Connect with us

রাজনীতি

মেধার বিকাশ ও মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ালেখা সরকারি খরচে হবে: জামায়াত আমির

Published

on

মেধাবীদের মেধার বিকাশের সুযোগ করে দেয়া হবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটা মায়ের শিশুকেও লেখাপড়ার বাইরে থাকতে দেব না। মাস্টার্স পর্যন্ত ছাত্রীরা সরকারি খরচে পড়ালেখা করবেন।

তিনি বলেন, যে মায়ের সামর্থ্য নাই, সেই শিশুর দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে। যার নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তারও যদি মেধাবী ছেলে থাকে; তার মেধাকে বিকশিত করা হবে। যাতে সে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে। এদেশের মানুষের প্রতি তার দায় দরদ থাকবে, সে বুঝবে এদেশের মানুষ কত কষ্টে জীবন যাপন করে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে নওগাঁর এ.টিম মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা একটা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাচ্ছি। তাই আমার যেসব পুরানা বন্ধুরা আমার বিরুদ্ধে মিসাইল নিক্ষেপে শরিক হয়েছেন। আজকে আপনাদের সাক্ষী রেখে বলতে চাই; আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম। আল্লাহতালার কাছে দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের অপচর্চার ক্ষমা করে দেন। কোনো অপচর্চার জবাব আমি দেইনি এবং দেবো না।

তিনি বলেন, নওগাঁর উত্তর জনপদের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। যে জেলাটি বাংলাদেশের খাদ্য এবং ফলের এককভাবে দশভাগের এক ভাগের উৎপাদন করে সারা বাংলাদেশকে সহায়তা করে। কিন্তু বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই জেলাটি তার ন্যায্য পাওনা পাইনি। আস্তে আস্তে জনবসতি বৃদ্ধি পাচ্ছে মানুষের চাপ। শহরের ভেতরে রাস্তাটা বাইডেন হওয়াতে চলাচলের দারুণ সমস্যা হচ্ছে। এটিকে ফোর লেন করা দরকার। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে- আমরা তা করব।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া নওগাঁর একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজ হওয়া দরকার। যদি আল্লাহ আমাদের সুযোগ দেন, আপনাদের দোয়া ভালোবাসা, সমর্থন ও ভোটে যদি নির্বাচিত হতে পারি- ইনশাআল্লাহ এটি হবে।

ডা. শফিকুর রহমান, এটি যেহেতু কৃষি প্রধান এরিয়া ইতোমধ্যে আমরা ঘোষণা দিয়েছি পুরো নর্থ বেঙ্গলকে কৃষি শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট হবে, বিশ্ববিদ্যালয় হবে সেই পড়াশোনা কাগজে নয়, প্র্যাকটিক্যালি হবে প্রফেশনালি হবে। এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে সে বিদেশে কাজ করবে।

তিনি বলেন, এখানে কৃষিভিত্তক বিশ্ববিদ্যালয় হলে ধান ও ফলের গবেষণার কাজ হয়ে যাবে। এখানে ধান ও পেয়ারা উৎপাদিত হয় প্রচুর। এখানে ফসল সংগ্রহের কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় তাড়াহুড়ো করে ফসল বিক্রি করে দেন। এতে ফসলের ন্যায্যমূল্য পান না কৃষকরা। আমরা কয়েকটি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করে দিবো ইনশাআল্লাহ। আম ও লিচু প্রসেসিং এর ব্যবস্থা করবো, যেটি দিয়ে জুস ও শরবত তৈরি হয়।

নওগাঁর উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, কুসুম্বা মসজিদ ও পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসেবে গড়ে তুলবো। দুবলাহাটি রাজবাড়ীসহ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণ ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পর্যটন বর্তমান বিশ্বে বিপুল আয়ের উৎস। বাংলাদেশে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫৪ বছর যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন তারা নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধি করলেও জনগণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেননি। তারা নিজেদের কপাল কিসমত বড় করেছেন, জনগণের টাকা লুট করেছেন, চুরি করেছেন, ব্যাংক ডাকাতি করেছেন। শেয়ারবাজার লুট করেছেন। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করেছেন। এই লুণ্ঠন করা টাকাগুলো দেশে রাখার সৎ সাহস ছিল না বলে বিদেশে প্রচার করে দিয়েছিলেন। এই টাকার পরিমাণ ২৮ লক্ষ কোটি টাকা। এই টাকা কার? এই টাকার মালিক জনগণ। জনগণের ট্যাক্সের টাকা, ঋণের টাকা, অনুদানের টাকা চুরি করে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। এই টাকা ওদের পেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে নিয়ে আসা হবে। তারপর এটা দেশের কোষাগারে জমা রাখা হবে। সেখান টাকা দিয়ে বিগত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের যে এলাকা বেশি অবহেলিত- বঞ্চিত হয়েছে, সেই জায়গা থেকে উন্নয়ন শুরু হবে।

আমিরে জামায়াত বলেন, আমরা বেইনসাফি করতে পারবো না। কোনটা প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি আর রাষ্ট্রপতির আমরা ওটা দেখতে পারবো না। কোন জায়গার মানুষ দুঃখ কষ্টে আছে সেখান থেকে আগে উন্নয়ন শুরু হবে।

তরুণদের প্রত্যাশা তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাইয়ে কোনো তরুণ তরুণী কি দাবি করেছিল, আমাদের বেকার ভাতা দিতে হবে? না! তাহলে আজকে বেকার ভাতার কথা উঠছে কেন? তারা হাতে হাতে কাজ দাবি করছিল। আমরা কথা দিচ্ছি, যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের হাতকে দেশ গড়ার কারিগরে পরিণত করা হবে।

যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা যুবকদের ভাষাভিত্তিক ও পেশাভিত্তিক উভয় দক্ষতায় প্রদান করবো। তারপর বলবো দেশ তোমরা বদলে দাও। জুলাইয়ে মা বোনদের বিশেষ অবদান ছিলো। যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের গায়ে হাত দিয়েছিল। সাথে সাথে সারাদেশ স্ফুলিঙ্গের ন্যায় ফেটে পড়েছিল। তার পরে দিনই আপনাদের সন্তান, পার্শ্ববর্তী রংপুরের পীরগঞ্জের যুবক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবু সাঈদ, আমাদের অহংকার, জুলাইয়ের আইকন রাস্তায় নেমে বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিল। সে বলেছিল, হয় আমার অধিকার দে, নয় একটি গুলি দে। ডানা মেলে বলেছিল, বুকের ভিতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর।

জুলাই আন্দোলনে মেয়েদের অবদান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এক মেয়ে ট্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে বললো, পিছনে পুলিশ, সামনে স্বাধীনতা। মা তার দশ মাসের শিশু কোলে নিয়ে রাস্তায় নেমে বলেছিল, আজকে আমার শিশু একটা নয় লক্ষ কোটি তরুণ যুবক যারা আন্দোলনে নেমেছে সবাই আমাদের সন্তান। সেই মায়েদের নিয়ে অপমানজনক আচরণ ইদানীং অনেকে করছেন। আমি বিনয়ের সাথে বলবো, প্লিজ, এগুলো করবেন না। আমরা মায়ের বুকের দুধ খেয়ে বড় হয়েছি, তাদের বুকের বিছানায় লালিত পালিত হয়েছি। মায়ের জাতিকে যত সম্মান দিব, আল্লাহ এ জাতিকে তত সম্মানিত করবেন।

দেশের কিছু জায়গায় মায়েদের অসম্মানের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আপনি যদি আপনার মা, বোন ও মেয়েকে সম্মান করে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশের ৯ কোটি মাকেও সম্মান করতে হবে। আর যদি আপনি আপনার মাকে সম্মান করতে না জানেন- তাহলে আর কাউকে সম্মান করতে জানবেন না। আর যদি এসব কাজ থেকে ফিরে না আসেন। জুলাইয়ের ১৫ তারিখ মায়েদের গায়ে হাত দেয়াতে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল; মনে রাখবেন, জুলাইয়ে তরুণরা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা আবার গর্জে উঠবে। মায়ের অপমান সহ্য করবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এদেশে শুধু আমরা শুধু মুসলমানরা নয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টানরা একসাথে বসবাস করছি। আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নাই কোনো মেজরিটি-মাইনরিটি মানবো না। এদেশে যারা মুসলমান নয়, তারা ভয়ের মধ্যে থাকবে কেন? আমরা এটি গুড়িয়ে একাকার করে দিতে চাই। সবাইকে নিয়ে আমরা দেশ সাজাবো। যার মধ্যে যোগ্যতা এবং দেশপ্রেম থাকবে,তার কাছে কাজ পৌঁছে যাবে।

১২ ফেব্রুয়ারি ভোট ও গণভোট নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দুটি ভোট দিতে হবে। মানবিক বাংলাদেশ গঠনে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। পরবর্তী ভোট দেবেন ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে। আমরা চাঁদাবাজি করি না, করতেও দেবো না। ব্যাংক ডাকাতি আমরা করি না, কোনো ব্যাংক ডাকাতের সাথে আমাদের আপস হবে না।

সংখ্যালঘুর অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাইনরিটির অধিকার নিয়ে যারা আগের ফ্যাসিস্ট সরকার চিল্লা-হাল্লা করতেন, তারা আপনাদের পাশের সাঁওতাল পল্লীতে কী করেছে, আপনারা দেখেননি? মায়েদের জন্য ঘরে, বাইরে চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম সাহস করবে না, নারী জাতির কারও দিকে চোখ তুলে থাকানোর।

আমিরে জামায়াত বলেন, এই ভোটটা হবে ইনসাফের প্রতীকে। ১১ দলের বিভিন্ন প্রকীকে যে যেখানে আছেন, প্রত্যেকে তার পক্ষে কাজ করবেন। নওগাঁর সবগুলো আসনে দাঁড়িপাল্লা, আলহামদুলিল্লাহ। আমীরে জামায়াতবক্তব্য শেষে নওগাঁর ৬টি আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থীদের পরিচয় করে দেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

আগামী অর্থবছরে বিভিন্ন দেশে ১৪ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় সরকার: নুর

Published

on

By

আগামী অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আনুমানিক ১৪ লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিগত ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী বৈদেশিক কর্মসংস্থান লাভ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ ও পেশাদার কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের পক্ষ থেকে নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নুরুল হক নুর জানান, যেসব দেশে বর্তমানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ বা সীমিত রয়েছে, সেসব দেশের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত ও সম্প্রসারণের জন্য মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের সঙ্গে সরকারের কূটনৈতিক আলোচনা ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলমান রয়েছে

Continue Reading

top2

দুর্যোগ কি সরকারি-বিরোধী দল দেখে আসে, প্রশ্ন আখতারের

Published

on

By

সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য বিবেচনা করে দেশে দুর্যোগের কোনো আলাদা মানচিত্র তৈরি হয়েছে কি না, জাতীয় সংসদে এমন প্রশ্ন তুলেছেন সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দলের এমপিদের টিআর-কাবিখার বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের এমপিদের তা দেওয়া হয়নি।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সংসদকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, যেসব সংসদ সদস্য বরাদ্দের জন্য চাহিদাপত্র দিয়েছেন, তারা আগামী দু দিনের মধ্যেই তা পেয়ে যাবেন।

সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস‌্য আখতার হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ আশ্বাস দেন। বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরু হয়।

অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে ত্রাণ বরাদ্দে বৈষম্যের সমালোচনা করেন সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশের দুর্যোগের যে ম্যাপ সেটাতে কি কোনো ধরনের পরিবর্তন এসেছে? কারণ আমরা দেখলাম যে, দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে গত ৩০শে এপ্রিলে যে বরাদ্দটা দেওয়া হয়েছে, সেটা শুধুমাত্র সরকারি দলের আসনগুলোতে দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের কারো ওটাতে বরাদ্দ দেওয়া হয় নাই। যদি এরকমটা হয়ে থাকে, যে বাংলাদেশে দুর্যোগগুলো যখন আসবে তখন শুধু সরকারি দলের আসনগুলোতেই আসবে, বিরোধী দলের আসনগুলোতে আসবে না… তাহলে হয়তো একভাবে হতে পারতো। কিন্তু দুর্যোগ যখন আসে তখন কিন্তু আমরা সবাই সাফারার (ভুক্তভোগী) হই।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ৩০শে এপ্রিলে ৮৫ লাখ টাকা এবং ৯০ টন করে চাল ও গম শুধুমাত্র সরকারি দলের এমপি বা সরকার দলের আসনগুলোতে বরাদ্দ করা হয়েছে। বিরোধী দলের কোনো আসনেই এটি দেওয়া হয়নি। এই অর্থ জনগণের ট্যাক্সের টাকা। জনগণের অর্থ আহরণ করে তারপরে এই বরাদ্দ করা হয়। বিরোধী দলের আসনের সাধারণ নাগরিকদের প্রতি এটি চূড়ান্ত বৈষম্য।’

এ সময় তিনি ত্রাণমন্ত্রীর কাছে বৈষম্য দূর করে কবে নাগাদ বিরোধী দলের এমপিদের সমতাভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হবে তা জানতে চান।

সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এই অভিযোগের পর সংসদে সভাপতিত্ব করা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেন। তিনি ত্রাণমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মাননীয় সদস্য আপনাকে ধন্যবাদ। মাননীয় মন্ত্রী, এটি একটি ভেরি ফান্ডামেন্টাল কোয়েশ্চেন (অত্যন্ত মৌলিক প্রশ্ন)। ইফ ইট ইজ ট্রু, আনফেয়ার (যদি এটি সত্য হয়, তবে তা অনুচিত)। আপনি দয়া করে একটু উত্তর দেন আমরা সকলেই শুনি।’

ডেপুটি স্পিকারের নির্দেশনার পর জবাব দিতে দাঁড়িয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের নানা প্রস্তুতি সবসময়ই থাকে। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র করি। পাশাপাশি যখন যেখানে দুর্যোগ সংঘটিত হয়, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে জেলা পর্যায়ে প্রত্যেকটা জেলা প্রশাসকের কাছে আমাদের জিআর ক্যাশ (নগদ অর্থ) এবং জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া রয়েছে।’

এমপিদের উন্নয়ন বরাদ্দের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘উনি (আখতার হোসেন) টিআর-কাবিখার কথা বলেছেন। যে সমস্ত এমপি মহোদয়রা আমাদের কাছে চাহিদাপত্র দেন, সেখানে আমরা বরাদ্দ দিয়ে থাকি। আমার মনে হয় যে কাল-পরশুর মধ্যে ওনারা ওনাদের বরাদ্দ পেয়ে যাবেন।’

এ সময় সংসদে উপস্থিত অভিযোগকারী সংসদ সদস্যসহ অন্যদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারাও পেয়ে যাবেন। আপনাদের মধ্যে যারা চাহিদাপত্র দিয়েছেন তাদেরকে আমরা বরাদ্দ দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ পেয়ে যাবেন। ধন্যবাদ আপনাকে।

Continue Reading

top1

কার অনুমতিতে জাবের হাদি হত্যা মামলার বাদী?: ওসমান হাদির বোন

Published

on

By

শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার বাদী নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোন মাসুমা হাদি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নোংরামি’ ও ‘মিথ্যাচার’ চলছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি ঘটনার সময়কার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

মাসুমা হাদি বলেন, শুরু থেকেই তিনি পারিবারিক কারণে অনেক গুরুতর বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেননি। তবে ভাইয়ের মামলার বাদী নির্বাচন ঘিরে দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ধরনের আলোচনা চলছে, তাতে বাধ্য হয়ে তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করতে চান।

তিনি দাবি করেন, তার ভাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে যান এবং পুরো সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষায়, হাসপাতালে অবস্থানকালে তিনি এক মুহূর্তের জন্যও স্থান ত্যাগ করেননি।

মাসুমা হাদি প্রশ্ন তোলেন, হাসপাতালে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন প্রশাসনের লোকজন আব্দুল্লাহ আল জাবেরের কাছ থেকে মামলার স্বাক্ষর নেয়া হলো। বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, তাকে জানানো হয়েছিল—একজন স্বজন ওমর ফারুক তখন চিকিৎসা পরিস্থিতির কারণে পরবর্তী সময়ে বিষয়টি দেখবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন। ওই মুহূর্তে চিকিৎসাই অগ্রাধিকার ছিল বলেও ব্যাখ্যা দেন তিনি।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ফৌজদারি মামলায় বাদীর স্বাক্ষর আগে বা পরে হওয়ার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা নেই এবং পুলিশ চাইলে ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবেও আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।

ওমর ফারুকের ভূমিকা নিয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন মাসুমা হাদি। তিনি দাবি করেন, আহত অবস্থায় হাসপাতালে থাকা ও পরিস্থিতির চাপের মধ্যেও চিকিৎসা ও বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগে ভূমিকা রাখেন ওমর ফারুক। পরে সরকারের উদ্যোগে চিকিৎসা প্রক্রিয়া এগিয়ে যায় বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, ভাইয়ের চিকিৎসা ও সংকটময় সময় নিয়ে পরিবার শুরুতে অনেক কিছু প্রকাশ্যে আনেনি, তবে সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা ও সমালোচনার কারণে তারা বাধ্য হয়ে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

মাসুমা হাদি আরও অভিযোগ করেন, একটি ‘বিপ্লবী’ ব্যক্তিত্বের পরিবারকে ঘিরে অনলাইনে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ও অসম্মান ছড়ানো হচ্ছে। তিনি এসব অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানান এবং বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক না করার অনুরোধ করেন।

Continue Reading

Trending