Connect with us

top1

কারা পাবেন গানম্যান ও আবেদনের নিয়ম কী? 

Published

on

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে অনেক রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তি নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করছেন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে ‘গানম্যান’ প্রসঙ্গ।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় রাজনৈতিক নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একটি তালিকা তৈরি করেছে সরকার। এছাড়া নিজের নিরাপত্তা চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদনও করেছেন অনেকে। কেউ চেয়েছেন গানম্যান, আবার কারও চাহিদা ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স। এসব আবেদনের প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছয় নেতাসহ অন্তত ২০ জনের জন্য গানম্যান দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে পুলিশ সদরদফতর জানায়, আবেদনের প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকায় এনসিপির ৬ নেতাসহ ২০ জনকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে। এসবি এ বিষয়ে কাজ করছে। এই গানম্যানের সব খরচ বহন করবে সরকার। 

কারা গানম্যান পাবেন

সরকারি প্রটোকল বা পদাধিকার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি গানম্যান বা সশস্ত্র দেহরক্ষী পান। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা (সচিব বা সমপর্যায়ের) এবং বাহিনী প্রধানগণ এই ক্যাটাগরিতে পড়েন।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্রের যে-কোনও ব্যক্তি গানম্যানের জন্য আবেদন করতে পারেন। যাকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে তার আসলেই নিরাপত্তা প্রয়োজন কিনা, সেটি যাচাই-বাছাই করা হয়। গানম্যান বা বডিগার্ড নিয়োগের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।” 

গানম্যান পেতে যেভাবে আবেদন করবেন

গানম্যান ও বডিগার্ড পাওয়ার বিষয়টি মূলত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকল এই দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাইলে যে কাউকে তার বিশেষ ঝুঁকি বিবেচনা করে গানম্যান বরাদ্দ দিতে পারে। রাজনৈতিক ঝুঁকি বা গুরুত্বপূর্ণ মামলার সাক্ষী হওয়ার কারণেও সরকার নিজ উদ্যোগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গানম্যান দিয়ে থাকে।

পুলিশ সদরদফতরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, গানম্যান পেতে লিখিতভাবে পুলিশকে অথবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হয়। আবেদন প্রক্রিয়া শেষে গোয়েন্দা সংস্থা বা স্পেশাল ব্রাঞ্চ তদন্ত করে দেখে যে আবেদনকারীর সত্যিই নিরাপত্তা প্রয়োজন কিনা। এরপর চলে কঠোর যাচাই-বাছাই।

তিনি বলেন, “মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রটেকশন ইউনিট থেকে বডিগার্ড নিযুক্ত করা হয় এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চ বা বিশেষ শাখা থেকে গানম্যান দেওয়া হয়। একজন গানম্যান সরকারি অস্ত্র ব্যবহার করেন এবং নির্দিষ্টসংখ্যক গুলিও তাদের জন্য বরাদ্দ করা থাকে। গানম্যানের খরচ বহন করে সরকার।” এছাড়া আনসার ভিডিপির সদস্যদের নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থও গানম্যান পেয়েছেন। তিনি বলেন, “নিরাপত্তার জন্য গানম্যান নিয়েছি। তিনি প্রতিদিন আসছেন, নিরাপত্তা দিচ্ছেন ও ডিউটি শেষে চলে যাচ্ছেন। তিন বেলা খাওয়া-দাওয়া আমাদের সঙ্গে করছেন। আর আমি যেহেতু ডিপ্লোম্যাটিক এলাকায় থাকি, তাই তার থাকার কোনও সমস্যা হচ্ছে না।” 

এদিকে গানম্যান নেননি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। তিনি বলেন, “নির্বাচনের জন্য প্রচারণার এই সময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারাসহ এনসিপির অনেক নেতা। জারাসহ অনেকেই গানম্যান পেয়েছেন। আমি গানম্যান নিইনি।” 

যা জানালেন পুলিশ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, “ব্যক্তিগত নিরাপত্তাবাহিনী থাকা সত্ত্বেও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী মারা গেছেন। একটি নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে গিয়েছিলেন, এক আত্মঘাতী হামলাকারী তার কাছে এসে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নিজের শরীরে লাগানো বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। পৃথিবীর যত রাষ্ট্রপ্রধান আছেন, সবাইকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। তবে কোনও দেশই বলতে পারবে না— ব্যক্তিগত বডিগার্ড ও গানম্যান থাকলেই কোনো ব্যক্তিতে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “আবেদনের প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকায় তাদের গানম্যান দেওয়া হচ্ছে। এর মানে এই নয় যে, তাদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।” 

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “যারা হুমকির মধ্যে আছেন তাদেরকে গানম্যান দিচ্ছে সরকার। এটি নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। তবে শুধু গানম্যান নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। পাশাপাশি সন্দেহভাজন কিলারদের— যারা ফোনে ও ম্যাসেজে হুমকি দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।” 

তিনি বলেন, “দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর (এসবি, এনএসআই, ডিবি ও সিআইডি) এই হুমকি ও টার্গেট কিলিংয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। মাঠে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। হুমকি থাকা পর্যন্ত বৃহত্তর অপরাধ ঠেকাতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও অপরাধীদের বিষয়ে পুলিশের পাশাপাশি দেশের নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।”

এছাড়া সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল বাড়ানো, দেশের আবাসিক হোটেলগুলোতে নজরদারি ও তথ্য রাখার কথাও বলেন এই সাবেক আইজিপি। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে একটি মহল সব সময় তৎপর থাকে উল্লেখ করে তাদের প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলাবহিনীর সঙ্গে জনগণকেও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স (অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান) বিভাগের অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. ওমর ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “গানম্যান হচ্ছে একটি প্রতীকী নিরাপত্তা, টার্গেট কিলিং ঠেকানো সম্ভব নয়।”

তিনি বলেন, “গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের তালিকা দেখে যৌথবাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। ওয়ান ইলেভেন ও অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো জোরালো অপারেশন চালাতে হবে। বর্তমানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নিষ্ক্রিয় মনে  হচ্ছে, মনে হচ্ছে তারা মনস্তাত্ত্বিক দিক দিয়ে দুর্বল হয়ে গেছে, গা ছাড়া দেওয়া ভাব।”

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “হাদির আসামি অতিক্ষুদ্র, তাকে ধরা কোনও কঠিন কাজ নয়। ধরতে না পারা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ব্যর্থতা।”

২২ ডিসেম্বর দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এনসিপির ছয় নেতাসহ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা মোট ২০ জনকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নিরাপত্তা, গানম্যান বা অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন রাজনীতিবিদ আবেদন করেছেন। এ সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। অনেকেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন। রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি প্রায় ২৫ জন সরকারি কর্মকর্তাও অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন।

গানম্যান বরাদ্দ দেওয়া হলেও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কেবল একটি ‘প্রতীকী’ নিরাপত্তা। সাবেক ও বর্তমান পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, কেবল একজন বডিগার্ড দিয়ে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; বরং টার্গেট কিলিং রুখতে হলে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। এর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে পুলিশের তৎপরতা এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।  

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

চীন ও ভারত থেকে দেশে এলো ৫৩ হাজার টন ডিজেল

Published

on

By

দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে চীন ও ভারত থেকে আমদানি করা ৫৩ হাজার ৬০০ টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানিকৃত এই জ্বালানি দিয়ে দেশের বর্তমান দৈনিক গড়ে ১২ হাজার ৫০০ টন চাহিদা অনুযায়ী প্রায় চার দিনের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হবে।

জাহাজগুলোর স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইন জানায়, শুক্রবার (১ মে) বিকেলে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘লিলা কিংস্টন’ ১৯ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে। এর পরদিন শনিবার ভোরে ৩৪ হাজার ৬০০ টন ডিজেল নিয়ে পানামার পতাকাবাহী ‘প্রাইভেট সোলানা’ কুতুবদিয়া এঙ্করেজে এসে পৌঁছায়।

প্রাইড শিপিং লাইনের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ডলফিন জেটি ও বহির্নোঙর মিলিয়ে বন্দরে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটিতে। এর মধ্যে একটি জাহাজ থেকে লাইটারিংয়ের মাধ্যমে তেল খালাস কার্যক্রম চলছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে ২০টি জাহাজে করে মোট ৬ লাখ ৫ হাজার ২২৭ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়েছে। মে মাসে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েলসহ মোট ৬ লাখ টন জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন এই চালান দেশের নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Continue Reading

top1

২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ দামে জ্বালানি তেল

Published

on

By

ইরান যুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করতে যাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এমন খবরের পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে দেখা গেছে, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারের বেশি হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরুর পর এই দাম সর্বোচ্চ।

যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দামও ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

জুন মাসের ডেলিভারির জন্য বর্তমান ব্রেন্ট ফিউচার্স চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হবে। ফিউচার চুক্তি হলো একটি নির্দিষ্ট তারিখে কোনো সম্পদ ক্রয় বা বিক্রয় করার চুক্তি। এশিয়ায় সকালের লেনদেনে অপেক্ষাকৃত সক্রিয় জুলাই মাসের চুক্তিটি প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১১৩ ডলারে পৌঁছেছিল।

সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় অচলাবস্থা ভাঙার লক্ষ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ওপর ধারাবাহিক ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ হামলা চালানোর একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবিত এই হামলায় অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তু অন্তর্ভুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরেকটি পরিকল্পনা ছিল হরমুজ প্রণালির একটি অংশ দখল করে সেটিকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া এবং এই কাজে স্থলভাগে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিবিসি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, যতদিন তেহরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে চাওয়া জাহাজগুলোকে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখবে, তত দিন তারা ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রাখবে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

ইরানের ওপর ‘দীর্ঘমেয়াদি’ অবরোধের জন্য ওয়াশিংটন প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন খবরের পর বুধবার তেলের দাম ৬ শতাংশ বেড়েছে।

Continue Reading

top1

দুই মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন আইভী

Published

on

By

সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা দুটি মামলায় উচ্চ আদালতে জামিন পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এ আদেশ দেন বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এর আগে বুধবার (২৯ এপ্রিল) শুনানি শেষে হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

এদিকে আরও ৫ মামলায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন নিয়ে আগামী রোববার (৩ মে) আদেশ দেবেন আপিল বিভাগ। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই দিন ধার্য করেন।

জানা গেছে, গত বছরের ৯ মে ভোর ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার চুনকা কুটির থেকে সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আটক করে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরবর্তীতে হাইকোর্ট ৫ মামলায় জামিন পেলেও আপিল বিভাগে তা স্থগিত হয়ে যায়। এর মধ্যেই গত ১৮ নভেম্বর তাকে আরও ৫ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরবর্তীতে বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাকে জামিন দেন।

পাঁচটি মামলার মধ্যে যে চারটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সেগুলো হলো— ফতুল্লা থানায় করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা এবং পারভেজ হত্যা মামলা। এছাড়াও হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপর মামলাটি করা হয়েছে।

হাইকোর্টের জামিন আদেশের পর রাষ্ট্রপক্ষ আইভীর জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে। পরবর্তীতে গত ৫ মার্চ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

সে সঙ্গে বিষয়টি শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়। তবে এর মধ্যেই আরও দুই মামলায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

Continue Reading

Trending