Connect with us

top1

আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগে দুই সেমিস্টারের ফল প্রকাশে ২০০ দিন, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় বর্ষের দুই সেমিস্টারের ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছে। দুই সেমিস্টারের ফল প্রকাশে প্রায় ২০০ দিন সময় লাগায় পরবর্তী একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আইন অনুষদের অর্ডিন্যান্সের ৯(ডি) ধারা অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের বিধান রয়েছে। তবে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ফল প্রকাশে সময় লাগে প্রায় ১১০ দিন। দ্বিতীয় সেমিস্টারের প্রথম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত ৪ জুলাই। এর মধ্যে প্রায় ১০০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ফল প্রকাশ হয়নি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দ্বিতীয় সেমিস্টারের ৩২০১, ৩২০৩ ও ৩২০৪ নম্বর কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ফল প্রকাশে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ৩২০১, ৩২০৩ ও ৩২০৪ নম্বর কোর্সের মিডটার্ম/টিউটোরিয়াল পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী এসব পরীক্ষা সেমিস্টার পরীক্ষার পূর্বে অনুষ্ঠিত হয়। ৩২০১ ও ৩২০৩ নম্বর কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষা গত ১৩ সেপ্টেম্বর নেন কোর্স দুটির শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ওহাব শাহীন। ওই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের ১৬ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার ডেট দিলেও পরীক্ষা নেননি তিনি। পরে ২১ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ দিয়ে সেদিনও পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ গত ২৬ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া ৩২০৪ নম্বর কোর্সের শিক্ষক অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম সম্প্রতি ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ওই কোর্সের ক্লাস/ টিউটোরিয়াল শেষ না করেই তিনি বিভাগ থেকে চলে যান। পরবর্তীতে সেমিস্টার পরীক্ষার উত্তরপত্র তিনি পাবেন কিনা এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এদিকে এই কোর্সের ইন্টারনাল মার্কের জটিলতা দূর করতে বিভাগীয় কমিটির সিদ্ধান্তে অধ্যাপক ড. নাজিমুদ্দিনকে মিডটার্ম/টিউটোরিয়াল পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা ও ফলাফল কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় পরবর্তী ব্যাচেরও একাডেমিক কার্যক্রম পিছিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় সেশনজট দূর করা, দ্রুত পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরীক্ষার সময়সূচি ও ফল প্রকাশের বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা চেয়ে বিভাগীয় সভাপতির কাছে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছেন উভয় শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, চতুর্থ বর্ষের প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা যথাসময়ে সম্পন্ন করা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট সময়সূচি, সম্ভাব্য তারিখ, ফরম পূরণ, পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। দীর্ঘসূত্রতার কারণে হতাশা, মানসিক চাপ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, যথাসময়ে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ না হলে বিসিএস, বিজেএস, বার কাউন্সিলসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ও পেশাগত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সময়গত ও যোগ্যতাগত জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা, চাকরি ও পেশাগত জীবনে প্রবেশের পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে। এ কারণে চতুর্থ বর্ষের প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষার জন্য সুস্পষ্ট, বাস্তবসম্মত ও সময়বদ্ধ রোডম্যাপ প্রণয়ন ও প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, “দিনে পাঁচটা করে ক্লাস নিয়ে শারীরিক-মানসিক টর্চার করা হয়, এদিকে পরীক্ষার নাম নেই। পরীক্ষা হলে রেজাল্ট নেই। এর আগে বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একাডেমিক ক্যালেন্ডার দেওয়া হলেও সেগুলোর কোনো বাস্তবায়ন নেই। বলতে কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু আমাদের স্যাররা মিথ্যাবাদী। পরীক্ষা নিয়ে স্যাররা মজা নেন। শিক্ষার্থীদের হক নষ্ট করেন। এখন আবার চতুর্থ বর্ষে উঠে তৃতীয় বর্ষের কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। দ্বিতীয় সেমিস্টারের ৩১০১, ৩১০৩ ও ৩১০৪ কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষার জন্য ফল আটকে আছে। ৪ জুলাই প্রথম পরীক্ষা হয়েছে, আজ প্রায় ১০০ দিন। তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ফলও ১১০ দিনে দেওয়া হয়েছিল।”

তিনি বলেন, “অন্যান্য বিভাগ তাদের শিক্ষকদের সহযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে, আর আমাদের বিভাগে আমাদের শিক্ষকরাই আমাদের পিছনে টেনে ধরেন। অন্যান্য বিভাগ ৪.২ পরীক্ষা দেবে, সেখানে আমরা তৃতীয় বর্ষেরই ফল পাইনি। এই বিভাগে পরীক্ষা-রেজাল্টের দাবি নিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে জুতা ক্ষয় হয়ে যায়। আগামী ফেব্রুয়ারিতেও সম্ভবত বিজিএসের সার্কুলার দেবে। শুধুমাত্র স্যারদের কারণে আমরা এগুলো হারাব।”

তিনি আরও বলেন, “আমার আব্বু-আম্মু দুজনই দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছেন। তারা শুধু জিজ্ঞেস করেন, কবে অনার্স শেষ করে বাসায় যাব। বাসায় কাউকে জানাতেও পারি না যে আমি কোন জাহান্নামের মধ্যে আছি। বাড়িতে জিজ্ঞেস করে কবে পড়াশোনা শেষ হবে, লজ্জায় বলতে পারি না। সামাজিকভাবে অপমান, অপদস্ত ও জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা দিন দিন আমাদের অন্ধকার করে দিচ্ছে।”

এ বিষয়ে ৩২০১ ও ৩২০৩ নম্বর কোর্সের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ওহাব শাহীন বলেন, আমি যে দুইটা কোর্স নিয়েছিলাম, অনেক আগেই নম্বরপত্র জমা দিয়েছি। বাকিটা খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন।

৩২০৪ নম্বর কোর্সের শিক্ষক অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে প্রথমে কোর্সের নাম জানতে চাইলেন। কোর্সের নাম শুনার পর তিনি ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মজুমদার বলেন, গত মাসের ৩০ অক্টোবর বুধবার পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখি অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ওহাব শাহীন ওনার দুইটা কোর্সের নম্বর জমা দেওয়া হয়নি বলে আমি এটা নিয়ে কাজ করতে পারিনি। আর আমি গত সপ্তাহ থেকে বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকায় আর এটা নিয়ে কাজ করা হয়নি। খুব দ্রুত ফলাফল প্রকাশের কাজ করা হচ্ছে।

বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. আলতাফ হোসেন বলেন, “তৃতীয় এবং চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা আমার কাছে রেজাল্ট ও পরীক্ষার বিষয়ে বারবার আসে এবং স্মারকলিপি দিয়েছে। বিভাগীয় মিটিংয়ে আমি সেটা তুলে ধরেছি। আশা করি শিগগিরই রেজাল্ট প্রকাশ হবে।”

তবে সংশ্লিষ্ট কোর্সের শিক্ষকরা নম্বরপত্র জমা হয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করলে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

এর আগে বিভাগের সার্বিক জটিলতা ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য সরেজমিনে তদন্ত করেছিলেন। তবে ওই তদন্তের পর এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। এবিষয়ে পূর্বের তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের কাছে জানতে চেয়ে একাধিক বার কল দিলেও পাওয়া যায়নি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

দিল্লিজুড়ে ধরপাকড়, দীপকে, নেহা, মমতা ও কেজরিওয়ালসহ আটক বহু নেতা

Published

on

By

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে রাজনীতিক, ছাত্রনেতা, অধিকারকর্মী ও অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতাসহ বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, ছাত্রনেতা নেহা বোরা, ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। সাবেক ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকেও আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি রয়েছে আন্দোলনকারীদের। তাদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ সংশোধন করা হচ্ছে।

দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের যাতায়াত ঠেকাতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে অনেককে আটক করে বাস ও ভ্যানে করে অস্থায়ী আটককেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড বসানো, যানবাহনে তল্লাশি এবং মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

তবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ভিন্নতা রয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস শনিবার বিকেল পর্যন্ত দিল্লিতে প্রায় দুই হাজার মানুষকে আটকের কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, আগের দিন ককরোচ জনতা পার্টির এক মুখপাত্র দাবি করেছিলেন, দেশজুড়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। 

Continue Reading

top1

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, সড়ক অবরোধ পরীক্ষার্থীদের

Published

on

By

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়ার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পরীক্ষার্থীরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগে এ সিদ্ধান্ত জানানো হলে ক্ষোভে সড়কে নামেন চাকরিপ্রার্থীরা। এতে কয়েকটি এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

সকাল ১১টায় অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসায় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে।

এরপর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সাতমসজিদ রোড, বাংলা কলেজ ও খিলগাঁওসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু করেন পরীক্ষার্থীরা। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার ব্যাখ্যা ও দায়ীদের জবাবদিহি দাবি করেন।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করে শেরেবাংলা নগর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. লোকমান হোসেন বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনকারীরা আড়ং সিগনালে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন।

তিনি জানান, আসাদগেট থেকে ধানমন্ডিগামী সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ধানমন্ডি থেকে আসাদগেটমুখী সড়কে অবস্থান নিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভের সময় চাকরিপ্রার্থীদের ‘প্রশ্ন ফাঁস হলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

May be an image of one or more people, crowd and text

কেন্দ্রে পৌঁছেও পরীক্ষা দিতে পারেননি প্রার্থীরা
পরীক্ষায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসেছিলেন হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী। নির্ধারিত কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিতের খবর পেয়ে তারা বিপাকে পড়েন। অনেকের অভিযোগ, আগে থেকে কোনো ঘোষণা না দিয়েই পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

রাজধানীর মাদারটেকের এ আজিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা ঈমান জানান, তারা কেন্দ্রে প্রবেশ করে নির্ধারিত আসনে বসার পর পরিদর্শক এসে জানান, পরীক্ষা হবে না। কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করেছে।

কেন পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না, তা জানতে চাইলে ঈমান মোল্লা বলেন, কেন্দ্র থেকে কোনো কারণ জানানো হয়নি। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে তারা শুনেছেন। তিনি ফরিদপুর থেকে পরীক্ষা দিতে ঢাকায় এসেছিলেন।

একই কেন্দ্রের আরেক পরীক্ষার্থী মো. তামিম জানান, তাদের কেন্দ্রেও একইভাবে পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানানো হয়।

পরীক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৩০০টি পদের কথা উল্লেখ ছিল। এসব পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে লক্ষাধিক প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন তারা।

জানা গেছে, রাজধানীর কয়েকটি কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বিতরণের পর পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ দিকে মানিক মিয়া এভিনিউতে রাস্তা অবরোধকারীদের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে।

দাবিগুলো হলো:

১. প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

২. দূর থেকে পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

৩. আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নিতে হবে

দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা কিছু দাবি জানিয়েছে। আন্দোলনকারীদের বাইরে কেউ যেনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয় খেয়াল রাখা হচ্ছে।

Continue Reading

top1

দিল্লিতে বিক্ষোভের আগেই আটক ককরোচদের শীর্ষ নেতারা

Published

on

By

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে ধরপাকড় শুরু করেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পুলিশ।

ইতোমধ্যে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠিসহ আরও কয়েক নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। এ ছাড়া বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা প্রায় হাজার মানুষকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

এক প্রতিবেদনে রয়টার্স বলছে শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। এ ছাড়া দলের দুই সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা এবং আইন সহায়তা বিভাগের প্রধান রত্না সিংকেও আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অপরদিকে সিজেপির সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়া ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে শনিবার ভোরে রাজধানী সংলগ্ন শহর গুরুগ্রাম থেকে আটক করেছে পুলিশ।

একইভাবে বিক্ষোভে যোগ দিতে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রায় ১ হাজার জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইয়ের বরাতে জানা গেছে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর কথা বলে এই পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ।

ভারত, দিল্লি, বিক্ষোভ, ককরোচ জনতা পর্টি, সিজেপিমুম্বাই থেকে শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছান ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরই পুলিশ তাকে আটক করে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আটকের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

আটকের আগে দীপকে জানিয়েছিলেন, কারাগারে যেতে হলেও কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা আইনে অভিযুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তাদের আন্দোলন থামবে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা

এদিকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান জন্তর মন্তরসহ দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগে বিধিনিষেধ, একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং ট্রেন চলাচলে বিঘ্নের খবরও পাওয়া গেছে। ফলে বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ

ককরোচ জনতা পার্টির এবারের আন্দোলনের মূল দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। সংগঠনটির অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষে প্রভাবিত করা হচ্ছে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি- দুই পক্ষই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সরকারের জবাবদিহির মতো ইস্যুতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এবার নির্বাচনি স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে তারা।

এদিকে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ককরোচ জনতা পার্টি ও বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনকে ‘নৈরাজ্যবাদী’ কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছেন, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে।

বিক্ষোভের আগেই আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের আটক এবং শত শত মানুষকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

Continue Reading

Trending