Connect with us

top2

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত

Published

on

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বাদশ সমাবর্তন। সাবেক শিক্ষার্থীদের একাংশের বর্জনের ডাকের মধ্যে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী বুধবার সকালে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

এ আয়োজনের শুরু থেকে সাবেক শিক্ষার্থীদের দাবি না মেনে নেওয়া এবং প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

সকাল সাড়ে ৮টায় সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। শোভাযাত্রা, অতিথি ও গ্র্যাজুয়েটদের আসন গ্রহণ, স্বাগত বক্তব্য, ডিগ্রি প্রদান ও গ্রহণ, শুভেচ্ছা বক্তব্য এবং সভাপতির বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। দুপুর আড়াইটায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

সমাবর্তনের সভাপতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, “বাংলাদেশকে এমন স্নাতকদের প্রয়োজন, যারা শুধু তাদের পেশাগত ক্ষেত্রে উৎকর্ষ লাভ করবে না, বরং যারা প্রশ্ন করবে, তাদের সাফল্য সমাজের ওপর কী প্রভাব ফেলছে।

“আমরা এমন মানুষদের চাই, যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, যারা প্রতিষ্ঠানের শক্তি বাড়াবে, যারা সততার সঙ্গে নেতৃত্ব দেবে।”

স্নাতকদের উদ্দেশে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “আপনার শিক্ষা কেবল ক্যারিয়ার গড়ার জন্য নয়, বরং একটি ন্যায়সঙ্গত এবং মানবিক সমাজ গড়ার জন্য ব্যবহার করুন। যারা আপনাদের আগে এসেছিলেন তাদের উদাহরণ অনুসরণ করুন। মনে রাখবেন, জ্ঞান একটি শক্তি এবং সেই শক্তি সততার সঙ্গে ব্যবহার করা উচিত।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং সেই চেতনাকে সামনে রেখে সমাবর্তনের আয়োজন করা হয়েছে।

“অনুষ্ঠান শেষে আপনারা যখন ক্যাম্পাস ত্যাগ করবেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চলবেন, প্রজ্ঞার সঙ্গে চিন্তা করবেন এবং হৃদয়ে দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করবেন। দেশ এবং বিশ্বকে জানাতে হবে আপনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্নাতক, যে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত, সেবা করতে প্রস্তুত এবং সমাজ ও রাষ্ট্রে পরিবর্তন আনতে প্রস্তুত।”

স্নাতকদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এস এম এ ফায়েজ বলেন, “তোমাদেরকে চিন্তা ভাবনা করে প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলতে হবে। চারদিকে অনেক অস্থিরতা ও চঞ্চলতা কাজ করে এগুলোর পেছনে পড়লে চলবে না। সবকিছু চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে হবে। তোমাদের সঙ্গে আছে পরিবার ও শিক্ষকসহ গোটা দেশ।”

সমাবর্তনে ৬০, ৬১ ও ৬২তম ব্যাচের মোট পাঁচ হাজার ৯৬৯ শিক্ষার্থী অংশ নেন। তবে সমাবর্তন আয়োজনে নানা অসঙ্গতি ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাবর্তনে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী।

সমাবর্তনে অংশ নিতে আসা সাবেক শিক্ষার্থী আলী ইউনুস হৃদয় বলেন, “সমাবর্তনে অংশ নিতে বহুদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু প্রশাসন নামমাত্র একটি সমাবর্তন আয়োজন করেছে।

“অনেক শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেননি। রেজিস্ট্রেশন পুনরায় উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসলেও তারা এ বিষয়ে ভ্রূক্ষেপ করেননি। আমাদের পরবর্তীতে যারা সমাবর্তন পাবেন, তারা যেন এমন সমাবর্তন না পায়!”

সমাবর্তনের মূল ভেন্যুতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল কম। শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ চেয়ারের দুই-তৃতীয়াংশই ছিল ফাঁকা। শিক্ষা উপদেষ্টা যখন শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দিচ্ছিলেন, তখন উপস্থিত স্নাতকদের একাংশ ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানও দেয়।

একাধিক স্নাতক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতিথি নিয়ে অসন্তোষ থাকায় তারা স্টেজে উপস্থিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি মেনে না নেওয়ায় তাদের এই অসন্তোষ তৈরি হয়।

সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমাদের অনেকেই এই সমাবর্তন বর্জন করেছে। রেজিস্ট্রেশন উন্মুক্ত করার দাবি জানালেও প্রশাসন তা করেনি। তাই আমরা সমাবর্তনের স্থান ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলাম। ক্যাম্পাসে এসেছি বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে, আড্ডা দিতে। এমন একটি সমাবর্তনে অংশ নিতে নয়।”

দ্বাদশ সমাবর্তনের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের জন্য কোনও আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংবাদকর্মীরা। এদিন সকালে সাংবাদিকদের জন্য প্রয়োজনীয় আইডি পাস সরবরাহ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে রাজশাহী মহানগরের সংবাদকর্মীদের আইডি পাসের বিষয়টি জানানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার রাতে যমুনা টেলিভিশনের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান শিবলী নোমান বলেন, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বাদশ সমাবর্তন সক্কালবেলাতেই। রাত ৩টা অবধি সংবাদমাধ্যমগুলোর অধিকাংশকেই আমন্ত্রণপত্র দূরের কথা, কেউ একটা ফোন দিয়েও জানানোর প্রয়োজন বোধ করেননি। ২৫ বছর পেরিয়ে গেলো সংবাদকর্মী হিসেবে। এমন পরিস্থিতি দেখলাম এই প্রথম!”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৩ সালে। এরপর ১৯৫৯, ১৯৬১, ১৯৬২, ১৯৬৫ ও ১৯৭০ সালে একাধিক সমাবর্তন হয়। দীর্ঘ ২৮ বছর বিরতির পর ১৯৯৮ সালের ২৯ নভেম্বর সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর অষ্টম, ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি নবম, ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দশম এবং ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর একাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

একাদশ সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। দশম ও একাদশ সমাবর্তনে উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

ট্রাম্পকে নিজের নোবেল পদক উপহার দিলেন মাচাদো

Published

on

By

ভেনেজুয়েলার ভিন্ন মতাবলম্বী রাজনীতিবিদ এবং ২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে নিজের নোবেল পুরস্কারের পদক তুলে দিয়েছেন। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এ উপহার প্রদান করেছেন তিনি।

মাচাদোর এ উপহার আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন ট্রাম্প। তার প্রশংসাও করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন মাচাদো। সেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকের পর সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিক ও সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় আজ ভেনেজুয়েলার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। আমি আমার নোবেল পুরস্কারের পদক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে উপহার দিয়েছি।”

মাচাদোর এই মন্তব্যের পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করেছিল বিবিসি এবং অন্যান্য পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম। তবে হোয়াইট হাউসের কোনো কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “(যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে) আমি যা যা করেছি, তার পুরস্কার হিসেবে মারিয়া তার নোবেল শান্তি পদক আমাকে উপহার দিয়েছেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক অপূর্ব নিদর্শন স্থাপন করলেন তিনি।”

এ ইস্যুতে মরক্কোর নোবেল কমিটির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল বিবিসি। তবে কমিটি সরাসরি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য না করে বলেছে, “নোবেল পুরস্কার যদি একবার ঘোষণা করা করা, তাহলে তা বাতিল করা যায় না এবং কোনো নোবেলজয়ী তার পুরস্কার নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন না, অন্যকে দানও করতে পারেন না। কোনো নোবেলজয়ী যদি তার পদক অন্যকে দিয়ে দিতে চান, দিতেই পারেন— পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে ওই নোবেলজয়ীর নামই সব জায়গায় নথিবদ্ধ হবে।”

প্রসঙ্গত, গত ৪ জানুয়ারি ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সেনা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে আসে মার্কিন সেনাবাহিনী। বর্তমানে তারা উভয়েই নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারে বন্দি আছেন। মার্কিন প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সরবরাহের অভিযোগে আদালতে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়ার বিচার হবে।

মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অপহরণ করার কয়েক ঘণ্টা পর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির সাংবিধানিক নিয়ম অনুসারে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে দেলসি রদ্রিগুয়েজকে।

মাচাদো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হতে চান। দেশটির মাদুরোবিরোধী রাজনীতিকদের একাংশ তাকে সমর্থনও দিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও এ ব্যাপারে কোনো সবুজ সংকেত দেন নি। উপরন্তু মাদুরোকে সস্ত্রীক গ্রেপ্তারের পর মাচাদো সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, “মারিয়া একজন চমৎকার মহিলা; কিন্তু তিনি সরকার চালাতে পারবেন বলে আমার মনে হয় না। তাছাড়া সরকারপ্রধান হওয়ার জন্য দেশের ভিতরে যে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রয়োজন— তা তার নেই।”

সূত্র : আরটি, বিবিসি

Continue Reading

top2

ইরানে হত্যা চলছে না, আমাকে ‘আশ্বস্ত’ করা হয়েছে: ট্রাম্প

Published

on

By

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এই মর্মে ‘আশ্বস্ত’ করা হয়েছে যে—ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে ফাঁসি কার্যকর করার ‘কোনো পরিকল্পনা নেই।’ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার হুমকি দেওয়ার পর এই মন্তব্যগুলো সংকটের প্রতি একটি পরিমিত বা সংযত পদ্ধতির সংকেত দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তাঁকে জানানো হয়েছে যে ইরানে ‘বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে এবং পরিকল্পিত ফাঁসিগুলো স্থগিত করা হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন করে শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে কাতার থেকে কিছু মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তিনি ‘অন্য (ইরানের) পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের’ সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এই সংকট কীভাবে এগিয়ে যায় তা পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে তিনি সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করতে যাচ্ছি যে, প্রক্রিয়াটি কী হয়’, এবং এর আগে তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রশাসন ইরানের কাছ থেকে একটি ‘অত্যন্ত ভালো বিবৃতি’ পেয়েছে।

গতকাল বুধবার ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আরাগচিকে জিজ্ঞেস করা হয় যে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, তখন তিনি বলেন, ‘ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই নেই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ফাঁসি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আল জাজিরার মাইক হানা রিপোর্ট করেছেন, বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো ইরানের প্রতি তাঁর সুর নরম হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে তিনি এখনও বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভাবছেন। তাঁকে তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ব্রিফ করেছে। তবে আমরা এইমাত্র যে বক্তব্যগুলো শুনলাম, তা পরিস্থিতির সম্ভাব্য শীতলতা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আসন্ন পদক্ষেপের হুমকি থেকে পিছিয়ে আসার ইঙ্গিত দেয়।’

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র নন-রেসিডেন্ট ফেলো সিনা তুসি বলেন, ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হওয়ার যে তথ্য ট্রাম্প পেয়েছেন বলে দাবি করছেন, তা আপাতদৃষ্টিতে সামরিক হস্তক্ষেপ এড়ানোর একটি ‘সম্মানজনক পথ’ (face-saving way) বলে মনে হচ্ছে, যদিও এটি পুরোপুরি সংঘাতের সম্ভাবনাকে নাকচ করে না। তুসি বলেন, ‘ট্রাম্পের কথাকে শতভাগ গুরুত্ব সহকারে নেওয়া কঠিন। কিন্তু আমরা জানি, বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার প্রতি তাঁর এক ধরনের অনীহা রয়েছে, আর ইরানের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকিটি টেবিলে ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে তিনি বের হওয়ার জন্য একটি সম্মানজনক পথ খুঁজছেন, তবে আমি এটাকে পুরোপুরি নাকচ করে দেওয়া হিসেবে নেব না।’ তিনি যোগ করেন, ট্রাম্পের অতীতেও একই সাথে সামরিক হামলার হুমকি দেওয়া এবং ইরানের সাথে আলোচনার ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে।

তেহরানকে মার্কিন দাবির সাথে আরও বেশি সংগতিপূর্ণ করতে ট্রাম্প অতীতেও সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। গত এক সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরানি কর্তৃপক্ষের কঠোর দমন-পীড়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে।

ওয়াশিংটন ডিসির স্টিমসন সেন্টারের ডিস্টিংগুইশড ফেলো বারবারা স্লাভিন বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত সে বিষয়ে ট্রাম্প সম্ভবত ‘দ্বিধাবিভক্ত।’ তিনি বলেন, যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘আরেকটি দ্রুত বিজয়’ পছন্দ করবেন, তবে ‘আমি মনে করি না যে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী কোনো দ্বন্দ্বে জড়াতে চান, যা তাঁর স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের পরিপন্থী।’

তিনি যোগ করেন, তিনি আশা করছেন—ট্রাম্প সীমিত আকারে কিছু হামলা চালাতে পারেন যাতে তিনি দাবি করতে পারেন যে ইরানি জনগণকে ‘সাহায্য’ করার প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করেছেন, কিন্তু তা যেন কোনো বড় ধরনের সংঘাতের সূত্রপাত না করে।

এর আগে বুধবার, ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্র কাতারের বিমান ঘাঁটি থেকে কিছু কর্মী সরিয়ে নেয়। এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন যে, তেহরান তার প্রতিবেশীদের সতর্ক করেছে যে, ওয়াশিংটন যদি হামলা চালায় তবে তারা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত করবে। এই আঞ্চলিক উত্তজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় বেশ কয়েকটি দেশ ওই অঞ্চলে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য সতর্কতা জারি করেছে

Continue Reading

top2

ইরান-ইসরায়েলের সেনাবাহিনীতে ‘হাই অ্যালার্ট’

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যে কোনো হামলার মোকাবিলায় ইরানের সামরিক বাহিনী এখন ‘সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুত অবস্থায়’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। অন্যদিকে ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কায় উচ্চসতর্কতা অবলম্বন করছে দখলদার ইসরায়েল।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আল জাজিরা ও টিআরটি ওয়াল্ডের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি বিমান বাহিনীর কমান্ডার সারদার মুসাভি বলেন, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ১২ দিনের যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এই সময়ে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা সম্পূর্ণভাবে মেরামত করা হয়েছে। ফলে বাহিনী এখন সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।

তিনি বলেন, ইরান যে কোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত।

এদিকে বার্তাসংস্থা টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে কিনা সেই প্রশ্নে আটকে নেই। বরং তারা ধরে নিয়েছে, মার্কিন হামলা কখন হবে, সেটাই এখন মূল বিষয়। তাদের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান যে কোনো সময় ইরানে হামলা শুরু করতে পারে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আগাম অবহিত করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। কারণ ইরানের পাল্টা হামলা মোকাবিলায় ইসরায়েলকে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে। এই সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল তাদের সব সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। বিশেষ করে বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে সক্রিয় করা হয়েছে।

ইসরায়েলি আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামরিক করসপন্ডেন্ট ড্যারন কাদোস বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নির্দেশ দেবেন।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ধারণা, এ ধরনের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেন থেকে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী, এমনকি সিরিয়া ও ইরাক থেকেও সমন্বিত হামলা চালানো হতে পারে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সরাসরি সামরিক হামলার পাশাপাশি সাইবার হামলা চালাতে পারে এবং অন্যান্য দেশে অবস্থিত ইরানি অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে

Continue Reading

Trending