Connect with us

ক্যাম্পাস

২ জুলাই থেকে ইবিতে আন্দোলনের সূচনা: ‘মুক্তির নতুন সূর্যোদয়’

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের পরে দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ জুলাই চব্বিশের আন্দোলনে সরব ও সতর্ক ছিলেন। ছাত্র জনতার নেতৃত্বে আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। সেই সময় শিক্ষার্থীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মহাসড়কে সক্রিয় অবস্থান নেন।

জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই অবিনাশী চেতনা স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় “জুলাই স্মৃতিকথা” নামে একটি স্মারক প্রকাশিত হয়। যার— সম্পাদনায় ছিলেন, অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান, অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, জুলাই যোদ্ধা এস এম সুইট, সাদিক আহমদ, ইমতিয়াজ আহমেদ ইমন ও চয়ন হোসেন।

‘জুলাই স্মৃতিকথা’ স্মারকে ৫৩টি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর লেখা স্থান পেয়েছে। তন্মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী এহসানুল হকের লেখা ‘মুক্তির নতুন সূর্যোদয়’ পাঠকদের সুবিধার্থে ইবি প্রতিনিধি হুবহু তুলে ধরেছেন।

শুরুর সময়টা ২০১৮ এর প্রথম থেকেই। সবেমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পা দিয়েছি। বছরের শুরু থেকেই আন্দোলন কিছুতেই পিছু ছাড়ার মতো না। ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফি পূর্বের থেকে অনেক বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেটা কমানোর আন্দোলন, বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির আন্দোলন, সবশেষে যুক্ত হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন। সবগুলো আন্দোলনেই অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয়। একে একে বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে মুক্তিকামী জনতার বিজয়ের বার্তা নিয়ে হাজির হয় ২০২৪। আমি তখন এম.এস.সি. তে অধ্যায়নরত অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ পর্যায়ে।

২ জুলাই ২০২৪ তারিখ থেকে ক্যাম্পাস যেন আবার ২০১৮-তে ফিরে যায়। কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে সারাদেশের সাথে তাল মিলিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও শুরু হয় আন্দোলন। আবারও সুযোগ আসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশীদার হওয়ার। মঙ্গলবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। একই আন্দোলন চলে ৮ তারিখ পর্যন্ত।

১০ জুলাই ২০২৪, বাসায় যাই। খুলনা থাকাকালীন আন্দোলন থেকে দূরেই ছিলাম। ১৫ জুলাই ২০২৪ শিক্ষার্থীদের অবস্থান খুলনা জিরো পয়েন্ট। ১৭ জুলাই খুবির শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ এর সামনে শহীদ আবু সাঈদ এর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তখন সিচুয়েশন এমন যে— বাসায় থাকাও অনিরাপদ। হয়রানির এক পর্যায়ে ৩১ জুলাই আমি খুলনা থেকে সাতক্ষীরা যাই।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:

ইবি ক্যাম্পাসের সিদ্ধান্ত যেকোনো মূল্যে ৩ আগস্টের মধ্যে ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে হবে। অস্থিরতা বেড়ে চলে। ৩ আগস্ট ২০২৪, খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠি। সকাল বেলা রওনা রওনা হই। ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হওয়ার সুবাদে এই দিনের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল ক্যাম্পাসে পৌঁছানো। দুপুর ২ টার দিকে বাসায় পৌঁছি।

দুপুরে খেতে খেতে ক্যাম্পাসে আসার কথা বললে আব্বু আম্মু কেউ রাজি হন না। শেষতক চোরের পানিসমেড কিছুটা সম্মতি দিলেন। বাসা থেকে বের হব শুধু এতটুকুই নিশ্চিত। এরপর কী হবে একমাত্র আল্লাহই জানেন। বাসা থেকে ভিন্ন রাস্তা দিয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে গাড়িতে উঠি। রাত ৯ টার দিকে শেখপাড়া বাজারে গাড়ি থেকে নেমে ত্রিবেনী রোড দিয়ে অজানা গন্তব্যে হাঁটতে শুরু করি। থাকার কোন সমাধান না পেয়ে আবু মুসা ভাইকে নক করলে তিনি থাকার ব্যবস্থা করেন।

বদলে যাওয়ার বার্তা:

৩ আগস্ট ২০২৪, ঢাকায় আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ নেতৃতাধীন সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়।

৪ আগস্ট ২০২৪, সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটের দিকে রুম থেকে বের হয়ে ডায়না চত্ত্বরে পৌছলাম। তখন কারোরই থাকা-খাওয়ার কোন ঠিক নেই। আল্লাহর কাছে শুধু একটাই ফরিয়াদ ছিল আল্লাহ যেন শহীদ হিসাবে কবুল করে নেন। পুলিশ, বিজিবিসহ সকল বাহিনীর সদস্যরা মেইন গেইটসহ রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়েই ডায়না চত্ত্বর থেকে মিছিল শুরু হল। কোন ক্লান্তি নেই, থেমে যাওয়ার আশংকা নেই। আন্দোলনের মাঝে ভাইয়েরা শুকনো খাবার ও পানি বিতরণ করছিল। সবশেষে এস এম সুইট ভাইয়ের পরবর্তী দিনে আন্দোলন চলমান রাখার ঘোষণার মাধ্যমে আজকের আন্দোলন সমাপ্ত হয়।

রাত ১১টা ৩০ মিনিটে প্রচণ্ড মাথা ব্যাথাসহ ঘুমাতে যাই। এ সময় ইউসুফ ভাই নির্দেশ দেন- মেস পাহাড়া দিতে হবে। আমরা ফজর পর্যন্দ মেস পাহাড়া দেই ও অসুস্থ হয়ে পড়ি।

নতুন সূর্যোদয়:

৫ আগস্ট ২০২৪, সকাল দশটায় এলার্মের শব্দে ঘুম ভাঙ্গে। সকাল ১১ টায় ক্যাম্পাস থেকে আন্দোলন শুরু হবে। রুম থেকে বের হই। নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত জায়গা থেকেই শ্লোগানে-স্লোগানে আন্দোলন শুরু হয়। আশেপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আমাদের সাথে যোগ দিতে থাকে। এলাকার মা-বোনেরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের সাথে অংশ গ্রহণ করে। লাঠিতে ভর করে ও ঠিকমতো হাঁটতে না পারা আশি উর্ধ্ব বয়সের মুরুব্বী এবং হাত-পা না থাকা লোকও আমাদের সাথে অংশগ্রহণ করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো মেইন গেট এলাকা লোকারণ্য হয়ে যায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নামে স্বৈরাচারের দোসর বিপুল সংখ্যক পুলিশ, বিজিবিসহ যৌথ বাহিনীর সদস্যরা মেইন গেটের আশেপাশে অবস্থান নেয়।

বেলা আড়াইটার দিকে মাইক্রোফোন হাতে ভ্যানের উপরে দাড়িয়ে আছে হাসানুল বান্না অলি। ওর সাথে জাকারিয়া, আমিনুর, জোবায়েরসহ আরো কয়েকজন। হঠাৎ কানে ভেসে আসে সেই অকাঙ্ক্ষিত বাক্য। যা শোনার অপেক্ষায় ছিল বাংলার লক্ষ-কোটি মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা। মাইক থেকে ঘোষণা হয়- স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে। মনে হচ্ছিল সদ্য মুক্ত হওয়া স্বাধীন নতুন এক বাংলাদেশে নতুন করে প্রশ্বাস নিচ্ছি। বাংলাদেশের আকাশে যেন নতুন এক সূর্য উঠেছে। মহান রবের কাছে ফরিয়াদ, তিনি যেন আন্দোলনে আহতদের সুস্থতা দানের পাশাপাশি নিহতদের শহীদ হিসাবে কবুল করে নেন এবং আমাদের সকলের এই প্রচেষ্টাকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করে নেন।

লেখক: এহসানুল হক
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ইবির চার হলের নতুন প্রভোস্টের দায়িত্বে যারা

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চারটি আবাসিক হলে নতুন প্রভোস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন—শহীদ আনাস হলের প্রভোস্ট দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল করিম, জুলাই ৩৬ হলের প্রভোস্ট আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের অধ্যাপক ড. হামিদা খাতুন, উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের প্রভোস্ট বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান এবং খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অ্যাপ্লাইড নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আয়নুল হক আকন্দ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

পৃথক অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২৯ সেপ্টেম্বর পূর্ববর্তী প্রভোস্টদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে নবনিযুক্ত প্রভোস্টরা দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনের জন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মানুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়, দায়িত্ব পালন করায় পূর্ববর্তী প্রভোস্টদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে।

দায়িত্ব পেয়ে শহীদ আনাস হলে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও মাননীয় উপাচার্য আমার প্রতি আস্থা রেখে শহীদ আনাস হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। এজন্য মাননীয় উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। হলটিতে বর্তমানে হলটির এক্সটেনশন ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় সমাপ্তির পর্যায়ে রয়েছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে হলটিকে একটি আধুনিক আবাসিক হল হিসেবে গড়ে তোলার এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে আমার সাধ্যমতো আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এ কাজে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’

খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এএসএম আয়নুল হক আকন্দ বলেন, ” আমি চিঠি হাতে পেয়েছি। হলে গিয়ে শিক্ষার্থী সমস্যাগুলো শুনবো এবং গুরুত্বের ভিত্তিতে সমাধানের চেষ্টা করবো। এজন্য আমি সকলের সহযোগিতা কামান করি।

উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের প্রভোস্ট ড. মো. রশিদুজ্জামান বলেন, “আমি ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেছি এবং হল ডিবেটিং সোসাইটি, কালচারাল সোসাইটি, স্পোর্টসসহ বিভিন্ন উইংয়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যাগুলো শুনেছি। এসব কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি নিজে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তাই হলে একটি পারিবারিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সবাই মিলেমিশে বসবাস করতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যেসব যৌক্তিক ও নৈতিক বিষয় আমার নজরে আনবে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব।”

এর আগে শহীদ আনাস হলে দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাদের , খালেদা জিয়া হলে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জালাল উদ্দিন, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলে আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. রাশেদুজ্জামান ও জুলাই ৩৬ হলে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে.এম শামছুল হক ছিদ্দিকী দায়িত্ব পালন করেন।

Continue Reading

top3

জুলাই-৩৬ হলে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

Published

on

By

রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জুলাই-৩৬ হলে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং অন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনকারী ৪৬ জন কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি অন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে অনুভূতি জানিয়ে জুলাই-৩৬ হলের অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাজনুর বর্ণ বলেন, ‘এত সুন্দর একটি আয়োজন করার জন্য হল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবে এত সুন্দর একটি ফলাফল অর্জন করতে পেরেছি। এই ফলাফলের জন্য আমাদের যে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে, এতে ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা পেয়েছি।’

একই হলের ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নিশাত আনজুমান মিতা বলেন, ‘আমি হল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই এত সুন্দর একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য। বিভাগে প্রথম হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত। তবে এই অর্জন শুধু আমার একার নয়—আমার শিক্ষক, পরিবার এবং সহপাঠীদের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণারও ফল। এই স্বীকৃতি আমাকে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘প্রতিটি বিভাগে নারী শিক্ষার্থীরা খুব ভালো করছে। বেশিরভাগ বিভাগে প্রথম দিকের সিরিয়ালে সব মেয়ে থাকে। এটা নারীদের জন্য খুবই ইতিবাচক একটি দিক। একসময় নারীদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হতো। এখন সেখানেই তারা খুব ভালো করছে। এটা খুবই গর্বের। আজকে যারা পুরস্কৃত হলেন, তাদের জন্য শুভকামনা রইল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি আপনারা জুলাই-৩৬ হলকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাবেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের সামনে তুলে ধরবেন। এছাড়া সমাজের প্রতিটি কাজে সমানভাবে অবদান রেখে যাবেন।’

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা খুবই ভালো করছে। এটা আমাদের জন্য গর্বের। তারা বিভাগের নাম, হলের নাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। সবার জন্য শুভকামনা রইল।’

জুলাই-৩৬ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. লাভলী নাহার বলেন, “আমাদের কৃতি শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি হিসেবে আজকের এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। এই স্বীকৃতি তাদের ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্য লাভে অনুপ্রেরণা জোগাবে। আমরা আশা করি, তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জুলাই-৩৬ হলের সুনাম আরও উজ্জ্বল করবে এবং ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

জুলাই-৩৬ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. লাভলী নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. এস এম কামারুজ্জামান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান।

Continue Reading

top3

ইবির নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা ড. মো. মামুন আল রশীদ

Published

on

By

ইবি সংবাদদাতা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশ সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামের মেয়াদ ২৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬) শেষ হওয়ায় তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। অফিস আদেশ অনুযায়ী, নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

এদিকে, দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

নবনিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, আমি চিঠি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আগাবো ইনশাআল্লাহ।
ইবি সংবাদদাতা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশ সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামের মেয়াদ ২৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬) শেষ হওয়ায় তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। অফিস আদেশ অনুযায়ী, নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

এদিকে, দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

নবনিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, আমি চিঠি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আগাবো ইনশাআল্লাহ।

Continue Reading

Trending