Connect with us

ধর্ম

‘হিজাব পরায় শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন’

Published

on

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা শাখায় গত রোববার ষষ্ঠ শ্রেণির প্রায় ২২ জন ছাত্রীকে হিজাব পরার কারণে ক্লাস থেকে বের করে দেয়ার ঘটনাকে ইসলামবিদ্বেষী ও ন্যক্কারজনক আখ্যা দিয়েছেন বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ। গতকাল ২৫ আগস্ট দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে বহিষ্কার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ : সম্প্রতি ভিকারুননিসা নূন স্কুলে ধর্মপ্রাণ হিজাবি ছাত্রীদের ‘জঙ্গি’ অপবাদ দিয়ে ক্লাস থেকে বের করে দেয়া এবং হবিগঞ্জে দাড়ি রাখায় তিন পুলিশকে শাস্তি প্রদানের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান গতকাল এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা ঘটনা দুটোকে মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে ইসলামবিদ্বেষ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, সম্প্রতি ভিকারুননিসা নূন স্কুলে একজন নারী শিক্ষিকা কর্তৃক ধমপ্রাণ ২২ হিজাবি ছাত্রীকে ‘জঙ্গি’ অপবাদ দিয়ে ক্লাস থেকে বের করে দেয়া এবং হবিগঞ্জে দাড়ি রাখায় ধর্মপ্রাণ তিন পুলিমকে শাস্তি প্রদান করা ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষ রোধ করার স্বার্থে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে গ্রেফতার করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছি।হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইসলামবিদ্বেষ ছড়াতে বিভিন্ন কায়েমি বাম-প্রগতিশীল গোষ্ঠী আবারো তৎপর হয়ে উঠেছে। সংখ্যালঘুদের অধিকারের ব্যাপারে তারা সব সময় সরব থাকলেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব হলে তারা বেমালুম চুপ থাকেন। এটাই তাদের কথিত লিবারেল সেক্যুলারিজম! বিদ্যমান কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষ তাদের এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড চরিত্র নির্মাণে ভূমিকা রেখেছে বলে আমরা মনে করি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মহিলা ইউনিট : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভানেত্রী মিসেস নুরুল সাবিহা, সহ-সভানেত্রী কোহিনুর বেগম, সহ-সভানেত্রী জাকেরা রহমান ও সমন্বয়কারী হাফেজা বুশরা এক বিবৃতিতে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজিবিষয়ক শিক্ষিকা ফজিলাতুন নাহার কর্তৃক ষষ্ঠ শ্রেণির ২২ জন শিক্ষার্থীকে ক্লাস থেকে বের করে দেয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং শিক্ষিকাকে আইনের আওতায় নেয়ার দাবি জানান। এক বিবৃতিতে নেত্রীরা আরো বলেন, হিজাব পরা একজন শিক্ষার্থীর ধর্মীয় ও সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। একজন শিক্ষিকা ইসলামের অমোঘ বিধান পর্দা ও হিজাবকে কটাক্ষ করে শিক্ষার্থীদের সাথে আপত্তিকর ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করা, জঙ্গি সম্বোধন করা এটি ফ্যাসিবাদী মানসিকতার পরিচায়ক। ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে আওয়ামী কালচার দেশবাসী দেখতে চায় না। তাঁরা আরো বলেন, উক্ত শিক্ষিকা স্কুলের ড্রেস কোড পরিপালনের অজুহাতে ইসলামের ড্রেস কোড অবজ্ঞা ও কটাক্ষ করে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন। শিক্ষার্থীদের তিনি মাদরাসার ছাত্রী বলে কটাক্ষ করেছেন, যা একজন শিক্ষিকার জন্য বেমানান ও ইসলাম বিরোধিতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এ বিষয়ে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যাতে আর কোথাও এ জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ : জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি একযুক্ত বিবৃতিতে বলেন, হবিগঞ্জে তিনজন পুলিশ সদস্যকে শুধু ইসলাম ধর্মের অনুশাসন অনুযায়ী দাড়ি রাখার কারণে শাস্তি প্রদান করার ঘটনা শুধু ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি একজন মুসলমানের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় অধিকার কেড়ে নেয়ার শামিল। এ ধরনের ঘটনা ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এক প্রকার ন্যক্কারজনক আচরণ। এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যেসব পুলিশ কর্মকর্তা ইসলামের অনুশাসন দাড়ি নিয়ে উসকানিমূলকভাবে তিনজন পুলিশ সদস্যকে শাস্তি দিয়েছে সেসব কুলাঙ্গার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। নেতৃদ্বয় ভিকারুননিসা নূন স্কুলে হিজাব পরায় ক্লাসরুম থেকে বের করে দেয়ার ঘটনায় দায়ী শিক্ষিকাকে গ্রেফতারপূর্বক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস : ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা শাখায় ষষ্ঠ শ্রেণির প্রায় ২২ জন ছাত্রীকে হিজাব পরার কারণে ক্লাস থেকে বের করে দেয়ার ঘটনাকে ‘ইসলামবিদ্বেষী ও ন্যক্কারজনক’ আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে বহিষ্কার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ২৪ বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও প্রকাশ্য ইসলামবিদ্বেষ কোনোভাবেই সহ্যযোগ্য নয়। হিজাব মুসলিম নারীর ঈমানি পরিচয় ও আল্লাহ প্রদত্ত ফরজ বিধান। একজন শিক্ষক হয়ে এই বিধানের বিরুদ্ধে কটূক্তি করা সরাসরি ইসলামের প্রতি শত্রুতা প্রদর্শনের শামিল। সরকারকে অবিলম্বে উক্ত শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারকে অবশ্যই ইসলামবিদ্বেষী এই চক্রকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। নতুবা এরা দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ধ্বংস করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি : বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি ও ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রকিব অ্যাডভোকেট যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মো. ইলিয়াস আতহারী এক যৌথ বিবৃতিতে ভিকারুননেসা নূন স্কুলে হিজাববিরোধী শিক্ষিকার অবিলম্বে বহিষ্কার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ইসলাম ও দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার হনন করে মুসলমানদের হৃদয়ে চরম আঘাত হেনেছে। অবিলম্বে এই শিক্ষিকাকে বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় দেশের তাওহিদী জনতা ইসলামবিরোধী নাস্তিক্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

বছর ঘুরে এলো খুশির ঈদ

Published

on

By

বছর ঘুরে মুসলিম উম্মাহর দুয়ারে আবারো হাজির হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সারা মাস সিয়াম সাধনার পর একফালি চাঁদ ঘোষণা দিল ‘এলো খুশির ঈদ’। রোজার মাস জুড়ে সংযম, ধৈর্য আর আত্মশুদ্ধির যে শিক্ষা, তারই পরিণতি এই ঈদ। তাই ঈদের আনন্দ শুধু নতুন পোশাক বা সুস্বাদু খাবারে নয়, বরং একে অপরের প্রতি ভালোবাসা আর সহমর্মিতায়।

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় খুশির দিন। আজ শনিবার ঈদের আনন্দ উৎসবে মেতে উঠবে সারা দেশ।

ইতোমধ্যে ঢাকাসহ দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ঈদুল ফিতরের আবহ। সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার পরপরই রেডিও-টেলিভিশনে বেজে উঠেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সেই গান, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ…।’

ইসলামের ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করা হয় সাধারণত হিজরি বর্ষপঞ্জির চান্দ্র মাসের হিসাবে। ২৯ রমজান (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠক বসে। সেই বৈঠক থেকেই ঈদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিকে শুক্রবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তের কিছু দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের বেশকিছু জেলাতেও ঈদ উদযাপন করেছেন মুসল্লিরা। তারা দেশটির সঙ্গে মিলিয়ে এক দিন আগে রোজাও রাখেন।

হাদিসে আছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক জাতিরই উৎসবের দিন আছে। আমাদের উৎসব হলো ঈদ।

ঈদুল ফিতরের মধ্যে ফিতর শব্দের অর্থ ভঙ্গ করা। ঈদুল ফিতরের অর্থ— রোজার সমাপ্তি ঘটানোর আনন্দ। দীর্ঘ এক মাস তারাবির নামাজ, সাহরি, ইফতার, জাকাত-ফিতরা, এবাদত-বন্দেগিসহ সিয়াম সাধনার মধ্যে দিয়ে পার করার পর মুসলিম উম্মাহ রোজা ভঙ্গ করে মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দারা উপহার স্বরূপ পান এই ঈদুল ফিতর। ঈদের আনন্দ সর্বজনীন। এই আনন্দ আল্লাহর তাকওয়া অর্জনের সাফল্যের আনন্দ। এই আনন্দ রূপ নেয় সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উৎসবে।

ঈদ উপলক্ষে জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক খচিত ব্যানার দিয়ে সাজানো হয়েছে রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক, মোড়সহ গুরত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো।

ঈদের দিনে উন্নত মানের খাবার সরবরাহ করা হবে হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ভবঘুরে কেন্দ্র ও এতিমখানায়। সরকারি-বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিওতে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান। টিভি চ্যানেলগুলো ইতোমধ্যে পাঁচ থেকে সাত দিনের বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যা, ঈদ ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদপত্রগুলো।

ঈদ ঘিরে বাজারে শেষমুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত মানুষ। নতুন জামার গন্ধ, আতরের সুবাস, সেমাই-চিনির হিসাব-সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। দর্জির দোকানে এখনো শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে, আর শিশুদের চোখে-মুখে শুধুই আনন্দের ঝিলিক-‘ঈদ’।

ঈদ উপলক্ষে পরিবারগুলোতে সাধ্যমতো ভালো খাবার রান্নার চেষ্টা করা হয়। শিশুরা নতুন পোশাক পরে হৈ হুল্লোড় করবে, বেড়াতে যাবে নিকটাত্মীয়দের বাড়িতে। ঈদের দিন ঘুম থেকে উঠে গোসল-অজু করে দিনের শুরুতে সেমাই, মিষ্টিমুখ করে মুসল্লিরা যাত্রা শুরু করবেন ঈদের জামাতে অংশ নিতে। নামাজ আদায় শেষে ঈদগাহ ময়দানে বুকে বুক মেলাবেন। নামাজ আদায় শেষ করে মুসল্লিরা যাবেন কবরস্থানে প্রিয়জনের বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করতে। কবরস্থান থেকে মুসল্লিরা বাসায় ফিরে খাবার খেয়ে বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করবেন। প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ-আড্ডায় মেতে উঠবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

এক মাসের সংযম, ধৈর্য আর আত্মশুদ্ধির পর আসে এই উৎসব। তাই ঈদের আনন্দ শুধু নতুন পোশাক বা সুস্বাদু খাবারে সীমাবদ্ধ নয়এটি একে অপরের প্রতি ভালোবাসা, ক্ষমা আর সহমর্মিতার প্রকাশ।

Continue Reading

top1

চাঁদপুরে অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন

Published

on

By

সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ সাদ্রা দরবার শরিফসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ৯টায় সাদ্রা দরবার শরিফ মাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবার শরিফের পীরজাদা আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী।

সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আরেকটি জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এ জামাতে ইমামতি করেন দরবার শরিফের পীরজাদা আরিফুল্লা চৌধুরী।

আগাম ঈদ উদ্‌যাপন করা গ্রামগুলো হচ্ছে- হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপপুর, বাসারা, ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর, মতলব উপজেলার দশানি, মোহনপুর, পাঁচানী এবং কচুয়া উপজেলার কয়েকটি গ্রামের আংশিক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯২৮ সাল থেকে সাদ্রা দরবার শরিফের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) সৌদি আরবসহ অন্য আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদ্‌যাপনের প্রথা চালু করেন। এ ছাড়া তার অনুসারীরা চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একই সঙ্গে দুই ঈদ উদ্‌যাপন ও রোজা করে আসছেন।

সাদ্রা দরবার শরিফের পীরজাদা আরিফুল্লা চৌধুরী বলেন, ১৯২৮ সাল থেকে তারা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং পবিত্র রমজানের রোজা রেখে আসছেন। প্রথমে এসব ঈদের জামাতে লোকজন কম হলেও এখন সারা বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় ঈদ উদ্‌যাপন হচ্ছে।

Continue Reading

top1

দেশের আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ শনিবার

Published

on

By

দেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে এবার ৩০ রোজা পূর্ণ হবে, আর পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে শনিবার (২১ মার্চ)।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

সভা শেষে জানানো হয়, দেশের সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আজ বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এই অবস্থায় শনিবার থেকে শাওয়াল মাস গণনা শুরু হবে এবং ওই দিনই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দ্বিনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগ কমিটির কার্যক্রম পরিচালনা করে। ১৭ সদস্যের এই কমিটির বৈঠক আরবি মাসের প্রতি ২৯ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়।

Continue Reading

Trending