Connect with us

ক্যাম্পাস

বুটেক্সে তিন দিনব্যাপী  ‘স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০’ অনুষ্ঠিত

Published

on

-অভিষেক দত্ত,বুটেক্স প্রতিনিধি 

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক আয়োজন ‘স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুটেক্স স্পিনার্স ক্লাব আয়োজিত এ উৎসব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিল্প–শিক্ষা সংযোগ, সৃজনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমের এক অনন্য মিলনমেলা তৈরি করে।

৫ নভেম্বর (বুধবার) অন্তঃবিভাগীয় ফুটসাল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরদিন অনুষ্ঠিত হয় আরডুইনো প্রজেক্ট প্রতিযোগিতা ও ইনডোর গেমস, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে।

ফুটসাল টুর্নামেন্টে ৪-৩ ব্যবধানে ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫১তম ব্যাচকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ৪৭তম ব্যাচ। আরডুইনো প্রজেক্ট প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে এরর ৪০৪, এক্স ওয়াই জেড ও শর্ট সার্কিট গ্রুপ। ইনডোর গেমস-এর মধ্যে দাবা খেলায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ হয় যথাক্রমে তালহা ও হৃদয়, ডার্ট খেলায় হৃদয় ও তালহা এবং ই-ফুটবল-এ তৃনো ও নিলয়।

৭ নভেম্বর (শনিবার) ছিল পুরো আয়োজনের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন। সকাল থেকে অনুষ্ঠিত হয় কুইজ কার্নিভাল, এরপর শিল্প ও নীতিগত বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার—’ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ ইন স্পিনিং এন্ড গভর্নমেন্ট মেজারস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্ট্র্যাটেজিস ফর কস্ট ইফিশিয়েন্সি ইন দ্য স্পিনিং সেক্টর।’ সন্ধ্যায় ওয়াল ম্যাগাজিন ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় পুরষ্কার বিতরণ এবং ৪৬তম ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ব্যান্ড শো-এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকেন আরমাদা স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ ও কোয়ালিটেক বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান আহসানুল হক। তাঁরা যথাক্রমে স্পিনিং খাতে ব্যয় দক্ষতা অর্জনের জন্য সরকারি পদক্ষেপ ও শিল্পখাতের কৌশলসমূহ এবং স্পিনিং খাতে ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ ও অটোমেশন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

এছাড়া সেমিনারে সভাপত্বিতে থাকেন বুটেক্স স্পিনার্স ক্লাবের সভাপতি আবু রাফসান করিম। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম, আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম, আইটিইটির অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জি. মো. এনায়েত হোসেন, আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. সাঈদুর রহমান, নোমান গ্রুপের স্পিনিং বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. এনামুল করিম, ওয়ান কম্পোজিট মিলস লিমিটেডের পরিচালক নাসির উদ্দিন মিয়া, সালমা গ্রুপের সিওও আজহার আলি এবং বাদশা টেক্সটাইল লিমিটেড ও কামাল ইয়ার্ন লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক খোরশেদ আলম। 

আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম বলেন, “আমরা অটোমেশন নিয়ে কথা বলছি ঠিকই কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অটোমেশনের সঠিক সময় এখনো আসেনি। আমাদের দেশের অনেক মানুষ এখনো বেকার। এখনি অটমেশনের দিকে গেলে প্রথমত এই বেকারত্ব আরো বৃদ্ধি পাবে, দ্বিতীয়ত ইলেকট্রিসিটির ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাবে। তবে এখানে রিং ডাটা ব্যবহার করে ইফিসিয়েন্সি বাড়ানো যায়। আমাদের খরচগুলোর প্রপার এনালাইসিস করতে হবে যেন এর থেকে আমরা লাভ বের করে আনতে পারি।”

আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. সাঈদুর রহমান বলেন, ”আমরা টেক্সটাইল সেক্টরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অবস্থা পার করেছি। যখন বস্ত্র নীতি ঘোষণা করা হয় তখন গার্মেন্টস টেক্টর ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করে। তখন আমরা এই ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গুলোর যোগান দিতে পারছিলাম না, যার কারণে স্পিনিং সেক্টর গুলো শুরু করা হয় এবং ব্যাপকভাবে উন্নতি করে। অটোমেশনের ব্যবহার করে স্পিনিং সেক্টরের সংকটকে কাটানোর যে চিন্তাধারা উদ্ভাবন করা হয়েছে তা প্রশংসনীয়। এটা বাস্তবায়ন করতে পারলে আমাদের দেশের পিনিং সেক্টরগুলো এবং ইন্ডাস্ট্রি লেভেলও আমরা আরো উন্নতি করতে পারব।“

আইটিইটির অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জি. মো. এনায়েত হোসেন তার বক্তব্যে স্পিনিং সেক্টরের সংকট নিরসনে টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার উপর আলোকপাত করেন৷ যার ফলে শুধু স্পিনিং সেক্টরের সংকট নয় বরং সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে৷ 

অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম বলেন, ”আমি টেক্সটাইল সেক্টরকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখি এবং অটোমেশন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সারা পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশের কোম্পানি ও ফ্যাক্টরির মালিকরা আমাদের শ্রমিকদেরকে সবচেয়ে কম বেতন দেয়। বাংলাদেশ টেক্সটাইল সেক্টর নিয়ে ইকোনমিক কমপ্লেক্সিটি-এর মধ্যে রয়েছে। টেক্সটাইল সেক্টর মোট বিশ্ব দূষণের ১১% কার্বন নিঃসরণ ঘটায়। এই ১১% এর মধ্যে বাংলাদেশ হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশীদার।বাংলাদেশ প্রচুর পরিমাণে কটন আমদানি করে, কাপড় বানায় এবং বর্জ্য বাংলাদেশে রেখে যায়।”

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “স্পিনিং ফ্যাক্টরির এই সংকট মোকাবেলার জন্য আমাদের নিজেদের মেশিন বানানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। আমরা এতদিন এসব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাইরের দেশের উপর নির্ভরশীল ছিলাম। আমাদেরও উচিত ইনোভেটিভ টেক্সটাইল মেশিন তৈরির দিকে ধাবিত হওয়া। এ ক্ষেত্রে যে অটোমেশনের ধারণা প্রস্তাব করা হয়েছে, তা যদি আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি তাহলে আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।”

স্পিনার্স ক্লাবের সভাপতি আবু রাফসান করিম বলেন, “স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০ শুধুমাত্র একটি ইভেন্ট নয়; এটি ভবিষ্যৎ শিল্পনেতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। ইন্ডাস্ট্রি ৪.০–এর যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতেই এই আয়োজন। কস্ট এফিসিয়েন্সি ও প্রযুক্তিনির্ভর সেমিনার শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিল্প–জ্ঞান দেবে। শীর্ষ শিল্পপতিদের উপস্থিতি আমাদের প্রতি তাদের আস্থাও প্রমাণ করে। এই সংযোগ ও অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের পেশাগত ভিত্তি আরও শক্ত করবে।”

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জুমানা তাসনীন বলেন, “স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০ আয়োজন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মেধা, একাডেমিক অর্জন ও শিল্প–সংযোগের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। কুইজ, আরডুইনো প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ বিষয়ক সেমিনার—সব মিলিয়ে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অসাধারণ সুযোগ। দেশের শীর্ষ শিল্পপতিদের অংশগ্রহণ ইভেন্টটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের এর মধ্য দিয়ে বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পৃক্ত হয়, যা শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি শিল্প–জ্ঞান ও সৃজনশীলতার অনন্য সমন্বয় ঘটায়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

সাত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধান কমিটিতে ‘বিতর্কিত’ শিক্ষক নেতারা, প্রশ্ন উঠেছে নিরপেক্ষতা নিয়ে

Published

on

By

আনাস মাহমুদ; বেরোবি প্রতিবেদক;

সাবেক পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর ‘গোপন তৎপরতায়’ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাত শিক্ষকের যুক্ত থাকার অভিযোগের তথ্য অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে অভিযোগের অনুসন্ধানে গঠিত কমিটির কয়েকজন সদস্যের রাজনৈতিক ও শিক্ষক সংগঠনের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে পাঁচ সদস্যের এই তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সূত্রের খবরে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক পলাতক ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন বলে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ও সাময়িক বরখাস্ত কয়েকজন শিক্ষকের নামও রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক এ ধরনের গোপন অপতৎপরতায় জড়িত রয়েছেন কি না, তা সুষ্ঠুভাবে অনুসন্ধানের লক্ষ্যে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবনকে আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল সেলের সহকারী রেজিস্ট্রার মোছা. রেহেনা আক্তার মনিকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হারুন-আল-রশীদ এবং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান।

তথ্য অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। যৌন হয়রানি ও নম্বর টেম্পারিংয়ের অভিযোগ ওঠার পর ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। নিজ বিভাগের সাবেক এক শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অভিযোগ দেয়। তার একটি তদন্ত এখনো চলমান বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে তাকে অন্য একটি তদন্ত কমিটির দায়িত্ব দেওয়ায় ক্যাম্পাসে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

একইভাবে কমিটির সদস্য ড. মো. হারুন-আল-রশীদ শিক্ষক সমিতির আওয়ামিলীগ পন্থী শিক্ষকদের সংগঠন‘নীল দল’-এর প্যানেল থেকে নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ এবং নীল দলের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগের অনুসন্ধানের দায়িত্ব পাওয়া কমিটির সদস্যদের এমন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা থাকায় কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটি সদস্যদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত কমিটির অনুসন্ধানের আওতায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদ মন্ডল এবং গণিত বিভাগের ড. মশিউর রহমান। তাঁরা জুলাইয়ে আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন।

অন্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রফেসর ড. আয়েশা আকতার আঁখি, প্রফেসর ড. মো. জাকির হোসেন, জেড উদ্দিন, দেবু পিকে (সাংকেতিক নাম) এবং এসকে বি (সাংকেতিক নাম)।

তবে এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর ‘গোপন তৎপরতায়’ জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা এখনো অনুসন্ধানাধীন। তথ্য অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের পরই বিষয়টি সম্পর্কে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, “এখন তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে। তথ্য অনুসন্ধান কমিটি প্রতিবেদন দেওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শৃঙ্খলা কমিটি ও সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”তবে তথ্য অনুসন্ধান কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে রেজিস্ট্রার কোনো সময় উল্লেখ করেননি।

দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে তথ্য যাচাই করে সত্য উদঘাটন করা জরুরি। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততার প্রশ্ন রয়েছে, তাদের দিয়ে তদন্ত করানো হলে স্বাভাবিকভাবেই নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে যাদের নামেই তদন্ত চলমান, তারা কীভাবে অন্যের তদন্তের দায়িত্বে থাকেন এ বিষয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আমরা চাই, রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করা হোক।”

আরেক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে দোষী বলা যায় না। একইভাবে অভিযোগকে উপেক্ষাও করা উচিত নয়। তাই অনুসন্ধান কমিটির সদস্যদের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কমিটির প্রতিবেদন যেন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হয় এবং কারও প্রতি পক্ষপাত না থাকে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

Continue Reading

top3

ইবিতে অ্যারাবিক ক্লাবের নেতৃত্বে আমির-আমান-ফাহিম

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সংগঠন অ্যারাবিক ক্লাবের ২০২৬-২৭ বর্ষের কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির ফয়সাল, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমান উল্লাহ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিম ফয়সাল নির্বাচিত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে বিভাগীয় সেমিনার কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে আনঅফিসিয়াল ফলাফল প্রকাশ করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. শামছুল হক ছিদ্দিকী। 

নির্বাচনে মোট ৩১৩ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দেন ১৮৪ জন, যার সবগুলোই বৈধ ব্যালট হিসেবে গণ্য হয়েছে। সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদে মোট চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ১৩৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন আমির ফয়সাল। দুটি সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হন নূর হোসেন আল রিফাত (২৮ ভোট) ও শহীদ উল্লাহ (১০ ভোট)।

সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে ছয়জন প্রার্থী ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক পদে ১০৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মো. আমান উল্লাহ। দুটি যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন কামরুল হাছান (৩৪ ভোট) ও ইউসুফ রাকিব (২০ ভোট)।

সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৮৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন ফাহিম ফয়সাল। দুটি সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন ওমর ফারুক (৭৫ ভোট) ও শাকিল আহমেদ (১১ ভোট)।

ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিতদের শুভকামনা জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, অ্যারাবিক ক্লাবের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি এবং অন্যান্য বিভাগের তুলনায় আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের আরও অনেক দূর এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বেরোবিতে বিক্ষোভ

Published

on

By

বেরোবি প্রতিনিধি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে আগের মতো নিয়োগ বহাল রাখার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’দের ব্যানারে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

‘শিক্ষার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হই, অন্যায় সিদ্ধান্ত রুখে দিই’ স্লোগানে বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিল থেকে শিক্ষার্থীরা ‘শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি চলবে না’, ‘যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি দে’, ‘চাকরি আমার অধিকার, নিয়োগ হবে স্বচ্ছতার’ ও ‘মেধা নিয়ে গড়িমসি চলবে না’সহ নানা স্লোগান দেন।

মিছিল শেষে প্রধান ফটকের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সিদ্দিকুর রহমান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আহসান হাবিব এবং ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সানোয়ার হোসেন।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ম্যানেজিং কমিটির হাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া ছেড়ে দিলে স্বচ্ছতা বিনষ্ট হবে এবং মেধার মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। শিক্ষক নিয়োগে যোগ্যতা ও মেধ্যাক সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে; স্বজনপ্রীতি বা আর্থিক লেনদেনের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না।

ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সানোয়ার হোসেন বলেন, “এই পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মেধাবীদের দূরে রাখার চক্রান্ত চলছে। সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”

বেরোবির শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, “বিগত দিনে শিক্ষক নিয়োগে কমিটির পেছনে টাকা নিয়ে ঘোরার যে দুর্নীতির পরিবেশ ছিল, তা আর ফিরতে দেওয়া হবে না। যেভাবে শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, একইভাবে এই সিদ্ধান্তও প্রতিহত করা হবে। অবিলম্বে এনটিআরসিএর মাধ্যমে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ বহাল রাখতে হবে।”

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

Continue Reading

Trending