মহিউদ্দিন একাডেমি আলমডাঙ্গা আয়োজিত ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ, আলোচনা সভা অনুষ্ঠান ও হাফেজ শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার কামালপুর মহিউদ্দিন একাডেমি চত্বরে সকাল ১০ টার সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন।
তিনি বলেন, মহিউদ্দিন একাডেমি চুয়াডাঙ্গায় আলো ছড়াবে। আমার চাকরি জীবনে কোনো ব্যক্তি তার নিজ গ্রামের ছেলে মেয়েদের জন্য শিক্ষার উন্নয়নে ৮/৯ কোটি টাকা খরচ করে এমন সুন্দর প্রতিষ্ঠান গড়তে কাউকে দেখিনি। আমি বিশ্বাস করি এখানে যারা শিক্ষা গ্রহণ করছে, তারা অবশ্যই সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। তিনি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ক্লাস রুমসহ একাডেমির বিভিন্ন ভবন পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মহিউদ্দিন একাডেমির চেয়ারম্যান জনাব মহিউদ্দিন (এফ সি সিএ)। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিউদ্দিন একাডেমির ভাইস প্রিন্সিপ্যাল আমিন আজহারী। কুষ্টিয়া ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. নাসিরুদ্দিন আজহারী দাঃ বাঃ, ঢাকা দারুল আরকাম, উত্তরা, কলেজের প্রফেসর ড. শাইখুল হাদীস, ড. শিব্বির আহমদ আজহারী দাঃবাঃ, প্রফেসর ড. মো. আমিনুর রশিদ মোল্লা আজহারী, প্রফেসর ড. আব্দুল কাদির, গবেষক, আল আজহার মিশর।
আরবী কবিতা আবৃত্তি: করেন পরিচ্ছন্ন যুবক আব্দুর রহমান ফাহাদ, মাদরাসার প্রতি কর্তব্য বিষয়ে বক্তব্য রাখেন নুসরাত খাতুন, বাংলা আবৃত্তি- হাবিবা আক্তার, ইসলামী সংগীত মো. আল আমিন, আমার মাদরাসা বিষয়ে আলোচনা করে আবু উবায়াদ, অরিবী বক্তৃতা, মহিউদ্দিন একাডেমি বিষয়ে মাহবুব হোসেন মারুফ, হেফজ বিভাগ, হাদিস পাঠ ও তাঁর শিক্ষা, শারমিন আক্তার সোহেলী, ইসলামী সংগীত মনিরুল ইসলাম, ইসলামী সংগীত। তামিমা খাতুন, মনিরুল ইসলাম (সাংস্কৃতিক শিক্ষক), দৈনন্দিন জীবন নিয়ে বক্তব্য রাখেন সুমাইয়া আক্তার, আমাদের মাদরাসা বিষয়ে আলোচনা আফিয়া আক্তার, বিষয় ভিত্তিক আলোচনা (ইংরেজি) শারিকা ইসলাম, অভিভাবকদের অনুভূতি প্রকাশ, অভিভাবক প্রফেসর এস, এম জোহা কলেজ- হারদি, আব্দুর রাজ্জাক, মো. দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী। কুরআন তেলাওয়াত মো. আব্দুল্লাহিল আলীফ (হেফজ বিভাগ), আগত মেহমানদের পরিচিতি ও ব্যাচ প্রদান করেন: মাওলানা সাদ আহমদ।
একাডেমি (৪০ জন) শিক্ষার্থীদের কুরআনের সবক প্রদান-করেন নাসিরুদ্দিন আজহারী দাঃবাঃ প্রিন্সিপ্যাল- দারুল আরকামে উত্তরা, ঢাকা। দোয়া পরিচালনা ড. শিব্বির আহমদ আজহারী, শাইখুল হাদীস দারুল আরকাম, উত্তরা, ঢাকা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন: মাহমুদুল হাসান, মনিরুল ইসলাম ও আবু জাবের আজহারি। অনুষ্ঠান শেষে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের সকল শ্রেণির ফলাফল প্রকাশ, বর্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগিতা ও বিভাগওয়ারি কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে তার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সব শেষে হেফজ সমাপনকারীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
গার্মেন্টস ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার জামায়াতের কর্মী জামাল উদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাজিম উদ্দিন ওরফে বাইট্টা নাজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যে নিহতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ১০ জানুয়ারি ফটিকছড়ির লেলাং শাহনগর এলাকার দিঘিরপাড়ে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীদের গুলিতে জামাল উদ্দিন (৪৫) নিহত হন। একই ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা নাছির উদ্দিন (৪২) গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে ১১টি পিস্তলের খোসা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্তে উঠে আসে, ঝুট ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধই এই হত্যার মূল কারণ। গত বছর চট্টগ্রাম শহরের একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে ঝুট ক্রয়ের টেন্ডার দাখিলকে কেন্দ্র করে নিহত জামালের সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত কুখ্যাত সন্ত্রাসী বড়ো সাজ্জাদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ওই বিরোধের জেরে সাজ্জাদ বিভিন্ন সময় তার সহযোগীদের মাধ্যমে জামালকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।
পুলিশের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন নাজিম উদ্দিন। তিনি ফোন করে সাজ্জাদ গ্রুপের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী মোটরসাইকেলে করে তিনজন সন্ত্রাসী এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে জামালকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। গুলিতে তার সঙ্গী নাছির উদ্দিন গুরুতর আহত হন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, র্যাবের সহায়তায় চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে নাজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, হত্যাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি নিহত জামালের মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের সঙ্গে চলে যান এবং পরে সেটি নিজের গ্রামের বাড়ি লেলাং কাবিল মিস্ত্রী বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। তার দেওয়া তথ্যে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তে কাঁটাতারে ঝুলে থাকা কিশোরী ফেলানীর সেই নিথর দেহ আজও দেশবাসীর স্মৃতিতে অম্লান। সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৪ বছর পর, যে সীমান্তে বোন প্রাণ হারিয়েছিলেন, সেই সীমান্ত রক্ষারই শপথ নিলেন তার ছোট ভাই আরফান হোসেন।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে (বিজিটিসিএন্ডসি) বুধবার অনুষ্ঠিত বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে শপথ নেন আরফান হোসেন। বিজিটিসিএন্ডসির ঐতিহ্যবাহী ‘বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন সৈনিকদের কুচকাওয়াজ ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হন কিশোরী ফেলানী খাতুন। তার মরদেহ দীর্ঘ সময় কাঁটাতারে ঝুলে থাকার দৃশ্য বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বহু বছর পেরিয়েও বিচার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন থেকে যায় অমীমাংসিত।
সেই ফেলানীর ছোট ভাই আরফান হোসেন তখন শিশু—মাত্র ৬ থেকে ৭ বছরের। স্মৃতির ভার নিয়েই বড় হয়েছেন তিনি।
কুচকাওয়াজ শেষে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আরফান বলে, “আমার বোনকে যেভাবে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই দৃশ্য আমাদের পরিবারকে আজও তাড়িয়ে বেড়ায়। তখন থেকেই মা-বাবা চাইতেন, আমি যেন দেশের জন্য কিছু করতে পারি। সেই স্বপ্ন নিয়েই আমি নিজেকে তৈরি করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বোনকে সীমান্তে প্রাণ দিতে হয়েছে। আজ আমি সেই সীমান্ত রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব পেয়েছি। আমি চাই না আর কোনো বাবা-মায়ের বুক খালি হোক। দেশের সীমান্ত রক্ষায় প্রয়োজনে প্রাণ দেব, তবুও চেষ্টা করব আর কোনো ‘ফেলানী’ যেন কাঁটাতারে ঝুলে না থাকে।”
কুড়িগ্রামের নাখারগঞ্জ হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে এইচএসসি পাসের পর বিজিবির নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন আরফান। একই বছরে বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে তিনি আবেদন করেন। প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হয়ে চার মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে তিনি বিজিবিতে একজন সৈনিক হিসেবে যোগ দেন।
বরিশাল নগরীতে জাল টাকার কারবারে জড়িত চার কিশোরকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান জাল নোট, কম্পিউটার ও প্রিন্টার উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক কিশোররা হলেন—হাসপাতাল রোড এলাকার ঝাউতলা ৩য় গলির শাওন (১৭), নথুল্লাবাদ এলাকার আলভি (১৮), ভাটিখানা এলাকার তানভীর (১৮) ও আলিফ (১৬)। তারা সবাই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, রাতের দিকে বগুড়া রোড এলাকায় একটি চায়ের দোকানে ১০০ টাকার একটি নোট দিয়ে সিগারেট কিনতে গেলে দোকানদারের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই নোট যাচাই করে তা জাল বলে নিশ্চিত হন তারা।
এ সময় শাওন ও আলিফ নামে দুই কিশোরকে আটক করে তল্লাশি চালালে তাদের কাছ থেকে আরও কয়েকটি জাল নোট উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল জানান, সন্দেহজনক নোট পাওয়ার পর এলাকাবাসী দ্রুত ওই দুই কিশোরকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
আরও পড়ুন ঢাকার কোন এলাকা কত আসনে পড়েছে জানুন ডিবি কর্মকর্তা মো. ফিরোজ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাওনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাটিখানা এলাকার কাজী মসজিদ সংলগ্ন একটি ভবনের নিচতলার বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে তানভীরের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ১০০ ও ৫০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি জাল নোট তৈরিতে ব্যবহৃত একটি কম্পিউটার ও প্রিন্টার জব্দ করা হয়।
পরে তানভীরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নথুল্লাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলভিকে আটক করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, আটক কিশোরদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন