Connect with us

ক্যাম্পাস

২৫ বছরের পথচলা: রাবির পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে রজত জয়ন্তী ও পুনর্মিলনী উৎসব

Published

on

রাবি প্রতিনিধি

প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রজত জয়ন্তী ও পুনর্মিলনী উদযাপন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট (আইইএস)। শুক্রবার দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠান উদযাপন করেন ইনস্টিটিউটের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা।

সকালে রেজিস্ট্রেশন, কিট ও নাশতা বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানসূচি শুরু হয়। পরে পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। সকাল ৯টায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি এবং ৯টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিদের আগমন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। এরপর শরীফ ওসমান হাদীসহ ইন্সটিটিউটের প্রয়াতদেরকে স্মরণ করে নীরবতা পালন করা হয়। এরপর সদস্য সচিবের স্বাগত বক্তব্য, স্মারক বক্তব্য, বিশেষ অতিথি ও প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করা হয়। এ সময় আইইএস-এর দীর্ঘ ২৫ বছরের শিক্ষা, গবেষণা ও পরিবেশ সংরক্ষণে অবদান তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্বে কৃতিত্বপূর্ণ গবেষণার জন্য তিন ক্যাটাগরিতে ছয়জনকে গবেষণা সম্মাননা প্রদান করা হয়। পরে সভাপতির বক্তব্য ও চা বিরতির মাধ্যমে দিনের প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটে।

দুপুরে সমাপনী অনুষ্ঠান, জুমার নামাজ, মধ্যাহ্নভোজ এবং এলামনাই কমিটি গঠন অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে খেলাধুলা ও র‍্যাফেল ড্র আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় নামাজের বিরতির পর অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। যেখানে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। দিনব্যাপী আয়োজনের শেষ পর্বে অনুষ্ঠিত হয় গালা ডিনার।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যদ্বয়, পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের শিক্ষকবৃন্দ, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, “মানুষ সৃষ্টির বহু আগে থেকেই এই পৃথিবীতে পরিবেশ ও প্রতিবেশ বিদ্যমান ছিল। তাই মানুষ, প্রকৃতি ও পরিবেশ – এই তিনের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর ও অবিচ্ছেদ্য। আজকের বিশ্ব যে জলবায়ু পরিবর্তনের সংকটে রয়েছে, তা মোকাবিলায় পরিবেশ বিজ্ঞানীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, এই ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও গবেষকরা জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে কার্যকর দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দিন ইনস্টিটিউটের স্বপ্নদ্রষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “অধ্যাপক ড. শামসুর রহমানের দূরদর্শী চিন্তা ও নেতৃত্বের ফলেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়। আজ ২৫ বছর পর দাঁড়িয়ে আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, এই ইনস্টিটিউট পরিবেশ শিক্ষা ও গবেষণায় একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ভবিষ্যতেও এই ইনস্টিটিউট পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আমি আশাবাদী।”

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

বিজয়-মেহেদীর নেতৃত্বে রাবিতে স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের ‘পেস ক্লাব’ এর যাত্রা শুরু

Published

on

By

রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স (PESS) বিভাগে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষ, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নে যাত্রা শুরু করেছে ‘পেস ক্লাব’ (PESS CLUB)। ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত বিজয় এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মেহেদী হাসান।

মঙ্গলবার বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহা. মনিরুল হকসহ শিক্ষকদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ৩৫ সদস্যের এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের বহুমাত্রিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে চারটি বিশেষায়িত উইংয়ের সমন্বয়ে ২০২৬-২৭ কার্যবর্ষের জন্য এই ক্লাব গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিভাগের লেকচারার মো. রায়হান ইসলাম।

কমিটির অন্য পদে যারা আছেন—

কমিটির সহ-সভাপতি হয়েছেন মো. রিদওয়ানুল হাসান। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-১ আফসানা আক্তার আশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-২ মনিরা খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান এবং যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাইদুর রহমান।

অর্থ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন বিভাগের লেকচারার জি. এম. জাকির হোসাইন। যুগ্ম অর্থ সম্পাদক হয়েছেন আফ্রিদী হাসান শুভ।

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সম্পাদক আল আমিন ইসলাম, সহকারী ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সম্পাদক সুরাইয়া আক্তার সিনহা, মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক জি. এম. নাঈম বিন খায়ের এবং সহকারী মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক হয়েছেন সুলতানুল আরেফিন তালহা।

কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে আছেন– রেজোয়ান সরকার, মেহেদী হাসান, নাসিফ তাওসীফ খান ও তাসনুভা তাবাসসুম বর্ষা।

চার বিশেষায়িত উইং—

শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে ক্লাবের অধীনে চারটি উইং গঠন করা হয়েছে।

ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ উইং: চিফ কো-অর্ডিনেটর শামীমা নাজনীন স্বপ্না। অ্যাসিস্ট্যান্ট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে আছেন মুসরাত জাহান, আবিদ হাসান ও সুমাইয়া ইসলাম।

রিসার্চ অ্যান্ড হায়ার স্টাডিজ উইং: চিফ কো-অর্ডিনেটর আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল। অ্যাসিস্ট্যান্ট কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্বে জাবেদ আলী, তুহিন কুমার ও সাদিদ আল জোবায়ের।

ক্যারিয়ার অ্যান্ড স্কিলস ডেভেলপমেন্ট উইং: চিফ কো-অর্ডিনেটর তামিম আহমেদ। তার সঙ্গে অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে আছেন ফাতেমা আক্তার, শুভানা আফরিন ও সাইফুল্লাহ নয়ন।

কম্পিউটার অ্যান্ড ডাটা অ্যানালাইসিস উইং: চিফ কো-অর্ডিনেটর মো. শাফিলীন ইসলাম। অ্যাসিস্ট্যান্ট কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করবেন আল আমিন ইসলাম, বিধান রয় ও তানভীর আহমেদ।

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এসব উইংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষা দক্ষতা, উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপের নির্দেশনা, সিভি ও ইন্টারভিউ প্রস্তুতি, সফট স্কিলস এবং ডাটা অ্যানালাইসিসসহ প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নে নিয়মিত কর্মশালা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

পেস ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা লেকচারার মো. রায়হান ইসলাম বলেন, “এটি শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি আমাদের শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও নেতৃত্বকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। এর বিশেষায়িত উইংগুলোর মাধ্যমে আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যারা জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা ও সাহসে নিজেদের অনন্য করে তুলবে।”

প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত বিজয় বলেন, “আমরা এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনা আবিষ্কারের সুযোগ পাবে। পেস ক্লাবের প্রতিটি উদ্যোগ হবে অত্যন্ত ক্রিয়েটিভ ও অর্থবহ। এর মাধ্যমে স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের প্রতিটি শিক্ষার্থী দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী হয়ে উঠবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

শিক্ষাকে শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না জানিয়ে সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, “আমাদের প্রতিটি আয়োজন হবে শেখার, নিজেকে বিকশিত করার এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের সুযোগ। আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়তে চাই, যেখানে স্পোর্টস সায়েন্স হবে জ্ঞান, দক্ষতা ও গর্বের পরিচয়।”

Continue Reading

ক্যাম্পাস

শাবিপ্রবিতে গবেষণা উৎকর্ষতায় ডিন’স এওয়ার্ড পেলেন চার শিক্ষক

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চার শিক্ষককে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর রিসার্চ এক্সিলেন্স’ প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক গবেষণা উৎকর্ষতার ভিত্তিতে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর রিসার্চার অব দ্য ইয়ার-২০২৬’ প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার ( ৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনের ২৩২ নম্বর রুমে এওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে স্কুল অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মস্তাবুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক এবং শাবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম।

সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আর্কিটেকচার ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আয়েশা ফেরদৌস মিতা। তাঁর গবেষণার বিষয় ‘অপ্টিমাইজিং প্রোপার্টিজ অব কংক্রিট কনটেইনিং স্টোন ডাস্ট অ্যান্ড সিরামিক টাইলস অ্যা রেসপন্স সারফেস মেথডোলজি অ্যাপ্রোচ’। গবেষণাটি ক্লিনার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। জার্নালটির ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ৭.৩, এসজেআর ১.৩৮১ এবং এটি কিউ-১ শ্রেণিভুক্ত।

কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের জাহিদ হাসান শৌরভ ও ড. মো. জহুরুল ইসলাম।

জাহিদ হাসান শৌরভের গবেষণার বিষয় ‘এক্সট্রাকশন অব পেকটিন ফ্রম ওয়াটারমেলন রাইন্ডস ইউজিং সিকুয়েনশিয়াল আল্ট্রাসাউন্ড-মাইক্রোওয়েভ টেকনিক, অপ্টিমাইজেশন ইউজিং আরএসএম অ্যান্ড এএনএন মডেলিং অ্যান্ড ক্যারেক্টারাইজেশন’। গবেষণাটি ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল ম্যাক্রোমলিকিউলস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। জার্নালটির ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ৮.৭, এসজেআর ১.২৮৭ এবং এইচ-ইনডেক্স ২৪৭।

একই ক্যাটাগরিতে ড. মো. জহুরুল ইসলাম পুরস্কার পেয়েছেন ‘ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ক্যারেক্টারাইজেশন অব অ্যান ইনোভেটিভ ইউভি-রেজিস্ট্যান্ট বায়োকম্পোজিট ফিল্ম বেজড অন হিপটিস সুয়াভিওলেনস মিউসিলেজ, ব্ল্যাক গ্রাম হাস্ক লিগনিন, অ্যান্ড সিট্রাস ম্যাক্রোপটেরা এসেনশিয়াল অয়েল’ শীর্ষক গবেষণার জন্য। গবেষণাটিও ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল ম্যাক্রোমলিকিউলস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

অন্যদিকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. মিসেস নাসিমা বেগম। তাঁর গবেষণার বিষয় ‘কন্ট্রোলড হিট ইনপুট ইন লেজার মেশিনিং অব পিএমএমএ: আ জিএ-আরএসএম অ্যাপ্রোচ’। গবেষণাটি রেজাল্টস ইন ইঞ্জিনিয়ারিং জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। জার্নালটির ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ৯.৪, এসজেআর ১.২৪ এবং এটি কিউ-১ শ্রেণিভুক্ত।

গবেষণা উৎকর্ষতার ভিত্তিতে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ফর রিসার্চার অব দ্য ইয়ার-২০২৬’ প্রদান করা হয় কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড শাহিদুর রহমানকে। তার জার্নাল আর্টিকেল ৭ টি, সাইটেশন ১২০, কনফারেন্স পেপার ৩৯।

পুরস্কারের মূল্যায়নে জার্নাল আর্টিকেল, কিউ ইনডেক্স, কনফারেন্স পেপার, গুগল স্কলারের সাইটেশন, পিএইচডি, এমএসসি ও বিএসসি পর্যায়ের সুপারভিশন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রিসার্চ গ্রান্ট এবং জাতীয় স্বার্থে গবেষণায় অবদানের মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোজাম্মেল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার প্রসার এবং জাতীয় উন্নয়নে গবেষণার ভূমিকা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে গবেষণা জোরদারের লক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিধা বৃদ্ধির জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, উপ-উপাচার্য রবিউল ইসলাম বলেন, শুধু গবেষণাপত্র প্রকাশ করলেই গবেষণার কাজ শেষ হয় না; গবেষণার ফলাফল কীভাবে বাস্তবে কাজে লাগানো যায়, এখন সেদিকেও আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহার বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে অনেক ধরনের সফটওয়্যার, গবেষণাগার ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কিন্তু সবগুলো সবসময় যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। তাই প্রত্যেক বিভাগে একই ধরনের সরঞ্জাম কেনার পরিবর্তে বিদ্যমান সুবিধাগুলোকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় এনে সবাইকে ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া দরকার।

গবেষণার ফলাফল পেটেন্ট করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের গবেষণা যেন শুধু প্রকাশনার মধ্যেই আটকে না থাকে। একটি ভালো গবেষণা থেকে যদি পেটেন্ট বা বাস্তব কোনো উদ্ভাবন তৈরি করা যায়, সেটিই হবে গবেষণার সবচেয়ে বড় সার্থকতা। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে পেটেন্টিং ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

তরুণ গবেষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা পিএইচডি বা পোস্টডক্টরাল গবেষণা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরছেন, তারা নতুন নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণার ধারণা নিয়ে আসছেন। এসব জ্ঞান অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য নিয়মিত সেমিনারের আয়োজন করা যেতে পারে। এতে নতুন গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে এবং শিক্ষার্থীরাও গবেষণায় আরও আগ্রহী হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করার যে সুযোগ রয়েছে, সেটি আমাদের বড় শক্তি। বিশেষ করে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করলে ভবিষ্যতে আরও বেশি মানসম্পন্ন গবেষণা ও প্রকাশনা বেরিয়ে আসবে।শাবিপ্রবিতে গবেষণা উৎকর্ষতায় ডিন’স এওয়ার্ড পেলেন চার শিক্ষক

Continue Reading

ক্যাম্পাস

ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ: প্রক্টরের তৎপরতায় বড় সংঘর্ষ থেকে রক্ষা পেল ইবি ক্যাম্পাস

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

এক শিবির নেতাকে থাপ্পড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস। দফায় দফায় শোডাউন, ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের মুখোমুখি অবস্থান, নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, লাঠিসোঁটা নিয়ে নিয়ে নেতাকর্মীদের অবস্থান ও প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের সার্বক্ষণিক তৎপরতায় ক্যাম্পাসে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মত সংশ্লিষ্টদের। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের জিয়া হল সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে চড় মারেন শাখা ছাত্রদলের সদস্য আলীনূর রহমান। ঘটনার পর ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা জিয়া হলে জড়ো হলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। তাঁরা দুই পক্ষকে শান্ত করার পাশাপাশি ঘটনার তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করেন। পরে জিয়া হলের প্রভোস্টের কক্ষে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসেন প্রক্টর ও হল প্রভোস্ট।

বৈঠকে অভিযুক্ত আলীনূরকে উপস্থিত করার দাবি ওঠে। তাঁকে আনতে প্রক্টরিয়াল বডি কক্ষে গেলে বাইরে উত্তেজনা তৈরি হয়। কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকায় প্রথমে আলীনূরকে বের করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ বৈঠকস্থল ত্যাগ করেন। ফের দুই পক্ষের মধ্যে আবারও হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। ধাক্কাধাক্কির মাঝখানেই দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে দেখা যায় প্রক্টরকে। পরবর্তীতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়কে অবস্থান নেন। অন্যদিকে, শিবিরের নেতাকর্মীরা জিয়া হলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে পাইপ হাতে অবস্থান নেন। এর মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই প্রক্টরিয়াল বডি পুলিশের সহায়তায় ক্ষুব্ধ শিবির নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে আলীনূরকে জিয়া হল থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। এ সময় শিবিরের নেতাকর্মীরা তাঁকে মারধরের চেষ্টা করেন এবং প্রক্টরের গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করেন। গাড়ির গ্লাসও ভেঙে যায়। এসময় প্রক্টর অফিসের কর্মচারীর মোবাইলও চাপে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। এরপরও পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর ছিলেন প্রক্টর ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দল। প্রক্টরের দাবি— “অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে গাড়ি তোলার সময় পাশে থেকে ইট নিক্ষেপ করলে আমার কানের নিচ দিয়ে গিয়ে গাড়িতে পড়ে। এটা আল্লাহর রহমত মনে করি।”

পরে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে প্রক্টর অফিসে আবারও আলোচনা করা হয়। প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে সমঝোতা হয়। ঘটনার সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, র‍্যাব ও ইউএনওসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস টহল দেওয়া হয়।কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ, ছাত্রসংগঠনগুলোর সহাবস্থান এবং মেধার ভিত্তিতে আবাসিক হলে সিট বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এদিকে এখনও ক্যাম্পাস থমথমে অবস্থা। গতকাল সার্বক্ষণিক প্রধান ফটকে আনসার সদস্যদের ভূমিকায় অবস্থান নিলেন তিনি। গতকাল শেষ রাতেও (২ টা ০৬ মিনিটের দিকে) নিরাপত্তা জোরদারে ক্যাম্পাসের প্রবেশপথগুলোতেও তদারকি ও টহল দিতে দেখা গেছে।

সর্বশেষ আজ বিএনপি জামায়াত সমাবেশ কর্মসূচি দিলে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়। উপাচার্যের নির্দেশনায় প্রক্টর তাঁর অফিস কার্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলো নিয়ে আলোচনায় বসেন। এসময় ছাত্রদল-শিবিরের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসের সহাবস্থান বজায় রাখতে সমঝোতায় চলে আসেন। এতেও নেতৃত্ব দিলেন প্রক্টর নিজেও। সর্বশেষ উভয় পক্ষ সমঝোতায় চলে গেলে আপাতত ক্যাম্পাসে শান্ত পরিবেশ তৈরি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরপরই ভিসির নির্দেশে প্রক্টোরিয়াল বডির মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনায় বসি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ইউএনওসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস পরিদর্শন করা হয়। ক্যাম্পাসে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে। মাইকিং করে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারবে না এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আইডি কার্ড সঙ্গে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পুরো ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রক্টর ও প্রক্টোরিয়াল বডির পক্ষ থেকে সারারাত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়।

ঘটনার দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্র সংগঠনের দলীয় ইস্যুতে রূপ নেওয়ায় ঘটনাটি কিছুটা নিয়ন্ত্রণের বাহিরে গিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শুরু থেকেই তাদের মধ্যে সহবস্থান তৈরি করে আসছি। সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তের অবস্থান অস্পষ্ট হওয়ায় এমনটা সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যে অভিযুক্তকে উদ্ধার করেছি।

Continue Reading

Trending