Connect with us

top1

কারা পাবেন গানম্যান ও আবেদনের নিয়ম কী? 

Published

on

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে অনেক রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তি নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করছেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে ‘গানম্যান’ প্রসঙ্গ।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় রাজনৈতিক নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একটি তালিকা তৈরি করেছে সরকার। এছাড়া নিজের নিরাপত্তা চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছেন অনেকে। কেউ চেয়েছেন গানম্যান, আবার কারও চাহিদা ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স। এসব আবেদনের প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছয় নেতাসহ অন্তত ২০ জনের জন্য গানম্যান দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে পুলিশ সদরদফতর জানায়, আবেদনের প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকায় এনসিপির ৬ নেতাসহ ২০ জনকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে। এসবি এ বিষয়ে কাজ করছে। এই গানম্যানের সব খরচ বহন করবে সরকার। 

কারা গানম্যান পাবেন

সরকারি প্রটোকল বা পদাধিকার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি গানম্যান বা সশস্ত্র দেহরক্ষী পান। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা (সচিব বা সমপর্যায়ের) এবং বাহিনী প্রধানগণ এই ক্যাটাগরিতে পড়েন।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্রের যে-কোনও ব্যক্তি গানম্যানের জন্য আবেদন করতে পারেন। যাকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে তার আসলেই নিরাপত্তা প্রয়োজন কিনা, সেটি যাচাই-বাছাই করা হয়। গানম্যান বা বডিগার্ড নিয়োগের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।” 

গানম্যান পেতে যেভাবে আবেদন করবেন

গানম্যান ও বডিগার্ড পাওয়ার বিষয়টি মূলত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকল এই দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাইলে যে কাউকে তার বিশেষ ঝুঁকি বিবেচনা করে গানম্যান বরাদ্দ দিতে পারে। রাজনৈতিক ঝুঁকি বা গুরুত্বপূর্ণ মামলার সাক্ষী হওয়ার কারণেও সরকার নিজ উদ্যোগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গানম্যান দিয়ে থাকে।

পুলিশ সদরদফতরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, গানম্যান পেতে লিখিতভাবে পুলিশকে অথবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হয়। আবেদন প্রক্রিয়া শেষে গোয়েন্দা সংস্থা বা স্পেশাল ব্রাঞ্চ তদন্ত করে দেখে যে আবেদনকারীর সত্যিই নিরাপত্তা প্রয়োজন কিনা। এরপর চলে কঠোর যাচাই-বাছাই।

তিনি বলেন, “মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রটেকশন ইউনিট থেকে বডিগার্ড নিযুক্ত করা হয় এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চ বা বিশেষ শাখা থেকে গানম্যান দেওয়া হয়। একজন গানম্যান সরকারি অস্ত্র ব্যবহার করেন এবং নির্দিষ্টসংখ্যক গুলিও তাদের জন্য বরাদ্দ করা থাকে। গানম্যানের খরচ বহন করে সরকার।” এছাড়া আনসার ভিডিপির সদস্যদের নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থও গানম্যান পেয়েছেন। তিনি বলেন, “নিরাপত্তার জন্য গানম্যান নিয়েছি। তিনি প্রতিদিন আসছেন, নিরাপত্তা দিচ্ছেন ও ডিউটি শেষে চলে যাচ্ছেন। তিন বেলা খাওয়া-দাওয়া আমাদের সঙ্গে করছেন। আর আমি যেহেতু ডিপ্লোম্যাটিক এলাকায় থাকি, তাই তার থাকার কোনও সমস্যা হচ্ছে না।” 

এদিকে গানম্যান নেননি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের জন্য প্রচারণার এই সময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারাসহ এনসিপির অনেক নেতা। জারাসহ অনেকেই গানম্যান পেয়েছেন। আমি গানম্যান নিইনি।” 

যা জানালেন পুলিশ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, “ব্যক্তিগত নিরাপত্তাবাহিনী থাকা সত্ত্বেও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী মারা গেছেন। একটি নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে গিয়েছিলেন, এক আত্মঘাতী হামলাকারী তার কাছে এসে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নিজের শরীরে লাগানো বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। পৃথিবীর যত রাষ্ট্রপ্রধান আছেন, সবাইকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। তবে কোনও দেশই বলতে পারবে না— ব্যক্তিগত বডিগার্ড ও গানম্যান থাকলেই কোনো ব্যক্তিতে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “আবেদনের প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকায় তাদের গানম্যান দেওয়া হচ্ছে। এর মানে এই নয় যে, তাদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।” 

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “যারা হুমকির মধ্যে আছেন তাদেরকে গানম্যান দিচ্ছে সরকার। এটি নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। তবে শুধু গানম্যান নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। পাশাপাশি সন্দেহভাজন কিলারদের— যারা ফোনে ও ম্যাসেজে হুমকি দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।” 

তিনি বলেন, “দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর (এসবি, এনএসআই, ডিবি ও সিআইডি) এই হুমকি ও টার্গেট কিলিংয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। মাঠে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। হুমকি থাকা পর্যন্ত বৃহত্তর অপরাধ ঠেকাতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও অপরাধীদের বিষয়ে পুলিশের পাশাপাশি দেশের নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।”

এছাড়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল বাড়ানো, দেশের আবাসিক হোটেলগুলোতে নজরদারি ও তথ্য রাখার কথাও বলেন এই সাবেক আইজিপি। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে একটি মহল সব সময় তৎপর থাকে উল্লেখ করে তাদের প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলাবহিনীর সঙ্গে জনগণকেও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স (অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান) বিভাগের অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. ওমর ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “গানম্যান হচ্ছে একটি প্রতীকী নিরাপত্তা, টার্গেট কিলিং ঠেকানো সম্ভব নয়।”

তিনি বলেন, “গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের তালিকা দেখে যৌথবাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। ওয়ান ইলেভেন ও অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো জোরালো অপারেশন চালাতে হবে। বর্তমানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নিষ্ক্রিয় মনে  হচ্ছে, মনে হচ্ছে তারা মনস্তাত্ত্বিক দিক দিয়ে দুর্বল হয়ে গেছে, গা ছাড়া দেওয়া ভাব।”

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “হাদির আসামি অতিক্ষুদ্র, তাকে ধরা কোনও কঠিন কাজ নয়। ধরতে না পারা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ব্যর্থতা।”

২২ ডিসেম্বর দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপির ছয় নেতাসহ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা মোট ২০ জনকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নিরাপত্তা, গানম্যান বা অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন রাজনীতিবিদ আবেদন করেছেন। এ সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। অনেকেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন। রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি প্রায় ২৫ জন সরকারি কর্মকর্তাও অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন।

গানম্যান বরাদ্দ দেওয়া হলেও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কেবল একটি ‘প্রতীকী’ নিরাপত্তা। সাবেক ও বর্তমান পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, কেবল একজন বডিগার্ড দিয়ে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; বরং টার্গেট কিলিং রুখতে হলে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। এর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।  

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

এবার ইসরায়েলের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় ইরানের হামলা

Published

on

By

দখলদার ইসরায়েলের তেল ও গ্যাস স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সশস্ত্র বাহিনীর হেডকোয়ার্টারের এক মুখপাত্র বলেছেন, নতুন হামলায় ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামোকে টার্গেট করা হয়েছে।

তারা বলেছে, ইসরায়েলের হাইফা শহরে থাকা তেল ও গ্যাস শোধনাগার এবং মজুদ ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। এছাড়া বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিবের কাছের একটি স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সেন্টারও ধ্বংস করা হয়েছে।

ইরানের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ এর ৩৩তম দফায় এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। তারা বলেছে, ইরানের তেল ডিপোতে হামলার জবাব হিসেবে এ পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে

Continue Reading

top1

যুদ্ধ কৌশলে ভয়াবহ পরিবর্তন, ১ হাজার কেজির মিসাইল ছুড়ছে ইরান

Published

on

By

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ১১তম দিনে রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। গত রোববার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি জানিয়েছেন, এখন থেকে ইরান শুধু সেসব মিসাইল ব্যবহার করবে, যেগুলোর পেলোড বা গোলাবারুদ বহন ক্ষমতা ১ হাজার কেজি বা তার বেশি।

এই ঘোষণা যুদ্ধের ময়দানে সংখ্যা কমানোর পরিবর্তে ‘বিধ্বংসী ক্ষমতা’ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন সামরিক পর্যবেক্ষকরা।

যুদ্ধের শুরুতে ইরানের কৌশল ছিল শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের মতো সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করে শত্রুশিবিরের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখা। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ‘স্যাচুরেশন অ্যাটাক’ বা একসঙ্গে প্রচুর ড্রোন ও মিসাইল ছুড়ে ইসরায়েল ও আমেরিকার দামি ইন্টারসেপ্টর মিসাইল খরচ করিয়ে ফেলা। তবে এখন ইরান সরাসরি খোররামশাহর-৪ বা খাইবারের মতো ভারী ব্যালিস্টিক মিসাইলের ওপর জোর দিচ্ছে, যা ড্রোনের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম।

জেনারেল মুসাভি জানান, এই মিসাইলগুলো ম্যাক-৮-এর বেশি গতিতে চলতে পারে এবং এর গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা রয়েছে, যা ইসরায়েলের ‘অ্যারো-৩’-এর মতো উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারবে। একটি এক টনের মিসাইল যদি লক্ষ্যভেদে সফল হয়, তবে তা একটি বিমানঘাঁটি বা ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টার অচল করে দেওয়ার মতো সক্ষমতা রাখে।

লেবানিজ সংবাদমাধ্যম ‘আল মায়াদিন’-এর বরাতে জানা গেছে, দুবাই বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের রাস তানুরাজ তৈল শোধনাগারের মতো আঞ্চলিক অবকাঠামো এখন ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে।

বর্তমানে ইরানের অস্ত্রাগারে ১ হাজার ৮০০ কেজি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম খোররামশাহর মিসাইল রয়েছে, যা ২ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এছাড়া সলিড ফুয়েলচালিত মাঝারি পাল্লার সেজিল মিসাইল এবং ৩ হাজার কিলোমিটার পাল্লার সুমার ক্রুজ মিসাইলও ইরানের হাতে রয়েছে। সুমার মিসাইল পারমাণবিক অস্ত্র বহনেও সক্ষম বলে ধারণা করা হয়।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক শানাকা আনসেলম পেরেরার মতে, ইরান এখন যুদ্ধের ‘ইন্টারসেপ্ট ম্যাথ’ বা গাণিতিক সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। আগে একটি ড্রোন ধ্বংস করতে ৪ মিলিয়ন ডলারের প্যাট্রিয়েট মিসাইল ব্যয় করাটা ছিল অর্থনৈতিক চাপ, কিন্তু এখন ভারী মিসাইল ঠেকাতে ইন্টারসেপ্টর মিসাইল মিস হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

এতে আকাশ প্রতিরক্ষাকারীদের দ্রুত ইন্টারসেপ্টর মজুত শূন্য হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমেরিকার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র জবাবে তেহরানের এই ‘হেভি পেলোড’ নীতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে

Continue Reading

top1

নগদের মাধ্যমে বিতরণ হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ

Published

on

By

পরিবারের নারীপ্রধানকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও আরও আত্মবিশ্বাসী করতে সরকার যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছে, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে মোবাইল আর্থিক সেবা নগদ।

মঙ্গলবার সকালে কড়াইল বস্তি এলাকায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচির আওতায় পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ১৩ জেলার ৬ হাজার ৪৫১টি পরিবার ‘নগদ’-এর মাধ্যমে ১ কোটি ৬২ লাখ ৪ হাজার ২৬৫ টাকা পেয়েছেন।

কড়াইল বস্তির মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা প্রদানের ফলে মাঝপথে অর্থ লোপাটের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং প্রকৃত দুস্থরাই এই সুবিধা পাবেন।

ফ্যামিলি কার্ডের মতো সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের অর্থ বিতরণের জন্য ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবা নগদকে বেছে নেওয়ায় নগদ কর্তৃপক্ষ সরকার এবং বিশেষভাবে সরকারপ্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

নগদের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সাধারণ জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি পূরণের যে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, সেটি আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে। সরকারের এমন একটি প্রকল্পের অংশীদার হতে পেরে আমরা গোটা নগদ পরিবার সরকারপ্রধানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

সরকারের নির্বাচন-পূর্ব প্রতিশ্রুত এই কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩ জেলার সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই নগদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে মাঠ পর্যায়ে নিবিড় যাচাই-বাছাই এবং একই ব্যক্তির একাধিক সরকারি ভাতা গ্রহণ রোধ, সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীদের বাদ দেওয়া হয়।

এই প্রকল্পের আওতায় কেবল ‘নারী প্রধান’ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে সমাজের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সরকারের এই উদ্যোগটি নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Continue Reading

Trending