ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে এখন তাকে সশরীরেই নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। গত দুই দিন আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে ভূপাতিত হওয়া ওই বিমানের ক্রু যেখানে অবস্থান করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানেই নির্বিচারে বোমা হামলা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ইরানের প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক সামরিক সূত্র চাঞ্চল্যকর এই তথ্য ফাঁস করেছে।
ওই সামরিক সূত্রের দাবি, নিখোঁজ পাইলটকে জীবিত উদ্ধারের আশা ছেড়ে দিয়ে এখন তাকে হত্যা করার মিশন হাতে নিয়েছে ওয়াশিংটন। মূলত গোয়েন্দা তথ্য বা গোপনীয়তা ফাঁসের ভয়েই আমেরিকা এমন মরিয়া পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত রাতে কোহগিলুয়ে ও বয়ের আহমদ প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো বোমাবর্ষণ করেছে। পেন্টাগনের ধারণা, ওই এলাকায় তাদের নিখোঁজ পাইলট অবস্থান করছে।
ইরানি সামরিক সূত্রটি জানায়, ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় আরোহী বা ক্রু মেম্বারকে খুঁজে পেতে হন্যে হয়ে উঠেছে মার্কিন সেনারা। তাকে উদ্ধারের কোনো উপায় না দেখে এখন একাধিক সম্ভাব্য স্থানে বোমা মেরে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা চলছে। তবে ওই পাইলট বর্তমানে ইরানি বাহিনীর কব্জায় রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে সূত্রটি সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
সূত্রটি আরও জানায়, আমরা এই মুহূর্তে সব তথ্য প্রকাশ করছি না। তবে এটুকু নিশ্চিত যে, আমেরিকা তাদের প্রথম পাইলটকে উদ্ধার করার যে দাবি করেছে, তা পুরোপুরি সত্য নয়। তারা বড় ধরনের সত্য গোপন করছে।
তেহরানের দাবি, এই বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমান এবং এর পাইলটদের নিয়ে সৃষ্ট রহস্য শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসনের জন্য এক বিশাল আন্তর্জাতিক কেলেঙ্কারি বা ‘স্ক্যান্ডাল’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।