চট্টগ্রাম নগরে প্রায় দুই দিন ধরে সড়কে পড়ে থাকা একটি মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল গাড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। গাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
সোমবার (০৫ জানুয়ারি) দুপুরে নগরের ওআর নিজাম আবাসিক এলাকার একটি সড়ক থেকে গাড়িটি উদ্ধার করে পাঁচলাইশ থানায় নেওয়া হয়। পরে মঙ্গলবার বিষয়টি জানাজানি হয়। জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ পাওয়া সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়িটি উদ্ধার করে।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম জানান, স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী রোববার ভোরে দুই ব্যক্তি গাড়িটি সড়কে রেখে চলে যান। বর্তমানে গাড়িটির প্রকৃত মালিককে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মালিকের পরিচয় নিশ্চিত হলে গাড়িটি সড়কে ফেলে যাওয়ার কারণ জানা যাবে।
চট্টগ্রাম বিআরটিএ সূত্র জানায়, উদ্ধার করা গাড়িটিতে যে নম্বর প্লেট লাগানো ছিল, তা ছিল একটি ‘গ্যারেজ নম্বর’। সাধারণত সাময়িকভাবে এ ধরনের নম্বর ব্যবহার করা হয়, যা অনলাইন বা নিবন্ধন ডেটাবেজে পাওয়া যায় না। তবে ঢাকা বিআরটিএ কার্যালয়ের রেকর্ডে নম্বরটি সংরক্ষিত থাকলে সেখান থেকে মালিকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার ( ০৬জানুয়ারি) রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি, মোংলা-রামপাল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রিফাতুল ইসলাম ও মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান নৌযান মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় আশ্বাস দিলে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে ডিজি শিপিংয়ের (নৌপরিবহন অধিদপ্তর) হয়রানির প্রতিবাদ ও প্রতিকার চেয়ে নৌযান মালিকেরা স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ডিজি শিপিং কর্তৃপক্ষ পূর্ব নোটিশ ছাড়া কোনো ধরনের অভিযান পরিচালনা না করার এবং নৌযান মালিকদের হয়রানি না করার আশ্বাস দেন। এসব আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতেই নৌযান মালিকেরা চলমান ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন।
মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, গত রোববার কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ডিজি শিপিংয়ের কর্মকর্তারা মোংলার ফেরিঘাট এলাকায় অন্তত ৩০টি পর্যটনবাহী জালিবোটের ছাদ ভেঙে ও কেটে ফেলেন। এ সময় নৌযানের আসবাবপত্র জব্দ করা এবং জরিমানা আরোপ করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ভোর থেকে নৌযান মালিকেরা ধর্মঘট শুরু করেন।
তিনি আরও বলেন, হয়রানির প্রতিকার চেয়ে মঙ্গলবার প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হলে স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ডিজি শিপিং কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে পূর্ব নোটিশ ছাড়া কোনো অভিযান না চালানোর আশ্বাস দেন। এর ফলে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে নৌযান মালিকেরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।