বিশ্ববাজারে ফের বাড়তির দিকে যাচ্ছে স্বর্ণের দাম। একই সঙ্গে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মতো অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ বিনিয়োগমুখী করেছে।
বিশেষ করে ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা বেড়েছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বুলিয়ন বাজারে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪১১ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারও ২ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪১৯ ডলারের কাছাকাছি লেনদেন হয়।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়িয়ে চলার প্রবণতা বাড়িয়েছে। ফলে স্বর্ণ ও রুপার মতো নিরাপদ সম্পদের চাহিদা নতুন করে বেড়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারারের ভাষ্য, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে মূল্যবান ধাতুর দিকে ঝুঁকেন। এ কারণেই স্বর্ণ ও রুপার দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার খবরের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই ঘটনায় এক বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার তথ্যও সামনে আসে। পরবর্তীতে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন এবং জানান, মাদুরো রাষ্ট্রপতির পদে বহাল থাকবেন।
ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি সুদের হার কমার প্রত্যাশা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ব্যাপক স্বর্ণ কেনা এবং এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে গত বছর স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য উত্থান ঘটে। গত বছরে বুলিয়নের দাম প্রায় ৬৪ শতাংশ বেড়েছে, যা ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি। চলতি বছরের ২৬ ডিসেম্বর স্বর্ণের দাম সর্বকালের রেকর্ড ৪ হাজার ৫৪৯ ডলারের ঘর ছুঁয়েছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব ফিলাডেলফিয়ার প্রেসিডেন্ট আনা পলসন সম্প্রতি জানান, সুদের হার কমানোর গতি ভবিষ্যতে কিছুটা ধীর হতে পারে। তবে বাজারে এখনো ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরে ফেড অন্তত দুই দফা সুদের হার কমাতে পারে।
বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার আরও বলেন, সুদের হার সংক্রান্ত পরবর্তী দিকনির্দেশনা পেতে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের নন-ফার্ম পে-রোলস সংক্রান্ত তথ্যের দিকে নজর রাখছেন। সাধারণত নিম্ন সুদের হার এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে অ-ফলনশীল সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ভালো পারফরম্যান্স দেখায়।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। স্পট সিলভারের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় ৭৬ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে গত বছরের শেষে রুপার দাম সর্বোচ্চ ৮৩ ডলারের বেশি উঠেছিল। বছর শেষে রুপার দাম বেড়েছে প্রায় ১৪৭ শতাংশ, যা স্বর্ণের বৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র রুপাকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি শিল্প ও বিনিয়োগ চাহিদা বাড়ায় এবং সরবরাহ সংকট থাকায় ধাতুটির দাম দ্রুত বেড়েছে।
এ ছাড়া প্লাটিনামের স্পট দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় ২ হাজার ১৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে এক দফায় প্লাটিনামের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪৭৮ ডলারে উঠেছিল। একই সময়ে প্যালাডিয়ামের দামও প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৬৭ ডলারের কাছাকাছি লেনদেন হয়েছে।