শাকিল আহমেদ, গোবিপ্রবি প্রতিনিধি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খোকন কুমার দত্তকে জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
২৮ জুন (মঙ্গলবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনাউজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১-এর ২৩(৫) ধারা অনুযায়ী বিএমবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খোকন কুমার দত্তকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো।
ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. খোকন কুমার দত্ত বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তার জন্য আমি প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই যে ওনারা আমাকে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আমার আগ্রহ হলো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য অনুষদের যেসব ডিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আছে সবার সহযোগিতায় যাতে আমরা একসাথে একটা পরিবর্তন আনতে পারি বা ভালোর দিকে যেতে পারি সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করব। স্টুডেন্টদের যেন সুবিধা বৃদ্ধি পায় সেজন্য এবং ভালো ফলাফল টা বৃদ্ধি পায় এটা আমি প্রত্যাশা করি। “
ল্যাব ও গবেষণা বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাব ও গবেষণার জন্য যা কিছু আছে তা খুব একটা পর্যাপ্ত না হলেও এটা দিয়ে অনেক কাজ করা সম্ভব কিন্তু আমাদের এখানে তা হয়না। আমি এগুলো ব্যবহার করে গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করবো যেন তারা ভালো কিছু শিখতে পারে। ‘
এ দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিধি মোতাবেক ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা পাবেন। এছাড়া স্বাক্ষরিত চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিয়োগটি ২৮ জুন থেকে কার্যকর হবে। তবে তাঁকে আনুষ্ঠানিক যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত প্রকৌশল ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (০৬ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় ফিতা কেটে ভবনটির শুভ উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “বাংলায় একটি প্রবাদ আছে—’কামারের ভাঙা দা আর ছুতারের ভাঙা নাও’। তারা নিজেরা জিনিস তৈরি করে বলে অনেক সময় জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালায়। ঠিক একইভাবে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল দপ্তরগুলো খুব একটা গোছানো বা সুন্দর হয় না। তবে আমরা এর ব্যতিক্রম করতে চাই; প্রকৌশল দপ্তরকে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন দপ্তর হিসেবে দেখতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “শুধুমাত্র একটি অবকাঠামো তৈরি করাই শেষ কথা নয়, বরং এর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করাটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। ভবনটিকে নিজেদের বাড়ির মতো করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং এর দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন, তার সবকিছুই করতে হবে।”
ভবনটির উদ্বোধনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. বখতিয়ার উদ্দিন এবং চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ (রাশেদ-সুখন)।
এছাড়া পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, উপ-প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহবুবুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, প্রকৌশলী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মো. আব্দুল হাকীম।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় দুই তলা ভিত্তির ওপর এই দুই তলা বিশিষ্ট প্রকৌশল ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রথম বিতর্ক সংগঠন বেগম রোকেয়া ইউনিভার্সিটি ডিবেট অ্যাসোসিয়েশন-ব্রুডা এর ১৩তম এক্সিকিউটিভ কমিটি (২০২৫–২৬) ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৩ জুলাই নতুন এ কমিটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া হক ইরা, সাধারণ সম্পাদক(বিতর্ক) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ ওবায়দুর রহমান শিশির ও সাধারণ সম্পাদক (প্রসাশন) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোঃ শাহিনুর রহমান। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আইরিন আক্তার লাবণ্য এবং অর্থ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিউর হাসান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বেগম রোকেয়া ইউনিভার্সিটি ডিবেট অ্যাসোসিয়েশন (ব্রুডা) ক্যাম্পাসে বিতর্ক চর্চার প্রসার, যৌক্তিক চিন্তাভাবনার বিকাশ এবং নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দীর্ঘ সময় ধরে সংগঠনটি বিভিন্ন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ কর্মশালা, ডিবেট স্কুলিং এবং বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তি, বিশ্লেষণী চিন্তা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটির দীর্ঘদিনের নীতির অংশ হিসেবে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবসময় যোগ্যতা, দক্ষতা এবং সংগঠনের প্রতি অবদানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্ক চর্চার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা যায়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের বার্ষিক ক্যালেন্ডারের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপাচার্যের কার্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যালেন্ডারের মোড়ক উন্মোচন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এয়াকুব আলী, ক্যালেন্ডার মুুদ্রণ কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. আলীনূর রহমান, সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ ও কমিটির সদস্য সচিব ও তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের উপ-পরিচালক মো. রাজিবুল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মুদ্রণ কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ আলীনূর রহমান। কমিটির সদস্য হিসেবে ছিলেন হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ মিজানূর রহমান, আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ কামরুল হাসান, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ আবুল কালাম আজাদ এবং তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ সাহেদ হাসান।
এছাড়া কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের উপ-পরিচালক মোঃ রাজিবুল ইসলাম।
এ বিষয়ে মুদ্রণ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আলীনূর রহমান বলেন, ক্যালেন্ডারটির গেটআপ ও সেটআপ যথাসম্ভব সুন্দর করার চেষ্টা করেছি, কোরআনের আয়াত যুক্ত করেছি।
এবারের ক্যালেন্ডারে ছুটির বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ছুটির ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নিজস্ব নীতি ও সরকারি ছুটির বিষয়গুলো বিবেচনা করে এবারের ক্যালেন্ডারে ছুটি যথাসম্ভব কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ছুটির বিষয়টি মূলত সিন্ডিকেট বা একাডেমিক কাউন্সিলে পাস হলে ভালো হতো, তবে জরুরি প্রয়োজনে এখনই এটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে ছুটি আরো কমাতে চাইলে এটি সমন্বয় করে নিতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, “ভিসি স্যারের পক্ষ থেকে বার্তা হলো—সবাই যদি ঠিকমতো ক্যালেন্ডারের এই সূচি মেনে চলেন এবং ক্লাস ও পরীক্ষাগুলো যথাসময়ে সম্পন্ন করেন, তাহলে শিক্ষাবর্ষে কোথাও কোনো গ্যাপ বা সেশনজট থাকবে না।”