Connect with us

আইন-শৃঙ্খলা

সরকারের দেওয়া গানম্যানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ডাকসুর দুই ভিপি

Published

on

নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনায় রেখে ২০ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাকে গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে এই তালিকায় নাম থাকলেও সরকারের দেওয়া ব্যক্তিগত নিরাপত্তা গ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।

সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম জানান, জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার গানম্যান দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার অংশ হিসেবে তাকেও গানম্যান দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তিনি এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।

সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে বলেন, ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল দেশে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃশ্যমান ও ন্যায্য পরিবর্তন আসবে। কিন্তু বাস্তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা এবং প্রশাসনের ভেতরে ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব জননিরাপত্তাকে বারবার হুমকির মুখে ফেলছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।তিনি আরও বলেন, কয়েকজন ব্যক্তিকে গানম্যান দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সমাধান হতে পারে না। বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকরভাবে সক্রিয় করে সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করলেই সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ কমবে।একই ধরনের অবস্থান নিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে ডাকসুতে হামলার ছয় বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি সরকারের দেওয়া গানম্যান গ্রহণ না করার ঘোষণা দেন।

নুর বলেন, যে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজেদের কার্যালয়ের সামনেই হামলার শিকার হচ্ছে এবং সেই হামলাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে, সেই সরকারের দেওয়া ব্যক্তিগত নিরাপত্তা তিনি গ্রহণ করবেন না।নুরুল হক নুর আরও বলেন, একজন বা কয়েকজন নেতাকে গানম্যান দিয়ে পুরো দেশকে নিরাপদ করা সম্ভব নয়। জনগণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে হবে। শুধু নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থী বা কিছু রাজনৈতিক নেতার নিরাপত্তা দিয়ে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যারা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং আবেদন করেছেন, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী গানম্যান দেওয়া হচ্ছে। তবে গানম্যান গ্রহণ করা সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না দেখালে আটককে ‘গুম’ হিসেবে গণ্য করা হবে

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

কাউকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার না দেখালে ২৪ ঘণ্টা পরের সময়কে ‘গুম’ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, আটকের পর ব্যক্তির আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা এবং তার অবস্থান সম্পর্কে পরিবারকে অবহিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পাস হয়। নতুন আইনকে গুমের অভিযোগের বিচার ও প্রতিকারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর।

আমিনুল ইসলাম বলেন, এর আগে গুম প্রতিরোধে একটি অধ্যাদেশ থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ দেখা যায়নি। নতুন আইন গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের বিচার এবং প্রতিকার পাওয়ার পথ আরও স্পষ্ট করবে।

তিনি জানান, অতীতে সংঘটিত গুমের অভিযোগও নতুন আইনের আওতায় পর্যালোচনা করা হবে। ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিচার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি হবে না বলেও জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত ২৫১টি গুমের ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এসব ঘটনায় একই ধরনের পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় ঘটনাগুলোকে ‘ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি নেওয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Continue Reading

top1

আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে নারী-পুরুষ ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

Published

on

By

সাভার প্রতিনিধি

সাভারের আশুলিয়ায় একটি তালাবদ্ধ ভাড়া বাসা থেকে এক নারী, এক পুরুষ ও সদ্য ভূমিষ্ঠ এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, ওই কক্ষের দরজা-জানালা সাধারণত বন্ধ থাকত। নিহত নারী ও পুরুষ স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে সেখানে ভাড়া থাকতেন। শুক্রবার রাতে কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, পুরুষের মরদেহের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ কারণে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগেই তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
আশুলিয়া থানার ডিউটি অফিসার এসআই রাসেল হোসেন জানান, তিনজনের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান চলছে। হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তদন্ত শেষে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডির ফরেনসিক দল।

আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ তালাবদ্ধ কক্ষটি খুলে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে নিহত নারী ও পুরুষকে স্বামী-স্ত্রী বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাদের পরিচয় ও স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

Continue Reading

top2

রামিসা হত্যা মামলার শুনানি রোববার হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

বহুল আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য মামলাটি হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি ও মাগুরার শিমু আছিয়া হত্যা মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর শিশু রামিসা হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হতে পারে।

এর আগে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনজীবী নিয়োগের জন্য সলিসিটরকে নির্দেশ দেন। পরে গত ২৫ জুন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে ঢাকার শিশু অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে দণ্ডের বিরুদ্ধে তারা জেল আপিল করেন।

এখন ওই ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

Continue Reading

Trending