Connect with us

ধর্ম

‘হিজাব পরায় শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন’

Published

on

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা শাখায় গত রোববার ষষ্ঠ শ্রেণির প্রায় ২২ জন ছাত্রীকে হিজাব পরার কারণে ক্লাস থেকে বের করে দেয়ার ঘটনাকে ইসলামবিদ্বেষী ও ন্যক্কারজনক আখ্যা দিয়েছেন বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ। গতকাল ২৫ আগস্ট দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে বহিষ্কার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ : সম্প্রতি ভিকারুননিসা নূন স্কুলে ধর্মপ্রাণ হিজাবি ছাত্রীদের ‘জঙ্গি’ অপবাদ দিয়ে ক্লাস থেকে বের করে দেয়া এবং হবিগঞ্জে দাড়ি রাখায় তিন পুলিশকে শাস্তি প্রদানের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান গতকাল এক বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা ঘটনা দুটোকে মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে ইসলামবিদ্বেষ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, সম্প্রতি ভিকারুননিসা নূন স্কুলে একজন নারী শিক্ষিকা কর্তৃক ধমপ্রাণ ২২ হিজাবি ছাত্রীকে ‘জঙ্গি’ অপবাদ দিয়ে ক্লাস থেকে বের করে দেয়া এবং হবিগঞ্জে দাড়ি রাখায় ধর্মপ্রাণ তিন পুলিমকে শাস্তি প্রদান করা ধর্মীয় স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষ রোধ করার স্বার্থে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে গ্রেফতার করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছি।হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইসলামবিদ্বেষ ছড়াতে বিভিন্ন কায়েমি বাম-প্রগতিশীল গোষ্ঠী আবারো তৎপর হয়ে উঠেছে। সংখ্যালঘুদের অধিকারের ব্যাপারে তারা সব সময় সরব থাকলেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব হলে তারা বেমালুম চুপ থাকেন। এটাই তাদের কথিত লিবারেল সেক্যুলারিজম! বিদ্যমান কাঠামোগত ইসলামবিদ্বেষ তাদের এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড চরিত্র নির্মাণে ভূমিকা রেখেছে বলে আমরা মনে করি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় মহিলা ইউনিট : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভানেত্রী মিসেস নুরুল সাবিহা, সহ-সভানেত্রী কোহিনুর বেগম, সহ-সভানেত্রী জাকেরা রহমান ও সমন্বয়কারী হাফেজা বুশরা এক বিবৃতিতে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজিবিষয়ক শিক্ষিকা ফজিলাতুন নাহার কর্তৃক ষষ্ঠ শ্রেণির ২২ জন শিক্ষার্থীকে ক্লাস থেকে বের করে দেয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং শিক্ষিকাকে আইনের আওতায় নেয়ার দাবি জানান। এক বিবৃতিতে নেত্রীরা আরো বলেন, হিজাব পরা একজন শিক্ষার্থীর ধর্মীয় ও সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। একজন শিক্ষিকা ইসলামের অমোঘ বিধান পর্দা ও হিজাবকে কটাক্ষ করে শিক্ষার্থীদের সাথে আপত্তিকর ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করা, জঙ্গি সম্বোধন করা এটি ফ্যাসিবাদী মানসিকতার পরিচায়ক। ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে আওয়ামী কালচার দেশবাসী দেখতে চায় না। তাঁরা আরো বলেন, উক্ত শিক্ষিকা স্কুলের ড্রেস কোড পরিপালনের অজুহাতে ইসলামের ড্রেস কোড অবজ্ঞা ও কটাক্ষ করে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন। শিক্ষার্থীদের তিনি মাদরাসার ছাত্রী বলে কটাক্ষ করেছেন, যা একজন শিক্ষিকার জন্য বেমানান ও ইসলাম বিরোধিতার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এ বিষয়ে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যাতে আর কোথাও এ জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ : জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি একযুক্ত বিবৃতিতে বলেন, হবিগঞ্জে তিনজন পুলিশ সদস্যকে শুধু ইসলাম ধর্মের অনুশাসন অনুযায়ী দাড়ি রাখার কারণে শাস্তি প্রদান করার ঘটনা শুধু ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি একজন মুসলমানের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় অধিকার কেড়ে নেয়ার শামিল। এ ধরনের ঘটনা ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এক প্রকার ন্যক্কারজনক আচরণ। এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যেসব পুলিশ কর্মকর্তা ইসলামের অনুশাসন দাড়ি নিয়ে উসকানিমূলকভাবে তিনজন পুলিশ সদস্যকে শাস্তি দিয়েছে সেসব কুলাঙ্গার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। নেতৃদ্বয় ভিকারুননিসা নূন স্কুলে হিজাব পরায় ক্লাসরুম থেকে বের করে দেয়ার ঘটনায় দায়ী শিক্ষিকাকে গ্রেফতারপূর্বক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস : ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা শাখায় ষষ্ঠ শ্রেণির প্রায় ২২ জন ছাত্রীকে হিজাব পরার কারণে ক্লাস থেকে বের করে দেয়ার ঘটনাকে ‘ইসলামবিদ্বেষী ও ন্যক্কারজনক’ আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে বহিষ্কার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ২৪ বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও প্রকাশ্য ইসলামবিদ্বেষ কোনোভাবেই সহ্যযোগ্য নয়। হিজাব মুসলিম নারীর ঈমানি পরিচয় ও আল্লাহ প্রদত্ত ফরজ বিধান। একজন শিক্ষক হয়ে এই বিধানের বিরুদ্ধে কটূক্তি করা সরাসরি ইসলামের প্রতি শত্রুতা প্রদর্শনের শামিল। সরকারকে অবিলম্বে উক্ত শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারকে অবশ্যই ইসলামবিদ্বেষী এই চক্রকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। নতুবা এরা দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ধ্বংস করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি : বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি ও ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রকিব অ্যাডভোকেট যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মো. ইলিয়াস আতহারী এক যৌথ বিবৃতিতে ভিকারুননেসা নূন স্কুলে হিজাববিরোধী শিক্ষিকার অবিলম্বে বহিষ্কার কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ইসলাম ও দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার হনন করে মুসলমানদের হৃদয়ে চরম আঘাত হেনেছে। অবিলম্বে এই শিক্ষিকাকে বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় দেশের তাওহিদী জনতা ইসলামবিরোধী নাস্তিক্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ধর্ম

কোরবানি কার নামে হবে, যা বলছে ইসলাম

Published

on

By

কোরবানির সময় এলেই অনেকেই নিজের নাম ছাড়াও বাবা-মা, নাবালক সন্তান বা মৃত আত্মীয়স্বজনের নামেও কোরবানি দিয়ে থাকেন। অনেক পরিবারে আবার একটি পশু কোরবানিতে কয়েকজন শরিক হন, কেউ কেউ মৃত আত্মীয়-স্বজনের জন্য নামেও অংশ রাখেন।

কোরবানি কার নামে হবে, কার ওপর ওয়াজিব এবং অন্যের নামে কোরবানি দেওয়া যাবে কি-না এসব বিষয় নিয়ে ইসলামি শরিয়তে নির্দিষ্ট কিছু বিধান রয়েছে।

মূলত, ছাগল, ভেড়া বা দুম্বার মতো প্রাণী একজনের পক্ষ থেকে একটি কোরবানি হিসেবেই আদায় করা হয়। অর্থাৎ, এসব পশুতে একাধিক ব্যক্তি শরিক হতে পারেন না। তবে গরু, মহিষ বা উটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হয়ে কোরবানি দেওয়া যায়। প্রত্যেকের নিয়ত ও অংশ আলাদা হলেও কোরবানি একটি পশুর মাধ্যমেই আদায় করা সম্ভব।

ইসলাম বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক শরীফ মুহাম্মদ বলেন,‘সাতজন মানে সাতটি নামের পক্ষ থেকে। সাতটি নামের চেয়ে কমও হতে পারে, বেশি হতে পারবে না। ভাগের ক্ষেত্রে নামের বিষয়টি হলো, অমুকের পক্ষ থেকে (কোরবানি হচ্ছে) এবং এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোরবানির পশু জবাই আল্লাহ’র নামে করতে হয়।’

শরীফ মুহাম্মদ বলেন,‘কিন্তু মৃত বাবা-মায়ের নামে কোরবানি করা যাবে? স্বামী-স্ত্রী দু’জনেরই কি আলাদা কোরবানি প্রয়োজন? নাবালক সন্তান বা যাদের আয় রোজগার নেই, তাদের নামে কোরবানি দেওয়া যাবে?

কোরবানি মূলত কার ওপর ওয়াজিব?

ঈদ-উল-আজহা বা কোরবানির ঈদ বাংলাদেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। প্রতিবছর কোরবানির ঈদে সৃষ্টিকর্তার সন্তষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে মুসলিম বিশ্বসহ বাংলাদেশের মুসলমানরা পশু কোরবানি করে থাকেন।

আরবি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখ কোরবানির দিন ও পরবর্তী দুই দিন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরবানি দিয়ে থাকেন।

ধর্মীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, যাদের ওপর কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব তারা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোরবানি না দেন, তাহলে গোনাহের ভাগীদার হতে হবে।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, নেসাব অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তির কাছে সাড়ে সাত ভরি পরিমাণ স্বর্ণ অথবা, সাড়ে ৫২ ভরি পরিমাণ রুপা বা এর সমমূল্যের নগদ টাকা অথবা সম্পদ থাকলে তার জন্য কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব। যাদের এই পরিমাণ সম্পদ বা সম্পত্তি নেই, তাদের জন্য পশু কোরবানি বাধ্যতামূলক নয়। এই নিয়ম নারী-পুরুষ সবার জন্য প্রযোজ্য।

ইসলামের নবী মুহাম্মদের সময় মানুষের সম্পদের হিসাব অনেক ক্ষেত্রে স্বর্ণ-রুপা দিয়েই করা হতো। তাই, ইসলামে ‘নেসাব’ নির্ধারণে স্বর্ণ ও রুপাকে ভিত্তি ধরা হয়েছে।

বর্তমান বাজারে মানভেদে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের দাম প্রায় ১৮ লাখ কিংবা ১৮ লাখের চেয়ে কিছুটা বেশি। অন্যদিকে, সাড়ে ৫২ ভরি রুপার দাম প্রায় তিন লাখ টাকার কাছাকাছি। সেক্ষেত্রে রুপার নেসাব ধরলে যারা স্বচ্ছল নয়, তাদের ওপরও কোরবানি ওয়াজিব হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ এ বিষয়ে বলেন, ‘নবী মুহাম্মদ সা:-এর সময় সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ এবং সাড়ে ৫২ ভরি রুপার দাম এক ছিল। যুগ পরিক্রমায় এখন দামে পার্থক্য হয়ে গেছে। তাই, এখন সাড়ে ৫২ ভরি রুপা বাজারে যে দামে বিক্রি হয়, সেই পরিমাণ অর্থ যদি জিলহজ মাসের ১০, ১১, ১২-এই তিন দিনে যদি কারো হাতে জমা থাকে, তাহলে উনি কোরবানি দিবেন।

কখন অন্য কারো নামে কোরবানি দেওয়া যাবে?

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়। তবে অনেকেই আছেন, যারা অন্যদের নামেও কোরবানি দেন।

যেমন, কেউ তার কোনো পরিবারের সদস্য বা প্রিয় মানুষের নামে কোরবানি দেন। অনেকেই আছেন, যারা তাদের মৃত বাবা-মায়ের নামে বা কোনো আত্মীয়ের নামে কোরবানি দেন।

বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে মৃত বাবা-মা বা স্বজনদের নামে কোরবানি দেওয়ার প্রচলন অনেক পুরোনো। ইসলামি দৃষ্টিতে মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি দেওয়া জায়েজ।

অনেকেই মনে করেন, এর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জন্য সওয়াবের দোয়া করা হয়।

তবে, জীবিত বা মৃত, অন্য কারো নামে কোরবানি দেওয়ার সর্বপ্রথম শর্ত হলো, আগে নিজের ওয়াজিব কোরবানি আদায় করতে হবে। তারপর সে অন্য কারো নামও যুক্ত করতে পারবে বলে জানান শরীফ মুহাম্মদ।

অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ বলেন,‘নিজের নামে দিয়ে অন্যদের নামে দেওয়া যায়। তা হতে পারে কোনো মহান ব্যক্তি বা কোনো প্রিয় মানুষ বা পরিবারের সদস্য। তবে মৃত ব্যক্তির পক্ষে কোরবানি দিলে সেই গোশত গরীবকে একটু বেশি দিলে ভালো হয়।’

এছাড়া, অনেকেই আছেন যারা তাদের নাবালক সন্তানের নামে কোরবানি দেন। নাবালক সন্তানের নামেও কোরবানি দেওয়ার জায়েজ আছে বলে জানান শরীফ মুহাম্মদ।

সব শরীককে কি সমান অর্থ দিতে হবে?

বিধান অনুযায়ী, সব শরীককে সমান অর্থ দিতে হবে এবং গোশত সমবন্টন করতে হবে।

ইসলাম বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘সাতজন যদি একদমই স্বতন্ত্র হয়, যেমন- ভিন্ন ভিন্ন পরিবারের বা ভিন্ন ব্যক্তি, তাহলে তারা প্রত্যেকে সমান টাকা দিবেন এবং গোশতও সমানভাবে ভাগ করে নিবেন।’

অধ্যাপক আব্দুর রশীদ বলেন,‘তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন, অনেকেই আছেন, যারা কোরবানি দিতে চান কিন্তু প্রতি ভাগে যে পরিমাণ টাকা দিতে হবে, তিনি সেই পরিমাণ দিতে পারছে না। তখন ‘কেউ তাকে ১০ হাজার টাকা উপহার হিসেবে দিতে পারে। কিন্তু গোশত সমানভাবে ভাগ করে দিতে হবে। কেউ উপহার হিসেবে দিলে সমস্যা নাই।’

তবে কেউ যদি সন্তান হিসেবে তার মায়ের বা বাবার নামে কোরবানি দেন, এমনকি পরিবারের অন্য কারো নামে বা একাধিক ব্যক্তির নামে স্বেচ্ছায় কোরবানি দেন, তখন তাদের কাছে সেই টাকা চাওয়া জরুরি না বলে জানিয়েছেন ইসলামি স্কলাররা।

শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘আর স্বামী হিসেবে কেউ যদি স্ত্রীর নামে কোরবানি দিতে চান, স্ত্রীর কোরবানি ওয়াজিব হোক বা না হোক, সেক্ষেত্রে স্ত্রীকে না জানিয়ে করার চেয়ে জানিয়ে করা ভালো। যদি স্ত্রীর কোরবানি ওয়াজিব হয় সেক্ষেত্রে স্ত্রীকে নিয়ত করতে হবে যে তার কোরবানিটা তার স্বামী করছেন।’

যদিও অধ্যাপক আব্দুর রশীদের মতে, মৃত ব্যক্তি বা অন্য কারো নামে কোরবানি দিলে এখানে অনুমতির প্রয়োজন নাই। যে কারো নামেই কোরবানি দেওয়া যেতে পারে। আর কোনো নারী যদি অবিবাহিত হন এবং তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়, তাহলে তাকেও আগে নিজের ওয়াজিব কোরবানি আদায় করতে হবে। এরপর তিনিও তার বাবা-মা বা অন্য কোনো আত্মীয়-স্বজন বা প্রিয়জনের নামে নিজ অর্থেই কোরবানি দিতে পারবেন।

ঋণ নিয়ে কোরবানি করা যায়?

এদিকে, অনেকেই আছেন, যারা খুব স্বচ্ছল নন, কিন্তু কোরবানি দিতে চান। সেক্ষেত্রে তারাও কোরবানি দিতে পারবেন এবং তা নফল হিসেবে কবুল হবে উল্লেখ করে ইসলাম বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক শরীফ মুহাম্মদ বলছিলেন, এখানে একটা শর্ত আছে।

তিনি বলেন, ‘ধরলাম, বাচ্চাদের মন খারাপ হয়ে আছে। সেজন্য তিনি কোরবানি দিতে চান। তাহলে হবে না। এখানে শর্ত হলো, কোনো সামাজিক উপলক্ষ্যই এখানে মূখ্য হতে পারবে না। নিয়ত থাকতে হবে যে আল্লাহকে খুশি করার জন্য করছি। অর্থাৎ, এটা প্রদর্শনমূলক না।’

তিনি আরো বলেন এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি ঋণ নিয়ে সেই নফল কোরবানি আদায় করতে পারবেন। কিন্তু বারবার ঋণ করার পর সেই ঋণ ওয়াদামাফিক পূরণ না করতে পারলে সেটারও দরকার নাই করার।’

এছাড়া যারা ১০০ বা হাজার কোটি টাকা শিল্প ঋণ নিয়েছেন নেসাবের পরিমাণ মিলাতে গিয়ে তাদের ঋণের পরিমাণ ধর্তব্য হবে না। কারণ ঋণের টাকা হিসাবে ধরা হলে সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও তার কোরবানি আবশ্যকীয় থাকে না।

শরীফ মুহাম্মদ বলেন, ‘কিন্তু ব্যক্তিগত লোন, তা ১০ হাজার টাকা হোক বা ১০ লাখ টাকা হোক, এটা প্লাস-মাইনাস করে যদি দেখা যায় যে লোন পরিশোধ করেও আপনার কাছে নেসাব পরিমাণ অতিরিক্ত টাকা আছে, তাহলে আপনার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে যাবে।’

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Continue Reading

top1

ত্যাগের মহিমায় উদযাপিত ঈদুল আজহা, নামাজ শেষে চলছে কোরবানি

Published

on

By

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ ও ত্যাগের মহিমায় সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকেই ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ঢল নামে। নামাজ শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় শুরু হয় পশু কোরবানির কার্যক্রম।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশু জবাই, মাংস প্রস্তুত ও বণ্টনের ব্যস্ততা দেখা যায়। একই চিত্র দেখা গেছে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে কোরবানির মাংস।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এক বাণীতে তিনি কোরবানির আনন্দ দরিদ্র, বঞ্চিত ও অভাবগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ঈদুল আজহা শুধু মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং হিংসা-বিদ্বেষ ও মনের পশুত্বকে কোরবানি করার এক মহিমান্বিত ও সর্বজনীন আহ্বান।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মহান আল্লাহ তা’য়ালার প্রতি পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ, অবিচল আনুগত্য এবং সামাজিক সাম্যের অনুপম মহিমায় সমুজ্জ্বল পবিত্র ঈদুল আজহা আবারও আমাদের সামনে সমাগত। মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে হযরত ইবরাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে প্রস্তুত হয়ে যে আত্মসমর্পণ, ধৈর্য, বিশ্বাস ও আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তা মানবজাতির জন্য চিরন্তন আদর্শ হয়ে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দেশবাসীসহ বিশ্ব মুসলিমকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, কোরবানি শুধু পশু জবাই নয়; বরং লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ ও মনের পশুত্বকে পরাভূত করার দীক্ষা গ্রহণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে কোরবানির প্রকৃত মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথ-নির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবারও বিশ্ব মুসলিমের দুয়ারে হাজির হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। তিনি দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে নিজেকে তার কাছে সমর্পণের এই উৎসব আমাদের ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত করবে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে ধাবিত করবে।

যাদের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য হয়েছে, তাদের প্রতি অসচ্ছল মানুষের সঙ্গে কোরবানির মাংস ভাগাভাগি করে নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি কোরবানির পশুর চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং পশুর রক্ত ও বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কারের ক্ষেত্রেও সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সহায়তা করার পাশাপাশি নিজেদেরও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

Continue Reading

top1

মধ্যপ্রাচ্যে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

Published

on

By

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আজ বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আমেজে মুসলমানরা ঈদের নামাজ, কুরবানি এবং হজের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন।

ঈদের আগে মঙ্গলবার হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা ‘উকুফে আরাফা’ পালন করেন হাজিরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১৬ লাখ মুসল্লি আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন। ইহরাম পরিহিত হাজিদের দোয়া, তওবা ও ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

নামিরা মসজিদে হজের খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম শায়খ আলি আল হুদাইফি। খুতবায় মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, শান্তি ও ইসলামী মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাসহ ৩৫টি ভাষায় খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার করা হয়েছে।

সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফায় রাত কাটান এবং মিনায় পাথর নিক্ষেপের জন্য কঙ্কর সংগ্রহ করেন। বুধবার মিনায় বড় জামারায় পাথর নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর তারা কুরবানি ও হজের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদ ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে।

Continue Reading

Trending