Connect with us

ক্যাম্পাস

বুটেক্সে তিন দিনব্যাপী  ‘স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০’ অনুষ্ঠিত

Published

on

-অভিষেক দত্ত,বুটেক্স প্রতিনিধি 

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক আয়োজন ‘স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুটেক্স স্পিনার্স ক্লাব আয়োজিত এ উৎসব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিল্প–শিক্ষা সংযোগ, সৃজনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমের এক অনন্য মিলনমেলা তৈরি করে।

৫ নভেম্বর (বুধবার) অন্তঃবিভাগীয় ফুটসাল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরদিন অনুষ্ঠিত হয় আরডুইনো প্রজেক্ট প্রতিযোগিতা ও ইনডোর গেমস, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে।

ফুটসাল টুর্নামেন্টে ৪-৩ ব্যবধানে ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫১তম ব্যাচকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ৪৭তম ব্যাচ। আরডুইনো প্রজেক্ট প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে এরর ৪০৪, এক্স ওয়াই জেড ও শর্ট সার্কিট গ্রুপ। ইনডোর গেমস-এর মধ্যে দাবা খেলায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ হয় যথাক্রমে তালহা ও হৃদয়, ডার্ট খেলায় হৃদয় ও তালহা এবং ই-ফুটবল-এ তৃনো ও নিলয়।

৭ নভেম্বর (শনিবার) ছিল পুরো আয়োজনের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন। সকাল থেকে অনুষ্ঠিত হয় কুইজ কার্নিভাল, এরপর শিল্প ও নীতিগত বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার—’ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ ইন স্পিনিং এন্ড গভর্নমেন্ট মেজারস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্ট্র্যাটেজিস ফর কস্ট ইফিশিয়েন্সি ইন দ্য স্পিনিং সেক্টর।’ সন্ধ্যায় ওয়াল ম্যাগাজিন ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় পুরষ্কার বিতরণ এবং ৪৬তম ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ব্যান্ড শো-এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকেন আরমাদা স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ ও কোয়ালিটেক বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান আহসানুল হক। তাঁরা যথাক্রমে স্পিনিং খাতে ব্যয় দক্ষতা অর্জনের জন্য সরকারি পদক্ষেপ ও শিল্পখাতের কৌশলসমূহ এবং স্পিনিং খাতে ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ ও অটোমেশন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

এছাড়া সেমিনারে সভাপত্বিতে থাকেন বুটেক্স স্পিনার্স ক্লাবের সভাপতি আবু রাফসান করিম। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম, আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম, আইটিইটির অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জি. মো. এনায়েত হোসেন, আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. সাঈদুর রহমান, নোমান গ্রুপের স্পিনিং বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. এনামুল করিম, ওয়ান কম্পোজিট মিলস লিমিটেডের পরিচালক নাসির উদ্দিন মিয়া, সালমা গ্রুপের সিওও আজহার আলি এবং বাদশা টেক্সটাইল লিমিটেড ও কামাল ইয়ার্ন লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক খোরশেদ আলম। 

আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম বলেন, “আমরা অটোমেশন নিয়ে কথা বলছি ঠিকই কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অটোমেশনের সঠিক সময় এখনো আসেনি। আমাদের দেশের অনেক মানুষ এখনো বেকার। এখনি অটমেশনের দিকে গেলে প্রথমত এই বেকারত্ব আরো বৃদ্ধি পাবে, দ্বিতীয়ত ইলেকট্রিসিটির ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাবে। তবে এখানে রিং ডাটা ব্যবহার করে ইফিসিয়েন্সি বাড়ানো যায়। আমাদের খরচগুলোর প্রপার এনালাইসিস করতে হবে যেন এর থেকে আমরা লাভ বের করে আনতে পারি।”

আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. সাঈদুর রহমান বলেন, ”আমরা টেক্সটাইল সেক্টরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অবস্থা পার করেছি। যখন বস্ত্র নীতি ঘোষণা করা হয় তখন গার্মেন্টস টেক্টর ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করে। তখন আমরা এই ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গুলোর যোগান দিতে পারছিলাম না, যার কারণে স্পিনিং সেক্টর গুলো শুরু করা হয় এবং ব্যাপকভাবে উন্নতি করে। অটোমেশনের ব্যবহার করে স্পিনিং সেক্টরের সংকটকে কাটানোর যে চিন্তাধারা উদ্ভাবন করা হয়েছে তা প্রশংসনীয়। এটা বাস্তবায়ন করতে পারলে আমাদের দেশের পিনিং সেক্টরগুলো এবং ইন্ডাস্ট্রি লেভেলও আমরা আরো উন্নতি করতে পারব।“

আইটিইটির অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জি. মো. এনায়েত হোসেন তার বক্তব্যে স্পিনিং সেক্টরের সংকট নিরসনে টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার উপর আলোকপাত করেন৷ যার ফলে শুধু স্পিনিং সেক্টরের সংকট নয় বরং সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে৷ 

অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম বলেন, ”আমি টেক্সটাইল সেক্টরকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখি এবং অটোমেশন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সারা পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশের কোম্পানি ও ফ্যাক্টরির মালিকরা আমাদের শ্রমিকদেরকে সবচেয়ে কম বেতন দেয়। বাংলাদেশ টেক্সটাইল সেক্টর নিয়ে ইকোনমিক কমপ্লেক্সিটি-এর মধ্যে রয়েছে। টেক্সটাইল সেক্টর মোট বিশ্ব দূষণের ১১% কার্বন নিঃসরণ ঘটায়। এই ১১% এর মধ্যে বাংলাদেশ হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশীদার।বাংলাদেশ প্রচুর পরিমাণে কটন আমদানি করে, কাপড় বানায় এবং বর্জ্য বাংলাদেশে রেখে যায়।”

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “স্পিনিং ফ্যাক্টরির এই সংকট মোকাবেলার জন্য আমাদের নিজেদের মেশিন বানানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। আমরা এতদিন এসব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাইরের দেশের উপর নির্ভরশীল ছিলাম। আমাদেরও উচিত ইনোভেটিভ টেক্সটাইল মেশিন তৈরির দিকে ধাবিত হওয়া। এ ক্ষেত্রে যে অটোমেশনের ধারণা প্রস্তাব করা হয়েছে, তা যদি আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি তাহলে আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।”

স্পিনার্স ক্লাবের সভাপতি আবু রাফসান করিম বলেন, “স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০ শুধুমাত্র একটি ইভেন্ট নয়; এটি ভবিষ্যৎ শিল্পনেতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। ইন্ডাস্ট্রি ৪.০–এর যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতেই এই আয়োজন। কস্ট এফিসিয়েন্সি ও প্রযুক্তিনির্ভর সেমিনার শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিল্প–জ্ঞান দেবে। শীর্ষ শিল্পপতিদের উপস্থিতি আমাদের প্রতি তাদের আস্থাও প্রমাণ করে। এই সংযোগ ও অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের পেশাগত ভিত্তি আরও শক্ত করবে।”

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জুমানা তাসনীন বলেন, “স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০ আয়োজন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মেধা, একাডেমিক অর্জন ও শিল্প–সংযোগের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। কুইজ, আরডুইনো প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ বিষয়ক সেমিনার—সব মিলিয়ে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অসাধারণ সুযোগ। দেশের শীর্ষ শিল্পপতিদের অংশগ্রহণ ইভেন্টটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের এর মধ্য দিয়ে বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পৃক্ত হয়, যা শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি শিল্প–জ্ঞান ও সৃজনশীলতার অনন্য সমন্বয় ঘটায়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

রাবি ভর্তি পরীক্ষা: নিরাপদ খাদ্য ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সিওয়াইবি ও রাকসুর যৌথ অভিযান

Published

on

By

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে আগত পরীক্ষার্থীদের নিরাপদ খাদ্য ও নির্ধারিত মূল্যে খাবার নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসের খাবারের দোকানগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওয়াইবি) রাবি শাখা এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে এই তদারকি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সিওয়াইবি-র সহ-সভাপতি মারিয়া ইসলাম রিমি, সাধারণ সম্পাদক কাজী মোজাদ্দেদী সানি এবং রাকসু-র পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।

অভিযানে প্রাপ্ত অনিয়মসমূহ

অভিযান চলাকালে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে অবস্থিত অধিকাংশ খাবারের দোকানেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও উচ্চমূল্য আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। উল্লেখযোগ্য অনিয়মগুলোর মধ্যে রয়েছে:

নির্ধারিত মূল্য তালিকার চেয়ে অতিরিক্ত দাম রাখা।

খাদ্য তৈরির স্থানে চরম নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ।

বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট।

খাবার খোলা রাখা ও ঢেকে না রাখার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি।

নেতৃবৃন্দের বক্তব্য

অভিযান শেষে সিওয়াইবি-র সহ-সভাপতি মারিয়া ইসলাম রিমি বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি অনেক দোকানদার অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা প্রক্টর অফিসের নির্ধারিত মূল্য তালিকা মেনে চলার দাবি করেন। তবে আমরা মনে করি, পরীক্ষার্থী ও ভোক্তারা যদি সচেতন হয়ে মূল্য তালিকা দেখে টাকা পরিশোধ করেন, তবে এই প্রতারণা বন্ধ করা সম্ভব।”

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মোজাদ্দেদী সানি বলেন, “অপরিচ্ছন্নতা ও অনিয়ম রোধে নিয়মিত অভিযান ও জরিমানার কোনো বিকল্প নেই। আমরা আগামীতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা বা জরিমানার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে আলোচনা করছি।”

ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পরীক্ষার তাড়াহুড়ো থাকায় আমরা অনেকেই মূল্য তালিকা দেখার সুযোগ পাই না। সেই সুযোগে দোকানদাররা ইচ্ছামতো দাম রাখছে, যা আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ভোগান্তি।”

সিওয়াইবি-র নির্বাহীরা জানান, সামনের দিনগুলোতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-এর মাধ্যমে বড় ধরনের জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

রাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় স্মার্টফোন ব্যবহার করার অভিযোগে আটক ১

Published

on

By

রাবি প্রতিবেদক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আরও এক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। স্মার্টফোন ব্যবহার করে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে বাইরে পাঠানোর সময় তাকে হাতেনাতে ধরা হয়।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবনের ১৪৫ নম্বর কক্ষে ‘সি’ ইউনিটের দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।

আটক পরীক্ষার্থীর নাম মো. শামস আজমাইন। তিনি নওগাঁ সদরের মুক্তির মোড় এলাকার বাসিন্দা মো. রাশিদুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে তিনি প্রক্টর দপ্তরে নজরবন্দি রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর দপ্তর জানায়, পরীক্ষা চলাকালীন আজমাইনের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে কক্ষ পরিদর্শক তাকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে দেখা যায়, দুপুর ৩টা ১৩ এবং ৩টা ২৩ মিনিটে তিনি মোবাইল ফোনে প্রশ্নপত্রের দুটি ছবি তোলেন। ছবিগুলো ‘রবিউল ইসলাম’ নামে একটি ফেসবুক আইডির মেসেঞ্জারে পাঠানো হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছে মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তাকে প্রক্টর দপ্তরে নিয়ে আসা হয়।

সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, ‘আইসিটি সেন্টারের বিশেষজ্ঞ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে প্রাথমিক তদন্তে প্রশ্নপত্রের ছবি তোলার সত্যতা মিলেছে। মোবাইল থেকে একটি নির্দিষ্ট মেসেঞ্জারে সেই ছবিগুলো পাঠানো হয়েছিল। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত প্রথম শিফটের পরীক্ষায় ‘ডিপসিক এআই’ প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগে আরও এক পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছিল। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

রাবি ভর্তি পরীক্ষায় মোবাইলফোনে এআই ব্যবহারের অভিযোগে আটক-১

Published

on

By

রাবি প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম শিফটে স্মার্টফোনে ফোনে ‘ডিপসিক’ নামক এআই অ্যাপ ব্যবহার করে উত্তর খোঁজার সময়ে এক ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় রাবির জগদীশ চন্দ্র বসু কেন্দ্রের ১০২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটেছে।

বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী প্রক্টর দপ্তরে আটক অবস্থায় রয়েছেন।

অসদুপায় অবলম্বনকারী ওই ছাত্রের নাম দিব্য জ্যোতি সাহা। তার রোল নম্বর ৩১১০০০৫২। তার বাসা ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী। তবে স্থায়ী বাসা খুলনা। তার বাবার নাম ড. সাহা চঞ্চল কুমার। তিনি জনতা ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার। তার মাতা অল্পনা সাহা একজন গৃহিণী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর থেকে জানা যায়, আজ রাবির ‘সি’ ইউনিটের প্রথম শিফটের পরীক্ষা শুরু হয় সকল এগারোটা থেকে। পরীক্ষা চলাকালীন এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ করেন হলের পর্যবেক্ষক এক শিক্ষক। তিনি দেখতে পান ওই শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন ব্যবহার করে চারটা ছবি তোলেন। তারপর কাছে গিয়ে দেখতে পান, ওই শিক্ষার্থী ‘ডিপসিক’ নামক এআই অ্যাপ ব্যবহার করে উত্তর খুঁজে লেখার চেষ্টা করছেন। পরীক্ষা শেষে তাকে আটক করা হয়। এরপর প্রক্টর অফিসে তাকে নিয়ে আসা হয়।

জানতে চাইলে ওই শিক্ষার্থী বলেন, আমি মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলাম। এটা আমার অপরাধ হয়েছে। ডিপসিক ব্যবহার করে উত্তর খুঁজছিলাম। কিন্তু আমি লিখতে পারিনি। আমি স্বীকার করছি যে আমি অপরাধ করেছি, তবে আমাকে ছেড়ে দিলে আমি আর জীবনে এমন কাজ করব না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর গিয়াসউদ্দিন বলেন, ‘প্রথম শিফটের পরীক্ষা চলাকালীন জগদীশ চন্দ্র বসু ভবনে একটি কেন্দ্রের পরিদর্শকরা এক পরীক্ষার্থীকে মোবাইল এবং এয়ারপডসহ আটক করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি ও আইসিটি সেন্টারের বিশেষজ্ঞ এক সদস্য প্রাথমিক তদন্তে তার প্রশ্নপত্র একটি ছবি তোলার আলামত পায়। ছবিটি সেটি কোথাও পাঠানোর আলামত পাওয়া যায়নি। তবে প্রশ্নের ছবি দিয়ে ডিপসিক নামক একটি এআই ব্যবহার করে উত্তর খোঁজার চেষ্টার করছিলেন তিনি।’

উল্লেখ্য, এ বছরের ভর্তি পরীক্ষা দ্বিতীয়বারের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর ও বরিশালে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় ‘সি’ ইউনিটের প্রথম শিফটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়াও ওই ইউনিটের ২য় শিফটের পরীক্ষা বেলা ৩ টায় অনুষ্ঠিত হবে।



Continue Reading

Trending