Connect with us

রাজনীতি

শিবচরে বিএনপির নির্বাচনি বৈঠকে আ.লীগ নেতারা

Published

on

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাদারীপু-১ শিবচর আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উঠান বৈঠকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের এসব নেতারা বলছেন, তারা সাবেক চিপ হুইপ নুরে আলম চৌধুরী লিটনের নির্দেশে ধানের শীষ প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে সমর্থন জানাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের প্রচারকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তারের পক্ষে আয়োজিত উঠান বৈঠকে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীর প্রকাশ্য উপস্থিতি ও সমর্থন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে শিবচর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আওলাদ হোসেন খানের বাসভবনে শিবচর পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে এ উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এ সভার সূচনা হয়।

বিএনপির উঠান বৈঠকে বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, পৌরসভার কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তারা বলেন, সাবেক হুইপ ও সাবেক সংসদ সদস্য নূর-ই আলম চৌধুরী লিটনের নির্দেশনায় তারা বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করছেন।

একই মঞ্চে বিএনপি প্রার্থীর উপস্থিতি ও বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা ও পৌরসভার সাবেক মেয়র আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আতাহার বেপারী, শিবচর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইলিয়াস পাশা, চরজানাজাত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন রায়হান সরকার, কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে মোহসিন উদ্দিন সোহেল, বহেরাতলা উত্তর ইউনিয়নে মো. জাকির হোসেন হায়দার, মাদবরেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলু মুন্সি,বাশকান্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান খোকন বায়াতি, কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ হাজী আতিকুর মাদবর, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

উঠান বৈঠকের সভায় সভাপতিত্ব করেন শিবচর পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হেমায়েত হোসেন খান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার বলেন, নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের সমস্যা সরাসরি শুনে সমাধানে কাজ করব। তিনি ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান । বিএনপি সরকার গঠন করলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভর্তুকির আওতায় আনা হবে।

সভায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খান, সদস্য সচিব সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক জহের গোমস্তাসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

রাজনীতি

সিঙ্গাপুর-কানাডা নয়, ইনসাফভিত্তিক ‘উত্তম বাংলাদেশ’ গড়তে চাই: জামায়াত আমির

Published

on

By

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়; এটি জাতির ভাগ্য পরিবর্তন এবং দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার নির্বাচন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আমরা নিজেরা দুর্নীতি করব না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয় দেব না। ইনসাফ ভিত্তিক এমন এক সমাজ গড়ব যেখানে অপরাধ করলে প্রধানমন্ত্রী বা সাধারণ নাগরিক—সবার সাজা হবে সমান।”

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মহিষালবাড়ি মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সমর্থনে এই সভার আয়োজন করা হয়।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১১টি দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, “জুলাই সনদ এবং সংস্কারের সমস্ত প্রস্তাব মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়নের ওয়াদা যারা করেছে, আমরা তাদের নিয়ে ১১ দলে একত্রিত হয়েছি। আমাদের এই জোটে কোনো ব্যাংক ডাকাত, চাঁদাবাজ, ঋণখেলাপি বা নারী নির্যাতনকারী নেই। আমরা বেছে বেছে সৎ লোকদের মনোনয়ন দিয়েছি।”

বিদেশের সাথে তুলনা না করে দেশকে নিজস্ব গৌরবে সাজানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, “অনেকে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বা কানাডা বানানোর কথা বলেন। আমরা বলি, আমরা একে একটি ‘উত্তম বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়তে চাই। যেখানে সীমানা ঠিক থাকবে, কিন্তু ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে। প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলবে—আমিই বাংলাদেশ।”

নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকারের বিষয়ে তিনি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন:

মা-বোনেরা ঘরে, বাইরে এবং কর্মস্থলে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবেন।

কর্মজীবী নারীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন স্থানে বেবি কেয়ার ও ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে।

শিল্প এলাকায় শ্রমিক ও নারীদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা না চাইতেই পরিশোধের নীতিমালা করা হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে যা যুবকদের বেকার বানাবে না, বরং দেশ গড়ার লড়াকু সৈনিক হিসেবে তৈরি করবে। এছাড়া বিচার বিভাগে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

বক্তব্যের শেষে ডা. শফিকুর রহমান রাজশাহী-১ আসনের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেন। তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’, আর দ্বিতীয় ভোট হবে দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশের জন্য ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায়।”

জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। সভায় নারী কর্মীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

Continue Reading

রাজনীতি

মেধার বিকাশ ও মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ালেখা সরকারি খরচে হবে: জামায়াত আমির

Published

on

By

মেধাবীদের মেধার বিকাশের সুযোগ করে দেয়া হবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটা মায়ের শিশুকেও লেখাপড়ার বাইরে থাকতে দেব না। মাস্টার্স পর্যন্ত ছাত্রীরা সরকারি খরচে পড়ালেখা করবেন।

তিনি বলেন, যে মায়ের সামর্থ্য নাই, সেই শিশুর দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে। যার নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তারও যদি মেধাবী ছেলে থাকে; তার মেধাকে বিকশিত করা হবে। যাতে সে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে। এদেশের মানুষের প্রতি তার দায় দরদ থাকবে, সে বুঝবে এদেশের মানুষ কত কষ্টে জীবন যাপন করে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আজ ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে নওগাঁর এ.টিম মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা একটা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাচ্ছি। তাই আমার যেসব পুরানা বন্ধুরা আমার বিরুদ্ধে মিসাইল নিক্ষেপে শরিক হয়েছেন। আজকে আপনাদের সাক্ষী রেখে বলতে চাই; আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম। আল্লাহতালার কাছে দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের অপচর্চার ক্ষমা করে দেন। কোনো অপচর্চার জবাব আমি দেইনি এবং দেবো না।

তিনি বলেন, নওগাঁর উত্তর জনপদের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। যে জেলাটি বাংলাদেশের খাদ্য এবং ফলের এককভাবে দশভাগের এক ভাগের উৎপাদন করে সারা বাংলাদেশকে সহায়তা করে। কিন্তু বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই জেলাটি তার ন্যায্য পাওনা পাইনি। আস্তে আস্তে জনবসতি বৃদ্ধি পাচ্ছে মানুষের চাপ। শহরের ভেতরে রাস্তাটা বাইডেন হওয়াতে চলাচলের দারুণ সমস্যা হচ্ছে। এটিকে ফোর লেন করা দরকার। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে- আমরা তা করব।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া নওগাঁর একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজ হওয়া দরকার। যদি আল্লাহ আমাদের সুযোগ দেন, আপনাদের দোয়া ভালোবাসা, সমর্থন ও ভোটে যদি নির্বাচিত হতে পারি- ইনশাআল্লাহ এটি হবে।

ডা. শফিকুর রহমান, এটি যেহেতু কৃষি প্রধান এরিয়া ইতোমধ্যে আমরা ঘোষণা দিয়েছি পুরো নর্থ বেঙ্গলকে কৃষি শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট হবে, বিশ্ববিদ্যালয় হবে সেই পড়াশোনা কাগজে নয়, প্র্যাকটিক্যালি হবে প্রফেশনালি হবে। এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে সে বিদেশে কাজ করবে।

তিনি বলেন, এখানে কৃষিভিত্তক বিশ্ববিদ্যালয় হলে ধান ও ফলের গবেষণার কাজ হয়ে যাবে। এখানে ধান ও পেয়ারা উৎপাদিত হয় প্রচুর। এখানে ফসল সংগ্রহের কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় তাড়াহুড়ো করে ফসল বিক্রি করে দেন। এতে ফসলের ন্যায্যমূল্য পান না কৃষকরা। আমরা কয়েকটি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করে দিবো ইনশাআল্লাহ। আম ও লিচু প্রসেসিং এর ব্যবস্থা করবো, যেটি দিয়ে জুস ও শরবত তৈরি হয়।

নওগাঁর উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে আমীরে জামায়াত বলেন, কুসুম্বা মসজিদ ও পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসেবে গড়ে তুলবো। দুবলাহাটি রাজবাড়ীসহ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণ ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পর্যটন বর্তমান বিশ্বে বিপুল আয়ের উৎস। বাংলাদেশে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫৪ বছর যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন তারা নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধি করলেও জনগণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেননি। তারা নিজেদের কপাল কিসমত বড় করেছেন, জনগণের টাকা লুট করেছেন, চুরি করেছেন, ব্যাংক ডাকাতি করেছেন। শেয়ারবাজার লুট করেছেন। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করেছেন। এই লুণ্ঠন করা টাকাগুলো দেশে রাখার সৎ সাহস ছিল না বলে বিদেশে প্রচার করে দিয়েছিলেন। এই টাকার পরিমাণ ২৮ লক্ষ কোটি টাকা। এই টাকা কার? এই টাকার মালিক জনগণ। জনগণের ট্যাক্সের টাকা, ঋণের টাকা, অনুদানের টাকা চুরি করে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। এই টাকা ওদের পেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে নিয়ে আসা হবে। তারপর এটা দেশের কোষাগারে জমা রাখা হবে। সেখান টাকা দিয়ে বিগত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের যে এলাকা বেশি অবহেলিত- বঞ্চিত হয়েছে, সেই জায়গা থেকে উন্নয়ন শুরু হবে।

আমিরে জামায়াত বলেন, আমরা বেইনসাফি করতে পারবো না। কোনটা প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি আর রাষ্ট্রপতির আমরা ওটা দেখতে পারবো না। কোন জায়গার মানুষ দুঃখ কষ্টে আছে সেখান থেকে আগে উন্নয়ন শুরু হবে।

তরুণদের প্রত্যাশা তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাইয়ে কোনো তরুণ তরুণী কি দাবি করেছিল, আমাদের বেকার ভাতা দিতে হবে? না! তাহলে আজকে বেকার ভাতার কথা উঠছে কেন? তারা হাতে হাতে কাজ দাবি করছিল। আমরা কথা দিচ্ছি, যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের হাতকে দেশ গড়ার কারিগরে পরিণত করা হবে।

যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা যুবকদের ভাষাভিত্তিক ও পেশাভিত্তিক উভয় দক্ষতায় প্রদান করবো। তারপর বলবো দেশ তোমরা বদলে দাও। জুলাইয়ে মা বোনদের বিশেষ অবদান ছিলো। যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের গায়ে হাত দিয়েছিল। সাথে সাথে সারাদেশ স্ফুলিঙ্গের ন্যায় ফেটে পড়েছিল। তার পরে দিনই আপনাদের সন্তান, পার্শ্ববর্তী রংপুরের পীরগঞ্জের যুবক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবু সাঈদ, আমাদের অহংকার, জুলাইয়ের আইকন রাস্তায় নেমে বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিল। সে বলেছিল, হয় আমার অধিকার দে, নয় একটি গুলি দে। ডানা মেলে বলেছিল, বুকের ভিতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর।

জুলাই আন্দোলনে মেয়েদের অবদান তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এক মেয়ে ট্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে বললো, পিছনে পুলিশ, সামনে স্বাধীনতা। মা তার দশ মাসের শিশু কোলে নিয়ে রাস্তায় নেমে বলেছিল, আজকে আমার শিশু একটা নয় লক্ষ কোটি তরুণ যুবক যারা আন্দোলনে নেমেছে সবাই আমাদের সন্তান। সেই মায়েদের নিয়ে অপমানজনক আচরণ ইদানীং অনেকে করছেন। আমি বিনয়ের সাথে বলবো, প্লিজ, এগুলো করবেন না। আমরা মায়ের বুকের দুধ খেয়ে বড় হয়েছি, তাদের বুকের বিছানায় লালিত পালিত হয়েছি। মায়ের জাতিকে যত সম্মান দিব, আল্লাহ এ জাতিকে তত সম্মানিত করবেন।

দেশের কিছু জায়গায় মায়েদের অসম্মানের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আপনি যদি আপনার মা, বোন ও মেয়েকে সম্মান করে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশের ৯ কোটি মাকেও সম্মান করতে হবে। আর যদি আপনি আপনার মাকে সম্মান করতে না জানেন- তাহলে আর কাউকে সম্মান করতে জানবেন না। আর যদি এসব কাজ থেকে ফিরে না আসেন। জুলাইয়ের ১৫ তারিখ মায়েদের গায়ে হাত দেয়াতে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল; মনে রাখবেন, জুলাইয়ে তরুণরা ঘুমিয়ে পড়েনি। তারা আবার গর্জে উঠবে। মায়ের অপমান সহ্য করবে না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এদেশে শুধু আমরা শুধু মুসলমানরা নয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টানরা একসাথে বসবাস করছি। আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নাই কোনো মেজরিটি-মাইনরিটি মানবো না। এদেশে যারা মুসলমান নয়, তারা ভয়ের মধ্যে থাকবে কেন? আমরা এটি গুড়িয়ে একাকার করে দিতে চাই। সবাইকে নিয়ে আমরা দেশ সাজাবো। যার মধ্যে যোগ্যতা এবং দেশপ্রেম থাকবে,তার কাছে কাজ পৌঁছে যাবে।

১২ ফেব্রুয়ারি ভোট ও গণভোট নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দুটি ভোট দিতে হবে। মানবিক বাংলাদেশ গঠনে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। পরবর্তী ভোট দেবেন ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে। আমরা চাঁদাবাজি করি না, করতেও দেবো না। ব্যাংক ডাকাতি আমরা করি না, কোনো ব্যাংক ডাকাতের সাথে আমাদের আপস হবে না।

সংখ্যালঘুর অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাইনরিটির অধিকার নিয়ে যারা আগের ফ্যাসিস্ট সরকার চিল্লা-হাল্লা করতেন, তারা আপনাদের পাশের সাঁওতাল পল্লীতে কী করেছে, আপনারা দেখেননি? মায়েদের জন্য ঘরে, বাইরে চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম সাহস করবে না, নারী জাতির কারও দিকে চোখ তুলে থাকানোর।

আমিরে জামায়াত বলেন, এই ভোটটা হবে ইনসাফের প্রতীকে। ১১ দলের বিভিন্ন প্রকীকে যে যেখানে আছেন, প্রত্যেকে তার পক্ষে কাজ করবেন। নওগাঁর সবগুলো আসনে দাঁড়িপাল্লা, আলহামদুলিল্লাহ। আমীরে জামায়াতবক্তব্য শেষে নওগাঁর ৬টি আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থীদের পরিচয় করে দেন।

Continue Reading

top1

‘প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী অপরাধ করলে তাদেরকেও ছাড় দেওয়া হবে না’

Published

on

By

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘একজন সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যে বিচার-শাস্তি হবে, একজন প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী সেই অপরাধ করলে তাদেরকেও ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। আমরা বাংলাদেশে সেই বিচার কায়েম করতে চাই। এ বিচার মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী সবার জন্য সমান। আমরা বাংলাদেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে জামায়াতের নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।

জামায়াত আমির বলেন, তিস্তা পাড় থেকে শুরু করে সমুদ্র পাড়, জাফলং থেকে সুন্দরবন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—সব জায়গায় আজ মুক্তির পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে, ইনসাফের পক্ষে, মানবিক বাংলাদেশের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই চাঁপাইনবাবগঞ্জ তার গর্বিত অংশীদার। 

তিনি বলেন, কেন এই গণজোয়ার। মানুষ বিগত ৫৪ বছর শাসন আর অপশাসন তা দেখেছে, দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এখন বাংলাদেশের জনগণ পরিবর্তন চায়। পুরনো বন্দোবস্তের রাজনীতি আর দেখতে চাই না। জুলাই যোদ্ধারা সেদিন রাস্তায় নেমে বলেছিল, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, আমরা সর্বক্ষেত্রে সেই ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত রাষ্ট্রের দায়িত্বে গেলে উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানী করে গড়ে তোলা হবে।     

সভায় জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনের দলীয় তিন প্রার্থীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে তাদেরকে বিজয়ী করতে সকলকে আহ্বান জানান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবু জার গিফারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী ড. কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী ড. মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী ঢাকা দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। সভা শেষে তিনি হেলিকপ্টারযোগে রাজশাহীর গোদাগাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।

Continue Reading

Trending