Connect with us

top1

৩ কোটিতে বিএনপির মনোনয়ন চুক্তি, ৬৫ লাখ অগ্রিম

Published

on

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রবাসীর কাছ থেকে ৬৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সুনামগঞ্জ-৩ আসনে (শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর) ধানের শীষের প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ; যিনি কয়ছর এম আহমেদ নামেই পরিচিত। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে তিনি এ মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপি কর্মী আমিনুল ইসলাম মিঠুকে তিন কোটি টাকার বিনিময়ে রাজশাহী-৬ আসনে (চারঘাট ও বাঘা) মনোনয়ন নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অগ্রিম হিসেবে ৬৫ লাখ টাকা নেন কয়ছর। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাইয়ে দিতে না পারলেও কয়ছর আহমেদ টাকা ফেরত দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন মিঠু। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিস্তারিত অনুসন্ধান করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে এশিয়া পোস্ট।

জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপি কর্মী আমিনুল ইসলাম মিঠুর বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চন্ডিপুর বাজার এলাকায়। তিনি বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রঞ্চ শহরের স্টারলাইন এলাকায় বসবাস করেন। নিউইয়র্কের স্টারলাইন, জ্যাকসন হাইটস, চায়না টাউন ও ম্যানহাটনে তার একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় এবার তিনি নিজ এলাকা থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (তৎকালীন) তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দেওয়া যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কয়ছর আহমেদ। তিন কোটি টাকার বিনিময়ে মিঠুকে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার বিষয়ে কয়ছরের সঙ্গে আলোচনা, চুক্তি ও লেনদেনের বিষয়টি মধ্যস্থতা করেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি (মিঠুর পূর্ব পরিচিত) তোফাজ্জল হোসেন তপু।

চুক্তি মোতাবেক টাকা লেনদেনের জন্য আমিনুল ইসলাম মিঠুকে হোয়াটসঅ্যাপে দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠান কয়ছর আহমেদ। এছাড়া দলের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্ত হয়েছে মর্মে কিছু নথিপত্রও মিঠুকে পাঠান তিনি। সেসব নথিতে মিঠুর মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে বলে দেখানো হয়। পরে গত বছরের অক্টোবর মাসে কয়ছরের দেওয়া অ্যাকাউন্টে মিঠুর পক্ষ থেকে কয়েক দফায় মোট ৬৫ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়। টাকা জমা দেন মিঠুর ছোট ভাই আবুল হোসেন, তোফাজ্জল হোসেন তপু, মিঠুর প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীর ভাই সাখাওয়াত (বাংলাদেশে অবস্থানরত) এবং নিউইয়র্কে মিঠুর ভাড়া বাসার মালিকের ভাই বিমল চন্দ্র পোদ্দার (বাংলাদেশে অবস্থানরত)।

টাকা পাওয়ার পর কয়ছর জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে কোনো সময় মিঠুকে ফোন করবেন। যদিও তারেক রহমান মিঠুকে কখনো ফোন করেননি কিংবা কোনো মাধ্যমে তার সঙ্গে কথাও বলেননি। দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার আগে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। কয়ছরের কথায় মিঠু তার বৃদ্ধ বাবাকে গুলশানে পাঠান। কিন্তু মিঠুর বাবাকে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের ব্যবস্থাও করতে পারেননি কয়ছর। শেষ পর্যন্ত মিঠু মনোনয়নও পাননি।

মনোনয়নবঞ্ছিত হওয়ার পর আমিনুল ইসলাম মিঠু কয়ছর আহমেদ ও তোফাজ্জল হোসেন তপুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের একটি গ্রুপ কলে আলোচনার অডিও এসেছে এশিয়া পোস্টের হাতে। ওই কথোপকথনে মনোনয়নের টোপ দিয়ে মিঠুর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকার পরও মিঠুকে আশ্বস্ত করে ওই রেকর্ডিংয়ে তপুকে বলতে শোনা যায়, তিনি প্রয়োজনে নিজেই তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলবেন। তারপরও মনোনয়ন নিশ্চিত না হলে তারেক রহমানকে কৈফিয়ত দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তপু। এ সময় বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

আরও দেখুন

বই

সংবাদপত্র সাবস্ক্রিপশন

মতামত কলাম

মনোনয়ন তালিকা ও তারেক রহমানের নাম ব্যবহার

দলের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ম্যানেজ করেই আমিনুল ইসলাম মিঠুর মনোনয়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন কয়ছর আহমেদ। এজন্য প্রথমে তিনি দলীয় মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের একটি তালিকা মিঠুর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। সেখানে দেখা যায়, এক পাতায় রাজশাহী-৪, রাজশাহী-৫ ও রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা ও দুটি মন্তব্যের ঘর রয়েছে। ওই তালিকায় রাজশাহী-৬ এর ঘরে ক্রমান্বয়ে আবু সাঈদ চাঁদ, আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, নুরুজ্জামান খান মানিক ও শেষে আমিনুল ইসলাম মিঠুর নাম রয়েছে। মন্তব্যের ঘরে ইংরেজিতে লেখা, আমিনুল ইসলাম মিঠুর সঙ্গে কথা বলুন এবং তার নৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সামর্থ্য আছে কিনা আমাকে দ্রুত জানান। পরবর্তী মন্তব্যের ঘরে লেখা রয়েছে- থ্রিসি অর অ্যাবোভ, ডিপেন্ডিং অন পলিটিক্যাল ইনভলভমেন্ট {তিন সি (কোটি) বা বেশি, নির্ভর করছে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ওপর}। দুটি মন্তব্যের নিচেই লেখা, কমেন্টেড বাই তারেক রহমান অর্থাৎ মন্তব্য দুটি তারেক রহমানের। সেখানে তারিখ লেখা রয়েছে-৯ আগস্ট ২০২৫।

এর কয়েক দিন পর মিঠুর কাছে আরও একটি তালিকা পাঠান কয়ছর আহমেদ। যেখানে তিনটি আসনের মধ্যে রাজশাহী-৬ আসনে শুধু আমিনুল ইসলাম মিঠুর নাম। মন্তব্যের ঘরে লেখা-অ্যাপ্রুভড বাই চেয়ারপার্সন অর্থাৎ চেয়ারপারসনের মাধ্যমে অনুমোদিত। এর পরের লাইনে আগের মতো লেখা, থ্রিসি অর অ্যাবোভ, ডিপেন্ডিং অন পলিটিক্যাল ইনভলভমেন্ট [তিন সি (কোটি) বা বেশি, নির্ভর করছে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ওপর]। এই নথিতেও মন্তব্যের নিচে লেখা রয়েছে, কমেন্টেড বাই তারেক রহমান। তারিখ দেওয়া ২ অক্টোবর ২০২৫। মিঠুর দাবি, ৯ আগস্ট ও ২ অক্টোবরের এসব নথি ও তালিকা দেখে তিনি আশ্বস্ত হন এবং কয়ছরকে টাকা দেন।

মিঠুকে পাঠানো মনোনয়ন তালিকা

আমিনুল ইসলাম মিঠু বলেন, টাকা দেওয়ার পর কয়ছর একাধিকবার আমাকে বলেছেন, চেয়ারম্যান সাহেব (তারেক রহমান) যে কোনো সময় তোমার সঙ্গে কথা বলবেন। সুখবরটি তিনিই তোমাকে দেবেন। এজন্য সবসময় কোন নম্বর চালু থাকে সেটি জিজ্ঞেস করেন কয়ছর। তবে তারেক রহমান কখনোই মিঠুর সঙ্গে কথা বলেননি।

যেভাবে টাকা লেনদেন

অনুসন্ধানের তথ্য বলছে, কয়ছর আহমেদ যে দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর মিঠুকে দিয়েছেন তার একটি সিটি ব্যাংকের সাতক্ষীরা শাখার। যার শেষ চার অংক ৩০০১। এই অ্যাকাউন্টের মালিক শাওন আহমেদ সোহেল নামে এক ব্যক্তি। তবে সাতক্ষীরায় সোহেল নামের এই ব্যক্তির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। পরে এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, অ্যাকাউন্ট সাতক্ষীরায় হলেও শাওন সোহেলের বাড়ি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার নন্দীকুজা গ্রামে। বর্তমানে তিনি লন্ডনের হ্যাম্পশায়ারের গোল্ডস্মিথ অ্যাভিনিউয়ে বসবাস করেন। তার বিরুদ্ধে যশোরে একটি প্রতারণার মামলাও রয়েছে। ৬-৭ বছর আগে সোহেল লন্ডনে যান এবং কয়ছর আহমদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তার বিভিন্ন বিষয় তদারকি করেন। সোহেলের বাবার নাম শাহজাহান আলী। তিনি সম্প্রতি একটি প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে অবসরে গেছেন।

শাওন আহমেদ সোহেলের ব্যাংক একাউন্টে দেওয়া ঠিকানা

সোহেলের সিটি ব্যাংকের ওই অ্যাকাউন্টের লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আমিনুল ইসলাম মিঠুর দেওয়া ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে ১৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা আসমা আক্তার নামের এক নারীর অ্যাকাউন্ট ঘুরে শেষ পর্যন্ত সোহেলের অ্যাকাউন্টেই জমা হয়েছে। বাকি টাকা সরাসরি সোহেলের অ্যাকাউন্টেই জমা হয়েছে। পরে বিভিন্ন সময়ে আরটিজিএস ও এনপিএসবির (ব্যাংক থেকে দ্রুত বড় ও মাঝারি অঙ্কের টাকা ট্রান্সফারের পদ্ধতি) মাধ্যমে সে টাকা অন্যত্র পাঠানো হয়।

কয়ছর আহমেদের দেওয়া অপর অ্যাকাউন্টের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেটি অগ্রণী ব্যাংকের নেত্রকোনা শাখার। ওই অ্যাকাউন্টের শেষ চার অঙ্ক ০০০২। এটির মালিক আসমা আক্তার নামে এক নারী। তার বাড়ি নেত্রোকোনা সদরের দেওপুর গ্রামে।

আমিনুল ইসলাম মিঠুর দেওয়া তথ্য এবং শাওন আহমেদ সোহেল ও আসমা আক্তারের ব্যাংক তথ্য বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে আসমা আক্তারের অ্যাকাউন্টে জমা হয় ১৭ লাখ ৮০ হাজার। এর মধ্যে গত বছরের ৫ অক্টোবর অগ্রণী ব্যাংকের ঢাকা বিজয়নগর শাখা থেকে আসমার অ্যাকাউন্টে ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা জমা দেন তোফাজ্জল হোসেন তপু। একই দিন ওই অ্যাকাউন্টে পল্লবী শাখা থেকে আরও ৫ লাখ টাকা জমা দেন মিঠুর ভাই আবুল হাসান। এই ১৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা থেকে ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা গত ৮ অক্টোবর আরটিজিএস করে শাওনের সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। বাকি টাকার মধ্যে ৫ লাখ লেনদেন হয় কুয়েতে।

পল্লবী শাখায় টাকা জমা দেওয়ার রশিদএদিকে ৫ অক্টোবর মিঠুর ছোট ভাই আবুল সিটি ব্যাংকের পল্লবী শাখা থেকে শাওন আহমেদ সোহেলের সাতক্ষীরার অ্যাকাউন্টে ৬ লাখ ৫০ হাজার ও ৬ লাখ টাকা জমা দেন। একই দিনে ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে মিঠুর কর্মচারীর ভাই সাখাওয়াত এনপিএসবি করে ৩ লাখ, ২ লাখ ৫০ হাজার জমা দেন। ৬ অক্টোবর রুপালি ব্যাংকের বরিশাল শাখা থেকে সোহেলের সাতক্ষীরার সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা আরটিজিএস করে পাঠান বিমল চন্দ্র পোদ্দার।সাতক্ষীরার অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়ার রশিদ

কয়ছর-সোহেল-আসমার সম্পর্ক কী

লেনদেনের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নেত্রকোনার দেওপুর গ্রামে আসমার বাড়িতে যান এশিয়া পোস্টের জেলা প্রতিনিধি। যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতার অবৈধ টাকা কীভাবে আসমার অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অবশ্য তিনি দাবি করেছেন, অ্যাকাউন্টটি তার স্বামী দেখভাল করেন।

আসমার স্বামী আব্দুস সালামের সঙ্গেও যোগাযোগ করে এশিয়া পোস্ট। সালাম একটি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে চাকরি করেন। বর্তমানে কুয়েতে ওই বাহিনীর হয়ে একটি মিশনের কাজ করছেন। তার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জানা যায়, সোহেলের বাবা শাহজাহানও ওই একই মিশনে কর্মরত ছিলেন। অর্থাৎ আসমার স্বামী ও সোহেলের বাবা সহকর্মী ছিলেন।

ঘটনা স্বীকার করেছেন আসমার স্বামী

কুয়েত থেকে আসমার স্বামী আব্দুস সালাম মোবাইল ফোনে এশিয়া পোস্টকে বলেন, কুয়েতে অবস্থানকালে সহকর্মী শাহজাহান আলী আসমার অ্যাকাউন্টে ওই টাকা পাঠিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে নিজের ছেলে শাওন সোহেলের অ্যাকাউন্টে ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ট্রান্সফার করেন শাহজাহান। বাকি ৫ লাখ ক্যাশ নিয়েছেন।

আব্দুল সালাম টাকা গুণে শাহজাহানকে দিচ্ছেন এমন ভিডিও ফুটেজও পেয়েছে এশিয়া পোস্ট। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংক থেকে তোলা টাকা গুনে নিচ্ছেন শাহজাহান।কিন্তু এই টাকা কেন আসমার অ্যাকাউন্টে লেনদন করা হয়েছে তা জানতে চাইলে সদুত্তর দিতে পারেননি সালাম। শাহজাহান মিয়ার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সোহেলের বক্তব্য

এসব বিষয়ে কথা বলতে লন্ডনে অবস্থানরত শাওন আহমেদ সোহেলের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোহেল বলেন, তিনি কয়ছর আহমেদ কিংবা আমিনুল ইসলাম মিঠু নামে কাউকে চেনেন না।

তাহলে কয়ছর আহমেদ সংশ্লিষ্ট লেনদেনে তার অ্যাকাউন্ট কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এমন প্রশ্ন করলে সোহেল দাবি করেন, বাংলাদেশ থেকে পরিচিত একজন তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে। এ কারণে লেনদেন সংক্রান্ত কোনো তথ্য তার কাছে নেই। এ লেনদেনের সঙ্গে তার বাবার সম্পৃক্ততার বিষয়টি উবল্লেখ করলে সোহেল বলেন, বাবা ও পরিবারের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

বাড়ি নাটোরে অ্যাকাউন্ট কেন সাতক্ষীরায়

সাওন আহমেদ সোহেলের বাড়ি নাটোরে হলেও সাতক্ষীরায় কীভাবে ও কেন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করেছেন তা জানতে চাইলে সিটি ব্যাংকের সাতক্ষীরা শাখার ম্যানেজার রবিউল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, সিটি ব্যাংকে এক সময় অনলাইনে অ্যাকাউন্ট করা যেত। তখন করে থাকতে পারে। অনেকে এই সুযোগটা নিয়েছে জানতে পেরে সিটি ব্যাংক অনলাইনে অ্যাকাউন্ট করার পদ্ধতি বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানান তিনি।

কথা বলতে চেয়েও বলেননি কয়ছর

এ বিষয়ে কথা বলতে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদের সঙ্গে বৃহস্পতিআর (৫ ফেব্রুয়ারি) মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তাকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মিঠুর সঙ্গে লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এখন কথা বলতে পারবেন না বলে জানান। তবে পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার কল দিলেও আর রিসিভ করেন। পরে তার মোবাইলে ও হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠানো হলেও সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকী তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে সেটিও প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

দায় এড়াতে পারে না দল : টিআইবি

নির্বাচনের মনোনয়ন বাণিজ্যের বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমরা দেখেছি জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী ৫ আগস্ট থেকেই সারা দেশে বিভিন্নভাবে যারা ক্রিয়াশীলরা বড় রাজনৈতিক দলগুলো যে ধরনের দলবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি ইত্যাদি শুরু করেছে, সেটারই একটা দৃষ্টান্ত। রাজনৈতিক অবস্থান বা নির্বাচনের অবস্থানটা বা জনপ্রতিনিধি অবস্থানটা দেখা হয় দুর্নীতি করার বা ক্ষমতা ব্যবহার করার লাইসেন্স হিসেবে। সেই কারণে এই লাইসেন্সটা পাওয়ার জন্য কেনাবেচা হয়। এটারই একটা দৃষ্টান্ত।

এ ঘটনায় জড়িতদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে মন্তব্য করে ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ঘটনা সঠিক হলে সংশ্লিষ্ট দলও দায় এড়াতে পারে না। এখানে একাধিক অপরাধ রয়েছে। প্রথমত, অবৈধ লেনদেন অপরাধ- যেটা কেউ করতে পারে না। দ্বিতীয়ত নির্বাচনে অংশগ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া, যেটা করতে পারেন না এবং সেটাকে এইভাবে মনোনয়নের অঙ্গীকার করে প্রতারণামূলকভাবে আশ্রয় নিতে পারেন না।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, এটা অবৈধ লেনদেন মোটামুটি পরিষ্কারভাবে। যেহেতু সংঘটিত হয়েছে, কাজেই এর সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত তাদের তো অবশ্যই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতায় আনতে হবে। অন্যদিক থেকে, এর সাথে রাজনৈতিক দলে যারা জড়িত, তাদের ক্ষেত্রে এটা একক মনে করার কোনো সুযোগ নেই।

সুত্র: এশিয়া পোস্ট

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে বেনজীরের প্রয়োজনীয় নথিপত্র

Published

on

By

দুবাইয়ে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ লক্ষ্যে তার বিরুদ্ধে মামলাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র মঙ্গলবার (১৬ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ছয়টি মামলার মধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে করা একটি মামলায় আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতেই ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে আবেদন করে উল্লেখ করেন, বেনজীর বিদেশে অবস্থান করছেন এবং বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

আদালতের আদেশ পাওয়ার পর ১২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে আবেদন করেন। আবেদনে গ্রেফতারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণ, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংযুক্ত করে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা বিষয়টি ইন্টারপোলে পাঠায়। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারপোল। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডাটাবেজে তার তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয় এবং পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের নজরে আসেন তিনি।

দুদক জানিয়েছে, দুবাইয়ে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এখন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী, গ্রেফতারের ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ প্রত্যর্পণের আবেদন জমা দিতে হবে। এ কারণে দুদক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আজ বেনজীর আহমেদের মামলাসংক্রান্ত সব প্রয়োজনীয় নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে।

Continue Reading

top1

ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে নেতানিয়াহুর, চাপে ইসরায়েল

Published

on

By

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রীতিমতো বাজি ধরেছিলেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সমন্বিত যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল কিংবা উৎখাত করবেন।

একইসঙ্গে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সখ্যতা আসন্ন নির্বাচনের আগে তাকে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। ওয়াশিংটন-তেলআবিব জোট মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতাই বদলে দেবে বলেও তার প্রত্যাশা ছিল।

কিন্তু বাস্তবতার গতিপথ ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। এখন ইসরায়েলের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র ট্রাম্পের সঙ্গেই মতবিরোধের পথে হাঁটছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যুদ্ধের শুরুতে উভয় পক্ষ যে লক্ষ্যগুলোর কথা বলেছিল, তার সিংহভাগই এখন অর্জিত হয়নি। একইসঙ্গে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানও জটিল অবস্থায় আটকে আছে।

আপাতত, এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছেন। কারণ তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ট্রাম্প যেন অসন্তুষ্ট না হন। অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমালোচকদের বিষয়ে বরাবরই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, প্রাথমিক চুক্তিটি ‘ইসরায়েলের জন্য ভয়াবহ’। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সেনাপ্রধান পর্যন্ত ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের কেউই এটিকে ভিন্নভাবে দেখছেন না।

যদিও ওয়াশিংটনের দাবি, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উদ্বেগ, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার পথ তৈরি হবে।

তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, আলোচনার সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইসরায়েলের উদ্বেগগুলো অমীমাংসিত থেকেই যাবে এবং দেশটি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতার মুখে পড়বে।

লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান সীমিত করতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মধ্যে বারবার মতবিরোধ হয়েছে। অথচ যুদ্ধবিরতি ছিল ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি।

চলতি মাসের শুরুতে এক উত্তপ্ত ফোনালাপে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ বলে অভিহিত করেন। একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলাকালে বৈরুতে হামলা না করার নির্দেশ দেন। সেদিন নেতানিয়াহু হামলা স্থগিত করলেও এক সপ্তাহ পর বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরে আবারও আক্রমণ চালান। ইসরায়েলের দাবি, এর জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পরে ট্রাম্প উভয় পক্ষকেই প্রকাশ্যে তিরস্কার করেন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচু্ক্তিতে বাগড়া ইসরায়েলের, জোরালো আক্রমণের ঘোষণা

রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরায়েল আবারও বৈরুতে হামলা চালায়। এর আগে লেবানন থেকে ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছিল। ট্রাম্প ওই হামলাকে ‘ছোট ও অর্থহীন’ বলে বর্ণনা করেন।

পরদিন রাতে জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, দৃঢ় ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের কারণে ইসরায়েল এখন ‘শক্তিশালী ও স্থিতিশীল’। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার মাঝে মাঝে মতপার্থক্য হয়েছে।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, আমি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। অনেক বিষয়ে আমাদের মত এক হয়, আবার কিছু বিষয়ে ভিন্নতাও থাকে। আমি ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার দায়িত্বে আছি।’

নির্বাচনের আগে বাড়ছে চাপ

আসন্ন শরতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে নেতানিয়াহুর পরাজয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি ট্রাম্পের অবস্থান উপেক্ষা করতে আরও আগ্রহী হতে পারেন। কারণ জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ইসরায়েলি জনগণের একটি বড় অংশ এখন দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে সন্দিহান।

বারাক এইচ ওবামা প্রশাসনের সময়ে ইসরায়েলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড্যান শ্যাপিরো বলেন, ‘এটি স্বার্থগত বিভেদের একটি অত্যন্ত স্পষ্ট মুহূর্ত’।

বর্তমানে আটলান্টিক কাউন্সিলের এই গবেষক বলেন, নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে চুক্তির বিরোধিতা করে ট্রাম্পের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চাইবেন না। তবে তিনি ইঙ্গিত দেবেন যে, ইসরায়েল এ চুক্তি মানতে বাধ্য নয় এবং প্রয়োজনে নিজস্ব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।

ইসরায়েল ইতোমধ্যে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতায় তারা বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে না।

শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও এর বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, এতে লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে সেনা মোতায়েন বজায় রাখবে এবং হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘অপারেশনাল স্বাধীনতা’ ধরে রাখবে।

তিনি বলেন, ইরান চেয়েছিল আমরা সেখান থেকে সরে আসি। কিন্তু আমি সেই অবস্থান মেনে নেইনি। আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনার স্বাধীনতা বজায় রাখছি এবং উত্তরাঞ্চলের নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা বলয়ও ধরে রাখছি।

ইসরায়েলের উদ্বেগ কাটছে না

অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ পুনরায় খুলে যাবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যত ৬০ দিনের আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধের শুরুতে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প উভয়েই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি দমন এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থন বন্ধ করাকে যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু এসব বিষয় বর্তমান আলোচনার আনুষ্ঠানিক এজেন্ডায় নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

তিনজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের ধারণা ৬০ দিনের চুক্তির মেয়াদ ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে বৃহত্তর সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলজুড়ে তার সামরিক উপস্থিতিও বজায় রাখবে।

আরও দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ট্রাম্প যখন প্রথমবারের মতো বলেন যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, তখন ইসরায়েল বিস্মিত হয়েছিল। তাদের মতে, আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ইসরায়েল খুব কমই সফল হয়েছে।

সব কর্মকর্তাই পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কথা বলেছেন, কারণ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার অনুমতি তাদের ছিল না।

‘এই চুক্তি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করা কঠিন’

ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক হোসেন ওবামা ও জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ও নেতানিয়াহু একাধিকবার ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছিলেন। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি ভোটারদের কাছে নিজেকে রিপাবলিকান ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে দক্ষ নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করে এবং আব্রাহাম চুক্তিকে সমর্থন দেয়। এর মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। একই সময়ে ট্রাম্প ওবামা আমলের ইরান পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করেন, যেটিকে ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল বলে সমালোচনা করে আসছিল।

২০১৯ সালের নির্বাচনে নেতানিয়াহু তেলআবিব ও জেরুজালেমে বড় বড় বিলবোর্ড টাঙিয়েছিলেন। সেখানে তাকে ট্রাম্পের সঙ্গে হাসিমুখে করমর্দন করতে দেখা যায়। তবে বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জোনাথন রাইনহোল্ডের মতে, বর্তমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নেতানিয়াহুর সেই রাজনৈতিক সুবিধাকেই দুর্বল করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, নেতানিয়াহু এই চুক্তি ইসরায়েলি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারবেন না। সর্বোচ্চ তিনি আশা করতে পারেন, আলোচনা ব্যর্থ হবে এবং ৬০ দিনের মধ্যে ইসরায়েলের অনুকূলে যুদ্ধ আবার শুরু হবে।

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের শুক্রবার প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৪১ শতাংশ ইহুদি ইসরায়েলি মনে করেন, ট্রাম্পের কাছে তাদের নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। গত মার্চ মাসে এ হার ছিল ৬৪ শতাংশ।

এদিকে ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, ইরান যদি তার পারমাণবিক বা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করে, তবে ইসরায়েল একাই ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ইরান যদি তার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনরায় চালুর চেষ্টা করে, আমরা সেখানে থাকব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

Continue Reading

top1

‘ব্রাজেন্টিনা’ দিয়ে অভিনয়ে নামছেন ফুটবলার জামাল ভূঁইয়া, নায়িকা কে

Published

on

By

সবুজ গালিচার পর এবার ক্যামেরার সামনে নতুন রূপে হাজির হচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘ব্রাজেন্টিনা’ নামের আট পর্বের একটি ওয়েব সিরিজের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। সোমবার রাজধানীর কলাবাগান মাঠে সিরিজটির শুটিং শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ জুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আইস্ক্রিনে এটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

তারিক মুহাম্মাদ হাসানের পরিচালনায় এই সিরিজে জামাল ভূঁইয়ার বিপরীতে অভিনয় করছেন তাসনুভা তিশা। এছাড়া বিভিন্ন চরিত্রে রয়েছেন শরাফ আহমেদ জীবন, লামিমা লাম, সহিদ উন নবী এবং ইশতিয়াক আহমেদ।

এর আগে টুকটাক বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করলেও ওয়েব সিরিজ বা নাটকে এটাই জামাল ভূঁইয়ার প্রথম অভিনয়। নতুন এই জগতে পা রাখা নিয়ে শুরুতে বেশ দ্বিধায় ছিলেন তিনি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক জানান, চার বছর আগেও পরিচালক তাকে নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সে সময় ব্যস্ততার কারণে রাজি হননি। এবারও শুরুতে প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তবে পরিচালকের আগের কাজগুলো দেখে এবং সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি শেষ পর্যন্ত অভিনয়ে রাজি হন।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে জামাল ভূঁইয়া বলেন, পুরো বিষয়টি তার কাছে জাদুকরি মনে হলেও কাজটিকে বেশ কঠিন বলেই মনে করছেন তিনি। পেশাদার অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করাটা তার কাছে চ্যালেঞ্জিং হলেও তিনি তা উপভোগ করছেন। কাকতালীয়ভাবে কলাবাগানের যে মাঠে সিরিজটির শুটিং চলছে, সেখান থেকেই নিজের ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন এই তারকা মিডফিল্ডার।

এদিকে প্রথম দিনের শুটিংয়ে ফুটবল অধিনায়কের কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নির্মাতা। তিনি জানিয়েছেন, অভিনয়ে নতুন হলেও জামাল ভূঁইয়ার আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। প্রতিটি দৃশ্য খুব আগ্রহ নিয়ে বোঝার পাশাপাশি খুব দ্রুত অভিনয়ের ভাষা আয়ত্ত করে নিচ্ছেন তিনি।

সিরিজটির গল্প প্রসঙ্গে পরিচালক তারিক মুহাম্মাদ হাসান জানান, বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় দর্শকদের মাঝে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে ঘিরে যে উন্মাদনা দেখা যায়, মূলত সেটিই এই সিরিজের উপজীব্য। তবে গল্প উপস্থাপনে ভিন্নতা রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। চমক সৃষ্টির জন্য নয়, বরং গল্পের চরিত্র ও দর্শক চাহিদার কথা বিবেচনা করেই জামাল ভূঁইয়াকে এই সিরিজে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

‘ব্রাজেন্টিনা’ সিরিজের শুটিংয়ে (বাম থেকে) লামিমা লাম, জামাল ভূঁইয়া ও তাসনুভা তিশা

উল্লেখ্য, দেশের ক্রীড়াতরকাদের নিয়ে নাটক নির্মাণের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে পরিচালক তারিক মুহাম্মাদ হাসানের। এর আগে তিনি ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুলকে নিয়ে ‘টি-টুয়েন্টি’, নারী ক্রিকেটার জাহানারা আলমকে নিয়ে ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’ এবং জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক আমিনুল হককে নিয়ে ‘টাইব্রেকার’ নামের নাটক নির্মাণ করেছিলেন। এবার সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলেন জামাল ভূঁইয়া।

Continue Reading

Trending