Connect with us

top2

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত

Published

on

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বাদশ সমাবর্তন। সাবেক শিক্ষার্থীদের একাংশের বর্জনের ডাকের মধ্যে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী বুধবার সকালে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

এ আয়োজনের শুরু থেকে সাবেক শিক্ষার্থীদের দাবি না মেনে নেওয়া এবং প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

সকাল সাড়ে ৮টায় সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। শোভাযাত্রা, অতিথি ও গ্র্যাজুয়েটদের আসন গ্রহণ, স্বাগত বক্তব্য, ডিগ্রি প্রদান ও গ্রহণ, শুভেচ্ছা বক্তব্য এবং সভাপতির বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। দুপুর আড়াইটায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

সমাবর্তনের সভাপতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, “বাংলাদেশকে এমন স্নাতকদের প্রয়োজন, যারা শুধু তাদের পেশাগত ক্ষেত্রে উৎকর্ষ লাভ করবে না, বরং যারা প্রশ্ন করবে, তাদের সাফল্য সমাজের ওপর কী প্রভাব ফেলছে।

“আমরা এমন মানুষদের চাই, যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, যারা প্রতিষ্ঠানের শক্তি বাড়াবে, যারা সততার সঙ্গে নেতৃত্ব দেবে।”

স্নাতকদের উদ্দেশে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “আপনার শিক্ষা কেবল ক্যারিয়ার গড়ার জন্য নয়, বরং একটি ন্যায়সঙ্গত এবং মানবিক সমাজ গড়ার জন্য ব্যবহার করুন। যারা আপনাদের আগে এসেছিলেন তাদের উদাহরণ অনুসরণ করুন। মনে রাখবেন, জ্ঞান একটি শক্তি এবং সেই শক্তি সততার সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং সেই চেতনাকে সামনে রেখে সমাবর্তনের আয়োজন করা হয়েছে।

“অনুষ্ঠান শেষে আপনারা যখন ক্যাম্পাস ত্যাগ করবেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চলবেন, প্রজ্ঞার সঙ্গে চিন্তা করবেন এবং হৃদয়ে দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করবেন। দেশ এবং বিশ্বকে জানাতে হবে আপনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্নাতক, যে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত, সেবা করতে প্রস্তুত এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত।”

স্নাতকদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ বলেন, “তোমাদেরকে চিন্তা ভাবনা করে প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলতে হবে। চারদিকে অনেক অস্থিরতা ও চঞ্চলতা কাজ করে এগুলোর পেছনে পড়লে চলবে না। সবকিছু চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে হবে। তোমাদের সঙ্গে আছে পরিবার ও শিক্ষকসহ গোটা দেশ।”

সমাবর্তনে ৬০, ৬১ ও ৬২তম ব্যাচের মোট পাঁচ হাজার ৯৬৯ শিক্ষার্থী অংশ নেন। তবে সমাবর্তন আয়োজনে নানা অসঙ্গতি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাবর্তনে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী।

সমাবর্তনে অংশ নিতে আসা সাবেক শিক্ষার্থী আলী ইউনুস হৃদয় বলেন, “সমাবর্তনে অংশ নিতে বহুদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু প্রশাসন নামমাত্র একটি সমাবর্তন আয়োজন করেছে।

“অনেক শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেননি। রেজিস্ট্রেশন পুনরায় উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসলেও তারা এ বিষয়ে ভ্রূক্ষেপ করেননি। আমাদের পরবর্তীতে যারা সমাবর্তন পাবেন, তারা যেন এমন সমাবর্তন না পায়!”

সমাবর্তনের মূল ভেন্যুতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল কম। শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ চেয়ারের দুই-তৃতীয়াংশই ছিল ফাঁকা। শিক্ষা উপদেষ্টা যখন শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দিচ্ছিলেন, তখন উপস্থিত স্নাতকদের একাংশ ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানও দেয়।

একাধিক স্নাতক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতিথি নিয়ে অসন্তোষ থাকায় তারা স্টেজে উপস্থিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি মেনে না নেওয়ায় তাদের এই অসন্তোষ তৈরি হয়।

সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমাদের অনেকেই এই সমাবর্তন বর্জন করেছে। রেজিস্ট্রেশন উন্মুক্ত করার দাবি জানালেও প্রশাসন তা করেনি। তাই আমরা সমাবর্তনের স্থান ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলাম। ক্যাম্পাসে এসেছি বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে, আড্ডা দিতে। এমন একটি সমাবর্তনে অংশ নিতে নয়।”

দ্বাদশ সমাবর্তনের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের জন্য কোনও আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংবাদকর্মীরা। এদিন সকালে সাংবাদিকদের জন্য প্রয়োজনীয় আইডি পাস সরবরাহ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে রাজশাহী মহানগরের সংবাদকর্মীদের আইডি পাসের বিষয়টি জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার রাতে যমুনা টেলিভিশনের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান শিবলী নোমান বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বাদশ সমাবর্তন সক্কালবেলাতেই। রাত ৩টা অবধি সংবাদমাধ্যমগুলোর অধিকাংশকেই আমন্ত্রণপত্র দূরের কথা, কেউ একটা ফোন দিয়েও জানানোর প্রয়োজন বোধ করেননি। ২৫ বছর পেরিয়ে গেলো সংবাদকর্মী হিসেবে। এমন পরিস্থিতি দেখলাম এই প্রথম!”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৩ সালে। এরপর ১৯৫৯, ১৯৬১, ১৯৬২, ১৯৬৫ ও ১৯৭০ সালে একাধিক সমাবর্তন হয়। দীর্ঘ ২৮ বছর বিরতির পর ১৯৯৮ সালের ২৯ নভেম্বর সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর অষ্টম, ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি নবম, ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দশম এবং ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর একাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

একাদশ সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। দশম ও একাদশ সমাবর্তনে উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

লিবিয়া থেকে দেশে ১৭৫ বাংলাদেশি

Published

on

By

ইউএনবি

লিবিয়ায় ডিটেনশন সেন্টারে আটক ও বিভিন্নভাবে দুর্দশাগ্রস্ত ১৭৫ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের প্রত্যাবাসন করা হয়।

বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে তাদের দেশে আনা হয়।

জানা গেছে, প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক থাকা ৩০ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। বাকি ১৪৫ জন বেনগাজী ও তার আশপাশের এলাকায় বসবাসরত দুস্থ, অসহায় ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তারা সবাই স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করায় আইওএম-এর সহায়তায় তাদের ফিরিয়ে আনা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফেরত আসা এসব নাগরিকের অধিকাংশই মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন এবং অনেকে অপহরণ ও অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইওএম-এর কর্মকর্তারা তাদের অভ্যর্থনা জানান। এ সময় কর্মকর্তারা মানবপাচারের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভুক্তভোগীদের তাদের তিক্ত ও দুঃসহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানান।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসিত প্রত্যেককে পথখরচা, জরুরি খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটকে পড়া অন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

Continue Reading

top2

জাতীয় ভোটার দিবসের সকল কর্মসূচি স্থগিত

Published

on

By

আগামী ২ মার্চ অষ্টম ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ উদযাপনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচিসহ মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মসূচি স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আজ বৃহস্পতিবার ইসি সচিবালয়ের উপসচিব মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

আদেশে বলা হয়েছে, ২ মার্চ অষ্টম ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিসহ মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মসূচি পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন নির্দেশনা প্রদান করেছে।

আদেশে অষ্টম জাতীয় ভোটার দিবসের সকল কর্মসূচি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার জন্য বলা হয়েছে।

Continue Reading

top2

রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারের দাবি এনসিপির

Published

on

By

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে তিনি এ দাবি জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘চব্বিশের জুলাইয়ে গণহত্যা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন। এ জন্য তিনি গণহত্যার দায় এড়াতে পারেন না।’

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাকে অভিশংসন করতে হবে। এরপর গণহত্যার দায়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী।

এর আগে এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে শপথ ভঙ্গের অভিযোগ আনেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি’ পদটি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। এ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির প্রতিটি বক্তব্য ও পদক্ষেপ জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা রাষ্ট্রীয় শপথ ও গোপনীয়তা রক্ষার নীতিমালার সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও গোপনীয় বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করে শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং রাষ্ট্রের গোপন বিষয়ের মতো আমানত রক্ষায় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এতে দেশবাসীর মনে নানা প্রশ্ন, বিতর্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি তাঁর এই সাক্ষাৎকারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’’

Continue Reading

Trending