Connect with us

ক্যাম্পাস

২৫ বছরের পথচলা: রাবির পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে রজত জয়ন্তী ও পুনর্মিলনী উৎসব

Published

on

রাবি প্রতিনিধি

প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রজত জয়ন্তী ও পুনর্মিলনী উদযাপন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট (আইইএস)। শুক্রবার দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠান উদযাপন করেন ইনস্টিটিউটের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা।

সকালে রেজিস্ট্রেশন, কিট ও নাশতা বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানসূচি শুরু হয়। পরে পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। সকাল ৯টায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি এবং ৯টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিদের আগমন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। এরপর শরীফ ওসমান হাদীসহ ইন্সটিটিউটের প্রয়াতদেরকে স্মরণ করে নীরবতা পালন করা হয়। এরপর সদস্য সচিবের স্বাগত বক্তব্য, স্মারক বক্তব্য, বিশেষ অতিথি ও প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করা হয়। এ সময় আইইএস-এর দীর্ঘ ২৫ বছরের শিক্ষা, গবেষণা ও পরিবেশ সংরক্ষণে অবদান তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্বে কৃতিত্বপূর্ণ গবেষণার জন্য তিন ক্যাটাগরিতে ছয়জনকে গবেষণা সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরে সভাপতির বক্তব্য ও চা বিরতির মাধ্যমে দিনের প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটে।

দুপুরে সমাপনী অনুষ্ঠান, জুমার নামাজ, মধ্যাহ্নভোজ এবং এলামনাই কমিটি গঠন অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে খেলাধুলা ও র‍্যাফেল ড্র আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় নামাজের বিরতির পর অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। যেখানে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। দিনব্যাপী আয়োজনের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় গালা ডিনার।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যদ্বয়, পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের শিক্ষকবৃন্দ, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, “মানুষ সৃষ্টির বহু আগে থেকেই এই পৃথিবীতে পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিদ্যমান ছিল। তাই মানুষ, প্রকৃতি ও পরিবেশ – এই তিনের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও অবিচ্ছেদ্য। আজকের বিশ্ব যে জলবায়ু পরিবর্তনের সংকটে রয়েছে, তা মোকাবিলায় পরিবেশ বিজ্ঞানীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, এই ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও গবেষকরা জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে কার্যকর দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন ইনস্টিটিউটের স্বপ্নদ্রষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “অধ্যাপক ড. শামসুর রহমানের দূরদর্শী চিন্তা ও নেতৃত্বের ফলেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ ২৫ বছর পর দাঁড়িয়ে আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, এই ইনস্টিটিউট পরিবেশ শিক্ষা ও গবেষণায় একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ভবিষ্যতেও এই ইনস্টিটিউট পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আমি আশাবাদী।”

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে চবি শিক্ষার্থী মৃত্যু

Published

on

By

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল ৮টার দিকে পড়ার টেবিলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেয় সহপাঠীরা। পরে সকাল ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা যাওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম জীবক চাকমা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাসা রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায়। তার বাবার নাম রবিলেন্দু চাকমা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বশান্তি প্যাগোডার হোস্টেলে থাকতেন।

জীবক চাকমার মৃত্যুর বিষয়ে চবির মেডিকেল সেন্টারের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. আবু তৈয়ব চৌধুরী বলেন, আজ সকালে ওই শিক্ষার্থীকে অচেতন অবস্থায় মেডিকেল সেন্টারে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করি, তিনি ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন। তার কোনো জ্ঞান ছিল না। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন বলেন, আজ সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সহপাঠীরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন বলে আমরা জেনেছি।

Continue Reading

top3

শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে হল সংসদের এজিএসসহ ৩ জনের আবাসিকতা বাতিল

Published

on

By

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলের কক্ষে ‘নারী প্রবেশ সন্দেহে’ তল্লাশির অভিযোগে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে হল সংসদের এজিএসসহ ৩ শিক্ষার্থীর আবাসিকতা সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় হল সংসদের ভিপিকে (সহসভাপতি) কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে ঘটনাটির সুষ্ঠু ও অধিকতর সত্য অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শাস্তিপ্রাপ্তরা হলেন হল সংসদের এজিএস মো. ইসরাফীল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. সাকিব জুবায়ের ও আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী মো. ফোরকান হাফিজ জীম।

রবিবার (১২ এপ্রিল) ভোর চারটার দিকে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবার রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শনিবার আনুমানিক ভোর পাঁচটায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ১২১ নম্বর কক্ষে নারী প্রবেশের অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এতে ৩ শিক্ষার্থীর আবাসিকতা সাময়িকভাবে বাতিল করা হলো এবং হল ভিপি মো. মোজাম্মেল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে অধিকতর তদন্তে একটি কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। তদন্ত কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপনে তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত জমাদানের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ থাকবে।

এর আগে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. ইসরাফীল বলেন, ‘একটি জায়গা থেকে হলে মেয়ে আনার তথ্য পাই। পরে ভিপি ও জিএসের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি যাচাই করতে যাই। সেখানে এমন কিছু না পেয়ে পরে আমরা সরি বলে চলে আসি।’

জিয়া হল সংসদের ভিপি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ফজরের আগে একজন হলে মেয়ে নিয়ে আসার বিষয়ে জানায়। তখন আমি জিএস ও এজিএসকে জানাই এবং এ রকম কিছু হলে গোপনে মিটমাট করে ফেলতে বলি। এটা যাতে আলোচনার কোনো টপিক না হয় সেটাই চেয়েছিলাম এবং রাত গভীর হওয়ায় হল প্রশাসনের কাউকে জানানো হয়নি।’

এ বিষয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মাহবুবার রহমান বলেন, ‘হল প্রভোস্ট ছাড়া আবাসিক হলে তল্লাশি করার অনুমতি কারোর নেই। হোক সে হল ছাত্র সংসদের নেতা। যারা এমনটি করেছেন, তারা হলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ৩ শিক্ষার্থীর আবাসিকতা সাময়িকভাবে বাতিল এবং হল সংসদ ভিপিকে শোকজ করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ১২১ নম্বর কক্ষে ‘নারী অবস্থান করছে সন্দেহে’ ভোর চারটার দিকে অনুসন্ধান চালায় হল সংসদের এজিএস ইসরাফীল হোসাইনসহ কয়েকজন। পরে তারা সেখানে কাউকে না পেয়ে ফেরত আসেন। বিষয়টি নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবার রহমানের কার্যালয়ে একটি সভা বসে। সভায় উপস্থিত হল সংসদের নেতাদের ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

পরে হলের এজিএসসহ কয়েকজনের অনুপস্থিত থাকায় সভাটি স্থগিত হয় এবং রাত ১১টায় আবার শুরু হয়। এ সময় হল প্রাধ্যক্ষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। টানা কয়েক ঘণ্টার আলোচনা শেষে হল সংসদের এজিএসসহ তিনজনের আবাসিকতা সাময়িকভাবে বাতিল করে হল প্রশাসন।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

গোবিপ্রবি’র সাদা দলের সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে পিএইচডি জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

Published

on

By

শাকিল আহমেদ, গোবিপ্রবি প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের (সাদা দল) সদস্য সচিব ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে পিএইচডি স্কলারশিপ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের সত্যানুসন্ধানে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফেলোশিপ ট্রাস্ট ফাতেমা খাতুনের পিএইচডি স্কলারশিপ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষা ছুটি শেষে দেশে ফিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করলেও তিনি তার পিএইচডি সনদপ্রাপ্তির তারিখ, ডিফেন্স সংক্রান্ত সুপারভাইজারের প্রত্যয়নপত্র এবং ফেলোশিপ ট্রাস্টের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেননি।

এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে একাধিকবার (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ও ২৭ জানুয়ারি ২০২৬) লিখিতভাবে পত্র প্রদান করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের লক্ষ্যে ৫ সদস্যের একটি সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ড. মো. কামরুজ্জামানকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামানকে। এছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন ইইই বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. এ.টি.এম. সাইফুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং অর্থ ও হিসাব দপ্তরের হিসাব পরিচালক।

উল্লেখ্য, তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে লিখিত প্রতিবেদন উপাচার্যের নিকট জমা দেওয়ার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Continue Reading

Trending