কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ছেলে রেজভি উল আহসান মুন্সীর একাধিক অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই অডিওতে নিজ দলের কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে জখম করা এবং ব্যাংক চালানের মাধ্যমে লাখ টাকা চাঁদা দাবির চাঞ্চল্যকর নির্দেশনা পাওয়া গেছে।
অডিওতে যা আছে:
ভাইরাল হওয়া একটি অডিও ক্লিপে রেজভিকে জনৈক এক ব্যক্তিকে আইনি জটিলতা তৈরির পরামর্শ দিতে শোনা যায়। তিনি বলেন:
“থানায় মামলা করো। এমনি এমনি মামলা করলে হবে না, ৩২৬ (গুরুতর জখম) ধারা লাগবে। ৩২৬ প্রমাণ করতে না পারলে একটি ‘হিরোইনসি’ (মাদকাসক্ত) লও, ওরে এক হাজার টাকা দাও, ওর হাতে কোপ দিয়ে ৮-১০টা সেলাই দাও। ৩২৬ করাও; রিমন, সুমন, মতিন যা আছে সবগুলারে ধরাই দাও।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, ৩২৬ ধারা নিশ্চিত না করতে পারলে মামলা করে কোনো লাভ হবে না।
৫ লাখ টাকা না দিলে মামলার হুমকি
অন্য একটি অডিওতে সুমন নামে এক ব্যক্তির কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করতে শোনা যায় রেজভিকে। সেখানে তিনি বলেন, রোববার ব্যাংক খোলার পর হাতে নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে প্রস্তুত থাকতে। টাকা না দিলে মামলার হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, “সানডে ব্যাংকিং আওয়ারের মধ্যে না দিলে তোমার ব্যাপারে মামলা হতে পারে। পাঁচটা কার্ড মানে কিন্তু পাঁচটা ডিম না, পাঁচটা কার্ড। না হলে আই অ্যাম সরি ফর দেবিদ্বার পলিটিক্স।”
ভুক্তভোগী সুমন জানিয়েছেন, তিনি পরবর্তীতে দাবিকৃত ৫ লক্ষ টাকা হ্যান্ডক্যাশ হিসেবে রেজভিকে প্রদান করেছেন।
দলের ভাবমূর্তিতে আঘাত
রেজভি উল আহসান মুন্সী কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। তার বাবা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী এই আসনের চারবারের এমপি হলেও ঋণখেলাপির দায়ে বর্তমানে তার প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতা চলছে।
এই অডিও ফাঁসের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, রেজভির এমন ‘বেসামাল’ ও ‘অপরাধমূলক’ আচরণের কারণে দলের ত্যাগী কর্মীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, যা নির্বাচনের আগে দলের ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে ফেলেছে।
অভিযুক্তের অবস্থান
ভাইরাল হওয়া অডিও এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে রেজভি উল আহসান মুন্সীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।