Connect with us

রাজনীতি

মেধার বিকাশ ও মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ালেখা সরকারি খরচে হবে: জামায়াত আমির

Published

on

মেধাবীদের মেধার বিকাশের সুযোগ করে দেয়া হবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটা মায়ের শিশুকেও লেখাপড়ার বাইরে থাকতে দেব না। মাস্টার্স পর্যন্ত ছাত্রীরা সরকারি খরচে পড়ালেখা করবেন।

তিনি বলেন, যে মায়ের সামর্থ্য নাই, সেই শিশুর দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে। যার নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তারও যদি মেধাবী ছেলে থাকে; তার মেধাকে বিকশিত করা হবে। যাতে সে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে। এদেশের মানুষের প্রতি তার দায় দরদ থাকবে, সে বুঝবে এদেশের মানুষ কত কষ্টে জীবন যাপন করে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে নওগাঁর এ.টিম মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা একটা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাচ্ছি। তাই আমার যেসব পুরানা বন্ধুরা আমার বিরুদ্ধে মিসাইল নিক্ষেপে শরিক হয়েছেন। আজকে আপনাদের সাক্ষী রেখে বলতে চাই; আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম। আল্লাহতালার কাছে দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের অপচর্চার ক্ষমা করে দেন। কোনো অপচর্চার জবাব আমি দেইনি এবং দেবো না।

তিনি বলেন, নওগাঁর উত্তর জনপদের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। যে জেলাটি বাংলাদেশের খাদ্য এবং ফলের এককভাবে দশভাগের এক ভাগের উৎপাদন করে সারা বাংলাদেশকে সহায়তা করে। কিন্তু বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই জেলাটি তার ন্যায্য পাওনা পাইনি। আস্তে আস্তে জনবসতি বৃদ্ধি পাচ্ছে মানুষের চাপ। শহরের ভেতরে রাস্তাটা বাইডেন হওয়াতে চলাচলের দারুণ সমস্যা হচ্ছে। এটিকে ফোর লেন করা দরকার। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে- আমরা তা করব।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া নওগাঁর একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজ হওয়া দরকার। যদি আল্লাহ আমাদের সুযোগ দেন, আপনাদের দোয়া ভালোবাসা, সমর্থন ও ভোটে যদি নির্বাচিত হতে পারি- ইনশাআল্লাহ এটি হবে।

ডা. শফিকুর রহমান, এটি যেহেতু কৃষি প্রধান এরিয়া ইতোমধ্যে আমরা ঘোষণা দিয়েছি পুরো নর্থ বেঙ্গলকে কৃষি শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট হবে, বিশ্ববিদ্যালয় হবে সেই পড়াশোনা কাগজে নয়, প্র্যাকটিক্যালি হবে প্রফেশনালি হবে। এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে সে বিদেশে কাজ করবে।

তিনি বলেন, এখানে কৃষিভিত্তক বিশ্ববিদ্যালয় হলে ধান ও ফলের গবেষণার কাজ হয়ে যাবে। এখানে ধান ও পেয়ারা উৎপাদিত হয় প্রচুর। এখানে ফসল সংগ্রহের কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় তাড়াহুড়ো করে ফসল বিক্রি করে দেন। এতে ফসলের ন্যায্যমূল্য পান না কৃষকরা। আমরা কয়েকটি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করে দিবো ইনশাআল্লাহ। আম ও লিচু প্রসেসিং এর ব্যবস্থা করবো, যেটি দিয়ে জুস ও শরবত তৈরি হয়।

নওগাঁর উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, কুসুম্বা মসজিদ ও পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসেবে গড়ে তুলবো। দুবলাহাটি রাজবাড়ীসহ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণ ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পর্যটন বর্তমান বিশ্বে বিপুল আয়ের উৎস। বাংলাদেশে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫৪ বছর যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন তারা নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধি করলেও জনগণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেননি। তারা নিজেদের কপাল কিসমত বড় করেছেন, জনগণের টাকা লুট করেছেন, চুরি করেছেন, ব্যাংক ডাকাতি করেছেন। শেয়ারবাজার লুট করেছেন। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করেছেন। এই লুণ্ঠন করা টাকাগুলো দেশে রাখার সৎ সাহস ছিল না বলে বিদেশে প্রচার করে দিয়েছিলেন। এই টাকার পরিমাণ ২৮ লক্ষ কোটি টাকা। এই টাকা কার? এই টাকার মালিক জনগণ। জনগণের ট্যাক্সের টাকা, ঋণের টাকা, অনুদানের টাকা চুরি করে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। এই টাকা ওদের পেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে নিয়ে আসা হবে। তারপর এটা দেশের কোষাগারে জমা রাখা হবে। সেখান টাকা দিয়ে বিগত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের যে এলাকা বেশি অবহেলিত- বঞ্চিত হয়েছে, সেই জায়গা থেকে উন্নয়ন শুরু হবে।

আমিরে জামায়াত বলেন, আমরা বেইনসাফি করতে পারবো না। কোনটা প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি আর রাষ্ট্রপতির আমরা ওটা দেখতে পারবো না। কোন জায়গার মানুষ দুঃখ কষ্টে আছে সেখান থেকে আগে উন্নয়ন শুরু হবে।

তরুণদের প্রত্যাশা তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাইয়ে কোনো তরুণ তরুণী কি দাবি করেছিল, আমাদের বেকার ভাতা দিতে হবে? না! তাহলে আজকে বেকার ভাতার কথা উঠছে কেন? তারা হাতে হাতে কাজ দাবি করছিল। আমরা কথা দিচ্ছি, যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের হাতকে দেশ গড়ার কারিগরে পরিণত করা হবে।

যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা যুবকদের ভাষাভিত্তিক ও পেশাভিত্তিক উভয় দক্ষতায় প্রদান করবো। তারপর বলবো দেশ তোমরা বদলে দাও। জুলাইয়ে মা বোনদের বিশেষ অবদান ছিলো। যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের গায়ে হাত দিয়েছিল। সাথে সাথে সারাদেশ স্ফুলিঙ্গের ন্যায় ফেটে পড়েছিল। তার পরে দিনই আপনাদের সন্তান, পার্শ্ববর্তী রংপুরের পীরগঞ্জের যুবক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবু সাঈদ, আমাদের অহংকার, জুলাইয়ের আইকন রাস্তায় নেমে বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিল। সে বলেছিল, হয় আমার অধিকার দে, নয় একটি গুলি দে। ডানা মেলে বলেছিল, বুকের ভিতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর।

জুলাই আন্দোলনে মেয়েদের অবদান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এক মেয়ে ট্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে বললো, পিছনে পুলিশ, সামনে স্বাধীনতা। মা তার দশ মাসের শিশু কোলে নিয়ে রাস্তায় নেমে বলেছিল, আজকে আমার শিশু একটা নয় লক্ষ কোটি তরুণ যুবক যারা আন্দোলনে নেমেছে সবাই আমাদের সন্তান। সেই মায়েদের নিয়ে অপমানজনক আচরণ ইদানীং অনেকে করছেন। আমি বিনয়ের সাথে বলবো, প্লিজ, এগুলো করবেন না। আমরা মায়ের বুকের দুধ খেয়ে বড় হয়েছি, তাদের বুকের বিছানায় লালিত পালিত হয়েছি। মায়ের জাতিকে যত সম্মান দিব, আল্লাহ এ জাতিকে তত সম্মানিত করবেন।

দেশের কিছু জায়গায় মায়েদের অসম্মানের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আপনি যদি আপনার মা, বোন ও মেয়েকে সম্মান করে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশের ৯ কোটি মাকেও সম্মান করতে হবে। আর যদি আপনি আপনার মাকে সম্মান করতে না জানেন- তাহলে আর কাউকে সম্মান করতে জানবেন না। আর যদি এসব কাজ থেকে ফিরে না আসেন। জুলাইয়ের ১৫ তারিখ মায়েদের গায়ে হাত দেয়াতে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল; মনে রাখবেন, জুলাইয়ে তরুণরা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা আবার গর্জে উঠবে। মায়ের অপমান সহ্য করবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এদেশে শুধু আমরা শুধু মুসলমানরা নয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টানরা একসাথে বসবাস করছি। আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নাই কোনো মেজরিটি-মাইনরিটি মানবো না। এদেশে যারা মুসলমান নয়, তারা ভয়ের মধ্যে থাকবে কেন? আমরা এটি গুড়িয়ে একাকার করে দিতে চাই। সবাইকে নিয়ে আমরা দেশ সাজাবো। যার মধ্যে যোগ্যতা এবং দেশপ্রেম থাকবে,তার কাছে কাজ পৌঁছে যাবে।

১২ ফেব্রুয়ারি ভোট ও গণভোট নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দুটি ভোট দিতে হবে। মানবিক বাংলাদেশ গঠনে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। পরবর্তী ভোট দেবেন ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে। আমরা চাঁদাবাজি করি না, করতেও দেবো না। ব্যাংক ডাকাতি আমরা করি না, কোনো ব্যাংক ডাকাতের সাথে আমাদের আপস হবে না।

সংখ্যালঘুর অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাইনরিটির অধিকার নিয়ে যারা আগের ফ্যাসিস্ট সরকার চিল্লা-হাল্লা করতেন, তারা আপনাদের পাশের সাঁওতাল পল্লীতে কী করেছে, আপনারা দেখেননি? মায়েদের জন্য ঘরে, বাইরে চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম সাহস করবে না, নারী জাতির কারও দিকে চোখ তুলে থাকানোর।

আমিরে জামায়াত বলেন, এই ভোটটা হবে ইনসাফের প্রতীকে। ১১ দলের বিভিন্ন প্রকীকে যে যেখানে আছেন, প্রত্যেকে তার পক্ষে কাজ করবেন। নওগাঁর সবগুলো আসনে দাঁড়িপাল্লা, আলহামদুলিল্লাহ। আমীরে জামায়াতবক্তব্য শেষে নওগাঁর ৬টি আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থীদের পরিচয় করে দেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

পরাজিত প্রার্থীদের দায়িত্ব দিয়ে কোটার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে সরকার : জামায়াত

Published

on

By

পরাজিত প্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে সরকার কার্যত কোটাভিত্তিক নিয়োগের সংস্কৃতি চালু করছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, জুলাইয়ের যে স্পিরিট ছিল ‘কেটা না মেধা’ সেই মেধাকে উপেক্ষা করছে সরকার। এ ধরনের পদায়ন গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি অবজ্ঞা এবং রাজনৈতিক পুনর্বাসনের একটি কৌশল।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ১১টি সিটি করপোরেশন এবং ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে এমন ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে যারা বিগত নির্বাচনে জনগণের ভোটে পরাজিত হয়েছেন। এর মাধ্যমে সরকার মেধা ও জনসমর্থনের পরিবর্তে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

মাওলানা আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। তার ভাষ্য, জাতীয় নির্বাচনের অল্প সময়ের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে এ ধরনের নিয়োগ সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৮ বছর ধরে যে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে, বর্তমান সরকার সেই একই পথে হাঁটছে। জনমতের তোয়াক্কা না করে দলীয় ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে, যা জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী।

জেলা পরিষদের নিয়োগ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধাসহ কয়েকটি জেলায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হলেও সেখানে পরাজিতদের প্রশাসক করা হয়েছে। গাইবান্ধা-৩ আসনে পরাজিত এক নেতাকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে তিনি জনমতের অবমাননা বলে উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়েও সমালোচনা করা হয়। আব্দুল হালিম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যদের সরিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুনদের বসানো হচ্ছে। একইভাবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে একজন পেশাদারের পরিবর্তে ব্যবসায়ীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

Continue Reading

top1

পয়লা বৈশাখ কৃষক কার্ড বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী

Published

on

By

আগামী পয়লা বৈশাখ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার কৃষকদের মাঝে এই কার্ড বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির শুরু হচ্ছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় কৃষক কার্ড বিতরণ করতে যাচ্ছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ফার্মস কার্ড বিষয়ক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, ‘আজ এ বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইল সদরসহ মোট ১১ উপজেলায় একযোগে এই কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম ধাপে এসব উপজেলার ২২ হাজার কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পৌঁছে যাবে।’

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, এই কার্ড কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষি ও খামারিদের দেওয়া হবে। এটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। শুধু ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষককে কৃষি উপকরণ কেনার জন্য প্রণোদনা হিসেবে বছরে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সার, বীজ, কীটনাশক ও পশু খাদ্য কিনতে পারবেন।

বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী মো. আমিনুর রশীদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, প্রধানমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক টেলিডোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।

১১ উপজেলা হচ্ছে, টাঙ্গাইলের সদর, পঞ্চগড়ের সদর, পঞ্চগড়ের ভোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আর্দশ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজাবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং মৌলভীবাজার জুড়ী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপির অঙ্গীকার ছিল দেশের কৃষকদের সহায়তার জন্য ফার্মাস কার্ড তথা কৃষক কার্ড চালু করা হবে।

Continue Reading

top1

যোগ্যদের সরিয়ে ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় লোক বসানো হয়েছে : জামায়াত

Published

on

By

সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও দেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারদলীয় ব্যক্তিদের পদায়ন করেছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, যোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে দলীয় লোকদের বসানো হচ্ছে, যা জনগণের মতামত ও জুলাইয়ের স্পিরিটের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম।

আব্দুল হালিম বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদে অন্যায়ভাবে প্রশাসক নিয়োগের যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, আমরা এটার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং আমরা মনে করি যে এটা গণতান্ত্রিক রীতিকে অমান্য করে সরকার এই কাজটা করেছে।’

আব্দুল হালিম জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপচারিতায় তাঁদের মনে হয়েছিল, যে খুব শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল যে স্থানীয় নির্বাচন স্বাভাবিকভাবে হবে। কিন্তু সরকার স্থানীয় নির্বাচনের দিকে না গিয়ে ২২ তারিখে ছয়টি এবং ১৪ তারিখে পাঁচটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে।

এই প্রশাসক কারা—প্রশ্ন রেখে জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি বলেন, ‘যারা তাদের (সরকার) দলীয় নেতা। যারা নির্বাচনে হেরেছেন। যেমন শফিকুল ইসলাম মিল্টন তিনি ঢাকা-১৫ আসনে নির্বাচনে হেরেছেন, তাঁকে প্রশাসক নিয়োগ করা হলো। এরপর খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু, উনিও নির্বাচনে হেরেছেন। আমরা ব্যক্তিকে টার্গেট করে কথা বলছি না। আমাদের কথা হচ্ছে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার ওপর সরকার আঘাত করেছে।’

গতকাল সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন করা হয়েছে উল্লেখ করে আব্দুল হালিম বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাচাই-বাছাই করে যোগ্য লোকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। সময়ের পরিবর্তনে এসব পদে পরিবর্তন হবে, এ ক্ষেত্রে আমাদের ভিন্নমত নাই। কিন্তু পদত্যাগ করিয়ে দলীয় লোকদের বসাতে হবে কেন?’

যিনি গত নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য ক্যাম্পেইনিং করেছেন, পোস্টার করেছেন, দলীয় নেতাদের সঙ্গে মিটিং করেছেন—তাঁকেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ‘মেধার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ হবে এটা আমরা চাই। যারা দলের প্রতিনিধিত্ব করেছে, যারা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রচারও করেছে, এ সমস্ত লোকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের এই সম্মানিত আসনে বসিয়ে সরকার জুলাই স্পিরিটের বিরুদ্ধে বার্তা দিয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

Continue Reading

Trending