Connect with us

আন্তর্জাতিক

ভিসা দেওয়ার আগে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করবে ভারত

Published

on

কুষ্ঠিয়ার মেয়ে আফসারা আনিকা মিম ২০১৮ সালে ভারতের শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা বিভাগের ছাত্রী হিসেবে ভর্তি হয়েছিলেন। পরের বছর যখন ভারত জুড়ে নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ শুরু হলো, তার কিছুদিন পরই তিনি নিজের ফেসবুকে সহপাঠীদের আন্দোলনের কিছু ছবি শেয়ার করেন।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই ছাত্রীর কাছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদেশি নাগরিক নথিভুক্তিকরণ বিভাগের (এফআরআরও) চিঠি আসে, সোশ্যাল মিডিয়াতে ‘ভারত-বিরোধী পোস্ট’ করার জন্য তার ভিসা বাতিল করা হচ্ছে— তাকে অবিলম্বে ভারত ছাড়তে হবে। আনিকার মাথায় কার্যত আকাশ ভেঙে পড়ে, নিজে কোনও বিক্ষোভে অংশ না নেওয়া সত্ত্বেও তাকে যে ভারত ছাড়ার হুকুম দেওয়া হবে তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি।  

ওই একই নাগাদ কলকাতার ধর্মতলায় বাংলাদেশি একজন পর্যটক সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে দেখে দাঁড়িয়ে পড়েন এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মিলে স্লোগানও দেন। সেই ছবি সোৎসাহে নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করার পর দিনই তা ভারতীয় গোয়েন্দাদের চোখে পড়ে এবং পরদিনই তাকে পত্রপাঠ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

সোশ্যাল মিডিয়া

গত বছরের (২০২৪) আগস্টে আসামের শিলচরে এনআইটি-তে (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) ইলেকট্রনিক ও কমিউনিকেশন্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের বাংলাদেশি ছাত্রী মাইশা মাহজাবিনকেও প্রায় রাতারাতি করিমগঞ্জের সুতারকান্দি সীমান্ত দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মাইশার অপরাধ ছিল, তিনি কোনও এক বন্ধুর ভারত-বিরোধী পোস্টে ‘হার্ট’ সাইনের ইমোজি দিয়ে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন।

আবার একই বছরের সেপ্টেম্বরে চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন বাংলাদেশি পর্যটক মোহাম্মদ আলমগীর। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, ভারতে ঢোকার পর থেকেই তিনি নিয়মিত ফেসবুকে ভারতের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে চলেছেন। সেই বিষয়টিতে কেউ বা কারা ভারতের এফআরআরও-র দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তাকেও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয় ওই চ্যাংড়াবান্ধা দিয়েই।  

ওপরে উল্লিখিত ঘটনাগুলো নেহাত কয়েকটি দৃষ্টান্ত মাত্র। কিন্তু এই ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ভারত সরকার এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে যারা ভারতীয় ভিসার আবেদন করবেন তাদের গত বেশ কয়েক বছরের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট যাচাই-বাছাই করেই ভিসা দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভারত সরকারের একাধিক শীর্ষস্থানীয় সূত্র বাংলা ট্রিবিউনের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  

তারা জানাচ্ছেন, আগে যেটা মাত্র কয়েকটি ‘হাতেগোনা বা বিচ্ছিন্ন কেস’ হিসেবে করা হতো, এখন থেকে সেটাই চালু হবে ‘নিয়ম’ হিসেবে।

এখানে বলা যেতে পারে, মার্কিন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন যেমন গত বেশ কিছুকাল ধরে আবেদনকারীর অন্তত বিগত পাঁচ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল পরীক্ষা করার নীতি নিয়েছে, ভারতও বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে অবিকল সেই একই মডেল অনুসরণ করতে চাইছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার কথায়, ‘গত বছর দেড়েকে যেভাবে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী কথাবার্তা বলার ধূম পড়েছে, তাতে এটা ছাড়া আমাদের কোনও উপায় ছিল না।’

‘হ্যাঁ, মানছি যে প্রত্যেক বিদেশি নাগরিকের বাকস্বাধীনতার অধিকার আছে, ভারতকে গালিগালাজ করারও নিশ্চয়ই অধিকার আছে— কিন্তু আমাদেরও পাল্টা এই অধিকার আছে যে কাকে ভিসা দেওয়া হবে আর কাকে দেওয়া হবে না, সেটা ঠিক করার’, আরও মন্তব্য করেন তিনি।

গত বছরের আগস্টে শেখ হাসিনার নাটকীয় পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে ভারতের স্বাভাবিক ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। খুব জরুরি কিছু মেডিক্যাল ভিসা ও ইমার্জেন্সি ভিসা ছাড়া ভারত বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া একরকম বন্ধই করে দিয়েছিল বলা চলে।

ইন্ডিয়ান ভিসা এ্যাপ্লিকেশন সেন্টার

কিন্তু এখন ধীরে ধীরে ভিসা দেওয়ার সংখ্যা আবার বাড়ানো হচ্ছে। ঢাকা এবং খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও চট্টগ্রামের মোট পাঁচটি ভিসা আবেদন কেন্দ্রের মাধ্যমে গত কয়েক মাসে আবার রোজ বেশ কয়েকশো করে ভিসা ইস্যু করছে ভারত। যদিও তা আগের পর্যায়ে এখনও আসেনি, কিন্তু এই সংখ্যাটা ধীরে ধীরে বাড়ছে।

ভারতের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ভিসার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি এটা নিশ্চিত করাও জরুরি হয়ে পড়েছে যে যারা প্রকাশ্যে ভারত-বিরোধী মন্তব্য ও পোস্ট করছেন তাদের যেন ভারতের ভিসা ইস্যু না করা হয়। সে কারণেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত এটাও উল্লেখ করা যেতে পারে, বাংলাদেশ থেকে যে ছাত্রছাত্রীরা আইসিসিআর স্কলারশিপ নিয়ে ভারতে পড়াশুনা করতে আসেন বা সংস্কৃতি, বাণিজ্য, শিক্ষার মতো বিশেষ কিছু ক্যাটেগরিতে ভিসা নিয়ে আসেন— তাদের বেলায় সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করার রেওয়াজ অনেকদিন ধরেই আছে। কিন্তু এবারে সেই রীতিটাই সাধারণ ভিসা আবেদনকারীদের জন্যও প্রযোজ্য হবে।

তবে এটাও জানা যাচ্ছে মূলত আঠারো থেকে ষাট বছর বয়সীদেরই এই সোশ্যাল মিডিয়া চেকের আওতায় আনা হবে, ছাড় পাবেন অপ্রাপ্তবয়স্ক ও প্রবীণরা। যারা মেডিক্যাল ভিসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে চিকিৎসা নিচ্ছেন ও সেই রেকর্ড আছে, তাদেরও রেহাই মিলবে।

মার্কিন ধাঁচে এটাও পরীক্ষা করা হবে, আবেদনকারী নিজের সব পোস্ট ‘পাবলিক’ করে রেখেছেন, নাকি কিছু আড়াল করতে চেয়েছেন।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের এক সাবেক রাষ্ট্রদূত এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলছিলেন, ‘আমি তো মনে করি এই ব্যবস্থা অনেক আগেই চালু করা দরকার ছিল। বাংলাদেশের মাটিতে বসে যারা নিয়মিত ভারতকে গালিগালাজ করেন, তাদের চিনে নেওয়ার এত সহজ একটা হাতিয়ার যখন আছে— ফলে সেটা ব্যবহার করে তারা ভিসার আবেদন করলে সেটা খারিজ করাই উচিত।’

কোভিড মহামারির ঠিক আগেও বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৯ লাখ বা তার বেশি ভিসা ইস্যু করতে ভারত। এখনও ভিসা দেওয়ার হার সেই পর্যায়ে না গেলেও এই বিপুল পরিমাণ আবেদনকারীর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করার মতো লোকবল বা প্রযুক্তিগত দক্ষতা ভারত সরকারের আছে কি-না, সেই প্রশ্ন অবশ্য রয়েই যাচ্ছে।

তবে ভারতের এক কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু করে দেওয়া হয়েছে— এবং এজন্য লোকবল ও কারিগরি দক্ষতাও বাড়ানো হচ্ছে। তবে ভারত এ নিয়ে এখনই কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় যেতে চাইছে না সহজবোধ্য কারণেই।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ দামে জ্বালানি তেল

Published

on

By

ইরান যুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করতে যাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এমন খবরের পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে দেখা গেছে, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারের বেশি হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরুর পর এই দাম সর্বোচ্চ।

যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দামও ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

জুন মাসের ডেলিভারির জন্য বর্তমান ব্রেন্ট ফিউচার্স চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হবে। ফিউচার চুক্তি হলো একটি নির্দিষ্ট তারিখে কোনো সম্পদ ক্রয় বা বিক্রয় করার চুক্তি। এশিয়ায় সকালের লেনদেনে অপেক্ষাকৃত সক্রিয় জুলাই মাসের চুক্তিটি প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১১৩ ডলারে পৌঁছেছিল।

সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় অচলাবস্থা ভাঙার লক্ষ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ওপর ধারাবাহিক ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ হামলা চালানোর একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবিত এই হামলায় অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তু অন্তর্ভুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরেকটি পরিকল্পনা ছিল হরমুজ প্রণালির একটি অংশ দখল করে সেটিকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া এবং এই কাজে স্থলভাগে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, যতদিন তেহরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে চাওয়া জাহাজগুলোকে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখবে, তত দিন তারা ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রাখবে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

ইরানের ওপর ‘দীর্ঘমেয়াদি’ অবরোধের জন্য ওয়াশিংটন প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন খবরের পর বুধবার তেলের দাম ৬ শতাংশ বেড়েছে।

Continue Reading

আন্তর্জাতিক

আমিরাত কেন ওপেক ছাড়ল

Published

on

By

দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ

তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর শক্তিশালী জোট ওপেক এবং ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর মাধ্যমে ৫৯ বছরের সম্পর্কের ইতি টানছে উপসাগরীয় দেশটি। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এবং জেদ্দায় উপসাগরীয় দেশগুলোর জোট জিসিসির জরুরি বৈঠকের মধ্যেই আমিরাতের এ আকস্মিক সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এবং বিশ্ব তেলের বাজারে নতুন ধাক্কা হয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর গভীরে রয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও কৌশলগত দ্বন্দ্ব।

১৯৬৭ সালে ওপেকের সদস্য হওয়া আমিরাত কেন এখন বেরিয়ে গেল, তার পেছনে কয়েকটি মূল কারণ উঠে এসেছে—

সৌদির সঙ্গে বিরোধ: তেলের উৎপাদন সীমা বা কোটা নির্ধারণ নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। ওপেক ত্যাগের ফলে আমিরাত এখন স্বাধীনভাবে তাদের উৎপাদন বাড়াতে পারবে। রাষ্ট্রীয় সংস্থা অ্যাডনক জানিয়েছে, তারা ২০২৭ সালের মধ্যে দৈনিক উৎপাদন ৫০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করতে চায়। ইরান যুদ্ধের আগে এর হার ছিল দৈনিক ৩৪ লাখ ব্যারেল।

ইরান ইস্যুতে ক্ষোভ: ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে আমিরাত অন্তত ২ হাজার ২০০ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। আমিরাতের দাবি ছিল—সৌদি আরব ও কাতার মিলে ইরানের ওপর পাল্টা সামরিক হামলা চালাক। কিন্তু রিয়াদ বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কায় সেই পথে না হাঁটায় ক্ষুব্ধ হয় আমিরাত।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে সখ্য: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ওপেকের কড়া সমালোচক। জোট ত্যাগের মাধ্যমে আমিরাত নিজেকে ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে, যা তাদের বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

তেলের বাজারে প্রভাব: ইরান যুদ্ধের কারণে গত মার্চে ওপেকের উৎপাদন দৈনিক ৭৮ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল কমে গেছে, যা জোটের মোট উৎপাদনের প্রায় ২৭ শতাংশ। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় আমিরাতের নিজস্ব উৎপাদনও ৪৪ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমেছিল। এখন জোটের বাইরে গিয়ে আমিরাত এককভাবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে বা মুনাফা অর্জনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে। দুবাই ভিত্তিক এমিরেটস পলিসি সেন্টারের সভাপতি ড. ইবতেসাম আল-কেতবি বলেন, আমিরাত এখন জোটের ভেতর থেকে নয়, বরং একক পক্ষ হিসেবে বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করবে। এটি ওপেককে দুর্বল করলেও আমিরাতের প্রভাব বাড়িয়ে দেবে।

আঞ্চলিক অস্থিরতার নতুন সংকেত: আমিরাতের এ সিদ্ধান্তে সৌদি আরবের প্রভাব বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। আমিরাতের ওপেক ত্যাগের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠল যে, মধ্যপ্রাচ্যে এখন আর ‘যৌথ সংহতি’ কার্যকর নেই। ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ এবং ইরানের কট্টর বিরোধী হিসেবে আমিরাত এখন এককভাবে তাদের প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়ার পথে হাঁটছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

Continue Reading

top2

দুটি বিমানবাহী রণতরিসহ ২৬ যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

Published

on

By

মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব আরও সুসংহত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলমান ইরান অবরোধ কার্যকর করার লক্ষ্যে ওই অঞ্চলে বর্তমানে দুটি বিমানবাহী রণতরিসহ অন্তত ২৬টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই নজিরবিহীন সামরিক তৎপরতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ কার্যকর করতে মাঠে নেমেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই অভিযানের অংশ হিসেবে কৌশলগত অবস্থান থেকে যুদ্ধজাহাজগুলো মোতায়েন করা হয়েছে। ভারত মহাসাগরসহ বিভিন্ন এলাকায় এ পর্যন্ত অন্তত তিনটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন সেনারা, যার মধ্যে দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয় পারস্য উপসাগর থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে।

সর্বশেষ বুধবার রাতে ভারত মহাসাগরে নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন একটি তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ইরান থেকে তেল পরিবহন করছিল।

বর্তমানে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অধীনে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ১৯টি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এই বিশাল নৌবহরের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দুটি বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। তাদের সাথে পাহারায় রয়েছে ইউএসএস বেইনব্রিজ, ইউএসএস টমাস হাডনার, ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই পিটারসেন জুনিয়র, ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক, ইউএসএস মাইকেল মারফি, ইউএসএস মিটশার, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা, ইউএসএস স্প্রুয়েন্স, ইউএসএস মিলিয়াস, ইউএসএস চার্চিল, ইউএসএস ট্রাক্সটন ও ইউএসএস মাহান নামক ১২টি ডেস্ট্রয়ার। এছাড়া এই বহরে যুক্ত রয়েছে ইউএসএস ক্যানবেরা ও ইউএসএস তুলসা নামক দুটি কমব্যাট শিপ এবং ইউএসএস ত্রিপোলি, ইউএসএস নিউ অরলিন্স ও ইউএসএস রাশমোর নিয়ে গঠিত অ্যাম্ফিবিয়াস গ্রুপ।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় আলাদাভাবে টহল দিচ্ছে আরও সাতটি যুদ্ধজাহাজ। এর মধ্যে রয়েছে ইউএসএস জন ফিন, ইউএসএস পিঙ্কনি, ইউএসএস হিগিন্স, ইউএসএস মাস্টিন, ইউএসএস ম্যাকফল, ইউএসএস জন এল. ক্যানলি এবং ইউএসএস সান্তা বারবারা। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অঞ্চলটিতে মার্কিন বাহিনীর এই বিপুল উপস্থিতি ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা এবং ওই এলাকায় নিজেদের কৌশলগত আধিপত্য বজায় রাখার প্রচেষ্টারই বহিঃপ্রকাশ।

Continue Reading

Trending