Connect with us

top2

মেসের মিলরেট নিয়ে সিনিয়র-জুনিয়র মারামারি, আহত ৪

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

মেসের মিল ৪০ অথবা ৪৫ টি বাড়ানো-কমানো নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে মেস মালিকসহ দুপক্ষের ৪ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কুষ্টিয়া সদরের পিটিআই রোডের একটি মেসে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সজীব ইসলাম ও এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুজ্জামান নয়ন। অপর পক্ষের আহত শিক্ষার্থী ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম রোহান। 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মেসের মিলরেটের পরিমাণ ৪০ অথবা ৪৫ টি নির্ধারণ করা নিয়ে সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এসময় দু’পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে গালিগালাজ ও হামলার অভিযোগ তোলে। ঘটনায় সজীব ইসলাম গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। অপরদিকে রোহান দাবি করেন, সজীব ও নয়ন স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে এসে তাকে মারধর করে এবং কুষ্টিয়া ছাড়ার হুমকি দেয়। উভয় পক্ষই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছে।

সজীব ইসলাম বলেন, “শুক্রবার রাতে আমরা মেসে বসে মিলের বিষয়ে কথা বলছিলাম। এরপর রোহান ভাই হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। আমার দিকে এগিয়ে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি আমার মুখে-মাথায় ঘুসি মারেন এবং হাত মুচড়ে ধরেন। এক পর্যায়ে আমাকে মাটিতে ফেলে মাথা ও শরীরে এলোপাতাড়ি ঘুসি মারেন এবং পা টাইলসে আঘাত করে জখম করেন। এতে আমার চোখ রক্তবর্ণ ধারণ করে এবং পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। আমি দাঁড়াতে পারছিলাম না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমি তাকে বারবার অনুরোধ করেছি বিষয়টি মেসের সবার সঙ্গে আলোচনা করে মীমাংসা করার জন্য। কিন্তু তিনি উলটো অকথ্য গালাগাল করেন, কুষ্টিয়ার স্থানীয় হওয়ায় ক্ষমতা ও ভয়ভীতি দেখান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমি এর বিচার এবং নিরাপত্তা চাই।”

অন্য ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী হাসিবুজ্জামান নয়ন বলেন, “মেসের মিল রেট ৪৫ অথবা ৪০ টাকা করার বিষয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রোহান ভাই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। আমাকে অনবরত ঘুসি দিয়ে জোরজবরদস্তি করে রুম থেকে বের করে দেন তিনি। এ সময় তিনি বন্ধু সজীকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাকে ঘুসি, কিল মেরে জখম করেন। তারপর সে পড়ে গেলে মাটিতে ফেলে তার মাথা ও শরীরে এলোপাতাড়ি ঘুসি মারেন এবং পা টাইলসে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন। এতে তার চোখ রক্তবর্ণ হয় এবং পায়ে ফোলা ও ক্ষতচিহ্ন তৈরি হয়। পরে আমরা সবাই মিলে সজীবকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করাই। সে কয়েকবার জ্ঞান হারায় ও বমি করে। প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করতে হবে, না হলে ভবিষ্যতে আরও বড়ো ঘটনা ঘটতে পারে।”

অপরপক্ষে মনিরুল ইসলাম রোহান বলেন, “রাত ৯টার দিকে সজীব, শিহাবসহ কয়েকজন আমাকে হিসাব-নিকাশের জন্য ডাকে। খাবারের বিল নিয়ে মতবিরোধ হয়, কারণ মাসের শুরুতে ৪০টি ফিক্সড মিলের যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সজীবরা তা মানতে অস্বীকার করে। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক, চিৎকার-গালাগালি হয় এবং শেষে ঠিক হয় সবাই মিলে আবার হিসাব করবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি তৃতীয় তলায় গেলে সজীব ও তার রুমমেট নয়ন আমাকে মারতে আসে। আমি নানা-নানির উপস্থিতির কারণে বাইরে গিয়ে সমাধান করার কথা বললেও তারা শোনেনি। কিছুক্ষণ পর সজীব ও নয়ন কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি-সেক্রেটারিসহ ২৫-৩০ জন লোক নিয়ে এসে বাসার মালিক ও অন্যান্যের সামনে আমাকে মারধর করে, জামা-কাপড় টেনে ছিঁড়ে ফেলে এবং চোখে আঘাত করে। এরপর আমাকে রাতের মধ্যেই কুষ্টিয়া ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়।”

নিরাপত্তা সংকট দাবি করে তিনি বলেন, “ভয়ে আমি নানা-নানির সঙ্গে রুম থেকে বের হতে পারিনি। সকালে ফিরে এসে হাসপাতালে এক্স-রে করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। বিষয়টি বিভাগের সভাপতিকে জানিয়েছি এবং বলেছি, বাসার মালিকের কাছে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

এ বিষয়ে মেস মালিক তুহিন বলেন, “সজীব আর রোহানের ধস্তাধস্তির সময় আমি ছিলাম না, পরে শব্দ শুনি এবং একজন এসে আমাকে এটা বললে আমি তাদেরকে নিচে আসতে বলি সমাধানের জন্য। কিন্তু এদিকে সজীব তার বন্ধুবান্ধবসহ অনেক মানুষ ডেকে নিয়ে আসে ফলে বাইরে ধস্তাধস্তি হয় দুই পক্ষের মাঝে। এতে আমিও হাতে ব্যথা পাই। ঝামেলা সামলাতে না পেরে পরে আমি রোহানকে তার রুমে পাঠিয়ে দেই এবং বাকিদেরকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। বিশ্ববিদ্যালয় হলো সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। সামান্য বিষয় নিয়ে এমন ঘটনা আসলে লজ্জাজনক।”

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, “রাতে আহত অবস্থায় সজীব ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে হাত, মুখমণ্ডল ও চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে। বর্তমানে দুইটি স্যালাইন চলমান রয়েছে। আমরা সিটি স্ক্যান ও এক্সরে করার পরামর্শ দিয়েছি। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলে অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। আপাতত তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানকে ফোন দেওয়া হলে তিনি কেটে দেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান তাসনিম জারা

Published

on

By

সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা-৯ আসনের বহুল আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা।বুধবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান

পোস্টে তিনি লিখেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সকাল পরিবার নিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন, ভোট দিন, কিছুক্ষণ আশপাশে থাকুন। মানুষ দেখলে ষড়যন্ত্রকারীরা সরে পড়ে।
উৎসবের জোয়ারে কোনও অশুভ পরিকল্পনা থাকলে তা ভেসে যাবে।

এর কিছুক্ষণ আগে পৃথক পোস্টে তাসনিম জারা বলেন, “আপনি বুথে গিয়ে কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা জানার উপায় কারও নেই। যদি কেউ আপনাকে টাকা দেয় বা ভয় দেখায়- তাহলে ভোটটা আর যাকেই দেন, ওই হুমকিদাতা বা টাকা প্রদানকারীকে দেবেন না। ”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পরিচিতি শক্তিশালী, বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও শিক্ষিত মধ্যবিত্তের মধ্যে। তবে বাস্তব রাজনীতিতে তিনি নতুন।

চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে তিনি তার নির্বাচনী বার্তা সাজিয়েছেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুশাসন ও নারীর ক্ষমতায়ন।

তবে অনেক ভোটার প্রশ্ন করছেন, দীর্ঘদিন দেশে না থাকায় তিনি কী স্থানীয় সমস্যা ও রাজনীতির বাস্তবতা পর্যাপ্তভাবে বুঝতে পাবেন আর কীভাবেই বা তা সমাধান করবেন।

নির্বাচনে তিনি ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব

Continue Reading

top2

ভোটকেন্দ্রে যা যা নেওয়া যাবে না

Published

on

By

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে কোনো ব্যক্তি বা ভোটার দিয়াশলাই, লাইটার কিংবা ধারাল বা ভোতা কোনো ধরনের দেশীয় অস্ত্র বহন করতে পারবেন না।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে ভোটাররা কোনো ধরনের প্রচার চালাতে পারবেন না। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো বা মানহানিকর কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না।

একইসঙ্গে ভোটকেন্দ্রে দিয়াশলাই, লাইটার ও দেশীয় ধারাল-ভোতা অস্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

অন্যদিকে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করা গেলেও গোপন কক্ষে (যেখানে ভোট দেওয়া হয়) মোবাইল ফোন নেওয়া যাবে না।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Continue Reading

top2

এককভাবে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী, প্রত্যাশা দেখছেন মানুষের

Published

on

By

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের পর এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবেন বলে আশা করছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ডয়চে ভেলেকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান নারীর ক্ষমতায়ন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং গুম-খুনের বিচার নিয়েও কথা বলেন।

১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার পর মা খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং নির্বাচনের প্রস্তুতি—দুটোর সামঞ্জস্য রাখাই তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে জানান তারেক রহমান।

ডয়চে ভেলে: ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট। তো এই নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে বলে আপনি আশাবাদী?

তারেক রহমান : আমরা আশা করছি যে নির্বাচনটা সুষ্ঠু হবে। মানুষেরও তাই প্রত্যাশা। আমরা আশাবাদী।

ডয়চে ভেলে : ১৭ বছর পর আপনি বাংলাদেশে এসেছেন। আপনি নির্বাসনে ছিলেন নানা কারণে। এই ১৭ বছর পর আসার পরে আপনার দল গোছানো নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনটা ছিল?

তারেক রহমান : চ্যালেঞ্জটা হয়তো কিছুটা খুব সম্ভবত আমারই ছিল। এত বছর পরে এসেছি, আসার পরে মানুষের চোখেমুখে একটা প্রত্যাশা দেখেছি। এটা হলো রাজনৈতিক দিক, অন্যদিকে আসার পাঁচ দিন পরেই আম্মা মারা গেলেন। উনি অসুস্থ ছিলেন অনেক দিন ধরে। স্বাভাবিকভাবে এটাও একটা খুব কষ্টকর বিষয় আমাদের সবার জন্য। আমরা পরিবার যে একসাথে বসে নিজেদের কষ্টটা ভাগ করে নেব, সেই সুযোগটা বা সময়টা হয়নি। কারণ আমরা একদম নির্বাচনের ডামাডোলের ভেতরে। একদিকে নির্বাচনী ডামাডোল, অন্যদিকে ব্যক্তিগত বিষয়টা—দুটোর সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, এটাই আসলে আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে, হয়ত এই চ্যালেঞ্জটা মোটামুটিভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি আমি।

ডয়চে ভেলে : এবার নতুন ভোটাররা প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছেন। গত তিনটি নির্বাচন বিতর্কিত, তা আপনি জানেন। ফলে মানুষের মধ্যে একটা বাড়তি আগ্রহ রয়েছে। তরুণদের আগ্রহী করতে বা তরুণদের কাছে পৌঁছাতে, আপনার দলের পক্ষ থেকে কি আলাদা করে বা বিশেষ করে কোনো কিছু করা হয়েছে যেটাতে তরুণরা একটু আকৃষ্ট হতে পারে?

তারেক রহমান : দেখুন আপনি যদি আমাদের মেনিফেস্টোটা দেখে থাকেন, যেটা আমরা কয়েক দিন আগে জাতির সামনে উপস্থাপন করেছি, সেখানে কিন্তু আমরা সমাজের তরুণদের জন্য, একইভাবে বয়স্কদের জন্য, একই সঙ্গে দেশের চল্লিশ লাখ প্রতিবন্ধীর জন্য, একই সঙ্গে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক যে নারী, তাদের ক্ষমতায়নের জন্য আমরা পরিকল্পনা রেখেছি। কর্মসূচি রেখেছি, বিশেষ করে শুধু তরুণদের জন্য না, সবার জন্য। কারণ দেশটা গঠন করতে হবে সবাইকে নিয়ে।

ডয়চে ভেলে : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তারপর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের ক্রমেই অবনতি হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। এই যে সম্পর্ক এবং অতীতে দেখা গেছে যে গত এক দশকে অনেকে মনে করেন যে ভারতের সঙ্গে বিএনপির একটা দূরত্ব রয়ে গেছে এবং সেই দূরত্বটা ঘোচানো যায়নি। ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনার অবস্থান কী হবে?

তারেক রহমান : দেখুন, আপনি যেটা বললেন যে দেখা গিয়েছে যে বিএনপির সঙ্গে তাদের একটা দূরত্ব আছে। অবশ্যই আমরা যদি দেখি যে এমন কোনো চুক্তি হচ্ছে, যেটা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থি, বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি, সেটা যেকোনো দেশের সঙ্গেই হোক, তাদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব হবে। কারণ আমি তো প্রতিনিধিত্ব করি আমার দেশের মানুষকে। কাজেই যেকোনো দুই দেশের মধ্যে যদি কোনো চুক্তি হয়, যেটা আমার দেশের স্বার্থের সঙ্গে যাবে না, সে ক্ষেত্রে যে কারও সঙ্গেই আমাদের এ রকম দূরত্ব হতে পারে।

ডয়চে ভেলে : ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, দেখা যাচ্ছে যে চীনের একটা বাড়তি আগ্রহ আছে বাংলাদেশ নিয়ে। আপনাদের কি চীনের জন্য আলাদা কোনো নীতি বা কোনো পদক্ষেপ আছে?

তারেক রহমান : বর্তমান বিশ্বে যদি আমরা চিন্তা করি আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সম্পর্ক থাকবে, আমরা একা বসবাস করতে পারব না। গ্লোবাল ভিলেজ বলা হয় এখন পৃথিবীকে। কাজেই আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করবে। আমাদের দেশের মানুষ বিভিন্ন দেশে যাবে চাকরি-বাকরি বিভিন্ন কারণে। কাজেই আমার দেশের স্বার্থ যেখানে বজায় থাকবে, দেশের মানুষের স্বার্থ যেখানে বজায় থাকবে, আমাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো হবে।

ডয়চে ভেলে : একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে আপনি কয়েক দিন আগেই বলেছেন যে, বিএনপি কোনো রকম ঐক্যের সরকার বা জাতীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনা নেই জামায়াতের সঙ্গে। কিন্তু জামায়াত বলছে যে, তারা যদি সুযোগ পায় তারা বিএনপির সঙ্গে এখনো ঐক্যের সরকার করতে রাজি এবং তারা আমন্ত্রণ জানাবে। সে ক্ষেত্রে কি আপনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন?

তারেক রহমান : আমরা কনফিডেন্ট যে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের মানুষের রায় আমরা পাব। আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হব এককভাবে। সে ক্ষেত্রে তো কাউকে অপজিশনে থাকতে হবে। কারণ একটা ব্যালেন্সড রাষ্ট্র যদি হতে হয়, ব্যালেন্সড সরকার যদি হতে হয় তাদের সে ক্ষেত্রে অপজিশনে থাকতে হবে কাউকে। সবাই সরকারে চলে এলে কেমন করে দেশ চলবে?

ডয়চে ভেলে : বাংলাদেশে প্রায় ১৩ কোটি ভোটার এবং তার অর্ধেকের মতোই নারী। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে রাজনৈতিক দলগুলো যে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন তার মধ্যে নারীর সংখ্যা খুবই কম এবং এটা নিয়ে একটা আলোচনা হচ্ছে দেশে-বিদেশে যে নারীকে কেন এতটা কম সুযোগ দেওয়া হচ্ছে ভোটের রাজনীতিতে? যদি জুলাই বিপ্লবের কথা বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের কথা বলা হয়, সেখানেও তারা বিশেষভাবে অবদান রেখেছেন। বিষয়টা কীভাবে দেখছেন?

তারেক রহমান : বিষয়টাকে আমি অন্যভাবে দেখি। বেগম খালেদা জিয়া যখন এর আগে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন উনি একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছিলেন এবং সেটা হচ্ছে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা। ক্লাস ওয়ান থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত উনি ফ্রি করে দিয়েছিলেন। এটি হচ্ছে নারী সমাজকে এমপাওয়ার করার প্রথম একটি পদক্ষেপ। অর্থাৎ আপনি একজনের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করলেন। আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে নারীদের এই শিক্ষার সুযোগটা আরও হায়ার ক্লাস পর্যন্ত আমরা নিয়ে যাব। এটা হলো এক নম্বর। দ্বিতীয়ত, আপনি নিশ্চয়ই শুনেছেন, আমরা দেশের প্রত্যেক হাউসওয়াইফের জন্য, বিশেষ করে শুরু করব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর থেকে, আমরা একটি ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই, যার মাধ্যমে আমরা তাকে একটি রাষ্ট্র বা সরকার থেকে একটা সহযোগিতা দেব। এই ফ্যামিলি কার্ডটা যখন পাবে, সে মানসিকভাবে সে এমপাওয়ার্ড ফিল করবে এবং সহযোগিতা যখন বজায় থাকবে আস্তে আস্তে অর্থনৈতিকভাবে সে স্বাবলম্বী হবে। একদিকে আমরা চেষ্টা করছি নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে। একই সঙ্গে আমরা তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছি।

আমরা শুধু কথার কথা বলে কিছু নমিনেশন বা কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কিছু নারীকে দিয়ে দিলাম না। কিন্তু আপনি যদি সত্যিই নারীদের ক্ষমতায়নের কথা বলেন, তা এভাবে আনতে হবে। তাদের শিক্ষা এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে। আমরা চাইছি শিক্ষার পাশাপাশি নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে। তাহলে সে তার নিজ যোগ্যতাতেই যেকোনো পর্যায়ের নির্বাচন হোক, স্থানীয় হোক বা জাতীয় নির্বাচন, সে তার নিজ যোগ্যতাবলে নমিনেশন আদায় করেই নিতে সক্ষম হবে। বিষয়টিকে আমরা লংটার্মে নিয়ে যেতে চাইছি। ধীরে ধীরে স্থায়ীভাবে জিনিসটাকে গড়ে তুলতে চাইছি আমরা।

ডয়চে ভেলে : আমরা যখন কথা বলি নারী ভোটারদের সঙ্গে, তাদের কারও কারো মধ্যে একধরনের ভয় বা উৎকণ্ঠাও কাজ করছে যে, ১২ তারিখের পরে কী হবে, তারা কতটা নিরাপদ থাকতে পারবেন বা তাদের উপরে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ হবে কি না, তাদের জীবন সংকুচিত করার কোনো রকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না। এ রকম এক ধরনের ভয়, এক ধরনের উৎকণ্ঠা কাজ করছে। তাদের উদ্দেশ্যে আপনার কি কোনো বার্তা আছে?

তারেক রহমান : আপনি যেই বিষয়গুলো বললেন, এটি অবশ্যই আমাদের পক্ষ থেকে নয়। এটি বাংলাদেশে কিছু কিছু অন্য রাজনৈতিক দল আছে, যাদের বিভিন্ন কথাবার্তা বা সোশ্যাল মিডিয়াতে তাদের বিভিন্ন স্টেটমেন্টের মাধ্যমে এই ধারণাগুলো জন্ম নিয়েছে মানুষের মাঝে বা নারীদের মাঝে। আমরা সবসময়ই নারীদের এম্পাওয়ারমেন্ট এর কথা বলেছি। কারণ আমরা যত যাই পরিকল্পনাই করি না কেন, যখন দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হয়ে থাকেন, তাদেরকে আলাদা রেখে আমরা দেশকে সামনে নিতে পারব না। আমাদের সকলকে নিয়েই নিতে হবে। সেজন্যই আমরা তাদের শিক্ষার আরও এমন ব্যবস্থা করতে চেয়েছি যাতে তারা আরও উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারে সহজে। আমরা এমন ব্যবস্থা করতে চাইছি যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। অর্থাৎ তাদের কনফিডেন্স আমরা আরও স্ট্রং করতে চাইছি। তাদের আত্মবিশ্বাসটা আমরা দৃঢ় করতে চাইছি। শুধু তাই নয়, আমরা এরই মধ্যে বলেছি যে, আমরা দেশে সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আমরা দেশে এমন শিল্পও নিয়ে আসতে চাই যেখানে নারীরা তাদের কর্মসংস্থানে বেশি হবে। কর্মসংস্থানে নারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারেন, সেই জন্য কেয়ার সেন্টারসহ অন্যান্য বিষয়গুলো আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে।

আমরা এটাও বলেছি যে, নারীরা যাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন, ঢাকা শহরসহ বড় শহরগুলোতে আমরা নারীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস ইন্ট্রোডিউস করব, যেটা শুধু নারীরাই ব্যবহার করবেন এবং সেই বাস পরিচালনাও করবেন নারীরা। কাজেই আমাদের দলীয় অবস্থান থেকে আমরা পরিকল্পনা রেখেছি, যেগুলো আমরা ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন করব সুযোগ পেলে যাতে করে নারীরা তাদের জন্য যত বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

ডয়চে ভেলে : গণঅভ্যুত্থানের পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না এবং কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ এরকম মত দিচ্ছেন যে, আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় এই নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে না। এই বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

তারেক রহমান : দেখুন এটা তো পুরো রাজনীতি। আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, মানুষের সমর্থন নিয়ে। কাজেই আমি মনে করি, রাজনীতিতে মানুষ যাকে গ্রহণ করবে তাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। আর যাকে মানুষ গ্রহণ করবে না, যত শক্তিই থাকুক না কেন, শক্তি প্রয়োগ করে সে ধরে রাখতে পারে না, ৫ই আগস্ট যার উদাহরণ।

ডয়চে ভেলে : দুর্নীতি দমনের যে উদ্যোগের কথা আপনি বলছেন এবং আপনার ম্যানিফেস্টোতে সেটা রয়েছে, ইশতেহারে রয়েছে। কিন্তু টিআইবি ও একাধিক সংগঠন নানারকম পরিসংখ্যান দিচ্ছে এবং তাতে দেখা যাচ্ছে যে বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রার্থী ঋণখেলাপি। তারা আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে তারপরে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং অনেকে আছেন যারা ঋণগ্রস্ত। এই বিষয়ে আপনার মতামত কী?

তারেক রহমান : দেখুন, দুর্নীতি এবং ঋণগ্রস্ত বা ব্যাংক ডিফল্ট দুটো ভিন্ন জিনিস। আমাদের দলের লাখো নেতাকর্মীর নামে বিগত স্বৈরাচার সরকার কেস দিয়েছিল। আমাদের দলের মধ্যে যারা আছেন, যারা আমাদের দলীয় রাজনীতির সাথে আছে, যারা ব্যবসা বাণিজ্য করে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য চলতে দেওয়া হয়নি। তাদেরকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। তাদের ন্যায্য ব্যাংক লোন যেটা আছে সেটা তাদেরকে দেওয়া হয়নি। কাজেই এরকম একটি অবস্থার মধ্যে আমাদের লোকজন, আমাদের ব্যবসায়ীরা, আমাদের নেতাকর্মীরা যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করতেন, তাদের জন্য তো এরকম ডিফল্ট হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। দুর্নীতি ও ডিফল্ট হয়ে যাওয়ার মধ্যে সম্পর্ক তো নেই। দুটো একদম ভিন্ন জিনিস।

ডয়চে ভেলে : সম্পূর্ণভাবে গণঅভ্যুত্থানের কথা আপনি যেটা বলছেন যে, বিএনপির অনেক নেতাকর্মী হতাহত হয়েছেন বলে আপনার দল থেকে জানানো হয়েছে। গত ১৫-১৬ বছরে গুম খুনের শিকার হয়েছেন অনেকে। যারা ভুক্তভোগী, তাদের পরিবারকে বা তাদের বিচার নিশ্চিত করার জন্য আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

তারেক রহমান : অবশ্যই আমাদের পরিকল্পনা আছে, কারণ আমাদের নেতাকর্মীরা যেরকম গুম খুনের শিকার হয়েছে, অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল যারা আমাদের সাথে আন্দোলন সংগ্রামে ছিল তারা গুম খুনের শিকার হয়েছে। হয়ত সংখ্যা কম-বেশি হবে। এমনকি অনেক মানুষ আছেন যারা রাজনীতির সাথে জড়িত না। কিন্তু তারা অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছে, গুম খুনের শিকার হয়েছে। এটি একটি অন্যায় ব্যাপার। একটি সভ্য দেশে মানুষ গুম হয়ে যাবে, দেশের মানুষ খুন হয়ে যাবে, কিন্তু তার কোনো বিচার হবে না, এটা তো হতে পারে না। কাজেই দেশের আইন অনুযায়ী অবশ্যই প্রত্যেকটা মানুষ কারো সাথে যদি অন্যায় হয়ে থাকে তার বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।

Continue Reading

Trending