সংশোধনী বা বিল আনা হবে।

বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আইনটি সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে নারীর নিরাপত্তার জন্য। তবে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে সবাই শঙ্কিত। আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এখন মূল বিষয়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

এসএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করলে ১৫ দিনের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

এসএসসি পরীক্ষায় দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ১৫ দিনের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে বছরের পর বছর পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার ধারাবাহিকতা বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষায় যুক্ত করার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) মিলনায়তনে ৪৯তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ৬৫১ জন কর্মকর্তার ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফেল করার ধারাবাহিকতা বছরের পর বছর চলতে দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের বারবার পরীক্ষা নেওয়া কিংবা কালক্ষেপণের সুযোগ রাখবে না সরকার। যারা সাধারণ শিক্ষায় এগোতে পারবে না, তাদের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীরা যাতে পড়াশোনায় পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার বিষয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশে নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকার বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে একটি প্রজন্মকে নৈতিকভাবে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে খেলাধুলা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আয়োজন করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ। পড়ালেখা ও খেলাধুলার সমন্বয়ে বিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. সরদার কেরামত আলী। এতে বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, আরডিএর মহাপরিচালক আব্দুল মজিদ এবং শিক্ষামন্ত্রীর সহধর্মিণী নাজমুন নাহার বেবী।

Continue Reading

top1

ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা, আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ডা. জাহেদ উর রহমান ঘটনাটিকে ‘আওয়ামী সন্ত্রাস’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই বিনা চ্যালেঞ্জে যেতে দেওয়া হবে না।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চায় ঢাকা। পুনর্মিলনের পথ তৈরি করতে হলে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত দলটির মধ্যে এখন পর্যন্ত অনুতাপের লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং তারা নানা ধরনের সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েছিলেন—এ কারণে তাঁকে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের আচরণের চেষ্টা হয়েছে। এ ছাড়া অভিনেত্রী বাঁধনকেও হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, প্রকাশ্যে সহিংসতা ও সন্ত্রাসে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে—এমন একটি দলের সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রশ্ন আসে না। পুনর্মিলনের ন্যূনতম সম্ভাবনা থাকলে আওয়ামী লীগেরই নিজেদের অবস্থান থেকে তা জানানোর কথা ছিল।

তিনি বলেন, দুই বছর পর দলটির আচরণ দেখে পুনর্মিলনের কোনো সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। ক্ষমা চাওয়া বা অনুতাপ প্রকাশের পরিবর্তে তারা হুমকি দিচ্ছে এবং সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

Continue Reading

top1

হুতির হামলা: নিরাপত্তা শঙ্কায় প্রাসাদ থেকে প্রাসাদে ছুটছেন সৌদি যুবরাজ সালমান

Published

on

By

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা জোরদার হওয়ার মধ্যে নিরাপত্তা শঙ্কায় একের পর এক প্রাসাদ বদলাতে হচ্ছে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে। কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এই প্রাসাদগুলোয় রয়েছে বাংকার-সুবিধা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

৪১ বছর বয়সী যুবরাজকে সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর জনসমক্ষে দেখা যায়। সেদিন তিনি দেশটির একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে রক্ত দেন। এরপর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে যুবরাজের নিরাপত্তায় তার পছন্দের একটি বিশেষ দল নিয়োজিত রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

বিন সালমানের এই ‘প্রাসাদ থেকে প্রাসাদে পালানো’র এই খবর এমন এক সময়ে আসছে যখন হুথিরা ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাজধানী রিয়াদে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে, যার ফলে বারবার হামলার মুখে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর গত এক দশকের মধ্যে সৌদি আরবের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। হুতিদের অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আঘাত হানে। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহত হন। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।

হামলার বিষয়ে অবহিত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংঘাতগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের মিত্রদের ওপর এটিই ছিল এককভাবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। এতে ২৮ বছর বয়সী এক মিসরীয় বিমানবালা রক্তক্ষরণে মারা যান। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। হতাহতদের মধ্যে আরও কয়েকজনের অঙ্গহানির ঘটনা ঘটেছে।

সপ্তাহান্তে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। গত পাঁচ দিনে বিমানবন্দরটিতে চারবার হামলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

১ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।

এই হামলাগুলো সৌদি আরবের রাজধানী রক্ষার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যখন খবর বেরিয়েছে যে দেশটির ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উৎক্ষেপিত ইরানি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে সৌদি আরবও এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মতো বিপুল পরিমাণে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যয় করেছে। ফলে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপক চাপের মধ্যে আছে।

এদিকে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান সতর্ক করে বলেছেন, হামলার ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে এর জবাবও সমান গুরুতর হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের হামলায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন। মক্কা চুক্তির আওতাভুক্ত সৌদি আরবের মিত্ররাও রিয়াদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে ২০১৫ সাল থেকে সংঘাত চলছে। ওই বছর ইয়েমেনের সরকারের পক্ষে দেশটির গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হয়। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা শেষে হুতি নেতাদের নিয়ে তেহরান থেকে আসা একটি উড়োজাহাজ সানার বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করার সময় সৌদি বাহিনী সেখানে হামলা চালায়। বদলা নিতে হুতিরা আবার হামলা শুরু করে।

ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের অন্যতম শক্তিশালী সশস্ত্র মিত্র। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আরব উপদ্বীপের পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে তেহরান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তার মতে, এই সংঘাত শুধু ইসরায়েলি শাসনকেই লাভবান করবে।

রোববার রাতে সৌদি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সংঘাতের বিস্তার নিয়ে কথা বলেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, তিনি সামরিক পন্থার ওপর জোর দেওয়া এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি উপেক্ষা করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে তেহরান সহায়তা করতেও প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

সূত্র : ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য নিউ এরাব

Continue Reading

Trending