Connect with us

top1

হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশবিরোধী নতুন ষড়যন্ত্র দিল্লির

Published

on

পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতায় নতুন নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। আওয়ামী লীগের এই প্রধানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যখন বিচার শেষে রায়ের জন্য ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে, ঠিক সেই সময়ে হঠাৎ করে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার সাক্ষাৎকার প্রচারের মাধ্যমে দিল্লি নতুন খেলায় নেমেছে।

গতকাল বুধবার রয়টার্স, এএফপি, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জুলাই গণহত্যার জন্য তার ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আওয়ামী লীগ ছাড়া আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেই ভোট বয়কট করবে দলটির লাখ লাখ নেতাকর্মী। তার দলকে বাদ দিয়ে হওয়া নির্বাচনের মাধ্যমে যে সরকারই গঠন হোক তাদের সময়ে তিনি দেশে ফিরবেন না, বরং ভারতেই অবস্থান করবেন।

তিনি বলেছেন, পরবর্তী সরকারের অবশ্যই নির্বাচনি বৈধতা থাকতে হবে। আওয়ামী লীগের লাখ লাখ সমর্থক, এমন পরিস্থিতি থাকলে, ভোটে অংশ নেবে না। একটি কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থা চাইলে আপনি লাখ লাখ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারেন না।

শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ দেশের জন্য ভূমিকা পালনে ফিরে আসবে, সেটা সরকারে হোক আর বিরোধী দলে হোক এবং তার পরিবারের এজন্য নেতৃত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

তবে এর আগে গত বছর এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় বলেছিলেন, দল চাইলে তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের নতুন চাল ও ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, আগামী নির্বাচন বানচালের পাশাপাশি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার রায়কে সামনে রেখে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে দিল্লি। দেশটির এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নানা গোষ্ঠী যুক্ত থাকতে পারে।

বিশ্লেষকরা আরো বলেন, মামলার রায়ে হাসিনার সাজা হলে ভারত এক ধরনের চাপে পড়বে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রায়ের আগেই হাসিনার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচার করার উদ্যোগ নিল দিল্লি।

গত বছর জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই নানাভাবে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে একের পর এক অপচেষ্টা চালিয়েছে দিল্লি। কখনো সংখ্যালঘু নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ, কখনো সীমান্তে হত্যার মাধ্যমে উত্তেজনা তৈরি, আবার কখনো হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের অডিও রেকর্ড ফাঁস করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছে দেশটি।

দিল্লিতে হাসিনার জন্য একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ও স্থাপন করা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আগামীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ভারতের ‘ডিপ স্টেট’ তথা গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনা এবং সরাসরি তত্ত্বাবধায়নে এই রাজনৈতিক কার্যালয় স্থাপন করা হয়। কার্যালয়কে হাসিনার সচিবালয় হিসেবে উল্লেখ করছে ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা। কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়া দিল্লির যে সুরক্ষিত ভবনে হাসিনা অবস্থান করছেন সেই ভবনেই তার জন্য সচিবালয় স্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক যোগাযোগের সুবিধাসহ সব ব্যবস্থা আছে এ সচিবালয়ে।

হাসিনার পাশাপাশি শীর্ষস্থানীয়সহ আওয়ামী লীগের শত শত নেতা, গুম-খুন ও জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত শীর্ষ জেনারেল, পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তা, বেসামরিক আমলাসহ নানা অপরাধে জড়িতদের আশ্রয় দিয়েছে ভারত। এসব অপরাধী কলকাতায় বসে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তত্ত্বাবধায়নে বাংলাদেশবিরোধী বিভিন্ন ধরনের তৎপরতায় লিপ্ত।

ভারতের নীতিনির্ধারকদের ধারণা ছিল, অব্যাহত চাপের মুখে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে একটি সমঝোতায় আসতে বাধ্য হবে এবং সহজেই হাসিনা এবং আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবে হারিয়ে যাওয়া দিল্লির আধিপত্যবাদী প্রভাব আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই হয়নি। ড. ইউনূস দিল্লি নিয়ন্ত্রিত পররাষ্ট্রনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বাধীন এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি নিয়েছে। সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ছাত্রলীগ। নিষিদ্ধ হয়েছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও। সর্বোপরি গণহত্যার দায়ে হাসিনার বিচার কাজ এখন শেষ পর্যায়ে আছে। আগামী মাসে রায়ও দেওয়া হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে দালাইলামা মডেলে হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে নানা পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে দিল্লি। সবশেষ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হাসিনার সাক্ষাৎকার এ পরিকল্পনারই অংশ।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন নেইমার

Published

on

By

স্পোর্টস ডেস্ক

ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না নেইমার জুনিয়রকে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ না করেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফরোয়ার্ড। দীর্ঘ ১৬ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার বিষয়টি তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) কোপা সুদামেরিকানায় ভেনেজুয়েলার ক্লাব ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে সান্তোসের ৪-২ গোলের জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অবসরের ঘোষণা দেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা।

জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়ে নেইমার বলেন, “জাতীয় দলের সঙ্গে আমার পথচলা শেষ। আমি ইতিহাস গড়েছি, অনেক ভালো মুহূর্ত পেয়েছি। হলুদ জার্সির জন্য নিজের রক্ত, জীবন—সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এখন আর চালিয়ে যেতে চাই না।”

২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রাজিলের সিনিয়র দলে অভিষেক হয় নেইমারের। জাতীয় দলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল ও ৫৯ অ্যাসিস্ট করে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করলেন তিনি।

বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের আক্ষেপ নিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন নেইমার। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের হারের পর থেকেই তার অবসর নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়। সেই ম্যাচ শেষে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেও ক্লাব ফুটবল চালিয়ে যাবেন নেইমার। ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে সান্তোসের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। এই জয়ে কোপা সুদামেরিকানার শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটি। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইকুয়েডরের মাকারা।

এদিকে সম্প্রতি সতীর্থদের অপমান করার অভিযোগও নাকচ করেছেন নেইমার। তার দাবি, ম্যাচ শেষে অধিনায়ক হিসেবে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেছিলেন। তবে সেই বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

Continue Reading

top1

দেশের সব দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা

Published

on

By

স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত সব ধরনের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একদল গবেষকের গবেষণায় পরীক্ষা করা ৪১টি নমুনার প্রতিটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব মিলেছে। গবেষকদের মতে, বিশেষ করে ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা এ দূষণের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

‘Microplastics Contamination of Milk and Milk Products in Bangladesh: Characterization, Dietary Exposure and Risk Assessment’ শীর্ষক গবেষণাটি পরিচালনা করেন সানাউল্লাহ মাজুমদারের নেতৃত্বে যবিপ্রবির পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগের গবেষকরা। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০২৩–২৪ অর্থবছরের গবেষণা অনুদানে পরিচালিত এ গবেষণাকে দেশে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে প্রথম বিস্তৃত গবেষণা বলে দাবি করা হয়েছে।

গবেষণার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও সুপারশপ থেকে ৪১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ছিল ১৭টি কাঁচা দুধ, ১২টি ব্র্যান্ডের তরল ও গুঁড়া দুধ এবং ১২টি অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য। মাইক্রোস্কোপ ও এফটিআইআর প্রযুক্তিতে পরীক্ষার পর প্রতিটি নমুনাতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁচা দুধের তুলনায় প্যাকেটজাত বা ব্র্যান্ডের দুধে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। প্রতি ১০০ মিলিলিটার ব্র্যান্ডের দুধে গড়ে ১৫৬.৬টি, কাঁচা দুধে ৯৩.৩৯টি এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যে ৭০.৮০টি প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।

গবেষকদের ধারণা, দুধ সংগ্রহ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেটজাতকরণ এবং কারখানার যন্ত্রপাতি ও পাইপলাইনের সংস্পর্শে এসে এসব প্লাস্টিক কণা দুধে মিশে যেতে পারে।

পরীক্ষায় পাওয়া অধিকাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক ছিল স্বচ্ছ, আঁশের মতো এবং ২৫০ মাইক্রোমিটারের কম আকারের। নমুনাগুলোতে পিটিএফই (টেফলন), পিইটি, নাইলন-৬, পলিইথিলিন, পিডিএমএস এবং পলিস্টাইরিনসহ বিভিন্ন ধরনের পলিমার শনাক্ত হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের শরীরের ওজন কম এবং দুধের ওপর নির্ভরতা বেশি হওয়ায় ৪ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুরা মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুগ্ধ সরবরাহ ব্যবস্থায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, উন্নতমানের ফিল্টার ব্যবহার এবং নিয়মিত মান পরীক্ষার ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেছেন গবেষকরা।

Continue Reading

top1

বিধবা নারীকে ধর্ষণ-গর্ভপাতের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা, অভিযুক্ত পলাতক

Published

on

By

স্টাফ রিপোর্টার

পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ এবং পরে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সদর থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী নারী মামলাটি দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরিন নিলা অভিযোগটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় সাত বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর ওই নারী সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সেই সময় থেকে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নিজের বোনের বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে গত ২৪ মার্চ পটুয়াখালী শহরের শেরেবাংলা সড়কের একটি বাসায় নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ভয়ভীতি দেখিয়ে পরবর্তীতে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এরপর গর্ভপাত করাতে চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হলে গত ১৮ মে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে একটি ক্লিনিকে নিয়ে ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরদিন জ্ঞান ফেরার পর তিনি জানতে পারেন, তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে সদর থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি এবং পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালতের রায়ের আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Continue Reading

Trending